বৃহস্পতিবার, ২৭শে আগস্ট, ২০২৬ ইং
১২:০৪ পি.এম
মক্কা প্রদেশের বিভিন্ন স্থানে ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাসের প্রেক্ষিতে সৌদি আরবের আবহাওয়া দপ্তর ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করেছে।
এই তথ্য বুধবার (২৬ আগস্ট) আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়েছে।
সৌদি সিভিল ডিফেন্সের প্রকাশিত একটি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ওই অঞ্চলে চরম প্রতিকূল আবহাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সংস্থাটি বাসিন্দাদের চরম সতর্কতা অবলম্বন করতে, জলমগ্ন এলাকা, উপত্যকা ও বাঁধ থেকে দূরে থাকতে এবং কর্তৃপক্ষের দেওয়া নিরাপত্তা নির্দেশিকা মেনে চলার জন্য আহ্বান জানিয়েছে।
লাল সতর্কতা হলো দেশের আবহাওয়া কেন্দ্রের সর্বোচ্চ সতর্কবার্তা, যা চরম সতর্কতার প্রয়োজন এমন আবহাওয়ার উপস্থিতিতে জারি করা হয়। মক্কা প্রদেশে গত কয়েক দিন ধরে অস্থির আবহাওয়া এবং বিভিন্ন মাত্রার বৃষ্টিপাত পরিলক্ষিত হচ্ছে।
এর আগে গত ২১ আগস্ট আল-আরদিয়াত ও আল-কুনফুদাহ প্রদেশে ঝোড়ো হাওয়া, শিলাবৃষ্টি, বজ্রপাত এবং আকস্মিক বন্যার ঝুঁকিসহ ভারী বর্ষণের পূর্ব সতর্কবার্তা জারি করেছিল সংশ্লিষ্ট বিভাগ।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে সারাদেশে ২৫ কোটি গাছের চারা রোপণের পরিকল্পনা রয়েছে। চলতি বছরে প্রায় সাড়ে ৫ কোটি গাছের চারা রোপণ করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, গাছের চারা রোপণ করা যথেষ্ট নয়, বরং রোপণের পর এসব চারার সঠিক পরিচর্যা নিশ্চিত করা আবশ্যক। গাছগুলো যখন বেড়ে উঠবে, তখন জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উদ্ভূত দুর্যোগের ঝুঁকি কমবে এবং পরিবেশের ভারসাম্য বজায় থাকবে।
গতকাল বুধবার সকালে বাগেরহাটের মোংলা সরকারি কলেজ চত্বরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনকালে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
প্রতিমন্ত্রী নিজ হাতে গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে মোংলা সরকারি কলেজ কর্তৃপক্ষের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। চারা রোপণের পর তিনি দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন।
এরপর শেখ ফরিদুল ইসলাম মোংলা পৌর পানি সরবরাহ প্রকল্পের পুকুর পাড়ে বৃক্ষরোপণ করেন। তিনি সরকারি টি এ ফারুক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মোংলা উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় এবং সেন্ট পলস উচ্চ বিদ্যালয় চত্বরে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন মোংলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার সুমী, মোংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতিকুর রহমান, মোংলা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ কে এম রব্বানী, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল মান্নান হাওলাদার, সাধারণ সম্পাদক আবু হোসেন পনিসহ দলের বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমের সফলতার জন্য রোপণকৃত প্রতিটি চারার পরিচর্যা ও সংরক্ষণে সংশ্লিষ্ট সকলকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
পরিকল্পিতভাবে বৃক্ষরোপণ ও পরিচর্যার মাধ্যমে পরিবেশ সুরক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা করা সম্ভব হবে। তিনি এই কর্মসূচিতে স্থানীয় জনগণ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মার্কিন সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নেটওয়ার্কে দীর্ঘ সময় ধরে সাইবার অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালানোর অভিযোগ উঠেছে একটি চীনভিত্তিক হ্যাকার দলের বিরুদ্ধে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, দলটি মার্কিন বিচার বিভাগ, নাসা, ফেডারেল রিজার্ভ এবং সিনেটসহ গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানের নেটওয়ার্কে প্রবেশের চেষ্টা করেছে। যদিও কয়েকটি ক্ষেত্রে অনুপ্রবেশ সফল হয়েছে, বেশিরভাগ প্রচেষ্টা ঠেকিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
স্থানীয় সময় বুধবার মার্কিন বিচার বিভাগ এক বিবৃতিতে জানায়, কিউস্ক্যান এবং কিউটিরাউটার নামে দুটি হ্যাকিং প্ল্যাটফর্মের ব্যবহৃত ডোমেইন জব্দ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় ধরে পরিচালিত সাইবার হামলা অভিযানে এই দুটি প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করা হয়েছে।
আদালতে জমা দেওয়া একটি হলফনামায় বলা হয়েছে, হ্যাকারদের লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় ছিল মার্কিন জ্বালানি বিভাগ, স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগ, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেলথ। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার আরও চারটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানও তাদের নিশানায় ছিল বলে দাবি করা হয়েছে।
মার্কিন বিচার বিভাগের ভাষ্য অনুযায়ী, কিউস্ক্যান ও কিউটিরাউটার পরিচালনা করত চীনভিত্তিক নানজিয়াং জিনজিওয়েই নেটওয়ার্ক টেকনোলজি কোম্পানি। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, প্রতিষ্ঠানটির গ্রাহকদের মধ্যে চীনের বেসামরিক গোয়েন্দা সংস্থা মিনিস্ট্রি অব স্টেট সিকিউরিটি এবং দেশটির সামরিক বাহিনী পিপলস লিবারেশন আর্মি বা পিএলএ রয়েছে।
তবে স্বাভাবিক কর্মঘণ্টার বাইরে পাঠানো মন্তব্যের অনুরোধে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
ওয়াশিংটনে চীনা দূতাবাসের এক মুখপাত্র ইমেইলে জানান, মার্কিন বিচার বিভাগের বিবৃতিতে উল্লিখিত নির্দিষ্ট বিষয়গুলো সম্পর্কে তারা অবগত নন। তবে চীন সরকার সব ধরনের সাইবার হামলার দৃঢ় বিরোধিতা করে এবং আইন অনুযায়ী এ ধরনের হামলা প্রতিরোধ ও মোকাবিলা করে বলে জানান তিনি।
চীনা মুখপাত্রের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র সাইবার নিরাপত্তার বিষয়কে ব্যবহার করে চীনকে কলঙ্কিত বা হেয় করার চেষ্টা করছে। জাতীয় নিরাপত্তার ধারণাকে অতিরঞ্জিত করে চীনা কোম্পানিগুলোর ওপর বৈষম্যমূলক বিধিনিষেধ আরোপের অজুহাত হিসেবে ওয়াশিংটন এটি ব্যবহার করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। একই সঙ্গে চীনা কোম্পানিগুলোর বৈধ অধিকার ও স্বার্থ রক্ষার কথা জানান।
২০১৮ সাল থেকে নজরে মার্কিন নেটওয়ার্ক
মার্কিন আদালতে জমা দেওয়া হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, অন্তত ২০১৮ সাল থেকেই হ্যাকাররা যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও সংবেদনশীল নেটওয়ার্কে প্রবেশের জন্য নিজেদের তৈরি বিভিন্ন সরঞ্জাম ব্যবহার করে আসছে। তবে তাদের সব প্রচেষ্টা সফল হয়নি।
২০১৯ সালের আগস্টে একটি ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক বা ভিপিএনের দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে নাসার নেটওয়ার্কে ঢোকার চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয় বলে হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এরপর ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বিভাগের তিনটি অজ্ঞাতনামা গবেষণাগার, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেলথ, স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের একটি অজ্ঞাত সংস্থা এবং একটি মার্কিন নিরাপত্তা ডিভাইস নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের নেটওয়ার্কে অনুপ্রবেশের অভিযোগ ওঠে।
এফবিআই, ন্যাশনাল সিকিউরিটি এজেন্সি বা এনএসএ এবং ইউএস সাইবার কমান্ডের সাইবার ন্যাশনাল মিশন ফোর্সের যৌথ সাইবার নিরাপত্তা সতর্কবার্তায় গত কয়েক বছরের বেশ কয়েকটি হ্যাকিং প্রচেষ্টার তথ্যও প্রকাশ করা হয়েছে।
এর মধ্যে ২০২৪ সালের মে মাসে কয়েকটি অজ্ঞাতনামা মার্কিন প্রতিরক্ষা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সফলভাবে তথ্য চুরির ঘটনাও রয়েছে।
তবে হ্যাকারদের তৎপরতা শুধু তথ্য চুরিতে সীমাবদ্ধ ছিল না বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষের দাবি। বিভিন্ন নেটওয়ার্কের দুর্বলতা শনাক্ত করতে স্ক্যান চালানোর পাশাপাশি ২০২৬ সালের মার্চে মার্কিন সিনেট ও একটি মার্কিন হাসপাতালের নেটওয়ার্কে প্রবেশের ব্যর্থ চেষ্টাও করা হয় বলে জানানো হয়েছে।
নাসার এক মুখপাত্র নির্দিষ্ট কোনো সাইবার ঘটনার বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি। মার্কিন স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগ এ বিষয়ে প্রশ্নের জন্য বিচার বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেছে। অন্যদিকে বিচার বিভাগও অতিরিক্ত তথ্য জানতে পাঠানো অনুরোধের তাৎক্ষণিক কোনো জবাব দেয়নি।
সূত্র: রয়টার্স
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে বেনাপোল-পেট্রাপোল বন্দর দিয়ে দুই দেশের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য একদিন বন্ধ থাকার পর আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয়েছে।
এই তথ্য বৃহস্পতিবার সকালে নিশ্চিত করেছেন বেনাপোল বন্দরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক রুহুল আমিন।
তিনি উল্লেখ করেছেন যে, পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে বুধবার বাংলাদেশে সরকারি ছুটি থাকায় বেনাপোল-পেট্রাপোল বন্দর দিয়ে দু'দেশের মধ্যে আমদানি-রফতানি বাণিজ্য বন্ধ ছিল। আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে পুনরায় দুই দেশের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যসহ কাষ্টমস ও বন্দরের সকল কার্যক্রম যথা নিয়মে শুরু হয়েছে।
বন্দর সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন ভারত থেকে ৪০০ থেকে সাড়ে ৪০০ পণ্যবাহী ট্রাক বেনাপোল বন্দরে প্রবেশ করে। বাণিজ্যিক কার্যক্রমের মাধ্যমে সরকার প্রতিদিন এ বন্দর থেকে প্রায় ১০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করে থাকে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন জানিয়েছেন, বাংলাদেশের চলমান জ্বালানি সংকটের সমাধানে চীন সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। উভয় দেশ একত্রে কাজ করছে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিশেষ করে সৌর শক্তির উন্নয়নকে কেন্দ্র করে, যা জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে সহায়ক হবে।
বৃহস্পতিবার সকালে সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান এবং প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।
তিনি উল্লেখ করেন, চীন বাংলাদেশের জ্বালানি ঘাটতি পূরণে সহায়তা করার জন্য তার প্রযুক্তিগত সক্ষমতা কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে।
তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের পর দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার একটি নতুন ঐতিহাসিক সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এই সফরের মাধ্যমে উভয় দেশ ‘নতুন যুগে একটি অভিন্ন ভবিষ্যতের জন্য চীন-বাংলাদেশ সম্প্রদায়’ গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের প্রসঙ্গ তুলে ধরে ইয়াও ওয়েন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরের পরবর্তী দুই মাসে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি লক্ষ্য করা গেছে।
তিনি জানান, চীনের সহায়তায় বাংলাদেশে প্রথম বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। তিস্তা নদী প্রকল্পের সম্ভাব্যতা ফিজিবিলিটি স্টাডির কাজ বর্তমানে চলমান রয়েছে।
এছাড়াও, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উইমেন রেসিডেন্সিয়াল হল এবং একটি হাসপাতালের নির্মাণ কাজ অত্যন্ত সফলভাবে এগিয়ে চলছে।
দুই দেশের মধ্যে সংযোগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে সরাসরি ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা ও কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন ইয়াও ওয়েন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