ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২০ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৪শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ০৫ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২০ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

কংগ্রেসে ইতিহাস গড়লেন জেন-জি প্রার্থীরা: সবচেয়ে কম বয়সী রাজনীতিক হিসেবে জয়ী


কংগ্রেসে ইতিহাস গড়লেন জেন-জি প্রার্থীরা: সবচেয়ে কম বয়সী রাজনীতিক হিসেবে জয়ী

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কনিষ্ঠ প্রজন্মের প্রতিনিধিদের দ্বারা ইতিহাস সৃষ্টির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদে (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা ঘটেছে। সর্বকনিষ্ঠ কংগ্রেস সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন জেন-জি প্রজন্মের তরুণ প্রার্থীরা।

নতুন জেনারেশনের নতুন ধারা : নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে আসা দুই তরুণ প্রার্থী ২০-এর কোঠায় থেকেই মার্কিন রাজনীতির সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিজেদের অবস্থান নিশ্চিত করেছেন। মাইকেল আলফনসো (২৬) : উইসকনসিনের ৭ম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্ট থেকে নির্বাচিত হয়ে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইকেল আলফনসো বর্তমানে হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের সর্বকনিষ্ঠ সদস্য। তিনি প্রথম ২০০০-এর দশকে জন্মগ্রহণকারী ব্যক্তি, যিনি মার্কিন কংগ্রেসে প্রতিনিধিত্ব করবেন।

মেলাট কিরোস (২৯) : কলোরাডোর ১ম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্ট থেকে ডেমোক্রেটিক প্রার্থী এবং ইথিওপীয় বংশোদ্ভূত আইনজীবী মেলাট কিরোস প্রতিনিধি পরিষদে প্রথম জেন-জি নারী হিসেবে স্থান পেয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন।

আরও পড়ুন: প্রযুক্তি জায়ান্টদের ইউক্রেনীয়দের রক্তের বিনিময়ে ব্যবসার অভিযোগ

জয়ের পর, মার্কিন আইনসভা কংগ্রেসে তরুণ ও সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষায় কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন নতুন নির্বাচিত আইনপ্রণেতারা। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই পরিবর্তনের মাধ্যমে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নীতি নির্ধারণে তরুণ প্রজন্মের কণ্ঠস্বর আরও জোরালো হবে।

সূত্র : টিআরটি ওয়ার্ল্ড।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দক্ষিণ আমেরিকায় বিটিএসের উন্মাদনা, কনসার্টে দর্শক ৮ লাখের বেশি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৫ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:৩৯ পি.এম


দক্ষিণ আমেরিকায় বিটিএসের উন্মাদনা, কনসার্টে দর্শক ৮ লাখের বেশি

দক্ষিণ আমেরিকার বিভিন্ন স্থানে একের পর এক কনসার্টে দর্শকদের মাতিয়ে বিশ্বসংগীতের জনপ্রিয় কে-পপ ব্যান্ড বিটিএস তাদের ‘অ্যারিরাং’ বিশ্ব সফরের এই পর্বটি শেষ করেছে। পাঁচটি দেশের পাঁচটি শহরে মোট ১৪টি কনসার্ট অনুষ্ঠিত হয়েছে দলটির পক্ষ থেকে। প্রতিটি কনসার্টের টিকিট আগেই বিক্রি হয়ে যায়। এসব আয়োজনে দর্শক উপস্থিতি ছিল ৮ লাখ ৫৩ হাজার।

বিটিএসের দক্ষিণ আমেরিকা সফর শুরু হয়েছিল ২ অক্টোবর কলম্বিয়ার বোগোতা থেকে। এরপর পেরুর লিমা, চিলির সান্তিয়াগো ও আর্জেন্টিনার বুয়েনস এইরেস হয়ে দলটি ব্রাজিলে পৌঁছায়। তাদের এই সফর শেষ হয় ২৮, ৩০ ও ৩১ অক্টোবর সাও পাওলোর মোরুম্বি স্টেডিয়ামে তিনটি কনসার্টের মাধ্যমে।

কনসার্টগুলোতে নতুন অ্যালবাম ‘অ্যারিরাং’-এর গান পরিবেশনের পাশাপাশি ভক্তদের জন্য ছিল পুরোনো জনপ্রিয় গানগুলো। দর্শকরা ‘ফেক লাভ’, ‘নট টুডে’, ‘মাইক ড্রপ’, ‘ফায়ার’, ‘আইডল’, ‘বাটার’ ও ‘ডাইনামাইট’-এর মতো গানে মেতে ওঠেন। মঞ্চে সদস্যদের পোশাকেও ছিল বিশেষ আকর্ষণ। ব্রাজিলের ফুটবল জার্সি পরে পারফর্ম করেন তারা। জিন ও আরএমের মাথায় দেখা যায় দেশটির আদিবাসীদের ঐতিহ্যবাহী পালকের মুকুট।

এই সফর সংগীতের আয়োজনের বাইরেও স্থানীয় শহরগুলোর অর্থনীতি ও পর্যটনে বড় প্রভাব ফেলেছে। বোগোতায় গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ফ্লাইট বুকিং বেড়েছে ৪৬ দশমিক ৬ শতাংশ। লিমায় কনসার্টের দিন রাইড শেয়ারিং সেবার চাহিদা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় ১৫ গুণ বেড়ে ৪৮ গুণে পৌঁছায়। অন্যদিকে সান্তিয়াগোতে আবাসন খোঁজার হার বেড়েছে প্রায় ২০০ শতাংশ।

বিটিএসের প্রতি ভালোবাসার স্বীকৃতি হিসেবে কিছু শহরে দলটিকে সম্মানিত অতিথি ঘোষণা করা হয়েছে। বোগোতা ও বুয়েনস এইরেসে বিটিএসকে সম্মানিত অতিথি হিসেবে ঘোষণা করা হয়। সান্তিয়াগোতে সাময়িকভাবে একটি সড়কের নাম রাখা হয়েছে ‘অ্যাভেনিদা বিটিএস’। শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাও দলটির প্রতীকী বেগুনি রঙে আলোকিত করা হয়।

দক্ষিণ আমেরিকার ভক্তদের ভালোবাসায় মুগ্ধ বিটিএস সদস্যরা আবার ফিরে আসার প্রত্যাশা জানিয়েছেন। সফর শেষে দলটি এবার এশিয়া ও অস্ট্রেলিয়ায় কনসার্ট করবে। আগামী ১৯ নভেম্বর তাইওয়ানের কাওশিয়ুংয়ে শুরু হবে এই পর্ব। এরপর থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও ইন্দোনেশিয়ায় পারফর্ম করার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন ও সিডনিতেও কনসার্ট করবে বিটিএস।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আবদুল আল-সাইয়েদের স্ত্রী সারা জুকাকু: দুই সংস্কৃতির অনন্য সংযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৫ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:৪০ পি.এম


আবদুল আল-সাইয়েদের স্ত্রী সারা জুকাকু: দুই সংস্কৃতির অনন্য সংযোগ

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে একটি নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন ডেমোক্র্যাট নেতা আবদুল আল-সাইয়েদ। তিনি মিশিগান অঙ্গরাজ্য থেকে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে পরাজিত করে দেশের সিনেটে নির্বাচিত প্রথম মুসলিম হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন। তবে তার এই ঐতিহাসিক বিজয়ের পর আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছেন তার স্ত্রী সারা জুকাকু। পেশায় মনোরোগ বিশেষজ্ঞ, সারা শুধু একজন সম্ভাবনাময় মার্কিন রাজনীতিকের জীবনসঙ্গী নন, বরং তার পারিবারিক শিকড় ভারতের কর্ণাটক রাজ্যের উপকূলীয় শহর ভাটকাল পর্যন্ত বিস্তৃত।

আবদুল আল-সাইয়েদের রাজনৈতিক পরিচয়ের পাশাপাশি সারার শিক্ষাজীবন, চিকিৎসক হিসেবে প্রতিষ্ঠা, পারিবারিক ঐতিহ্য এবং তাদের দাম্পত্য জীবনের গল্পও এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। প্রায় দুই দশকের এই সংসারে একদিকে রয়েছে মিসরীয়-আমেরিকান সংস্কৃতি, অন্যদিকে দক্ষিণ ভারতের ঐতিহ্য। তাদের পরিবারে দুই কন্যাসন্তান রয়েছে।

সারার গল্পের বিশেষত্ব হলো—যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ ও বেড়ে ওঠা, বিশ্বমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা, চিকিৎসক হিসেবে প্রতিষ্ঠা এবং দুই মেয়েকে নিয়ে সংসার—সবকিছুর মধ্যেও তিনি নিজের পারিবারিক শিকড়ের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখেছেন। স্বামীর ঐতিহাসিক রাজনৈতিক অর্জনের মুহূর্তে তার পাশে দাঁড়িয়ে সারা যেন দুই মহাদেশের দুই সংস্কৃতির এক অনন্য সংযোগ হয়ে উঠেছেন।

মিশিগানে জন্মগ্রহণ করে শিকড় কর্ণাটকের ভাটকালে রয়েছে সারার। তার পরিবার নাওয়ায়াথ সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত। ম্যাঙ্গালুরু থেকে প্রায় ১৪০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত দক্ষিণ ভারতের এই সম্প্রদায়ের সঙ্গে তাদের পারিবারিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক কয়েক প্রজন্ম ধরে বজায় রয়েছে।

সারার দাদা জুকাকু শামসুদ্দিন ছিলেন একজন খ্যাতনামা আইনজীবী ও জনপরিচিত ব্যক্তিত্ব। ১৯৫০-এর দশকে তৎকালীন মহীশূর রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বিডি জাট্টির অধীনে তিনি অর্থবিষয়ক উপমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

স্থানীয় পর্যায়ে ভাটকালের উন্নয়নে তার ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। শহরে বিদ্যুৎ সংযোগ স্থাপন, সড়ক নির্মাণ, নগর পরিকল্পনা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে তার অবদানের কথা স্থানীয়রা এখনো স্মরণ করেন। ভাটকালের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনাকারী দাতব্য সংস্থা আনজুমান হামি-ই-মুসলিমিন তাদের প্রশাসনিক ভবনের নামও রেখেছে তার নামে।

জুকাকু শামসুদ্দিন মাত্র ৫২ বছর বয়সে মারা যান। তার পরিবারে স্ত্রী জুবাইদা বেগম, ছয় মেয়ে ও চার ছেলে ছিলেন। পরবর্তী সময়ে পরিবারের সদস্যরা শিক্ষা ও জীবিকার প্রয়োজনে ভারতের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়েন। তাদের অনেকে বেঙ্গালুরুতে বসতি গড়েন। এই পরিবারেরই একজন সারার বাবা চিকিৎসক ডা. জুকাকু এস তাইয়েব।

সারার বাবা তাইয়েবের শৈশব কেটেছে ভাটকালে। ১৯৭৬ সালে তিনি বেঙ্গালুরুর ব্যাঙ্গালোর মেডিকেল কলেজে চিকিৎসাবিদ্যা পড়তে ভর্তি হন। পড়াশোনা শেষে মধ্যপ্রাচ্যে কিছু সময় কাটিয়ে ১৯৮০-এর দশকে যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানে স্থায়ী হন।

সেখানে তিনি কিডনি রোগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে নিজের পেশাগত জীবন গড়ে তোলেন। চিকিৎসাবিজ্ঞানে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পাশাপাশি সন্তানদের মধ্যেও ভারতীয় পারিবারিক ঐতিহ্য ধরে রাখার চেষ্টা করেন তিনি।

ফলে যুক্তরাষ্ট্রে বেড়ে উঠলেও সারার কাছে ভাটকাল ছিল অপরিচিত কোনো জায়গা নয়। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে ছোটবেলায় তিনি বেঙ্গালুরু ও ভাটকাল সফর করেছেন। আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা করা এবং পূর্বপুরুষের শহর সম্পর্কে জানার সুযোগ পেয়েছেন।

সারার চাচাতো ভাই জুকাকু শামসুদ্দিন জিয়া জানিয়েছেন, কয়েক বছর আগেও সারা ও তার পরিবারের সদস্যরা নিয়মিত ভারত সফর করতেন। ভাটকালে গিয়ে তারা পরিবারের আত্মীয়স্বজন ও দাদার পরিচিতদের সঙ্গে দেখা করতেন। বর্তমানে এসব সফরের সংখ্যা কমে গেছে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করলেও পরিবারের সদস্যদের মধ্যে যোগাযোগ রয়েছে। সারাও পরিবারের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের সদস্য। সেখানে পরিবারের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

সারার শিক্ষাজীবনও অত্যন্ত সমৃদ্ধ। তিনি মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান ও নিকটপ্রাচ্যবিষয়ক বিষয়ে পড়াশোনা করেন। এরপর যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।

পরবর্তী সময়ে চিকিৎসাশাস্ত্রে পড়ার জন্য ভর্তি হন যুক্তরাষ্ট্রের কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভ্যাগেলোস কলেজ অব ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জনসে। ২০১৫ সালে সেখান থেকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে মনোরোগবিদ্যায় বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ নিয়ে চিকিৎসক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন।

সারা কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয় ও মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ে মনোরোগবিদ্যায় রেসিডেন্সি প্রশিক্ষণও সম্পন্ন করেছেন। বর্তমানে তিনি মিশিগানের অ্যান আরবারে ব্যক্তিগত চেম্বারে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ হিসেবে রোগী দেখেন।

অর্থাৎ স্বামীর রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে সারার রয়েছে নিজস্ব পেশাগত পরিচিতি। চিকিৎসক হিসেবে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার পাশাপাশি স্বামীর রাজনৈতিক পথচলাতেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ সঙ্গী।

আবদুল আল-সাইয়েদ ও সারার পরিচয় মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সময়। দুজনই বিশ্ববিদ্যালয়ের মুসলিম শিক্ষার্থী সংগঠন মুসলিম স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সেখান থেকেই তাদের পরিচয়, বন্ধুত্ব এবং পরবর্তী সময়ে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

তাদের সম্পর্কের একটি বিশেষ দিক ছিল ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধা। ২০১০ সালে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে তাদের প্রেম ও বিয়ের আগের সম্পর্ক নিয়ে বিস্তারিত উঠে আসে।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, দুজনের প্রেমের সময় দেখা-সাক্ষাৎ হতো পরিবারের অভিভাবকদের উপস্থিতিতে। বিয়ের আগে তারা শারীরিক স্পর্শ থেকেও বিরত ছিলেন। ধর্মীয় বিশ্বাস ও ব্যক্তিগত মূল্যবোধের জায়গা থেকেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তারা।

২০০৬ সালের মে মাসে তাদের বিয়ে হয়। তখন সারার বয়স ছিল মাত্র ১৯ বছর। দীর্ঘ দুই দশকের দাম্পত্য জীবনে তাদের সম্পর্কের ভিত হয়ে উঠেছে পারস্পরিক আস্থা, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও পারিবারিক বন্ধন। তাদের পরিচয় থেকে বিয়ে—পুরো ঘটনাই যেন দুই ভিন্ন পারিবারিক সংস্কৃতির এক মিলন।

আবদুল ও সারার সংসারে রয়েছে দুই মেয়ে—এমিলি ও সেরিন। তারা মিশিগানের অ্যান আরবারে বসবাস করেন। স্বামীর রাজনৈতিক জীবন যতটা প্রকাশ্য, সারা ও তাদের দুই মেয়ের ব্যক্তিগত জীবন ততটাই আড়ালে রাখতে পছন্দ করেন পরিবারটি। তবে ২০২৬ সালের সিনেট নির্বাচনে সারাকে স্বামীর পাশে বেশ সক্রিয় দেখা গেছে।

বিশেষ করে নির্বাচনী প্রচারের শেষ পর্যায়ে ডেট্রয়েটে আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য দেন তিনি। স্বামীর প্রতি সমর্থন জানিয়ে সারা বলেন, আবদুল নিজের পরিবারের জন্য যেভাবে সব সময় পাশে থাকেন, মিশিগানের পরিবারগুলোর প্রতিও তিনি একইভাবে দায়িত্বশীল থাকবেন।

নির্বাচনী প্রচারে তার উপস্থিতি শুধু একজন রাজনৈতিক প্রার্থীর স্ত্রী হিসেবে নয়, বরং স্বামীর রাজনৈতিক দর্শন ও ব্যক্তিগত জীবনের একজন ঘনিষ্ঠ সঙ্গী হিসেবেও তাকে সামনে নিয়ে আসে।

এক নির্বাচনী সমাবেশে স্বামীকে নিয়ে রসিকতা করে তিনি বলেন, ‘ওকে কে কী করতে বলবে, তা কেউ ঠিক করে দিতে পারে না—শুধু আমি ছাড়া!’ তার এই মন্তব্যে উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে হাসির সৃষ্টি হয়। দীর্ঘদিনের দাম্পত্য জীবনের স্বাভাবিক ঘনিষ্ঠতা ও খুনসুটির প্রতিফলন দেখা যায় এই মন্তব্যে।

‘আমি হয়তো আরবের চেয়ে বেশি ভারতীয়’

আবদুল আল-সাইয়েদের পারিবারিক পরিচয় মিসরীয়-আমেরিকান। তার বাবা মোহাম্মদ আল-সাইয়েদ মিসর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। অন্যদিকে স্ত্রী সারার পারিবারিক শিকড় দক্ষিণ ভারতে। ফলে তাদের সংসারে দুই ভিন্ন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের মেলবন্ধন ঘটেছে।

দুই দশক ধরে দক্ষিণ ভারতীয় পরিবারের সঙ্গে বসবাসের অভিজ্ঞতা নিয়ে আবদুল প্রায়ই রসিকতা করেন। তার এমন একটি মন্তব্য তুলে ধরা হয়েছে—‘আমি হয়তো আরবের চেয়ে বেশি ভারতীয় হয়ে গেছি।’

আরেকবার স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিয়ে নিজেকে ‘দেশি নারীদের’ মধ্যে ঘেরা বলেও মজা করেছিলেন তিনি। দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত মানুষদের বোঝাতে ‘দেশি’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়।

এসব মন্তব্যের মধ্য দিয়ে বোঝা যায়, স্ত্রীর ভারতীয় পারিবারিক ঐতিহ্যকে তিনি কতটা আপন করে নিয়েছেন। তাদের সংসারে মিসরীয় সংস্কৃতি ও দক্ষিণ ভারতীয় ঐতিহ্য পাশাপাশি জায়গা করে নিয়েছে।

৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে মিশিগান থেকে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে পরাজিত করেন আবদুল আল-সাইয়েদ। এর মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সিনেটে নির্বাচিত প্রথম মুসলিম হওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করেন তিনি। সিনেটর গ্যারি পিটার্সের অবসরের পর আসনটি ডেমোক্র্যাটদের দখলেই থাকল।

তবে তার এই বিজয়ের আনন্দ শুধু যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। প্রায় আট হাজার কিলোমিটার দূরে ভারতের কর্ণাটকের ভাটকালেও তৈরি হয়েছে উচ্ছ্বাস।

সারার চাচাতো ভাই জুকাকু শামসুদ্দিন জিয়া জানিয়েছেন, পরিবারের সদস্যরা আবদুলের সাফল্যে গর্বিত। তাদের কাছে তিনি একজন মূল্যবোধসম্পন্ন ও জনসেবায় নিবেদিত মানুষ।

পরিবারের সদস্যরা রাজনৈতিক বিষয়ে খুব বেশি আলোচনা না করলেও সারার সঙ্গে তাদের নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। পারিবারিক হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে বিভিন্ন বিষয়ে কথাবার্তা হয়।

আবদুল আল-সাইয়েদের বিজয় তাই ভাটকালের জুকাকু পরিবারের জন্যও বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। যে পরিবারের পূর্বপুরুষ একসময় দক্ষিণ ভারতের একটি শহরের উন্নয়নে ভূমিকা রেখেছিলেন, সেই পরিবারেরই একজন উত্তরসূরি আজ যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ইতিহাসের অংশ হতে যাওয়া একজন নেতার জীবনসঙ্গী।

সূত্র: গালফ নিউজ, দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, অ্যান আরবার ডটকম, পিপল ম্যাগাজিন, সিবিএস নিউজ এবং নির্বাচনী প্রচারশিবিরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভিনির রিয়াল মাদ্রিদ অধ্যায় শেষ হতে পারে?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৫ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:৪০ পি.এম


ভিনির রিয়াল মাদ্রিদ অধ্যায় শেষ হতে পারে?

একসময় ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ছিলেন প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের জন্য আতঙ্কের নাম। তাঁর গতি, ক্ষিপ্রতা এবং দুর্দান্ত ড্রিবলিংয়ের কারণে নিয়মিতভাবে প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারদের পরাস্ত করতেন এই ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড। তবে বর্তমানে সেই পরিচিত ভিনিসিয়ুস যেন হারিয়ে যাচ্ছেন। গোলের অভাব, অ্যাসিস্টের অভাব; এমনকি ড্রিবলিংয়ে সাফল্যও পাচ্ছেন না তিনি। এই পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের ক্লাবগুলোর আগ্রহ নতুন করে দলবদলের আলোচনা উস্কে দিয়েছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চ্যাম্পিয়নস লিগে সর্বশেষ তিন ম্যাচে ভিনিসিয়ুস একবারও সফল ড্রিবলিং করতে পারেননি। রোমা, আরবি লাইপজিগ এবং এইকে এথেন্সের বিপক্ষে খেলেও তিনি প্রতিপক্ষের কোনো খেলোয়াড়কে কাটিয়ে উঠতে পারেননি। এইকে এথেন্সের বিপক্ষে সর্বশেষ ম্যাচে ৮১ মিনিট মাঠে ছিলেন ব্রাজিলিয়ান তারকা। পুরো ম্যাচে তিনি মাত্র একবার ড্রিবলিংয়ের চেষ্টা করেছিলেন, সেটিও ব্যর্থ হয়েছে।

ড্রিবলিংয়ের পাশাপাশি গোল এবং অ্যাসিস্টের হিসাবেও তাঁর সময় ভালো যাচ্ছে না। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম এএসের তথ্য অনুযায়ী, টানা ছয় ম্যাচে ভিনিসিয়ুস কোনো গোল কিংবা অ্যাসিস্ট করতে পারেননি। ২০২২-২৩ মৌসুমের পর এমন দীর্ঘ খরা তিনি আগে দেখেননি।

তুলনামূলক পরিসংখ্যানও তাঁর ছন্দপতনের বিষয়টি স্পষ্ট করে। ২০২৩-২৪ মৌসুমে প্রতি ৯০ মিনিটে গড়ে ৩.২৭টি সফল ড্রিবলিং করতেন ভিনিসিয়ুস। চলতি মৌসুমে লা লিগা ও চ্যাম্পিয়নস লিগ মিলিয়ে সেই সংখ্যা নেমে এসেছে ১.৬৩-এ। শুধু সফল ড্রিবলিংয়ের সংখ্যা নয়, প্রতিপক্ষকে কাটিয়ে যাওয়ার চেষ্টাও কমে গেছে। এএসের হিসাব অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে প্রতি ২১.৬ মিনিটে একবার ড্রিবলিংয়ের চেষ্টা করছেন তিনি। ২০২২-২৩ মৌসুমে এই ব্যবধান ছিল মাত্র ৯.৫ মিনিট।

ভিনিসিয়ুসের এই পারফরম্যান্সের মধ্যেই সৌদি আরবের আগ্রহ আবার আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে সৌদি প্রো লিগের ক্লাব আল আহলির নাম সম্ভাব্য গন্তব্য হিসেবে উঠে এসেছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ভিনিসিয়ুস সৌদি আরবের গ্রীষ্মকালীন দলবদলের অন্যতম বড় লক্ষ্য। তাঁর এজেন্টের সঙ্গে সৌদি প্রতিনিধিদের যোগাযোগের খবরও সামনে এসেছে। তবে সেসব আলোচনা চুক্তির পর্যায়ে পৌঁছেছে, এমন নিশ্চিত তথ্য নেই।

রিয়াল মাদ্রিদের ইতিহাসও ভিনিসিয়ুসের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ তৈরি করছে। ক্লাবটির হয়ে চারটি চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর মতো মহাতারকাকেও একসময় ছেড়ে দিয়েছিল মাদ্রিদ। শুধু রোনালদোই নয়, সময় ও পরিস্থিতির প্রয়োজনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়কে বিদায় দেওয়ার ইতিহাস রয়েছে স্প্যানিশ ক্লাবটির। ফলে ভিনিসিয়ুস যত বড় তারকাই হোন না কেন, ক্লাবের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, পারফরম্যান্স এবং আর্থিক সমীকরণ তাঁর ভবিষ্যৎ নির্ধারণে ভূমিকা রাখতে পারে। মাঠের পারফরম্যান্সে ধারাবাহিকতা ফেরাতে না পারলে এবং সৌদি আরবের ক্লাবগুলো বড় প্রস্তাব নিয়ে এলে তাঁর মাদ্রিদ অধ্যায়ও শেষ হওয়ার সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

আল হিলালের প্রধান নির্বাহী এস্তেভে কালজাদাও ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে জানিয়েছিলেন, ভিনিসিয়ুসকে পাওয়ার সুযোগ তৈরি হলে তাঁকে দলে নেওয়ার চেষ্টা করবে সৌদি আরব। এর আগে তাঁকে ঘিরে এক বিলিয়ন ইউরোর সম্ভাব্য চুক্তির খবরও প্রকাশিত হয়েছিল। তবে সৌদি প্রো লিগের কর্মকর্তারা স্পষ্ট করেছিলেন, খেলোয়াড় কেনার সিদ্ধান্ত নেয় সংশ্লিষ্ট ক্লাবগুলো, লিগ কর্তৃপক্ষ সরাসরি সেই প্রক্রিয়ায় যুক্ত নয়।

সব মিলিয়ে, মাঠের পারফরম্যান্সে ভিনিসিয়ুসের বর্তমান সময়টা তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম কঠিন অধ্যায় হয়ে উঠছে। যে ড্রিবলিং ও আক্রমণাত্মক ফুটবল তাঁকে বিশ্বসেরাদের কাতারে নিয়ে গিয়েছিল, সেখানেই এখন সবচেয়ে বড় ঘাটতি। এই ছন্দপতন কাটিয়ে তিনি আবার নিজের পুরোনো রূপে ফিরতে পারেন কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। অন্যদিকে সৌদি আরবের আগ্রহ বাস্তবে দলবদলের প্রস্তাবে রূপ নেয় কি না, সেটিও নজরে রাখার মতো বিষয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশি বোলারদের হতাশ করে উইন্ডিজের বড় সংগ্রহের পথে অগ্রগতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৫ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:৪০ পি.এম


বাংলাদেশি বোলারদের হতাশ করে উইন্ডিজের বড় সংগ্রহের পথে অগ্রগতি

সিলেট টেস্টে বাংলাদেশ শুরুতে ভালো অবস্থানে থাকলেও দ্বিতীয় সেশনে কিছুটা নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে। প্রথম ৩ উইকেট মাত্র ২৭ রানে হারানোর পর, চতুর্থ উইকেটে ১৩১ রানের জুটি গড়ে কেভিন উইকহ্যাম ও আমির জাঙ্গু উইন্ডিজকে ম্যাচে ফিরিয়ে আনেন। দ্বিতীয় সেশনের শেষদিকে হাসান মাহমুদ উইকহ্যামকে আউট করলেও, উইন্ডিজ বড় সংগ্রহের পথে রয়েছে।

দ্বিতীয় সেশন শেষে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৪ উইকেট হারিয়ে ১৮০ রান সংগ্রহ করেছে। জাঙ্গু সেঞ্চুরি থেকে ২৪ রান দূরে থেকে সেশন শেষ করেন। অপরদিকে গ্রিভস ১৬ রান করে অপরাজিত আছেন।

দ্বিতীয় সেশনে বাংলাদেশি বোলারদের হতাশ করেছেন জাঙ্গু ও উইকহ্যাম। মধ্যাহ্নভোজের আগে ৩ উইকেট হারিয়ে ৮৬ রান করার পর, এই সেশনে কোনো উইকেট না হারিয়ে আরও ৭২ রান যোগ করেন তারা।

হাসান মাহমুদ উইকহ্যামকে ফিরিয়ে এই জুটি ভাঙেন। হাসানের লেংথ বলে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফিরেছেন উইকহ্যাম। ১৪৫ বলের ইনিংসে তিনি ৬১ রান করেন।

উইকেট হারালেও উইন্ডিজ আক্রমণাত্মক ক্রিকেট বজায় রেখেছে। চা বিরতিতে জাঙ্গু ও গ্রিভস কোনো উইকেট না হারিয়ে গেছেন।

এর আগে টস জিতে বাংলাদেশকে ফিল্ডিংয়ে পাঠান উইন্ডিজ অধিনায়ক রস্টন চেজ। প্রথম সেশনে সফরকারীরা ৩ উইকেট হারিয়ে ৮৬ রান সংগ্রহ করে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৪শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৯
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪১
মাগরিব ০৫:১৭
ইশা ০৬:৩০
সূর্যোদয় : ০৬:০৬ সূর্যাস্ত : ০৫:১৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%