বৃহস্পতিবার, ৯ই জুলাই, ২০২৬ ইং
১১:০৭ পি.এম
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় গত পাঁচদিন ধরে বিরামহীন ভারি বৃষ্টির ফলে খাল, বিল, ফসলী জমি এবং নিম্নাঞ্চল ডুবে গেছে। এখানে পায়রা বন্দরসহ গোটা উপকূলের জীবনযাত্রায় বিপর্যস্ত অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। কৃষিজমি থেকে বীজতলা এবং সবজির ক্ষেত সব পানিতে ভেসে গেছে। শ্রমজীবী মানুষ সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন। জনজীবনে ভোগান্তির শেষ নেই। ভারি বর্ষণ কবে নাগাদ শেষ হবে তা নিয়ে সাগরপাড়ের মানুষরা নিশ্চিতভাবে কিছু বলতে পারছেন না। টানা বৃষ্টির ফলে বর্ষাকালীন আগাম সবজির ক্ষেতে পাতাগুলো পচে যাচ্ছে। পাশাপাশি বৃষ্টির সঙ্গে একই সময়ে থেমে থেমে মৃদু দমকা ঝড়োহাওয়া বইছে। সাগর ভয়াল এবং উত্তাল রয়েছে। হাজারো মাছ ধরার ট্রলার মহিপুর-আলীপুর অঞ্চলে নোঙর করে বসে আছে। জেলে ও ট্রলার মালিকরা বসে বসে লোকসানের বোঝা গুনছেন। মহিপুর মৎস্য আড়ত মালিক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রাজু আহমেদ রাজা বলেছেন, ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞার পর সাগর এখন উত্তাল থাকায় জেলেরা বিপদগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। প্রতিকূল আবহাওয়া তাদের চরম সংকটে ফেলে দিয়েছে। এর মধ্যেও চরম ঝুঁকি নিয়ে মাছ শিকারে কেউ কেউ উত্তাল সাগরে গিয়েছেন, তবে তারা বিপাকে পড়েছেন। জানানো হয়েছে, সাগরে দুটি ট্রলার ডুবির ঘটনা ঘটেছে, ফলে অন্তত ছয় জেলে নিখোঁজ রয়েছে। বিরামহীন ভারি বর্ষণে কলাপাড়ায় সবজির ভান্ডারখ্যাত নীলগঞ্জ ইউনিয়নের চাষীরা এখন ক্ষতির শঙ্কায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। কুমিরমারা, এলেমপুর, আমিরাবাদ, নেয়ামতপুর, নাওভাঙা গ্রামের সবজিচাষীরা জানান, তাদের ক্ষেতের করলা, চিচিঙা, ঝিঙে এবং শসাগাছ সব নেতিয়ে পড়েছে। ফলনধরা গাছগুলো এখন রক্ষা করা বেশ মুশকিল হয়ে পড়েছে। এছাড়া আমন বীজতলা করতে কৃষকরা পারছেন না। খালবিল এবং ফসলি জমিতে পানি থৈ থৈ করছে। স্লুইসগেট থেকে পানি নামতে পারছে না। কিছু লোক মাছ ধরার জন্য জাল পেতে পানি আটকে রেখেছে। সাগরের উত্তাল ঢেউয়ের তান্ডবে কুয়াকাটায় বেড়িবাঁধের মিরাবাড়ি পয়েন্টের রিভার সাইটের শতশত ব্লক দেবে গেছে। সেখানকার মানুষের চরম ঝুঁকির শঙ্কা বাড়ছে। এয়াড়া আন্ধারমানিক নদীর নিজামপুরসহ আরও অন্তত পাঁচ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের অবস্থা খুবই নাজুক হয়ে পড়েছে। বাঁধ ভেঙে গোটা এলাকা ভেসে যাওয়ার শঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। খেপুপাড়া রাডার স্টেশনের দেয়া তথ্যানুসারে, বৃহস্পতিবার সকাল ছয়টা পর্যন্ত গত ৭২ ঘণ্টায় এখানে ২৭২ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবারের মতো আগামী ১৩ জুলাই বরিশালে আসছেন তারেক রহমান।
একদিনের সফরে এসে তিনি বিভিন্ন সরকারি আয়োজনে অংশগ্রহণ করবেন এবং সাংগঠনিক সভা করবেন। কীর্তনখোলা তীরে জনপদে প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে ঘিরে প্রশাসন ব্যাপক প্রস্তুতি শুরু করেছে। এদিকে, দলের নেতাকর্মীরাও তারেক রহমানকে বরণ করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
