১২:৪৯ পি.এম
নিজেদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পুনর্গঠনের জন্য ইরান শুধু কয়েক সপ্তাহের মধ্যে চীনের তৈরি বহনযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র হাতে পেতে যাচ্ছে। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত তিনটি সূত্রের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ৩০ থেকে ৪০ কোটি টাকার (৬ থেকে ৭ কোটি ডলার) এই চুক্তি যুদ্ধ শুরুর পর স্বল্পপাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা জোরদারে তেহরানের অন্যতম বড় প্রচেষ্টা।
এই চুক্তিটি ইরানের সামরিক ঘাঁটি এবং কৌশলগত স্থাপনা রক্ষায় বিদ্যমান দুর্বলতা দূর করতে সহায়ক হবে। সূত্রের তথ্যমতে, এ চুক্তির আওতায় ইরান ৩০০ থেকে ৪০০টি ম্যান-পোর্টেবল এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম (ম্যানপ্যাডস) পাবে। এই ম্যানপ্যাডসগুলোর মধ্যে চীনের তৈরি কিউডব্লিউ-১২ এবং এফএন-১৬ ক্ষেপণাস্ত্র অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। চুক্তিটি সই হয়েছে হংকংভিত্তিক মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠান জংচিং বাওশাং ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্টের মাধ্যমে।
তবে, এই সংক্রান্ত প্রতিবেদনের বিষয়ে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পুরোপুরি ভিত্তিহীন দাবি করেছে। দেশটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, চীন সবসময় শান্তির বজায় রাখা এবং সংঘাত বন্ধে ভূমিকা পালন করে আসছে। এদিকে জংচিং বাওশাং ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্টের মূল প্রতিষ্ঠান বেইজিংভিত্তিক জং চিং বাও শাং গ্রুপ এই বিষয়ে ইমেইলের কোনো জবাব দেয়নি। এছাড়া, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও মন্তব্যের অনুরোধে তাৎক্ষণিক সাড়া দেয়নি।
আরও পড়ুন: সাইকেল নিয়ে বেরিয়ে নিখোঁজ, চার দিন পর নরসিংদীতে কিশোরের মরদেহ উদ্ধার
মাসব্যাপী যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন এবং আকাশ প্রতিরক্ষা কেন্দ্রগুলোতে হামলা চালিয়েছে এবং ইরানও পাল্টা আঘাত হেনেছে। তবে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, এপ্রিল থেকে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি ব্যর্থ হলে পুনরায় হামলা শুরু হবে।
হাজার হাজার ম্যানপ্যাডস পাওয়ার মাধ্যমে ইরানের স্বল্পপাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা অস্ত্রের মজুদ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। চীনের সঙ্গে তেহরানের গভীর সামরিক সম্পর্কের বিষয়টিও পরিষ্কার হয়েছে। তবে, সূত্রগুলো সতর্ক করে জানিয়েছে যে, চুক্তি সই হলেও সরবরাহের সময়সূচি, পরিমাণ এবং অন্যান্য বিষয় পরিবর্তন হতে পারে। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, চীনের পশ্চিমাঞ্চলীয় উরুমকি থেকে পাকিস্তানের মাধ্যমে ইরানে এসব অস্ত্র পাঠানো হবে। তবে, স্থানান্তর আকাশপথে হবে নাকি সড়কপথে তা স্পষ্ট নয়।
অন্যদিকে, পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর জনসংযোগ শাখা আইএসপিআর এ বিষয়ে জানিয়েছে যে, চীন থেকে ইরানে আকাশ প্রতিরক্ষা অস্ত্র সরবরাহে পাকিস্তানের জড়িত থাকার বিষয়টি সম্পূর্ণ বানানো এবং মিথ্যা। তবে, পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এক্ষেত্রে কোনো মন্তব্য করেননি।
সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, বিগত দুই দশকে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন এবং রাডারে প্রচুর বিনিয়োগ করেছে। তবে, কাঁধে বহনযোগ্য এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এগুলো দ্রুত স্থানান্তর করা যায়, ছোট দলে পরিচালনা করা যায় এবং ঘনঘন স্থান পরিবর্তন করা যায়।
আরও পড়ুন: সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে আচরণগত পরিবর্তনের ওপর বিশেষজ্ঞদের জোর
ইউরোপীয় নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে যে, তাদের কর্তৃপক্ষ ইরানের কাছে কিউডব্লিউ-১২, কিউডব্লিউ-১৮ এবং কিউডব্লিউ-১৯ ম্যানপ্যাডস বিক্রির বেশ কয়েকটি সম্ভাব্য চুক্তি সম্পর্কে অবহিত। একাধিক মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, ইরান এগুলো কেনার চেষ্টা করছিল। তবে, চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার বিষয়ে তারা অবগত ছিল না। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, কিউডব্লিউ-১২ ব্যবস্থার সক্ষমতা কিউডব্লিউ-১৮ বা ১৯-এর চেয়ে কিছুটা কম হলেও, এটি ড্রোন ও কম উচ্চতার লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে বেশ কার্যকর।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন