ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

‘জেলার ২’-এ রহস্যময় লুকে বিদ্যা বালান, সিগারেট হাতে চমক


‘জেলার ২’-এ রহস্যময় লুকে বিদ্যা বালান, সিগারেট হাতে চমক

বলিউডের অভিনেত্রী বিদ্যা বালান বরাবরই পর্দায় একটি বিশেষ আবহ তৈরি করেন। এবার দক্ষিণী সিনেমায় তার দাপুটে উপস্থিতি নিয়ে চমক দিতে প্রস্তুত তিনি। রজনীকান্ত অভিনীত বহুল প্রতীক্ষিত ‘জেলার ২’ সিনেমায় ‘কান্থা’ চরিত্রে তাকে দেখা যাবে। ইতিমধ্যে চরিত্রটির প্রথম ঝলক প্রকাশিত হয়েছে, যা দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে।

প্রকাশিত ঝলকে বিদ্যাকে দেখা যাচ্ছে নীল শাড়িতে। হাতে জ্বলন্ত সিগারেট নিয়ে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামছেন তিনি। এরপর উত্তেজনাপূর্ণ একটি মুখোমুখি দৃশ্যে ধোঁয়া ছাড়তে ছাড়তে সামনের দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখা যায় অভিনেত্রীকে। তার অভিব্যক্তি, পোশাক এবং রহস্যময় উপস্থিতি মুহূর্তেই দর্শকদের নজর কেড়েছে।

বিদ্যার নতুন লুক প্রকাশিত হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রশংসায় ভাসছেন অভিনেত্রী। একজন ভক্ত তার লুকের প্রশংসা করে লিখেছেন, ছোট চুল, ব্যাকলেস ব্লাউজ এবং বুকে ট্যাটু—সব মিলিয়ে বিদ্যা যেন চরিত্রটিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছেন।

আরও পড়ুন: বাপ্পারাজকে নিয়ে আবেগঘন পোস্টে ওমর সানীর স্যালুট

আরেক দর্শক মন্তব্য করেছেন, ‘দ্য ওয়ান টু ওয়াচ আউট ফর’। অর্থাৎ ছবিতে নজর রাখার মতো অন্যতম চরিত্র হতে চলেছেন বিদ্যা। ওই দর্শকের মতে, যেকোনো চরিত্রে অনায়াসে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে এই অভিনেত্রীর।

আরেক ভক্ত লিখেছেন, ‘কান্থা’ চরিত্রে বিদ্যা বালানকে দেখে মনে হচ্ছে, তিনি যে ফ্রেমেই থাকবেন, সেটিই নিজের করে নেবেন। অভিনেত্রীর উপস্থিতি এবং পর্দায় দাপট নিয়ে ভক্তদের মন্তব্যে এমন উচ্ছ্বাস দেখা যাচ্ছে।

তবে শুধু বিদ্যার লুকই নয়, তার চরিত্র নিয়েও কৌতূহল তৈরি হয়েছে। রজনীকান্তের সঙ্গে তাকে কিভাবে উপস্থাপন করা হবে, পর্দায় দুই তারকার মুখোমুখি দৃশ্য কতটা জমবে—এসব নিয়েও আলোচনা চলছে।

২০২৩ সালে মুক্তি পাওয়া ‘জেলার’-এর সিক্যুয়েল ‘জেলার ২’ পরিচালনা করছেন নেলসন দিলীপ কুমার। রজনীকান্ত ও বিদ্যা বালান ছাড়াও সিনেমাটিতে অভিনয় করেছেন রম্যা কৃষ্ণন, যোগী বাবু এবং মির্না। অনিরুদ্ধ রবিচন্দরের সংগীত সিনেমাটির আবহকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।

আরও পড়ুন: ডি এ তায়েব: ‘সপ্তাহে ৪০ প্রেমের প্রস্তাব, ৪০ বছরে একটিও পাইনি’

সান পিকচার্স প্রযোজিত ‘জেলার ২’ আগামী ১৫ অক্টোবর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির কথা রয়েছে। সিনেমাটি ঘিরে রজনীকান্তের ভক্তদের আগ্রহের পাশাপাশি বিদ্যার নতুন অবতারও যে বাড়তি কৌতূহল তৈরি করেছে, তা স্পষ্ট।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুক্তরাজ্যে বিমান চলাচলে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে এটিসি সিস্টেমের কারিগরি ত্রুটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:০৪ পি.এম


যুক্তরাজ্যে বিমান চলাচলে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে এটিসি সিস্টেমের কারিগরি ত্রুটি

যুক্তরাজ্যের এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল (এটিসি) ব্যবস্থায় আবারও একটি গুরুতর কারিগরি ত্রুটি উদ্ভূত হয়েছে। এর ফলে দেশটির আকাশসীমায় বিমান চলাচল ব্যাপকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। প্রধান এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ন্যাটস এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্কটল্যান্ডের প্রেস্টউইক সেন্টারে কারিগরি সমস্যা দেখা দেওয়ার কারণে উত্তর ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড এবং উত্তর আয়ারল্যান্ডের আকাশসীমায় এই জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে।

আরো পড়ুন

জার্মানির রাজ্য নির্বাচনে ব্যাপক ভরাডুবির পরও ক্ষমতা আঁকড়ে থাকার ব্যাপারে অনড় মের্জ।

ন্যাশনাল এয়ার ট্রাফিক সার্ভিসেস (ন্যাটস) জানিয়েছে, নিরাপত্তা রক্ষার জন্য বিমানের উড্ডয়ন ও চলাচলের ওপর সাময়িক বিধিনিষেধ বা ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে।

লন্ডনের গ্যাটউইক ও সিটি বিমানবন্দর বিঘ্ন ঘটার বিষয়ে সতর্কতা জারি করেছে। অন্যদিকে, ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ তাদের গ্রাহকদের সতর্ক করেছে এবং ইজিজেট এয়ারলাইন কিছু ফ্লাইট বাতিল করেছে।

আরো পড়ুন

ট্রাম্পের সঙ্গে উত্তেজনা, ঐতিহাসিক বৈঠকে ফ্রান্স-কানাডা সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ করার ঘোষণা।

ইজিজেট এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই ঘটনা পুনরাবৃত্তি হওয়ায় ন্যাটসের সক্ষমতা ও স্থায়িত্ব সম্পর্কে প্রশ্ন উঠেছে। বারবার এই ধরনের ঘটনা ঘটায় কঠোর সতর্কতা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সৎ লোকের শাসন চাই, আদালতে পিপির স্লোগান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:০৪ পি.এম


সৎ লোকের শাসন চাই, আদালতে পিপির স্লোগান

দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় রিমান্ড শুনানিতে সাবেক সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে উদ্দেশ্য করে রাষ্ট্রপক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী মন্তব্য করেন, ‘সৎ লোকের শাসন চাই’ স্লোগান শোনা গেলেও তিনি রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিয়ে করেছেন। পিপির বক্তব্যের প্রেক্ষিতে বিচারককে শুধুমাত্র মামলার বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে বলেন।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালতে রিমান্ড শুনানির সময় এই ঘটনা ঘটে। শুনানির শেষে আদালত গাজী নজরুল ইসলামকে চার দিনের এবং তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামকে এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শেরেবাংলা নগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শামসুদ্দোহা সরকার তাদের সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করেছিলেন।

আরো পড়ুন

ব্যক্তিগত সফরে মালয়েশিয়া গেলেন চিফ হুইপ।

রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করতে গিয়ে পিপি ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, গাজী নজরুল ইসলাম তার দ্বিতীয় স্ত্রীকে ক্ষমতার প্রভাব ও প্রলোভন দেখিয়ে বিয়েতে বাধ্য করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে তাকে বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে নিয়ে যাওয়া এবং ন্যাম ভবনের বাসায় তার প্রথম স্ত্রীর উপস্থিতিতে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগও রয়েছে। এসব অভিযোগের প্রকৃত ঘটনা ও নেপথ্যের বিষয় উদঘাটনে নজরুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন বলে তিনি আদালতে জানান।

এদিন দুপুর ৩টা ১১ মিনিটে পুলিশ গাজী নজরুল ইসলাম ও মাকছুদা ইসলামকে আদালতে হাজির করে। পরে তাদের পক্ষের আইনজীবীরা ওকালতনামায় স্বাক্ষর করেন। সোয়া ৩টার দিকে বিচারক এজলাসে প্রবেশ করেন এবং আদালতের পরিস্থিতি শান্ত রাখার নির্দেশ দেন। ৩টা ১৬ মিনিটে শুনানি শুরু হয়। শুরুতেই বিচারক তদন্ত কর্মকর্তাকে মামলার অভিযোগ সম্পর্কে জানাতে বলেন।

গাজী নজরুল ইসলাম ও মাকছুদা ইসলামের পক্ষে আইনজীবী মো. মাহবুবুর রহমানসহ অন্যান্যরা রিমান্ড বাতিল করে জামিনের আবেদন করেন। তারা বলেন, রিমান্ডের কোনো যৌক্তিকতা নেই। গাজী নজরুল একজন মুক্তিযোদ্ধা এবং চারবারের সংসদ সদস্য। মামলায় তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সুনির্দিষ্ট কারণ উপস্থাপন করা হয়নি। দুজনই বয়স্ক এবং তদন্তে সহযোগিতা করবেন বলেও আদালতকে জানান তারা।

রিমান্ড আবেদনে পুলিশ পাঁচটি কারণ উল্লেখ করে। এতে বলা হয়, ঘটনার সময় আসামিরা বাসায় উপস্থিত ছিলেন কি না এবং মরিয়মের মৃত্যুর পেছনে তাদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কোনো ভূমিকা ছিল কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার প্রয়োজন।

এছাড়া মরিয়মকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা, উসকানি, মানসিক চাপ বা ভয়ভীতি প্রদর্শনের ক্ষেত্রে আসামিদের কোনো ভূমিকা ছিল কি না, তা উদঘাটনের জন্য জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়। মামলার পলাতক আসামি গাড়িচালক ওবায়দুল ইসলামের ভূমিকা, তার অবস্থান শনাক্ত এবং ঘটনার সঙ্গে অন্য কোনো ব্যক্তি জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখার কথাও বলা হয়।

আরো পড়ুন

মা হতে চান শ্রুতি, প্রয়োজনে দত্তক নেবেন।

এর আগে মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ শেরেবাংলা নগর থানায় গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম ও গাড়িচালক ওবায়দুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত জুনে মরিয়মের সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামের ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী বিয়ে হয়। নজরুল শেরেবাংলা নগর থানার মানিক মিয়া অ্যাভিনিউসংলগ্ন ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাটে বসবাস করতেন। একই ফ্ল্যাটে তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামও ছিলেন।

এজাহারে অভিযোগ করা হয়, বিয়ের পর থেকেই নজরুল ও মাকছুদা বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মরিয়মের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন। মরিয়ম তার পরিবারের সদস্যদের কাছে এসব বিষয়ে একাধিকবার জানিয়েছিলেন বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

আরো পড়ুন

হাম উপসর্গে আরো ৬ শিশুর মৃত্যু

২০ সেপ্টেম্বর বিকেলে গাজী নজরুল ইসলাম ফোন করে মরিয়মের বাবাকে দ্রুত বাসায় আসতে বলেন। পরে পরিবারের সদস্যরা সেখানে গিয়ে পুলিশকে খবর দেন। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ একটি হাতে লেখা চিঠি উদ্ধার করেছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরিবারের অভিযোগ, গাড়িচালক ওবায়দুল ইসলামের মধ্যস্থতা ও প্ররোচনায় মরিয়মের সঙ্গে গাজী নজরুলের বিয়ে হয়। পরে নজরুল ও মাকছুদার নির্যাতন এবং আসামিদের প্ররোচনার কারণে মরিয়মের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তার পরিবারের সদস্যরা।

সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর মরিয়মের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কুড়িগ্রামে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি, ভাঙন তীব্র হচ্ছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:০৫ পি.এম


কুড়িগ্রামে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি, ভাঙন তীব্র হচ্ছে

কুড়িগ্রামে ধরলা, দুধকুমার এবং ব্রহ্মপুত্রের পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। যদিও তিস্তার পানি কিছুটা কমেছে, তবুও এটি বিপৎসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২৪-৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পানি আরও বৃদ্ধি পাবে এবং তিস্তার পানি বিপৎসীমার নিকটে থাকবে। ফলে, নদী সংলগ্ন নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে বলে জানানো হয়েছে।

এদিকে, পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে বিভিন্ন স্থানে নদ-নদীর ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে একটি বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ, দুটি বাজার এবং তিনটি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

 

পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রবিবার ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে চিলমারী কাচকোল বাজারের দক্ষিণে কেডি ওয়ারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে ডান তীর রক্ষা প্রকল্পের বাঁধে ধস দেখা দিয়েছে। পিচিং করা ব্লক দেবে যাচ্ছে, যার ফলে স্থানীয় জনগণ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।

উলিপুর উপজেলার সাহেবের আলগা ইউনিয়নের উত্তর নামাজের চরে ব্রহ্মপুত্রের ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। গত ১০ দিনের মধ্যে এই এলাকায় ১৫টি বসতভিটা এবং ১৬ বিঘা জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে উত্তর নামাজের চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সাহেবের আলগা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হবিগঞ্জ বাজার এবং আনন্দ বাজার। স্থানীয় জনগণ ভাঙন রোধের দাবিতে কয়েকদিন আগে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে। গত এক মাসে জাহাজের আলগা চরের অর্ধশতাধিক বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। বিলীন হওয়ার পথে রয়েছে জাহাজের আলগা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এছাড়া, দই খাওয়ার চর নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, নতুন বাজারসহ বেশ কয়েকটি স্থাপনা ঝুঁকির সম্মুখীন।

এদিকে, দুধকুমারের ভাঙনে সদর উপজেলার যাত্রাপুরের বানিয়াপাড়া, ভগবতিপুর, নাগেশ্বরীর চর নারায়নপুর এবং ভুরুঙ্গামারী উপজেলার পাইকেরছড়ায় ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙনের কারণে বেশ কিছু ঘরবাড়ি ঝুঁকিতে রয়েছে। ধরলার ভাঙনে সারডোব ও চর বড়লই এলাকায় আবাদী জমি বিলীন হচ্ছে। তবে, বাড়িঘর ও স্থাপনা ছাড়া জিও ব্যাগ ফেলার নির্দেশনা না থাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ড কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারছে না।

তিস্তার ভাঙনে রাজারহাট উপজেলার পলাশপুর গ্রামের বিস্তৃত আবাদী জমি নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোনো সাড়া না পেয়ে স্থানীয় জনগণ গাছের ডাল ফেলে ভাঙন রোধের চেষ্টা করছে। এখানে নদীর কিনারে ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে কয়েকটি বাড়ি।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানিয়েছেন, বর্তমানে ২০টি পয়েন্টে নদী ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যে ৪-৫টি পয়েন্টে ভাঙন প্রতিরোধের জন্য বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শ্রীলঙ্কায় গণকবরের সন্ধান, মিলল ৫৭২ জনের কঙ্কাল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:০৫ পি.এম


শ্রীলঙ্কায় গণকবরের সন্ধান, মিলল ৫৭২ জনের কঙ্কাল

শ্রীলঙ্কার উত্তরাঞ্চলের জাফনার চেম্মানি অঞ্চলে একটি গণকবর থেকে ৫৭২ জনের কঙ্কালাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছে, যার মধ্যে শিশু ও নবজাতকও রয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে শ্মশান সম্প্রসারণের জন্য খননকাজের সময় শ্রমিকরা প্রথম মানবদেহের অবশিষ্টাংশ দেখতে পান।

আগস্ট মাসে খননের তৃতীয় ধাপে প্রত্নতত্ত্ববিদরা এসব কঙ্কালাবশেষ উদ্ধার করেন। সেখানে চুড়ি, স্কুলব্যাগ ও দুধের বোতলের মতো ব্যক্তিগত সামগ্রীও পাওয়া গেছে। এটি শ্রীলঙ্কায় আবিষ্কৃত সবচেয়ে বড় গণকবর বলে মনে করা হচ্ছে। দেশটির কয়েক দশকের গৃহযুদ্ধের সময় চেম্মানিতে গণকবর থাকার অভিযোগ আগে থেকেই ছিল। নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্বজন ও অধিকারকর্মীরা ধারণা করছেন, এখানে যুদ্ধের সময় নিহত বেসামরিক মানুষের দেহাবশেষ থাকতে পারে।

নিখোঁজ স্বজনদের পরিবারগুলো দ্রুত ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছে। তাদের আশা, এই গণকবর থেকে দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ থাকা প্রিয়জনদের ভাগ্য সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে। তামিলদের একটি অংশ বিচারবহির্ভূত হত্যার অভিযোগের তদন্ত ও ন্যায়বিচার দাবি করছে। তবে ধীরগতির খননপ্রক্রিয়া এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছা নিয়ে উদ্বেগের কারণে চেম্মানি আবারও প্রতিবাদের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

শ্রীলঙ্কায় ১৯৮৩ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত চলা গৃহযুদ্ধে প্রায় এক লাখ মানুষ নিহত এবং প্রায় ২৩ হাজার মানুষ নিখোঁজ হন। নিহত ও নিখোঁজদের মধ্যে একটি বড় অংশ ছিলেন তামিল। নিরাপত্তা বাহিনী ও তামিল টাইগার—উভয় পক্ষের বিরুদ্ধেই গুরুতর অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। ১৯৯৫ সালে সেনাবাহিনী জাফনা উপদ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর চেম্মানি এলাকায় সামরিক উপস্থিতি বাড়ে। সেখানে সেনা ক্যাম্প ও চেকপয়েন্ট স্থাপন করা হয়। একই সময়ে বহু বেসামরিক মানুষ নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ ওঠে।

নিখোঁজদের একজন ছিলেন কান্দাইয়া জয়পালান। ১৯৯৬ সালে চেম্মানির কাছে একটি চেকপয়েন্ট থেকে সেনাবাহিনী তাকে আটক করে নিয়ে যায় বলে তার মেয়ে জেয়ারুবি জয়পালান জানান। এরপর তিনি আর ফিরে আসেননি। এর আগে একই এলাকায় তামিল স্কুলছাত্রী কৃষান্তি কুমারস্বামীকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় পাঁচ সেনাসদস্যের মৃত্যুদণ্ড হয়। পরে চেম্মানি এলাকায় তার মরদেহ ও পরিবারের সদস্যদের মরদেহ পাওয়া যায়।

এই মামলায় দোষী সাব্যস্ত এক সেনাসদস্য পরে দাবি করেন, চেম্মানিতে ৩০০ থেকে ৪০০ মানুষের মরদেহ সমাহিত করা হয়েছিল। এর পর ১৯৯৯ সালে সেখানে খনন চালিয়ে ১০টির বেশি কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়। বর্তমানে নতুন করে আবিষ্কৃত গণকবরটি আগের স্থানটির কাছেই হওয়ায় বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে। মানবাধিকারকর্মীরা পূর্ণাঙ্গ ফরেনসিক তদন্ত ও জবাবদিহির দাবি করছেন।

শ্রীলঙ্কা মানবাধিকার কমিশনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেহাবশেষগুলোর বেশিরভাগই অগভীর ও ঘনভাবে সমাহিত ছিল। কমিশনের মতে, এসব সমাহিতকরণ অবৈধ হওয়া এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সম্পর্ক থাকার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।

চেম্মানিতে নতুন গণকবরের সন্ধান পাওয়ার পর গৃহযুদ্ধের সময় নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিবারগুলো প্রতিবাদ ও স্মরণানুষ্ঠান করছে। তারা আশা করছে, উদ্ধার হওয়া দেহাবশেষের ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে দীর্ঘদিনের নিখোঁজ স্বজনদের পরিচয় জানা যেতে পারে। ৬৫ বছর বয়সী সুসিলা ২০০৭ সালে সেনাবাহিনীর হাতে নিখোঁজ হওয়া তার একমাত্র ছেলে জ্ঞানাসীলান রবির সন্ধান করছেন। তিনি বলেন, ছেলেকে ছাড়া তার জীবন শূন্য হয়ে গেছে।

চেম্মানি থেকে উদ্ধার হওয়া দেহাবশেষগুলো বর্তমানে জাফনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেনসিক বিভাগের হেফাজতে রয়েছে। এখনো ডিএনএ পরীক্ষা শুরু হয়নি। প্রত্নতত্ত্ববিদরা জানান, দেহাবশেষের বয়স ও মৃত্যুর কারণ জানতে আরও পরীক্ষা করা হবে। প্রয়োজনে কিছু নমুনা বিদেশেও পাঠানো হতে পারে।

গত কয়েক দশকে শ্রীলঙ্কার বিভিন্ন স্থানে ২০টির বেশি গণকবরের সন্ধান মিলেছে। তবে এসবের কোনোটিই জোরপূর্বক গুম বা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে নিশ্চিতভাবে যুক্ত করা যায়নি। এ কারণে নতুন তদন্ত নিয়েও অনেক তামিল পরিবারের মধ্যে সংশয় রয়েছে।

২০১৮ সালে মান্নারে পাওয়া একটি গণকবর থেকে ৩৫০টির বেশি কঙ্কাল উদ্ধার হলেও তদন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি। পরিবারগুলো এবার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জবাবদিহি চায়। সরকার বলছে, চেম্মানির তদন্তে তারা সহযোগিতা করছে। বিচারমন্ত্রী হর্ষণা নানায়াক্কারা জানান, খননকাজ অব্যাহত থাকবে এবং দেহাবশেষের ডিএনএ পরীক্ষা করা হবে।

নিখোঁজদের পরিবারের কাছ থেকেও ডিএনএ নমুনা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে শ্রীলঙ্কার সেনাবাহিনী গণহত্যার পর বেসামরিকদের চেম্মানিতে কবর দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। সেনাবাহিনীর মুখপাত্র বলেছেন, এসব অভিযোগ আদালতে প্রমাণ করতে হবে।

শ্রীলঙ্কায় যুদ্ধকালীন নিখোঁজ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলোর তদন্তে দীর্ঘসূত্রিতার অভিযোগ তুলেছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো। আন্তর্জাতিক চাপের পর ২০১৮ সালে নিখোঁজদের সন্ধানে অফিস অব দ্য মিসিং পারসন্স (ওএমপি) গঠন করা হয়। তবে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর অভিযোগ, সংস্থাটি এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করতে পারেনি।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জোরপূর্বক গুম, নির্যাতন ও হত্যার বহু মামলা এখনও ঝুলে আছে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগীদের পরিবার ও মানবাধিকারকর্মীরা হুমকি ও ভয়ভীতির মুখোমুখি হচ্ছেন।

জাতিসংঘ শ্রীলঙ্কাকে নিখোঁজদের পরিচয় শনাক্ত, মৃত্যুর কারণ নির্ধারণ এবং দায়ীদের চিহ্নিত করতে আন্তর্জাতিক সহায়তা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। জাতিসংঘের এক কর্মকর্তা বলেছেন, আন্তর্জাতিক সহায়তা তদন্তের প্রতি মানুষের আস্থা বাড়াতে পারে। তবে শ্রীলঙ্কার পরপর কয়েকটি সরকার যুদ্ধকালীন মানবাধিকার লঙ্ঘনের আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে।

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েকের সরকারের সামনে এখন অতীতের বিলম্ব ও অস্বীকারের ধারা থেকে বেরিয়ে এসে জবাবদিহি নিশ্চিত করার সুযোগ রয়েছে। নিখোঁজ ছেলে জ্ঞানাসীলান রবির সন্ধানে থাকা সুসিলা বলেন, ‘আমি জানি না এমন অনিশ্চয়তার মধ্যে আর কতদিন বাঁচব, কিন্তু আমি এর একটা শেষ দেখতে চাই।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৮
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%