০৬:৪০ পি.এম
রংপুরের পীরগঞ্জের চতরা ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের ৬৬৫ জন নারীরা ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় এসেছেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গতকাল বুধবার বিকেলে মৌলভীবাজারে অনুষ্ঠিত জনসভা থেকে সুইচ টিপে ভার্চুয়ালি ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচি উদ্বোধন করেন। এই সময় পীরগঞ্জ উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপস্থিত নির্ধারিত উপকারভোগীদের মোবাইল ফোনে ফ্যামিলি কার্ডের টাকা চলে আসে। এ নিয়ে তারা নিজেদের উচ্ছাস প্রকাশ করেন। পরে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী। পীরগঞ্জ উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপস্থিত ছিলেন সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি জিবা আমিনা খান, স্থানীয় এমপি নুরুল আমিন, রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সামসুজ্জামান সামু, জেলা পরিষদ প্রশাসক সাইফুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিনসহ জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা, পাশাপাশি বিএনপি-জামায়াতের নেতা কর্মীরা।
উপকারভোগী রিতা বর্মন জানান, "মোবাইলে আমি টাকা পেয়েছি। প্রতিমাসে এই টাকা পাবো। এতে আমার পরিবারের জন্য অনেক উপকার হবে। বিশেষ করে আমার ছেলেমেয়েরা পুষ্টিহীনতার শিকার। আমি বাচ্চাদের পুষ্টি সমৃদ্ধ খাবার খাওয়াতে পারব। প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।"
ফ্যামিলি কার্ডের টাকা মোবাইলে পেয়েছেন বিধবা সাহারা বানু। তিনি বলেন, "স্বামী না থাকায় পরিবার পরিজন নিয়ে খুবই কষ্টে জীবন যাপন করি আমি। যে টাকাটি পেলাম এবং প্রতি মাসে এই টাকাটা পাব। এটা দিয়ে আমার সংসারের অনেক উপকার হলো। এজন্য আমি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানাই। তার জন্য দোয়া করি তিনি যেন দীর্ঘায়ু হন।"
আরও পড়ুন: নারায়ণ জেলার গার্মেন্টস সেক্টরে আন্দোলনের শিথিল রাখার অঙ্গীকার জেলা প্রশাসক
সাঁওতাল সম্প্রদায়ের এক গৃহবধূ অর্চনা রানী বলেন, "আমার দুইটা বাচ্চা স্কুলে পড়াশোনা করে। তাদের ঠিকমতো প্রাইভেট দিতে পারি না। বই জামাকাপড়ও দিতে পারি না। আমি যে টাকাটা প্রতি মাসে পাব সেখান থেকে বাচ্চাদের শিক্ষা খাতে খরচ করব। আর বাকি কিছু টাকা জমাবো। সেই টাকা দিয়ে গরু কিনব। বছর শেষে বিক্রি করব।"
অনুষ্ঠানের আয়োজক জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদ সদস্য সাইফুল ইসলাম বলেন, "যারা বলেছিল ফ্যামিলি কার্ড দিতে পারবো না তাদের মুখে চুনকালি পরলো আজ। প্রধানমন্ত্রী যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ।’ তাই গুপ্তরা যতই ষড়যন্ত্র করুক বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রগতি ঠেকাতে পারবেনা।"
পীরগঞ্জে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন, "অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে রংপুরের নারীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ডের ব্যবস্থা করে আনব। যাতে নারীরা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারে।"
অনুষ্ঠানে রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান সামু মন্তব্য করেন, "বিএনপি তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করছে। বিএনপি যে জনগণের দল, এর মাধ্যমে সেটি প্রমাণিত হয়েছে। দুর্নীতিমুক্তভাবে বিএনপি নারীদের কাছে এই ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করবে। ফ্যামিলি কার্ডে রংপুরকে বেছে নেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান তিনি।"
আরও পড়ুন: দুর্যোগ ঝুঁকি মোকাবিলায় তরুণদের নেতৃত্বকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হবে: চসিক প্রশাসক
রংপুর ৬ আসনের এমপি নুরুল আমিন বলেন, "ফ্যামিলি কার্ড সরকারের একটি ভালো পদক্ষেপ। আমরা চাই সবার মাঝে এই কার্ড পোঁছে যাক।"
অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিএনপির সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি (রংপুর ৬ ও ৫) জিবা আমিনা খান বলেন, "ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে দেওয়া টাকা নারীরা তাদের পরিবারের পুষ্টি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং হাইজিন খাতে ব্যয় করতে পারবে। এতে একটি পরিবার ধীরে ধীরে উন্নত হতে থাকবে। পুরুষের পাশাপাশি নারীর অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও বৃদ্ধি পাবে। বর্তমান সরকার পর্যায়ক্রমে দেশের ৪ কোটি নারীর কাছে এই ফ্যামিলি কার্ড পোঁছে দেবে।"
রংপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন জানান, সমাজসেবা মন্ত্রণালয় থেকে প্রথমে চতরা ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের ৮৫৫ জনকে প্রাথমিকভাবে সিলেকশন দেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে অতি গুরুত্ব বিবেচনায় ৬৬৫ জনকে চূড়ান্ত হিসেবে এই কার্ড দেওয়া হলো। আজ তারা এ মাসের টাকা পেলেন। এরপর থেকে প্রতি মাসে তারা নিজেদের মোবাইলে ফ্যামিলি কার্ডের টাকা পেয়ে যাবেন।
আরও পড়ুন: “শিবচরে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে প্রশাসনের অভিযান ও জরিমানা”
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন