০২:৫৫ পি.এম
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি) ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণের দাবি, নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং নিরাপদ ক্যাম্পাসের জন্য ১০ দফা দাবি জানিয়েছে ‘উন্নত মমশির’ ক্লাব। এসব দাবি বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছে সংগঠনটির সদস্যরা।
শনিবার (৮ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে প্রক্টরের কার্যালয়ে স্মারকলিপিটি জমা দেওয়া হয়।
স্মারকলিপিতে উল্লিখিত হচ্ছে যে, বহিরাগতদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এছাড়াও, নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় যথেষ্ট নজরদারি ও নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করার এবং গুরুত্বপূর্ণ এলাকার নিরাপত্তার জন্য কার্যকর সিসিটিভি মনিটরিং নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুন: ঘোষণা দিয়েও নিরাপত্তার কারণে ঢাকা-রিয়াদ সরাসরি ফ্লাইট চালু করতে পারল না সৌদি এয়ারলাইন্স
এছাড়া ইভটিজিং, হয়রানি ও বিশৃঙ্খল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে প্রশাসনিক ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি ক্যাম্পাসে বেপরোয়া ও উচ্চগতির মোটরসাইকেল চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং অনুমোদনহীন ভিডিও ধারণ, টিকটকসহ অনাকাঙ্ক্ষিত কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত ক্যাম্পাস মনিটরিং ও নিরাপত্তা তদারকি জোরদার করতে হবে। নিরাপত্তার সঙ্গে নিয়োজিত আনসার সদস্যদের নিয়মিত প্রশিক্ষণের পাশাপাশি তাদের দায়িত্ব পালনের কার্যক্রম তদারকি ও মূল্যায়ন করার দাবি করা হয়েছে। বিশেষভাবে নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, হয়রানি প্রতিরোধ, জরুরি অবস্থার মোকাবিলা, বহিরাগতদের নিয়ন্ত্রণ এবং শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য আনসার সদস্যদের প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তা প্রকাশ করা হয়েছে।
জানা যায়, শুক্রবার (৭ আগস্ট) ক্যাম্পাসে কিছু বহিরাগত যুবকের বিরুদ্ধে নারী শিক্ষার্থীদের হয়রানি করার এবং অনুমতি ছাড়া ভিডিও ধারণ করার অভিযোগ ওঠে। অভিযোগের মধ্যে রয়েছে আড়ারদাহ গ্রামের বর্তমান ইউপি সদস্য সিরাজুল ইসলামের ছেলে সুজন, একই গ্রামের ইতালিপ্রবাসী বাবুর ছোট ভাই আব্দুর রহমান, ফুলসরা গ্রামের হাসিবসহ আরও কয়েকজন।
এ ব্যাপারে ‘উন্নত মমশির’ ক্লাবের সভাপতি আল শাহরিয়ার রাফিদ মন্তব্য করে বলেন, বহিরাগতরা বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে আমাদের বোনদের অনুমতি ছাড়া ভিডিও ধারণ করেছে। এ ঘটনায় আমরা ক্লাবের পক্ষ থেকে প্রক্টরের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছি। এতে আমাদের বিভিন্ন দাবি উত্থাপিত হয়েছে এবং প্রক্টর আমাদের আশ্বস্ত করেছেন, বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরও পড়ুন: সরকারের সমালোচনা করলেই গ্রেপ্তার মানবাধিকারের লঙ্ঘন: আখতার হোসেন
রসায়ন বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী নাঈমা খান বলেন, গতকাল (৭ আগস্ট) আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। বহিরাগতরা ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে মেয়েদের ইভটিজিং করেছে, তারা কুদৃষ্টিতে তাকিয়েছে এবং অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালিয়েছে। এ কারণে আমরা প্রক্টরের কাছে এসেছি, যাতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা হয়। আমাদের দাবি হলো, ঘটনার সুষ্ঠু সমাধান করা হোক, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন বেপরোয়া আচরণ করার সাহস না পায়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মো. হামিদুর রহমান বলেন, ইতোমধ্যে ঘটনাটি আমাদের নজরে এসেছে এবং আমরা সবসময় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জন্য কাজ করে যাচ্ছি। অভিযুক্ত বহিরাগতদের তাদের অভিভাবকসহ বিশ্ববিদ্যালয়ে ডাকা হয়েছে। তাদের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টির সমাধান করা হবে।
তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে আমরা চৌগাছা থানার পুলিশের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বজায় রাখতে আনসার সদস্যদের সঙ্গে কথা বলব এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব, যাতে ভবিষ্যতে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে।
আরও পড়ুন: চট্টগ্রামের ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ ডেভিড ইমনকে ৭ দিনের রিমান্ডে পাঠাল আদালত
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন