১১:১৬ পি.এম
ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশন (আইএফসি) থেকে ৮০ মিলিয়ন ডলারের ঋণ পেতে মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের (এমজিআই) আবেদন বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। এমজিআই চারটি জাহাজ কেনার জন্য এই ঋণ পাওয়ার আবেদন করেছিল।
বেসরকারি মধুমতি ব্যাংক এমজিআইয়ের পক্ষে অনাপত্তিপত্রের (এনওসি) জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকে আবেদন করে।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের ঝুঁকি সম্পর্কে বিবেচনা করে আবেদনটি নাকচ করা হয়েছে। তবে, মেঘনা গ্রুপের চেয়ারম্যান এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তফা কামাল জানিয়েছেন, তাঁদের আবেদন প্রত্যাখ্যানের কোনো কারণ জানানো হয়নি।
আরও পড়ুন: ডিএনসিসি প্রশাসক: ফুটপাতে ব্যবসার পক্ষে কেউ নেই, সড়ক দখল উচ্ছেদে জনগণের সহযোগিতা জরুরি
তিনি উল্লেখ করেছেন, ‘আইএফসির ঋণ পেতে হলে অনেক শর্ত পূরণ করতে হয়। সমস্ত শর্ত পূরণের পর, আমাদের ৪টি জাহাজ কিনতে ৮০ মিলিয়ন ডলারের ঋণের অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। তবে আমাদের এনওসির জন্য আবেদনটি শেষে গ্রহণ করা হয়নি। প্রত্যাখ্যানের কোনো কারণের কথাও জানানো হয়নি।’
মোস্তফা কামাল আরো বলেন, ‘এমজিআইয়ের এই ঋণ পরিশোধের জন্য বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের যথেষ্ট উৎস রয়েছে। তবুও অনুমোদন পাওয়া যায়নি।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একটি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ‘বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বিডার অধীনে থাকলে, বিডাই বৈদেশিক ঋণের প্রাথমিক অনুমোদন দেয়। আর বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) অধীনে পরিচালিত হলে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে এনওসি নেয়া আবশ্যক। এমজিআই বর্তমানে বেজার আওতায় থাকায় এর জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন প্রয়োজন ছিল।’
তিনি আরও জানান, বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের ঝুঁকি মাথায় রেখেই আবেদনটি নাকচ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: সরকার অবাধ ও সুষ্ঠু স্থানীয় নির্বাচন উপহার দেবে: মীর শাহে আলম
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান মন্তব্য করেছেন, ‘বৈদেশিক ঋণের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সব সময় সতর্ক থাকে। যেহেতু এ ধরনের ঋণ সামগ্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। যদি কোনো প্রতিষ্ঠান বৈদেশিক ঋণ গ্রহণ করে এবং সেটি পরিশোধে ব্যর্থ হয়, তাহলে সেই ঋণের দায় শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও রাষ্ট্রের ওপর এসে পড়তে পারে।’
তিনি আরো বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংক ইকুইটি অংশীদারি এবং সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগকে স্বাগত জানায়, কিন্তু বৈদেশিক ঋণকে ঝুঁকিপূর্ণ মনে করে। কারণ এগুলো বৈদেশিক মুদ্রায় পরিশোধ করতে হয়।’
আরিফ হোসেন খান বলেন, ‘যদি উৎপাদন দেশীয় বাজারের জন্য হয় এবং এর থেকে রপ্তানি আয় না আসলে ঋণ পরিশোধে বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ থাকে না। এ কারণেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ ধরনের প্রস্তাবগুলো নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করে এবং সবসময় অনুমোদন দেয় না।’
মেঘনা গ্রুপ বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী হিসেবে পরিচিত এবং এটি একটি প্রধান ভোগ্যপণ্য আমদানিকারক ও প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে এই ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর নিজস্ব ১১০টি জাহাজসহ মোট ১৪৫টি জাহাজ রয়েছে।
আরও পড়ুন: নাহিদ ইসলাম: আইজিপির দায়িত্ব থেকে দ্রুত সরে যাওয়া উচিত
সূত্র : ডেইলি স্টার বাংলা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন