০২:০২ এম
ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির লোকসভা সদস্য নিশিকান্ত দুবে পাকিস্তাননিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পাশাপাশি বাংলাদেশের নোয়াখালী, সিলেট ও চট্টগ্রাম বন্দর নিজেদের দখলে নেওয়ার খোলাখুলি উসকানি দিয়েছেন। তিনি স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের এই অঞ্চলগুলোকে ভারতের অংশে পরিণত বা ‘পুনরুদ্ধার’ করার দাবি তুলে চরম বিতর্ক সৃষ্টি করেছেন।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) ভারতের বার্তা সংস্থা এএনআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ঝাড়খন্ড রাজ্যের গোড্ডা আসন থেকে নির্বাচিত এই এমপি এই বিতর্কিত উসকানি দেন। গোড্ডাতে আদানির তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি অবস্থিত, যেখান থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ বাংলাদেশে সরবরাহ করা হয়।
দেশভাগের সময়কার ইতিহাসের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর তীব্র সমালোচনা করেন নিশিকান্ত। তিনি দাবি করেন, নোয়াখালী, সিলেট ও চট্টগ্রাম তৎকালীন ত্রিপুরা রাজ্যের অন্তর্গত ছিল। কিন্তু নেহরুর ভুল নীতির কারণে তা জোর করে পাকিস্তানের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
আরও পড়ুন: আরব উপসাগরে তেলবাহী ট্যাংকারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এক নাবিক নিহত
নোয়াখালী দাঙ্গার প্রসঙ্গ টেনে নিশিকান্ত অভিযোগ করেন, নেহরু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘আজ উত্তর-পূর্বাঞ্চল যে পিছিয়ে রয়েছে এবং সেখানকার খনিজ সম্পদ সদ্ব্যবহার করা যাচ্ছে না, তার একমাত্র কারণ চট্টগ্রাম বন্দর হাতে না থাকা। তাই সময় এসেছে নোয়াখালী, সিলেট ও চট্টগ্রাম পুনরুদ্ধারের।’
এছাড়া সিলেটে গণভোট পরিচালনাকারী বাহারুল ইসলামকে ‘মুসলিম লীগ রেড আর্মি’র সদস্য দাবি করে নিশিকান্ত বলেন, পরবর্তীতে কংগ্রেস তাকে হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি বানিয়েছিল।
বিজেপি এমপির এই ভূখণ্ড দখলের দাবির সমর্থন জানিয়েছেন ত্রিপুরার রাজপরিবারের বংশধর ও ‘তিপ্রা মথা’ দলের প্রতিষ্ঠাতা প্রদ্যোৎ বিক্রম মাণিক্য দেববর্মা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ তিনি লেখেন, দেশভাগের সময় ত্রিপুরার একটি বিশাল অংশ হস্তান্তর করা ঐতিহাসিক ভুল ছিল। চট্টগ্রাম বন্দর থাকলে আজ ‘চিকেনস নেক’ (শিলিগুড়ি করিডোর) নিয়ে ভারতকে দুশ্চিন্তা করতে হতো না।
নানা উসকানিমূলক ও বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য নিশিকান্ত দুবে আগেও সংবাদের শিরোনাম হয়েছেন। এর আগে তিনি পশ্চিমবঙ্গের মালদহ ও মুর্শিদাবাদ এবং বিহারের কাটিহার ও কিষানগঞ্জ নিয়ে পৃথক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল গঠনের দাবি তুলেছিলেন। এ ছাড়া তৃণমূলের সাবেক এমপি মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে অর্থ নিয়ে সংসদে প্রশ্ন করার অভিযোগকারীও ছিলেন এই বিজেপি নেতা। বাংলাদেশের অবিচ্ছেদ্য ভূখণ্ড নিয়ে তাঁর এই সাম্প্রতিক মন্তব্যে কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক মহলে চরম প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
আরও পড়ুন: সাভার-আশুলিয়ার শিল্পাঞ্চলে ৮৮ কারখানা কর্মমুখর হয়ে উঠছে
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন