ঢাকা রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৯ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৯ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

উচ্ছেদ হওয়া ১৪০০ মুসলিম পরিবারের জমিতে আদানির ৩২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ প্রকল্প


উচ্ছেদ হওয়া ১৪০০ মুসলিম পরিবারের জমিতে আদানির ৩২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ প্রকল্প

একদিকে রয়েছে ভাঙা ঘর, উচ্ছেদ হওয়া পরিবার, অন্যদিকে আছে হাজার হাজার কোটি টাকার বিদ্যুৎ প্রকল্প। আসামের ধুবড়ি জেলার চাপরে এই দুই চিত্র বর্তমানে পাশাপাশি অবস্থান করছে।

যে জমি থেকে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে প্রায় ১ হাজার ৪০০ বাঙালি বংশোদ্ভূত মুসলিম পরিবারের ঘরবাড়ি উচ্ছেদ করা হয়েছিল, রোববার সেই জমিতে আদানি পাওয়ারের ৩ হাজার ২০০ মেগাওয়াট তাপবিদ্যুৎ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা।

প্রকল্পটির জন্য প্রায় ৪৮ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ করা হবে। আদানি গোষ্ঠীর দাবি, নির্মাণপর্বে প্রায় ২০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে। প্রকল্পটি চালু হলে আরও প্রায় ৫ হাজার মানুষের কাজের সুযোগ তৈরি হবে। প্রথম ধাপে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হওয়ার কথা ২০৩০ সালের ডিসেম্বর থেকে। কিন্তু প্রকল্পের জমি নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠছে।

আরও পড়ুন: কড়া নিরাপত্তা উপেক্ষা করে ফ্রান্সের রাজপথে লাখ লাখ বিক্ষোভকারী

ধুবড়ির চারুয়াবাখরা, চিরাকুটা এক ও দুই এবং সন্তোষপুর এলাকায় প্রায় ১ হাজার ১৫৭ একর সরকারি জমিতে বহু পরিবার দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছিল। উচ্ছেদের সময় স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছিলেন, তাদের মধ্যে অনেকেই তিন থেকে চার দশক ধরে সেখানে বসবাস করছেন।

অনেকে আবার ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে পূর্বের বসতভিটা হারিয়ে ওই এলাকায় এসে বসতি গড়েছিলেন। উচ্ছেদের পর প্রায় ১০ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসনের বক্তব্য ছিল, প্রকল্পের জন্য সরকারি জমি আগে রাজ্য বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থাকে দেওয়া হয়েছিল। পরে সেই জমি আদানি পাওয়ারের প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ করা হয়।

প্রশাসন ৩০০ বিঘা জমি অন্য এলাকায় পুনর্বাসনের জন্য চিহ্নিত করে এবং মালপত্র সরানোর জন্য পরিবারপিছু ৫০ হাজার টাকা সহায়তার কথা জানায়। কিন্তু ক্ষতিগ্রস্তদের একটি অংশ সেই পুনর্বাসনস্থানে যেতে রাজি হননি।

আরও পড়ুন: মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক আদালত এগিয়ে যাচ্ছে: ডেপুটি প্রসিকিউটর

তাদের অভিযোগ, ব্রহ্মপুত্রঘেরা নিচু এলাকায় বর্ষায় পানি ঢোকে এবং সেখানে প্রয়োজনীয় যোগাযোগ ব্যবস্থা নেই। সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়, পরিবেশগত ছাড়পত্রের আবেদনে আদানি পাওয়ার কেন্দ্রীয় পরিবেশ মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছিল, প্রকল্প এলাকায় কোনো জনবসতি নেই এবং পুনর্বাসন বা পুনর্বাসনজনিত ক্ষতিপূরণের দাবি নেই।

অথচ উচ্ছেদ হওয়া পরিবারগুলোর বক্তব্য, তাদের ঘরবাড়ি সরিয়ে প্রকল্পের জমি পরিষ্কার করা হয়েছিল। স্থানীয় এক বাসিন্দার দাবি, সরকারি জমির পাশাপাশি জমির অধিকারপত্র থাকা মানুষের জমিও নেওয়া হয়েছে এবং তাদের বড় একটি অংশ এখনও ক্ষতিপূরণ পাননি।

২০২৫ সালের ৩০ মার্চ জেলা প্রশাসন গ্রামের চারণভূমি প্রকল্পের কাজে ব্যবহারের প্রস্তাব দেয়। ২ এপ্রিলের জেলা পর্যায়ের ভূমি সংক্রান্ত বৈঠকের কার্যবিবরণীতেও সেই প্রস্তাবের উল্লেখ রয়েছে। এরপরই উচ্ছেদের নোটিশ জারি হয় এবং ঘরবাড়ি ভাঙা শুরু হয় বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

এদিকে প্রকল্পকে আসামের বিদ্যুৎ খাতে বড় পরিবর্তনের সূচনা হিসেবে তুলে ধরেছেন হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। তার দাবি, ৩ হাজার ২০০ মেগাওয়াটের এই প্রকল্প রাজ্যের বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।

আরও পড়ুন: অরুণাচল সীমান্তে চীনের নিয়ন্ত্রণে ভারতের 'অসহায়ত্ব', মোদি সরকার ব্যাকফুটে

আদানি গোষ্ঠীর পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, প্রকল্পটি উত্তর-পূর্ব ভারতের অন্যতম বড় বিদ্যুৎ প্রকল্প হয়ে উঠবে। তবে উন্নয়নের এই হিসাবের পাশে উচ্ছেদ হওয়া পরিবারগুলোর হিসাবটি এখনও মেলেনি। একদিকে বিদ্যুতের আলো জ্বালানোর প্রস্তুতি, অন্যদিকে সেই আলো পৌঁছানোর আগেই ঘর হারানো মানুষের পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণের প্রশ্ন। ফলে ধুবড়িতে প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তরের সঙ্গে সঙ্গে পুরনো সেই প্রশ্নও সামনে এসেছে—উন্নয়নের জমির দাম শেষ পর্যন্ত দেবে কে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হামে প্রাণ হারাল আরও ২ শিশু, আক্রান্ত ১,৩৪৯

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৩২ পি.এম


হামে প্রাণ হারাল আরও ২ শিশু, আক্রান্ত ১,৩৪৯

হাম উপসর্গের কারণে সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও দুই শিশুর মৃত্যু ঘটেছে। একই সময়ে নতুন করে সন্দেহ এবং নিশ্চিত হামে আক্রান্তের সংখ্যা এক হাজার ৩৪৯ জনে পৌঁছেছে।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের হাম সম্পর্কিত নিয়মিত প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় (সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) দেশে নতুন করে ১ হাজার ২৫৭ জনকে সন্দেহজনক হাম রোগী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। পাশাপাশি, একই সময়ে ৯২ জনের হাম নিশ্চিত হয়েছে।

এখন পর্যন্ত, ১৫ মার্চ থেকে এই সময় পর্যন্ত দেশে মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৮২ হাজার ২৯২ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ২০ হাজার ৭৩৮ জন।

এছাড়া, গত ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ১৭৬ জন সন্দেহজনক হাম রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে হাসপাতাল থেকে ছাড় পেয়েছেন ১ হাজার ৬২ জন। ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগীদের মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া মোট রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৮২ হাজার ২৯২ জন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কুমিল্লা সিটি নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াতের প্রার্থী বাছাই, মাঠে এনসিপি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৩২ পি.এম


কুমিল্লা সিটি নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াতের প্রার্থী বাছাই, মাঠে এনসিপি

কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে সম্ভাব্য প্রার্থীদের কার্যক্রম বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিএনপি, জামায়াত এবং এনসিপির সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীরা দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার পাশাপাশি নগরবাসীর দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করছেন।

নামাজ আদায়, জানাজা, কুলখানি, বিয়ে, সামাজিক আন্দোলন এবং গণজমায়েতের মতো বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তাদের উপস্থিতি বৃদ্ধি পাওয়ায় নগরীতে নির্বাচনী পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

তথ্য অনুসারে, আসন্ন কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে আলোচনায় রয়েছেন বর্তমান সিটি প্রশাসক এবং মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ মোল্লা টিপু। তিনি নগরীর উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি দলের সংগঠন গঠনের কাজেও নিয়োজিত রয়েছেন। মহানগর বিএনপির সদস্য কাউসার জামান বাপ্পিও মনোনয়ন প্রত্যাশী হতে পারেন।

অন্যদিকে, বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি নিজাম উদ্দিন কায়সার এবং সাবেক মেয়র মনিরুল হক সাক্কুও বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার চেষ্টা করছেন। তারা গত দুটি সিটি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে দল থেকে বহিষ্কৃত হন।

নগরীতে প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমির মোসলেহ উদ্দিন এবং শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি মো. মজিবুর রহমান ভূঁইয়ার নাম শোনা যাচ্ছে।

এদিকে, এনসিপি কেন্দ্রীয় যুবশক্তির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলামকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছে। তিনি সম্প্রতি নগরীর বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়ে বাসিন্দাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করছেন এবং বিভিন্ন ইস্যুতে নিজের মতামত প্রকাশ করছেন।

কুমিল্লা সিটির প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু মন্তব্য করেন, "দল এবং দলের প্রধান যে সিদ্ধান্ত দেবেন, সেটাই আমি অক্ষরে অক্ষরে পালন করব। আমি এখন নগরবাসীর একজন খাদেম হিসেবে সার্বক্ষণিক ব্যস্ত থাকি। নির্বাচনে প্রার্থিতার সিদ্ধান্ত আসবে দলের হাইকমান্ড থেকে।"

নিজাম উদ্দিন কায়সার বলেন, "আমি বহিষ্কৃত হলেও দলের বাইরে নই। এক মুহূর্তের জন্যও দলের কার্যক্রম থেকে দূরে থাকিনি। অতীতে তৃণমূল নেতাকর্মীদের চাপের মুখে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছি। আশা করি, দল ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবে।"

সাবেক মেয়র মনিরুল হক সাক্কু জানান, "দলের হাইকমান্ডের কাছে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের আবেদন করেছি। দলের জন্য নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছি। আমি বিএনপির বাইরের কোনো লোক নই। আগামী নির্বাচনে কর্মী-সমর্থকরা যে সিদ্ধান্ত দেবেন, আমি সে অনুযায়ী এগিয়ে যাব।"

মহানগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি কামরুজ্জামান সোহেল বলেন, "আমাদের দলে নিজ থেকে প্রার্থী হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। দল যাকে সিদ্ধান্ত দেবে, তিনিই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন। আপাতত আমরা সকলে মিলেমিশেই সিটি নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীকে জয়ী করতে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছি।"

এনসিপির প্রার্থী অ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলাম বলেন, "নগরবাসীর সেবা করার জন্য আমি সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে নেমেছি। মাঠে গণসংযোগ করে বাসিন্দাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় এবং সেতুবন্ধন তৈরি করছি। দল থেকে আমাকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। আশা করি, জোটের সমর্থনও পাব।"

আগের নির্বাচনের ফল

২০১১ সালের ১০ জুলাই কুমিল্লা পৌরসভা থেকে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত হয়। ২০১২ সালের ৫ জানুয়ারি প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে মনিরুল হক সাক্কু ৬৫ হাজার ৫৭৭ ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ-সমর্থিত প্রার্থী অ্যাডভোকেট আফজাল খান পেয়েছিলেন ৩৬ হাজার ৪৭১ ভোট।

২০১৭ সালের নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মনিরুল হক সাক্কু ৬৮ হাজার ৯৪৮ ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ প্রার্থী আঞ্জুম সুলতানা সীমা পেয়েছিলেন ৫৭ হাজার ৮৬৩ ভোট।

২০২২ সালের সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী আরফানুল হক রিফাত ৫০ হাজার ৩১০ ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী মনিরুল হক সাক্কু পেয়েছিলেন ৪৯ হাজার ৯৬৭ ভোট। ওই নির্বাচনে নিজাম উদ্দিন কায়সার পেয়েছিলেন ২৯ হাজার ২৯ ভোট।

আরফানুল হক রিফাতের মৃত্যুর পর ২০২৪ সালের ৯ মার্চ মেয়র পদে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে আওয়ামী লীগ প্রার্থী তাহসীন বাহার সূচনা ৪৮ হাজার ৮৯০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক মেয়র মনিরুল হক সাক্কু পেয়েছিলেন ২৬ হাজার ৮৯৭ ভোট। নিজাম উদ্দিন কায়সার পেয়েছিলেন ১৩ হাজার ১৫৫ ভোট।

আগের দুই নির্বাচনের ফলাফলে বিএনপির একাধিক প্রার্থী ও দলীয় বিরোধের বিষয়টি আলোচনায় ছিল। এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ না থাকায় কুমিল্লা সিটি নির্বাচনের রাজনৈতিক সমীকরণ কোন দিকে যায়, তা সময়ই বলে দেবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাউল সম্রাট লালনের ১৩৬তম তিরোধান দিবসের প্রস্তুতি সভা কুষ্টিয়ায়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৩৩ পি.এম


বাউল সম্রাট লালনের ১৩৬তম তিরোধান দিবসের প্রস্তুতি সভা কুষ্টিয়ায়

কুষ্টিয়া, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : কুমারখালীর ছেঁউড়িয়ায় আজ বাউল সম্রাট ফকির লালন শাহের ১৩৬তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে একটি প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার সকাল ১০টায় কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এই সভার আয়োজন করা হয়।

সভায় লালন তিরোধান দিবসের অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সার্বিক প্রস্তুতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা, আগত ভক্ত-অনুরাগীদের সুযোগ-সুবিধা, যানবাহন চলাচল এবং অনুষ্ঠানস্থলের সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা করা হয়।

সভাটি কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক তৌহিদ বিন হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়, এবং এটি পরিচালনা করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মিজানুর রহমান।

সভায় জেলা প্রশাসক উল্লেখ করেন, লালন শাহ কেবল কুষ্টিয়ার নয়, বরং তিনি বাংলা ও বাঙালির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের একটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তিরোধান দিবসের অনুষ্ঠানকে ঘিরে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ভক্ত ও দর্শনার্থীরা ছেঁউড়িয়ায় আসেন। তাদের নিরাপত্তা এবং নির্বিঘ্নে অনুষ্ঠান উপভোগের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, অনুষ্ঠানস্থলে শৃঙ্খলা বজায় রাখা, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দর্শনার্থীদের চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরকে সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করতে হবে।

কুষ্টিয়া-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী মন্তব্য করেন, লালন শাহের দর্শন দেশ-বিদেশে মানবতা ও সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছে। লালনের স্মৃতিবিজড়িত ছেঁউড়িয়ার এই আয়োজনকে সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকেও সহযোগিতা করতে হবে।

কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কুতুব উদ্দিন আহমেদ বলেন, লালন শাহের দর্শন ও সংগীত বাঙালির অসাম্প্রদায়িক ও মানবিক চেতনার সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। লালনের তিরোধান দিবসের অনুষ্ঠান যেন শান্তিপূর্ণ পরিবেশে এবং যথাযথ মর্যাদায় অনুষ্ঠিত হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের আন্তরিকভাবে কাজ করা প্রয়োজন।

সভায় বক্তারা উল্লেখ করেন, লালন তিরোধান দিবসের অনুষ্ঠান কুষ্টিয়ার অন্যতম বড় সাংস্কৃতিক আয়োজন। দেশ-বিদেশের দর্শনার্থীদের কথা বিবেচনায় রেখে অনুষ্ঠানস্থলে নিরাপত্তা, তথ্যসেবা, যানজট নিয়ন্ত্রণ এবং সাংবাদিকদের সংবাদ সংগ্রহের পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

লালন তিরোধান দিবসের অনুষ্ঠান সফল করতে সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর ও অংশীজনের সমন্বয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, কুষ্টিয়া পুলিশ সুপার আমিনুল ইসলাম, কুষ্টিয়া সাংবাদিক ইউনিয়ন-কেইউজের সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক বাচ্চু, প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি খন্দকার আল মামুন সাগর, প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু মনি জুবায়েদ রিপনসহ লালন গবেষক, সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধি, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
রাজপথ থেকে সংসদ

মরক্কোর নির্বাচনে তরুণদের রাজনৈতিক জাগরণ ও নতুন দল গঠন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৩৪ পি.এম


মরক্কোর নির্বাচনে তরুণদের রাজনৈতিক জাগরণ ও নতুন দল গঠন

গত বছর যিনি অধিকার আদায়ের আন্দোলনে রাজপথে সক্রিয় ছিলেন, ঠিক এক বছর পর আজ ২৮ বছর বয়সি পরিবেশকর্মী হামজা এল খাররৌবি মরক্কোর সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িয়েছেন। নির্বাচনি প্রচারকালে দেশের তিতৌয়ান শহরে তরুণ এই উদ্যোক্তা আশা প্রকাশ করেন যে, এবারের নির্বাচনে আরো অনেক তরুণ মরক্কোর পার্লামেন্টে আসন জয় করতে সক্ষম হবেন।

রাজনীতিতে তরুণদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর লক্ষ্যে তিনি ‘এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি পার্টি’ নামে একটি নতুন রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠা করেছেন।

গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে মরক্কোয় শুরু হওয়া ঐতিহাসিক গণআন্দোলনই মূলত তরুণদের এই রাজনৈতিক অংশগ্রহণকে ত্বরান্বিত করেছে।

আন্দোলনের পটভূমি ও ‘জেন জি ২১২’

২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে মরক্কোর দক্ষিণাঞ্চলের একটি সরকারি হাসপাতালে সিজারেস ডেলিভারির সময় আটজন প্রসূতি নারীর মর্মান্তিক মৃত্যুর পর দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের দাবিতে এই ক্ষোভ সারা দেশে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে।

‘জেন জি ২১২’ নামে কোনো নির্দিষ্ট কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ছাড়াই গড়ে ওঠা এই আন্দোলনটি মূলত ডিসকর্ড, টিকটক এবং ইনস্টাগ্রামের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওপর ভর করে সংগঠিত হয়েছিল। দুর্নীতিরোধ, সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার এবং উন্নত জনসেবার দাবিতে চলা ওই আন্দোলনে অক্টোবর মাসে অন্তত তিনজন প্রাণ হারিয়েছিলেন।

ভোটার তালিকায় তরুণদের অংশগ্রহণ ও চ্যালেঞ্জ

আসন্ন সংসদ নির্বাচনে মরক্কোর মোট ৩৯৫টি আসনের জন্য প্রায় ১ কোটি ৫৮ লাখ মানুষ ভোট দেওয়ার যোগ্য হলেও, এর মধ্যে ১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সিদের হার মাত্র চার শতাংশ।

অন্যদিকে ৬০ বা তার বেশি বয়সি ভোটারদের হার প্রায় ২৯ শতাংশ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজপথে সোচ্চার হওয়ার পরেও অনেক তরুণ এখনো প্রাতিষ্ঠানিক বা মূলধারার রাজনীতি থেকে দূরে রয়েছেন।

তরুণদের এই দূরত্বের কারণ ব্যাখ্যা করে কাসাব্লাংকার রাজনীতিক মৌবারাক তৌমি বলেন, ‘অভিভাবকরা সাধারণত তরুণদের ঝামেলা এড়াতে ও নিরাপদে থাকতে পরামর্শ দিয়ে থাকেন।’ পাশাপাশি বেকারত্বের উচ্চ হারও তরুণদের রাজনীতিবিমুখ করে তুলছে।

দেশটির সরকারি তথ্য অনুযায়ী, মরক্কোয় সামগ্রিক বেকারত্ব ১৩ শতাংশ হলেও ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সি তরুণদের মধ্যে এই হার প্রায় ৩৭.২ শতাংশ।

নির্বাচনে তরুণদের প্রত্যাশা

নির্বাচন নিয়ে তরুণ রাজনীতিক আজ-এল আরব হিলমি জানান, বর্তমান প্রজন্ম আর পুরনো গতানুগতিক রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি বা ফাঁকা বুলি শুনতে রাজি নয়। তারা শিক্ষা, সুচিকিৎসা এবং জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের মতো বাস্তব পরিবর্তন দেখতে চায়।

তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচন মানেই কোনো ফাঁকা চেক দেওয়া নয়। রাজনীতিকরা সব সমস্যার জাদুকরী সমাধান রাতারাতি দিতে না পারলেও তাদের স্বচ্ছ ও দায়িত্বশীল হতে হবে।’ মরক্কোর এই নির্বাচনে তরুণদের অংশগ্রহণ ও ব্যালটের লড়াই দেশের রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

সূত্র: আল জাজিরা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৪
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৮
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৬
সূর্যোদয় : ০৬:০০ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%