ঢাকা শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

নাতনির টাঙানো সাইনবোর্ড ভাঙলেন শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের বাড়িতে এনসিপি নেতারা


নাতনির টাঙানো সাইনবোর্ড ভাঙলেন শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের বাড়িতে এনসিপি নেতারা

ভাষা সৈনিক এবং শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের ঐতিহাসিক বাসভবন কুমিল্লায় স্মৃতি জাদুঘর প্রতিষ্ঠার দাবিতে সেখানে স্থাপিত সাইনবোর্ডটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতারা।

এই ঘটনা ঘটে শুক্রবার (৬ নভেম্বর) রাতে। সাইনবোর্ড ভাঙার ঘটনার পর ক্ষোভ ও নিন্দা প্রকাশ করেছেন বাড়িটির ওয়ারিশ এবং ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের নাতনি আরমা দত্ত, যিনি সংরক্ষিত নারী আসনের দুই বারের সংসদ সদস্য।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পূর্বে বিভিন্ন সময়ে বাড়িটি সংস্কার, স্মৃতি জাদুঘর প্রতিষ্ঠা ও সংরক্ষণের দাবি উঠলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। সম্প্রতি, শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের নাতনি আরমা দত্ত ওই সম্পত্তির বৈধ ওয়ারিশ দাবি করে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেন। তিনি শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের একমাত্র ছেলে সঞ্জিব দত্তের মেয়ে। সাইনবোর্ডে লেখা ছিল—‘এই জমির প্রকৃত মালিক ওয়ারিশ সূত্রে আরমা দত্ত। পিতা মৃত সঞ্জিব দত্ত। দাগ নং ১৮০০, মৌজা ছোটরা, কুমিল্লা।’

আরও পড়ুন: প্লাস্টিক দূষণ বন্ধের এখনই সময়: বরিশালে বিশ্ব পরিবেশ দিবসে আলোচনা

এনসিপি নেতারা দাবি করেছেন, বাড়িটিকে প্রত্নতাত্ত্বিক ও জাতীয় ঐতিহ্য হিসেবে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা উচিত। তারা জানান, বাড়ি বিক্রির প্রচেষ্টা হিসেবে সেখানে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দিয়ে পুরোনো স্থাপনা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তাই বাড়ি বিক্রি প্রতিহত করার উদ্দেশ্যে সেখানে ঝোলানো সাইনবোর্ডটি ভেঙে দেওয়া হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সন্ধ্যার পর এনসিপি নেতারা সেখানে গিয়ে প্রথমে বাড়িটি সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন। পরে তারা সাইনবোর্ডটি ভেঙে ফেলেন।

রাতে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) কুমিল্লা মহানগর শাখার সদস্য সচিব মাসুমুল বারী কাওসার স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের স্মৃতিবিজড়িত বাড়িটি সাধারণ স্থাপনা নয়; এটি ভাষা আন্দোলন ও মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ঐতিহ্য। সুতরাং, বাড়িটি ব্যক্তিগত কেনাবেচার বিষয় নয়, বরং রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে সংরক্ষণ করা উচিত।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও অভিযোগ করা হয়, তারা এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য সরকারের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদন করবেন।

আরও পড়ুন: বরিশাল বিএম কলেজের শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ

এনসিপি কুমিল্লা মহানগর শাখার সদস্য সচিব মাসুমুল বারী কাওসার বলেন, আমরা একটি ঐতিহাসিক বাড়ি রক্ষা করতে সাইনবোর্ড ভেঙে ফেলেছি। এখানে অন্য কোনো উদ্দেশ্য নেই। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে সরকার এবং ওয়ারিশ হিসেবে আরমা দত্ত তাদের পাশে থাকবে। তিনি বলেন, যদি এ জায়গা বিক্রি করা হয় বা বহুতল ভবন নির্মাণের চেষ্টা করা হয়, তাহলে জনগণ নিয়ে প্রতিহত করা হবে।

আরমা দত্ত বলেন, এটি তাদের পৈতৃক সম্পত্তি। তিনি এর বৈধ ওয়ারিশ। কুমিল্লাবাসীও এটি জানে। তাই এ বাড়িটির জায়গা তিনি কী করবেন, তা একান্তই তার ব্যক্তিগত বিষয়। তবে রাতে এভাবে একটি বাড়ির বৈধ সাইনবোর্ড ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার বিষয়টি দুঃখজনক। তিনি প্রশাসনকে বিষয়টি অবহিত করবেন।

কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার জানান, শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের বাড়ির সাইনবোর্ড কে ভেঙেছে, এ বিষয়ে এখনো কেউ অবহিত করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করা হবে।

উল্লেখ্য, ১৯৪৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান গণপরিষদে উর্দু ও ইংরেজির পাশাপাশি বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি উত্থাপন করে ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে আছেন ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত। ১৯৭১ সালের ২৯ মার্চ রাতে কুমিল্লার নিজ বাসভবন থেকে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী তাকে ও তার ছেলে দিলীপ কুমার দত্তকে ধরে নিয়ে যায়। এরপর তাদের আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৯৭ সালে তাকে মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। দিলীপ কুমার দত্তের মেয়ে আরমা দত্ত একাদশ ও দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্য ছিলেন।

আরও পড়ুন: হারানো পোষা বিড়াল ফিওনা’র সন্ধানে পুরস্কার ঘোষণা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিজেপি এমপি নিশিকান্ত দুবে নোয়াখালী-চট্টগ্রাম-সিলেট দখলের উসকানি দিলেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:০২ এম


বিজেপি এমপি নিশিকান্ত দুবে নোয়াখালী-চট্টগ্রাম-সিলেট দখলের উসকানি দিলেন

ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির লোকসভা সদস্য নিশিকান্ত দুবে পাকিস্তাননিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পাশাপাশি বাংলাদেশের নোয়াখালী, সিলেট ও চট্টগ্রাম বন্দর নিজেদের দখলে নেওয়ার খোলাখুলি উসকানি দিয়েছেন। তিনি স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের এই অঞ্চলগুলোকে ভারতের অংশে পরিণত বা ‘পুনরুদ্ধার’ করার দাবি তুলে চরম বিতর্ক সৃষ্টি করেছেন।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) ভারতের বার্তা সংস্থা এএনআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ঝাড়খন্ড রাজ্যের গোড্ডা আসন থেকে নির্বাচিত এই এমপি এই বিতর্কিত উসকানি দেন। গোড্ডাতে আদানির তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি অবস্থিত, যেখান থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ বাংলাদেশে সরবরাহ করা হয়।

দেশভাগের সময়কার ইতিহাসের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর তীব্র সমালোচনা করেন নিশিকান্ত। তিনি দাবি করেন, নোয়াখালী, সিলেট ও চট্টগ্রাম তৎকালীন ত্রিপুরা রাজ্যের অন্তর্গত ছিল। কিন্তু নেহরুর ভুল নীতির কারণে তা জোর করে পাকিস্তানের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

নোয়াখালী দাঙ্গার প্রসঙ্গ টেনে নিশিকান্ত অভিযোগ করেন, নেহরু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘আজ উত্তর-পূর্বাঞ্চল যে পিছিয়ে রয়েছে এবং সেখানকার খনিজ সম্পদ সদ্ব্যবহার করা যাচ্ছে না, তার একমাত্র কারণ চট্টগ্রাম বন্দর হাতে না থাকা। তাই সময় এসেছে নোয়াখালী, সিলেট ও চট্টগ্রাম পুনরুদ্ধারের।’

এছাড়া সিলেটে গণভোট পরিচালনাকারী বাহারুল ইসলামকে ‘মুসলিম লীগ রেড আর্মি’র সদস্য দাবি করে নিশিকান্ত বলেন, পরবর্তীতে কংগ্রেস তাকে হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি বানিয়েছিল।

বিজেপি এমপির এই ভূখণ্ড দখলের দাবির সমর্থন জানিয়েছেন ত্রিপুরার রাজপরিবারের বংশধর ও ‘তিপ্রা মথা’ দলের প্রতিষ্ঠাতা প্রদ্যোৎ বিক্রম মাণিক্য দেববর্মা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ তিনি লেখেন, দেশভাগের সময় ত্রিপুরার একটি বিশাল অংশ হস্তান্তর করা ঐতিহাসিক ভুল ছিল। চট্টগ্রাম বন্দর থাকলে আজ ‘চিকেনস নেক’ (শিলিগুড়ি করিডোর) নিয়ে ভারতকে দুশ্চিন্তা করতে হতো না।

নানা উসকানিমূলক ও বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য নিশিকান্ত দুবে আগেও সংবাদের শিরোনাম হয়েছেন। এর আগে তিনি পশ্চিমবঙ্গের মালদহ ও মুর্শিদাবাদ এবং বিহারের কাটিহার ও কিষানগঞ্জ নিয়ে পৃথক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল গঠনের দাবি তুলেছিলেন। এ ছাড়া তৃণমূলের সাবেক এমপি মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে অর্থ নিয়ে সংসদে প্রশ্ন করার অভিযোগকারীও ছিলেন এই বিজেপি নেতা। বাংলাদেশের অবিচ্ছেদ্য ভূখণ্ড নিয়ে তাঁর এই সাম্প্রতিক মন্তব্যে কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক মহলে চরম প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সেঞ্চুরি করেও হতাশ আমির জাঙ্গু, বাংলাদেশকে ২৫০ রানের নিচে আটকে রাখতে চান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:০৩ এম


সেঞ্চুরি করেও হতাশ আমির জাঙ্গু, বাংলাদেশকে ২৫০ রানের নিচে আটকে রাখতে চান

সিলেট টেস্টের দ্বিতীয় দিনের শেষে কিছুটা এগিয়ে রয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সফরকারীরা প্রথম ইনিংসে ৩৫৬ রান সংগ্রহ করার পর বাংলাদেশের ৩ উইকেট নিয়েছে ৮৮ রানে। তৃতীয় দিনে বাংলাদেশকে আড়াইশ'র নিচে আটকে রাখতে চায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ, সংবাদ সম্মেলনে এমন তথ্য দিয়েছেন প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি করা আমির জাঙ্গু। দলীয় চারশ' রান না পেরোনোয় হতাশা প্রকাশ করেছেন এই ব্যাটার।

জাঙ্গুর কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, বাংলাদেশকে কত রানে আটকে রাখতে চান ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তার উত্তরে তিনি বলেন, "আমি বলব ২৫০ রানের নিচে। উইকেট বেশ ভালোই। তাদের ফাস্ট বোলাররা বেশ ভালো বল করেছে এবং উইকেট তুলে নিয়েছে। তবে কোনো ব্যাটার ক্রিজে টিকে গেলে তাদেরকে ফেরানো বেশ কঠিন। কালকের দিনটা আমাদের সংগ্রাম করতে হতে পারে অথবা ভিন্নও হতে পারে। ক্রিকেট এরকমই। তবে আমাদেরকে তাদের উপর চাপ দিয়ে যেতে হবে। যেন তারা অত বেশি রান বের করতে না পারে, কারণ তারা বেশ দ্রুত রান তুলে ফেলতে পারে। ফলে আমাদেরকে ধৈর্য ধরে খেলে যেতে হবে এবং আশা করছি কিছু উইকেটও নিতে পারব।"

প্রথম ইনিংসে স্কোর নিয়ে কিছুটা হতাশা প্রকাশ করেছেন জাঙ্গু। তবে তৃতীয় দিনে এই স্কোর নিয়েই লড়াই চালিয়ে যেতে চান বলে জানিয়েছেন বাঁহাতি এই ব্যাটার। তিনি বলেন, "আসলে আমাদের লক্ষ্য ছিল ৪০০ এর বেশি রান করা, ফলে কিছুটা হতাশ হয়েছি। তবে বাংলাদেশ অনেক ভালো বল করেছে। দ্বিতীয় নতুন বল পেয়ে তারা আমাদের জন্য ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছিল। তবুও আমরা ইনিংসটাকে লম্বা করতে পেরেছি, ৩৫০ রান ছাড়াতে পেরেছি। দেখি কাল কী হয়।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মাইশার মৃত্যুর পর ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ, বিশেষজ্ঞ দল আসছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:০৪ এম


মাইশার মৃত্যুর পর ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ, বিশেষজ্ঞ দল আসছে

আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের (আইআইইউসি) শিক্ষার্থী মাইশা মুশফিরাতের মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনার পর ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে নেওয়া তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিয়ে নতুন চ্যালেঞ্জের সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পারাপারের উদ্দেশ্যে আইআইইউসি প্রধান ফটক এলাকায় বসানো অস্থায়ী গতিরোধক (রাম্বল স্ট্রিপ) তীব্র যানজট সৃষ্টি করায় সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ তা অপসারণ করেছে। তবে শিক্ষার্থীদের যাতায়াত নিরাপদ করার জন্য স্থায়ী ও বিজ্ঞানসম্মত ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে সওজের কেন্দ্রীয় ‘রোড সেফটি উইং’-এর একটি বিশেষজ্ঞ দল সরেজমিনে পরিদর্শনে আসছে।

গত ৩ নভেম্বর সীতাকুণ্ডের কুমিরায় আইআইইউসির প্রধান ফটকের সামনে একটি দ্রুতগতির লরির ধাক্কায় মিনিবাস উল্টে শিক্ষার্থীদের ওপর পড়ে মর্মান্তিকভাবে নিহত হন বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থী মাইশা মুশফিরাত। এই দুর্ঘটনায় আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন। দুর্ঘটনার প্রতিবাদে এবং নিরাপদ সড়ক, ফুটওভারব্রিজ নির্মাণ, দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তি ও অবৈধ পার্কিং বন্ধের দাবিতে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা প্রায় সাত ঘণ্টা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে স্থানীয় প্রশাসন ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাৎক্ষণিক গতি নিয়ন্ত্রণের জন্য দুর্ঘটনাস্থলের আশপাশে রাম্বল স্ট্রিপ বসানো হয়। কিন্তু দেশের প্রধান এই অর্থনৈতিক ধমনীতে দূরপাল্লার ভারী কনটেইনারবাহী লরি ও ট্রেইলার চলাচলের কারণে এসব গতিরোধকের মুখে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। এর ফলে, যানজট এড়াতে অনেক চালক উল্টো পথে যান চালানোর ফলে সড়ক নিরাপত্তার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।

পরিস্থিতি মূল্যায়নের পর শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকাল ৭টা থেকে সওজ কর্তৃপক্ষ আইআইইউসি গেটসংলগ্ন এলাকা থেকে রাম্বল স্ট্রিপগুলো অপসারণের কাজ শুরু করে।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বিভাগীয় সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী মাইদুল ইসলাম জানান, জেলা প্রশাসন ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সাথে যৌথ সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে জরুরি ভিত্তিতে রাম্বল স্ট্রিপগুলো বসানো হয়েছিল। তবে জাতীয় মহাসড়কে ভারী যানবাহন চলাচলের ধরন বিবেচনায় এটি দীর্ঘমেয়াদি বা বিজ্ঞানসম্মত সমাধান ছিল না। এর ফলে যানজটের পাশাপাশি চালকদের মধ্যে উল্টো পথে চলার মতো আইন অমান্যের প্রবণতা তৈরি হচ্ছিল।

তিনি আরও জানান, অস্থায়ী গতিরোধক অপসারণের স্থানে দৃশ্যমান থার্মোপ্লাস্টিক জেব্রা ক্রসিং এবং 'ধীরে চলুন' নির্দেশক প্রতিফলক সাইনবোর্ড বসানো হচ্ছে। স্থায়ী সমাধানের জন্য ঢাকা থেকে সওজের কেন্দ্রীয় রোড সেফটি উইং ও অভিজ্ঞ প্রকৌশলীদের সমন্বয়ে গঠিত বিশেষজ্ঞ দল দ্রুত এলাকা পরিদর্শন করবে। এই দলটি মহাসড়কের জ্যামিতিক নকশা, যানবাহনের চাপ ও শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সময়সূচি কারিগরিভাবে বিশ্লেষণ করে নকশা তৈরি করবে।

সওজের এই কর্মকর্তা মহাসড়কের অন্যান্য কাঠামোগত ঝুঁকির কথা তুলে ধরে বলেন, শুভপুর সেতু থেকে সীতাকুণ্ড অংশ পর্যন্ত বিদ্যমান ফুটওভারব্রিজ ব্যবহারে পথচারীদের অনিচ্ছা এবং বিভিন্ন শিল্পকারখানা কর্তৃক অবৈধভাবে মহাসড়কের ডিভাইডার কেটে ফেলাও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। সওজ ইতিমধ্যে এসব অবৈধ ডিভাইডার বন্ধের উদ্যোগ নিয়েছে।

এদিকে, আইআইইউসি গেট এলাকায় অবৈধ পার্কিং নিয়ন্ত্রণে ৪ নভেম্বর বিআরটিএর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দীপক ত্রিপুরার নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ১৫টি মামলায় ৫৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। এছাড়া শিক্ষার্থীদের প্রধান দাবি অনুযায়ী একটি আধুনিক ফুটওভারব্রিজ দ্রুত নির্মাণের আহ্বান জানিয়ে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর একটি আধা-সরকারি পত্র (ডিও লেটার) প্রেরণ করেছেন।

সড়ক পরিবহন বিশেষজ্ঞদের মতে, যেকোনো বড় দুর্ঘটনার পর কেবল সাময়িক গতিরোধক বা বিচ্ছিন্ন অভিযান চালিয়ে দুর্ঘটনা রোধ করা সম্ভব নয়। কার্যকর অবকাঠামো নির্মাণ, গতি নিয়ন্ত্রণ, অবৈধ পার্কিং পুরোপুরি বন্ধ এবং নিয়মিত নজরদারির সমন্বিত পদক্ষেপই কেবল এই ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টটিকে নিরাপদ করতে পারে। বিশেষজ্ঞ দলের পরিদর্শন শেষে দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত এই পরিকল্পনা কত দ্রুত বাস্তবায়িত হয়, সেদিকেই এখন নজর স্থানীয় বাসিন্দা ও আইআইইউসি শিক্ষার্থীদের।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হাসান মাহমুদ: ঘরের মাঠে ফাইফার পাওয়া খুবই স্পেশাল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:০৪ এম


হাসান মাহমুদ: ঘরের মাঠে ফাইফার পাওয়া খুবই স্পেশাল

হাসান মাহমুদের সময় কাটছে দারুণ। অস্ট্রেলিয়া ও আফগানিস্তানের পর এবার ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ঘরের মাঠে তিনি ফাইফারের দেখা পেলেন। গত ৩ মাসে এটি হাসানের তৃতীয় ফাইফার। তবে বাকি ফাইফারগুলোর তুলনায় এই ফাইফারের গুরুত্ব হাসানের কাছে একটু বেশি। সংবাদ সম্মেলনে হাসান নিজেই জানিয়েছেন এর কারণ, "ঘরের মাঠে ৫ উইকেট পাওয়াটা আমার জন্য খুবই স্পেশাল। যেহেতু নিজেদের মাঠে ভালো একটা সুযোগ ছিল, এটা অনেক আনন্দের।"

হাসান, যিনি সাধারণত মিতভাষী, নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে আরও বলেন, "টেস্ট ক্রিকেটে ৫ উইকেট পাওয়া সবগুলোই স্পেশাল। তবে অবশ্যই সব জায়গায় চেষ্টা করি, নিজের সেরাটা দেওয়ার এবং দলের জন্য অবদান রাখার চেষ্টা করি। এখানে যে কন্ডিশন ছিল, ফাস্ট বোলারদের জন্য শুরুর ১-২ ঘণ্টা হেল্প ছিল। সিম মুভমেন্ট ছিল, বলের সুইং ছিল। কিন্তু দেখা যায়, ২ ঘণ্টা পরে ফ্ল্যাট হয়ে যায়, ব্যাটিং ফ্রেন্ডলি হয়ে যায়। তারপরও আমরা যোগাযোগ করি যে আমাদের পরিকল্পনা এবং প্রক্রিয়া কী থাকবে। প্রত্যেকটা বোলারই তাদের সেরাটা দিয়ে দলের জন্য অবদান রাখার চেষ্টা করেছে।"

কাউন্টি ক্রিকেটে এই মৌসুমে কেন্টের হয়ে খেলেছেন হাসান। কাউন্টিতে খেলার পর টেস্টে তিনি অনেকটা বদলে গেছেন। কেন্টের অবদান কতটা, সেটি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে হাসান বলেন, "কেন্টের কন্ডিশন এবং অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশন প্রায় একই ধরনের ছিল। আমার জন্য একটু সহজ হয়েছে। ইংল্যান্ডের কন্ডিশনের সাথে মানিয়ে আবার অস্ট্রেলিয়াতে বোলিং করেছি। ওইটা একটা হেল্প হয়েছে আমার জন্য। বাট অবশ্যই ওটা ডিফারেন্ট ক্রিকেট, এটা ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট। দুইটা আলাদা।"

হাসান দুর্দান্ত বোলিংয়ের ক্ষেত্রে স্কিলের পাশাপাশি মাথাও খাটান। সেই রহস্য নিয়ে তিনি বলেন, "৬টা বলের মধ্যে চেষ্টা করি ২-৩টা বল করে ব্যাটারকে চিন্তা করাতে যে এই বলটাই আসবে। যেটা উইকেট টেকিং বল সেটা একটু ডিফারেন্ট প্ল্যানে বোলিং করা হয়। হয়তো ব্যাটার চিন্তা করে, এই বলটা আসবে না বা একটু ফুলার লেংথে বল আসবে, খেলতে যাবে...। ব্যাটাররা মাঝে মাঝে আউট অফ দ্য বক্স চিন্তা করে না। যদি এক্সিকিউশন ভালো হয়, ভালো জায়গায় বল করতে পারি, তখন উইকেটটা পাওয়া যায়।"

হাসানের দুর্দান্ত বোলিংয়ের পরেও দিন শেষে কিছুটা অস্বস্তিতে বাংলাদেশ। তবে হাসানের বিশ্বাস, প্রথম ইনিংসে লিড নেবে বাংলাদেশ। তিনি বলেন, "যদি মুশফিক ভাই এবং হৃদয় কন্টিনিউ করতে পারে আমার মনে হয় আমরা ওদের লিড দিতে পারব। আশা করি, আমরা ওদের লিড রানটা কমপ্লিট করতে পারব। উইকেট এখন পর্যন্ত ভালো। স্পিন কিংবা ফাস্ট বোলিংয়েও খুব বেশি কিছু হচ্ছে না। শুরুর দিকে নতুন বলে খেলা হয়েছে, কিন্তু এখন আমার মনে হয় ব্যাটাররা যদি ভালোভাবে খেলতে পারে, তাহলে আমরা ভালোভাবে শেষ করতে পারব।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫০
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪০
মাগরিব ০৫:১৬
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৮ সূর্যাস্ত : ০৫:১৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%