ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং
আল-জাজিরার বিশ্লেষণ

লেবাননের ৯০০ বছরের পুরোনো বিউফোর্ট দুর্গ কী, কেন এটি দখল করল ইসরায়েল?


লেবাননের ৯০০ বছরের পুরোনো বিউফোর্ট দুর্গ কী, কেন এটি দখল করল ইসরায়েল?

দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সম্প্রসারিত সামরিক অভিযানের মধ্যে দেশটির ঐতিহাসিক বিউফোর্ট দুর্গ দখল করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। এই ঘটনা রবিবারে ঘটেছে। ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে কার্যকর থাকা যুদ্ধবিরতির মধ্যেই এই দখল বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েল বারবার ওই যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে।

১৯৮২ সালের লেবানন যুদ্ধে নিহত ইসরায়েলি সেনাদের স্মরণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ বলেছেন, গ্যালিলি অঞ্চলের জনপদগুলোর ওপর নজর রাখায় ব্যবহৃত পাহাড়চূড়াগুলোতে আবারও ইসরায়েলের পতাকা উড়ছে।

বিউফোর্ট দুর্গটি, আরবিতে ‘কালাত আল-শাকিফ’ নামে পরিচিত, দক্ষিণ লেবাননের একটি পাথুরে পাহাড়চূড়ায় অবস্থিত প্রায় ৯০০ বছর পুরোনো একটি দুর্গ। এই দুর্গটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৭০০ মিটার (২,৩০০ ফুট) উচ্চতায় অবস্থিত এবং এটি ১২শ শতকে ক্রুসেডারদের দ্বারা নির্মিত ছিল। এখানে থেকে লিটানি নদীর দিকে নজরদারি করা যায়।

আরও পড়ুন: "অসহিষ্ণু বক্তব্য রাজনীতিকে ‘পয়েন্ট অফ নো রিটার্ন’-এ নিয়ে যেতে পারে": সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স

পুরোনো ফরাসি ভাষায় ‘বিউফোর্ট’ শব্দের অর্থ ‘সুন্দর দুর্গ’। শতাব্দী পর শতাব্দী ধরে এই দুর্গের নিয়ন্ত্রণ বিভিন্ন শক্তির হাতে ছিল। ক্রুসেডারদের পর এটি বিভিন্ন আঞ্চলিক শক্তি এবং পরবর্তীতে অটোমান সাম্রাজ্যের নিয়ন্ত্রণে ছিল। উঁচু অবস্থানে থাকার কারণে এটি ঐতিহাসিকভাবে অঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক ঘাঁটি হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

ফিলিস্তিনি যোদ্ধারা এই স্থানকে তাদের ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত করতেন। ১৯৮২ সালে লেবাননে আগ্রাসনের সময় ইসরায়েল দুর্গটি দখল করে নেয়। পরে দক্ষিণ লেবাননে নিরাপত্তা অঞ্চলের অংশ হিসেবে ইসরায়েলি বাহিনী ২০০০ সাল পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করে।

বিউফোর্ট দুর্গের কৌশলগত গুরুত্ব সম্পর্কে জানানো হয়েছে যে, এটি লেবাননের পঞ্চম বৃহত্তম শহর নাবাতিয়াহর কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ পাহাড়চূড়ায় অবস্থিত। এই দুর্গ এবং এর আশপাশের রিজ এলাকা দক্ষিণ লেবাননের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অবস্থান হিসেবে বিবেচিত। এতে দুর্গটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার মাধ্যমে ইসরায়েলি বাহিনী দক্ষিণ লেবাননের বিস্তীর্ণ এলাকা এবং উত্তর ইসরায়েলকে নজরদারির সুযোগ পাবে।

দক্ষিণ লেবাননের টাইর শহর থেকে আল-জাজিরার সাংবাদিক ওবাইদা হিত্তো জানিয়েছেন, দুর্গটির অবস্থান থেকে নাবাতিয়াহ শহরের আশপাশের প্রায় সব শহর ও গ্রাম পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব। একইসাথে পশ্চিম বেকা উপত্যকা, অধিকৃত গোলান মালভূমি ও উত্তর গ্যালিলি অঞ্চল পর্যন্ত দেখা সম্ভব।

আরও পড়ুন: আনোয়ারায় কেইপিজেড ও চায়না ইকোনমিক জোন পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী

ওবাইদা হিত্তো আরও বলেছেন, নতুন এই পর্যবেক্ষণ সুবিধার কারণে স্থানীয় মানুষের মধ্যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে যে, ইসরায়েল তাদের সামরিক অভিযান আরও বিস্তৃত করতে পারে।

বর্তমানে, দক্ষিণ লেবাননে কি ঘটছে তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। লেবাননের জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২ মার্চ থেকে দেশটিতে ইসরায়েলি হামলায় ৩,৪১২ জন নিহত এবং ১০,২৬৯ জন আহত হয়েছেন। বিউফোর্ট দুর্গ দখলের পূর্বে কয়েক দিন ধরে দখলদার ইসরায়েল বিভিন্ন গ্রামে হামলা চালিয়েছে। আল-জাজিরার হিসাব অনুসারে, রবিবারই দক্ষিণ লেবাননে ৩৬টির বেশি হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত এবং ৩৫ জন আহত হয়েছেন।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে, ফলে ইসরায়েল ইতোমধ্যে দক্ষিণ লেবাননের বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করেছে। বর্তমানে প্রায় ২ হাজার বর্গকিলোমিটার (৭৭০ বর্গমাইল) লেবানিজ ভূখণ্ড ইসরায়েলি বাহিনীর দখলে রয়েছে, যা দেশটির মোট আয়তনের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ।

গত সপ্তাহে, দখলদার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু লেবাননের ভেতরে আরও গভীর সামরিক অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছেন। এটিকে গত ২৫ বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে প্রতিবেশী দেশটিতে ইসরায়েলির সবচেয়ে গভীর অনুপ্রবেশ হিসেবে গ্রহণ করা হচ্ছে। রবিবার নেতানিয়াহু বলেন, তিনি আবারও লেবাননে সামরিক অভিযান সম্প্রসারণের নির্দেশ দিয়েছেন। গত সোমবার দক্ষিণ লেবাননের সাতটি গ্রামের বাসিন্দাদের জন্য জোরপূর্বক স্থানত্যাগের নির্দেশ জারি করা হয়। এসব গ্রামের মধ্যে রয়েছে হৌমিন আল-ফাউকা, বনাফৌল, আরব সালিম, রুমিন, আজ্জে, আরকে এবং জাবা।

আরও পড়ুন: দিনাজপুর বোর্ডের ১ কোটি ২৬ লাখ টাকার দুর্নীতির তদন্তের নির্দেশ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সিরাজগঞ্জ মানসিক প্রতিবন্ধী শিশুকে ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব-১২

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

জহুরুল ইসলাম, সিরাজগঞ্জ

বুধবার, ৩ই জুন, ২০২৬ ইং

০৩:৫৪ পি.এম


সিরাজগঞ্জ মানসিক প্রতিবন্ধী শিশুকে ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব-১২

সিরাজগঞ্জে অভিযান চালিয়ে মানসিক প্রতিবন্ধি শিশুকে ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামী মো: শান্ত (২৫) কে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-১২।
বুধবার (৩ জুন ) সকালে জেলার নলকা এলাকার সৈয়দ স্পিনিং মিল এর সামনে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেফতারকৃত আসামি জেলার রায়গঞ্জ থানার লক্ষিখোলা গ্রামের মো: বেলাল হোসেনের ছেলে।

এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, র‍্যাব-১২ কোম্পানি কমান্ডার তাবরীজ তাজওয়ার শরীফ। তিনি জানান, গত ২৬ এপ্রিল সকাল ভিকটিম শিশুটি প্রতিদিনের ন্যায় বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে একই এলাকার আসামি মো. শান্ত ভিকটিমকে ফুসলিয়ে ও টাকার প্রলোভন দেখিয়ে আসামির নিজ বসতবাড়ীতে নিয়ে যায়। বসত বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে ভিকটিম এর ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোর পূর্বক ধর্ষণ করে।

এরই ধারাবাধিকতায় গত ০৩ মে ভিকটিমের পিতা মো. শান্তকে আসামি করে জেলার রায়গঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। উক্ত ঘটনার পর থেকেই আসামি পলাতক থাকে। তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেফতারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য রায়গঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কাফনের কাপড় ও চিরকুট, বিএনপি নেতাকে প্রাণনাশের হুমকি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৩ই জুন, ২০২৬ ইং

০৩:৫৪ পি.এম


কাফনের কাপড় ও চিরকুট, বিএনপি নেতাকে প্রাণনাশের হুমকি

মেহেরপুর সদর উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের বলিয়ারপুর গ্রামে ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক লস্কর আলীর বাড়ি থেকে পুলিশ কাফনের কাপড়, আগরবাতি, গোলাপজলের বোতল এবং একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে।

আজ বুধবার (৩ জুন) সকালে, বাড়ির প্রাচীরের উপরে এসব দেখতে পেয়ে লস্কর আলী মেহেরপুর থানা পুলিশকে খবর দেন।

লস্কর আলী জানান, সকালে বাড়ির প্রাচিরের ওপর একটি পলিথিন ব্যাগে কাফনের কাপড়, আগরবাতির প্যাকেট, গোলাপজলের বোতল এবং জীবননাশের হুমকি দিয়ে একটি চিরকুট রেখে যায় দুর্বৃত্তরা। পরে তিনি বলিয়ারপুর পুলিশ ক্যাম্পে খবর দিলে সেখানকার পুলিশ সদস্যরা এসে সেগুলো উদ্ধার করে নিয়ে যায়।

মেহেরপুর সদর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির জানান, খবর পেয়ে বলিয়ারপুর ক্যাম্প পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল থেকে কাফনের কাপড়সহ অন্যান্য সামগ্রী উদ্ধার করেছে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে পুলিশ তদন্ত অব্যাহত রেখেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ডিসি, এসপি পরিচয়দানকারী বিশিষ্ট আঞ্চলিক প্রতারক মোট ০৪ টি মোবাইল ও ৩৮ টি সিম কার্ড সহ গ্রেফতার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি

বুধবার, ৩ই জুন, ২০২৬ ইং

০৩:৫৬ পি.এম


ডিসি, এসপি পরিচয়দানকারী বিশিষ্ট আঞ্চলিক প্রতারক মোট ০৪ টি মোবাইল ও ৩৮ টি সিম কার্ড সহ গ্রেফতার

ইং ২৫/০৫/২০২৬ তারিখ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি নিজেকে সরকারী উর্ধ্বতন কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে একজন হোমিও ঔষধের ব্যবসায়ীর কাছে মোবাইল ও হোয়াটস অ্যাপের মাধ্যমে ফোন দিয়ে বলে যে, “আপনার ঔষধ সেবন করে একজন শিশু মারা গিয়েছে| ৫,০০,০০০/-(পাঁচ লক্ষ) টাকা না দিলে আপনার নামে এখন মামলা হবে”| উক্ত ঔষধের দোকানদার মামলা মোকদ্দমার ভয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির নগদ নাম্বারে ২০,৩০০/-(বিশ হাজার তিন শত) টাকা প্রেরণ করে|

একই অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি মোবাইল ফোন ও হোয়াটস অ্যাপ ব্যবহার করে ইং ৩০/০৫/২০২৬ তারিখ নিজেকে সিআইডির এসপি জাহিদ পরিচয় দিয়ে অপর একজন বিকাশ ও নগদ ব্যবসায়ীকে ফোন এবং মেসেজ দিয়ে বলে যে, “আপনার দোকান থেকে অনলাইন জুয়ার লেনদেন করা হয়”। অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে ৪০,০০০/- টাকা দিতে হবে| টাকা না দিলে তার নামে মামলা হবে|

এই ধরনের প্রতারণার অভিযোগ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম প্রাপ্তির পর তিনি জেলা গোয়েন্দা শাখা এবং পুলিশ সুপারের আইসিটি শাখা কে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেন। উক্ত অভিযোগের প্রেক্ষিতে তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ব্যবহার করে জেলা গোয়েন্দা শাখা(ডিবি), নওগাঁর একটি চৌকস টীমকে দ্রুত গ্রেফতার অভিযানে প্রেরণ করা হয়।

অভিযানিক টীম অভিযান পরিচালনা করিয়া প্রতারক মোঃ নাইম হোসেন(২৮), পিতা- বাবু, সাং- নামা পোওতা, থানা- আদমদিঘী, জেলা- বগুড়াকে, গতকাল রাতে সান্তাহার থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। উল্লেখ্য যে, গ্রেফতারকালে তার নিকট হইতে প্রতারনার কাজে ব্যবহৃত ০৪ টি মোবাইল ফোন ০৩ টি সিম কার্ড সহ বিভিন্ন কোম্পানির মোট ৩৮ টি সিম কার্ড জব্দ করা হয়|
প্রতারককে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে সে বেশ কিছুদিন যাবৎ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার পরিচয় বিশেষ করে নিজেকে পুলিশ সুপার কখনো ওসি অথবা কখনো ডিসির পরিচয় দিয়ে অথবা কখনো বড় রাজনৈতিক নেতার পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা করতো। সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ তার দ্বারা প্রতারণার শিকার হয়েছে। সে বেশ কিছুদিন যাবৎ প্রতারণার ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। উক্ত বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন|

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কুবিতে পূর্ণাঙ্গ আবাসন সুবিধা না থাকায় ভোগান্তি বেশি নারী শিক্ষার্থীদের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মো. মাহমুদুল হাছান রোহান, কুবি প্রতিনিধি

বুধবার, ৩ই জুন, ২০২৬ ইং

০৩:৫৮ পি.এম


কুবিতে পূর্ণাঙ্গ আবাসন সুবিধা না থাকায় ভোগান্তি বেশি নারী শিক্ষার্থীদের

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘদিনের আবাসন সংকটের সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন নারী শিক্ষার্থীরা। পর্যাপ্ত হল সুবিধার অভাবে অনেক ছাত্রীকে ক্যাম্পাসের বাইরে বাসা বা মেসে থাকতে হচ্ছে, যেখানে নিরাপত্তা ঝুঁকি, অতিরিক্ত ব্যয় ও অনুকূল শিক্ষার পরিবেশের অভাব তাদের নিত্যসঙ্গী। প্রতিষ্ঠার দুই দশক পেরিয়ে গেলেও শিক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাড়েনি আবাসিক সুবিধা। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৭৬ শতাংশ শিক্ষার্থী হলের বাইরে থেকে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯টি বিভাগে মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৬ হাজার ৪৮৪ জন। বিপরীতে আবাসন সুবিধা রয়েছে মাত্র ১ হাজার ২৩৯টি সিটের, যা মোট শিক্ষার্থীর প্রায় ১৯ দশমিক ১১ শতাংশ। তবে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী অবস্থানের কারণে বর্তমানে বিভিন্ন হলে থাকছেন প্রায় ১ হাজার ৫৫৪ জন শিক্ষার্থী, যা মোট শিক্ষার্থীর প্রায় ২৩ দশমিক ৯৭ শতাংশ।

হলভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, কাজী নজরুল ইসলাম হলে ১৮০টি সিটের বিপরীতে ২১০ জন, বিজয় ২৪ হলে ৪৬০টি সিটের বিপরীতে ৫২০ জন, শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলে ১৪৬টি সিটের বিপরীতে ১৭০ জন, নবাব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী হলে ১৯৭টি সিটের বিপরীতে ২৯৬ জন এবং সুনীতি-শান্তি হলে ২৫৬টি সিটের বিপরীতে ৩৬৬ জন শিক্ষার্থী অবস্থান করছেন। অতিরিক্ত শিক্ষার্থী থাকায় প্রায় সব হলেই ডাবলিংসহ নানা সংকটে থাকতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন গণরুম ব্যবস্থা বিলুপ্ত করলেও আবাসন সংকট পুরোপুরি কাটেনি। পর্যাপ্ত আবাসিক সুবিধার অভাবে অনেক শিক্ষার্থীকে এখনো একটি সিটে দুজন করে থাকতে হচ্ছে। ফলে হলে অবস্থানরত শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা, বিশ্রাম এবং স্বাভাবিক জীবনযাপনে নানা ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রী হলের চিত্র আরও উদ্বেগজনক। তথ্য অনুযায়ী, নবাব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী হল ও সুনীতি-শান্তি হলে আসনসংখ্যার তুলনায় কয়েকশ শিক্ষার্থী বেশি অবস্থান করছেন। ফলে নারী শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশকে বাইরে বাসা বা মেসে থাকতে হচ্ছে।

সুনীতি-শান্তি হলের আবাসিক শিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার বলেন, “হলে দুইজন শিক্ষার্থীর জন্য মাত্র একটি চেয়ার, একটি টেবিল ও একটি বেড বরাদ্দ রয়েছে। মূলত এসব সুবিধা একজন শিক্ষার্থীর জন্যই উপযুক্ত। একজন পড়তে বসলে অন্যজনের পড়াশোনায় সমস্যা হয়। এছাড়া সিনিয়র-জুনিয়র মিলে একটি বেড শেয়ার করে থাকতে হয়। একজন এক সপ্তাহ বেডে থাকলে অন্যজনকে পরের সপ্তাহে ফ্লোরে থাকতে হয়।”

তিনি আরও বলেন, “একজনের নির্ধারিত জায়গায় দুইজনের জিনিসপত্র রাখতে হয়। এমনকি একটি লকারও দুইজন মিলে ব্যবহার করতে হচ্ছে।”

অর্থনীতি বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সালমা আক্তার বলেন, “পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তানরাই পড়ালেখা করতে আসে। তারা যদি প্রথম বর্ষ থেকেই সিট পায় তাহলে বেশি সুবিধা হয়। পর্যাপ্ত আবাসন সুবিধা না থাকায় অনেক ছাত্রীকে বাইরে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতে হচ্ছে। এতে খরচ যেমন বাড়ছে, তেমনি নিরাপত্তা ও পড়াশোনার পরিবেশ নিয়েও দুশ্চিন্তায় থাকতে হয়।”

তথ্য অনুযায়ী, মোট ৬ হাজার ৪৮৪ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে আবাসিক হলে থাকার সুযোগ পাচ্ছেন মাত্র ১ হাজার ৫৫৪ জন। ফলে প্রায় ৪ হাজার ৯৩০ জন শিক্ষার্থী কোনো ধরনের আবাসন সুবিধার আওতায় নেই। অর্থাৎ প্রতি চারজন শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রায় তিনজনকেই শহর কিংবা আশপাশের এলাকায় মেস বা বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতে হচ্ছে।

আবাসন সংকটের কারণে শিক্ষার্থীদের বাড়তি ভোগান্তির পাশাপাশি বাড়ছে আর্থিক চাপও। বাইরে থাকা শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, যাতায়াত এবং পড়াশোনার পরিবেশ নিয়েও রয়েছে উদ্বেগ।

বিজয় ২৪ হলের আবাসিক শিক্ষার্থী মো. রাকিব হাসান বলেন, “হলে থাকলেও স্বস্তিতে থাকার সুযোগ খুব কম। একটি রুমে নির্ধারিত সংখ্যার চেয়ে বেশি শিক্ষার্থী থাকায় পড়াশোনার পরিবেশ ব্যাহত হয়। ব্যক্তিগত জায়গাও পাওয়া যায় না। তারপরও ক্যাম্পাসের ভেতরে থাকতে পারছি বলেই কিছুটা সুবিধা হয়।”

কাজী নজরুল ইসলাম হলের আবাসিক শিক্ষার্থী মোহাম্মদ রাহিম বলেন, “আমরা হলে থাকার সুযোগ পেলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী আবাসন সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বিশ্ববিদ্যালয় যেহেতু সব শিক্ষার্থীকে হলে থাকার ব্যবস্থা করে দিতে পারছে না, তাই সরকার বা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন চাইলে আবাসিক ভাতা কিংবা কিছু ভর্তুকির ব্যবস্থা করতে পারে। এতে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি ও আর্থিক চাপ কিছুটা হলেও কমবে।”

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্মাণাধীন ২০০ একরের নতুন ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের জন্য ১০ তলাবিশিষ্ট চারটি আবাসিক হল নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। নতুন হলগুলোর কাজ সম্পন্ন হলে আরও ৪ হাজার ২০৬টি আসন বৃদ্ধি পাবে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল দপ্তর। তবে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করতে আরও ২৪১ কোটি টাকা প্রয়োজন বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, অর্থ ছাড়ে জটিলতার কারণে নতুন ক্যাম্পাসের কাজ ধীরগতিতে এগোচ্ছে।

কাজী নজরুল ইসলাম হলের প্রভোস্ট ও ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. হারুন বলেন, “বর্তমান আবাসন সংকট নতুন ক্যাম্পাস চালু হলে অনেকটাই কমে যাবে। সেখানে পর্যাপ্ত সিটের ব্যবস্থা থাকবে। আপাতত কিছুটা সংকট লাঘবের জন্য অতিরিক্ত শিক্ষার্থীকে হলে রাখার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদে বড় পরিসরে আবাসিক হল নির্মাণের বিকল্প নেই।”

নারী শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট প্রসঙ্গে নবাব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী হলের প্রভোস্ট ড. সুমাইয়া আফরিন সানি বলেন, “আমাদের হলে ১৮০টি সিট থাকলেও বর্তমানে প্রায় ২৯৬ জন শিক্ষার্থী অবস্থান করছেন। ফলে অনেক সিটে ডাবলিং করে থাকতে হচ্ছে। একজন শিক্ষক হিসেবে আমি চাই, শিক্ষার্থীদের জন্য শতভাগ আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হোক।”

এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরিফুল করিম বলেন, “আমাদের নতুন ক্যাম্পাসের কাজ প্রায় শেষের দিকে। আর এক বছর মতো সময় লাগতে পারে। নতুন ক্যাম্পাসের কাজ শেষ হলেই আবাসন সংকট অনেকাংশে দূর হবে।”

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%