এ উদ্দেশ্যে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বরিশাল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জরুরি প্রস্তুতি সভার আয়োজন করা হয়েছে। সভাটি বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও বিএনপির বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন, জেলা প্রশাসক মো. মামুন খন্দকার, জেলা পরিষদের প্রশাসক আকন কুদ্দুসুর রহমানসহ প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় প্রধানমন্ত্রীর বরিশালের সফর নিরাপদ এবং নির্বিঘ্ন করতে বেশকিছু সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে এবং প্রশাসনের কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে সম্মতি দিয়ে মাঠপর্যায়ে নিয়োজিতদের নির্দেশনা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। আগামী সোমবার (১৩ জুলাই) সকাল সাড়ে ছয়টায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজধানী ঢাকা থেকে সড়কপথে বরিশালের উদ্দেশে রওনা হবেন।
পথিমধ্যে তিনি গৌরনদীর বাটাজোরে একটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নিবেন এবং শহরের ত্রিশ গোডাউনে গাছ লাগানোর সিডিউল রয়েছে। দুপুরে সার্কিট হাউজে বিরতির পর বিকেল তিনটায় তিনি বরিশাল জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত সাংগঠনিক সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেবেন।
এরপর সন্ধ্যার দিকে তিনি ফের ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়ে যাবেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের বরিশালে আসা কেন্দ্র করে নেতাকর্মীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বরিশালবাসীর মধ্যেও আগ্রহ দেখা যাচ্ছে এবং নাগরিক সমাজে প্রত্যাশার কথাও শোনা যাচ্ছে।
বিশেষ করে বরিশাল-ঢাকা মহাসড়ক ছয় লেনে রূপান্তর, রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা (ইপিজেড) বাস্তবায়ন, ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণ এবং পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহের দাবিগুলো সামনে এসেছে।
নাগরিক সমাজের এই দাবিকে বরিশাল মহানগর বিএনপির আহবায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক এবং সদস্য সচিব জিয়া উদ্দিন সিকদার ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। উভয় নেতা জানিয়েছেন, নেতাকে স্বাগত জানাতে তাদের সাংগঠনিক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের মাধ্যমে তিনি হয়তো গোটা দক্ষিণাঞ্চল উন্নয়নের রূপরেখা দিয়ে যেতে পারেন।
বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও বিএনপি নেত্রী বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করতে ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে। সর্বস্তরের নেতাকর্মীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, প্রধানমন্ত্রীর এই সফর বরিশালবাসীর জন্য আর্শিবাদ হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বরিশালের মুলাদীতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলায় ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি নাসির উদ্দিন ওরফে নান্নু রাড়ীকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। বুধবার দিবাগত রাত ১টার দিকে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়। নাসির উদ্দিন ওরফে নান্নু রাড়ী (৬০) সফিপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর চরডিগ্রী গ্রামের সবেদ আলী রাড়ীর ছেলে। তিনি পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী প্রায় ১৫ বছর ধরে পলাতক ছিলেন। মুলাদী থানা পুলিশ জানায়, নাসির উদ্দিন রাড়ীর বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(৪)(খ) ধারায় অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাকে ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। একই সঙ্গে জরিমানে অনাদায়ে তাকে আরও ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছিল। মামলার রায় ঘোষণার পর আসামি গ্রেপ্তার এড়াতে প্রায় ১৫ বছর ধরে পলাতক ছিলেন। পরবর্তীতে আদালতের পক্ষ থেকে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। বুধবার রাতে মুলাদী থানা পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে। মুলাদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খন্দকার মো. সোহেল রানা জানিয়েছেন, সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় বৃহস্পতিবার সকালে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালকে আগামীতে শুধুমাত্র সিটি বাসের টার্মিনাল হিসেবে ব্যবহারের পরিকল্পনা আছে। অন্যদিকে, আন্তঃজেলা বাসগুলোকে ধাপে ধাপে কাঁচপুরে স্থানান্তর করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে, যা জানিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম।
বৃহস্পতিবার সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল পরিদর্শনের পর এবং উচ্ছেদ অভিযানের শেষে সাংবাদিকদের তিনি এই তথ্য জানিয়েছেন। এছাড়া গুলিস্তানের বাস টার্মিনালও নদীর অপর পারে স্থানান্তরের পরিকল্পনা সম্পর্কে আলোচনা করেছেন।
ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, সায়েদাবাদ টার্মিনাল একটি আধুনিক বাস টার্মিনাল হলেও, এটি দীর্ঘ সময় ধরে নির্ধারিত উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়নি। যাত্রীদের ওঠানামার কেন্দ্র হিসেবে কাজ করার পরিবর্তে এটি হয়ে গিয়েছে বাসের গ্যারেজ এবং ডাম্পিং স্টেশন। অথচ প্রকৃত পক্ষে একটি টার্মিনালের মূল উদ্দেশ্য হলো দূরপাল্লার যাত্রীদের ওঠানামার সুবিধা নিশ্চিত করা।
তিনি জানান, টার্মিনালকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও শৃঙ্খলাপূর্ণ করতে ইতোমধ্যে কাজ শুরু করা হয়েছে। আপাতত, প্রতিটি পরিবহন কোম্পানি সর্বোচ্চ একটি বা দুটি বাস টার্মিনালের ভেতরে অপেক্ষমাণ রাখতে পারবে, এবং এর উপরে আর কোনো বাস রাখা যাবে না। যান চলাচল আরও সুশৃঙ্খল করার জন্য টার্মিনালে তিনটি প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ চালু করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের অনুরোধে চলতি মাসের ১৫ জুলাই পর্যন্ত সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। এরপর নির্ধারিত টার্মিনাল ছাড়া অন্য কোথাও বাস থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা করতে দেওয়া হবে না।
আবদুস সালাম আরও বলেন, রাজধানীর পরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা ছাড়া পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগর গড়ে তোলা সম্ভব নয়। এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য পরিবহন মালিক এবং শ্রমিকদের সঙ্গে একাধিক দফা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং তারা সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেছেন।
তিনি জানিয়েছেন, টার্মিনালের বিভিন্ন সুবিধা উন্নত করা হচ্ছে, প্রয়োজনে আরও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) বাসের জন্য ভারzan স্থান নির্ধারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
টার্মিনালের অভ্যন্তরে অবৈধ দোকানপাট সরানো হবে উল্লেখ করে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, আগে সমস্ত দোকান সরিয়ে নিতে হবে। পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করে নিয়মের মধ্যে হকার বা ভেন্ডরদের জন্য নির্ধারিত স্থান বরাদ্দ দেয়া হবে।
তিনি জানান, আগ পর্যন্ত অভিযানে কাউকে জরিমানা করা হয়নি। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টার্মিনাল পুরোপুরি শৃঙ্খলার আওতায় না এলে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।
আবদুস সালাম বলেন, এবার আর অবৈধ কার্যক্রম চালানোর সুযোগ দেয়া হবে না। সায়েদাবাদ টার্মিনালকে পুরোপুরি শৃঙ্খলার আওতায় আনা হবে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, যদি সায়েদাবাদকে শুধুমাত্র সিটি বাসের টার্মিনাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়, আন্তঃজেলা বাস কাঁচপুরে স্থানান্তর এবং গুলিস্তানের বাস টার্মিনাল নদীর ওপারে সরানো হয়, তবে রাজধানীর পরিবহন ব্যবস্থায় দৃশ্যমান পরিবর্তন আসবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে চট্টগ্রামের একাধিক উপজেলা প্লাবিত হয়ে অন্তত সাড়ে চার লাখ লোক পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা এই বিষয়ে নিশ্চিত করেছেন। পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে জেলা প্রশাসনের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি ইতিমধ্যে বাতিল করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, চন্দনাইশ ও বাঁশখালীর বহু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এর মধ্যে সাতকানিয়া উপজেলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
সাতকানিয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোন্দকার মাহমুদুল হাসান জানান, উপজেলার ১৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার প্রত্যেকটি গ্রাম প্লাবিত হয়ে পড়েছে। ডলু নদীর বাঁধ ভেঙে পৌরসভা ও রামপুর এলাকায় পানি প্রবেশ করানোর কারণে পরিস্থিতি আরো খারাপ হয়ে গেছে। সব মিলিয়ে সাতকানিয়ায় অন্তত তিন লাখ লোক পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। উপজেলায় ৮৯টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হলেও মোবাইল নেটওয়ার্কের বিভ্রাটের কারণে বিস্তারিত তথ্য পাওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা হচ্ছে। ঝড়ের কারণে গাছ পড়ে তার ছিঁড়ে যাওয়ায় নিরাপত্তার জন্য বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রাখা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, সাঙ্গু নদী, ডলু ও হাঙ্গর খালের মাধ্যমে পাহাড়ি ঢল নেমে আসায় বন্যা পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি ঘটেছে। সাঙ্গু নদীর বেশি পানি থাকার কারণে ভাটি এলাকায় পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, আজ বিকেল পর্যন্ত সাঙ্গু নদীর দোহাজারী অংশে পানি বিপৎসীমার ১৪ সেন্টিমিটার উপরে প্রবাহিত হচ্ছিল। জেলা প্রশাসক জানান, সাতকানিয়ায় উদ্ধার কাজের গতি বৃদ্ধির জন্য ১০টি স্পিডবোট চেয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে। আপাতত নৌকার মাধ্যমে লোকজনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
বাঁশখালী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ওমর সানি আঁকন জানান, উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের মধ্যে পুঁইছড়ি, নাপোড়া, ছনুয়া, সরল, শেখের খীল, বৈলছড়ী ও কাথারিয়া ইউনিয়নের অবস্থা সবচেয়ে বেশি খারাপ। সব মিলিয়ে এই উপজেলায় অন্তত ৩৮ হাজার লোক পানিবন্দি রয়েছেন।
চন্দনাইশ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুর রহমান জানান, হাশিমপুর ও জোয়ারা ছাড়া উপজেলার সবকিছু ইউনিয়ন কমবেশি দুর্গত হয়েছে। এতে প্রায় ১৪ হাজার লোক পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ২৭টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।
লোহাগাড়ার ইউএনও বায়েজিদ বিন আখন্দ জানান, উপজেলার নয়টি ইউনিয়নের মধ্যে সাঙ্গু ও ডলু নদী সংলগ্ন আমিরাবাদ, আধুনগর, পদুয়া ও লোহাগাড়া ইউনিয়নে পানি বেড়েছে। এর মধ্যে আমিরাবাদ ইউনিয়ন সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
চট্টগ্রামে শনিবার (৫ জুলাই) থেকে টানা পাঁচ দিন ধরে বৃষ্টি চলছিল, তবে আজ বৃষ্টির পরিমাণ কিছুটা কমেছে। পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস সন্ধ্যা পর্যন্ত ২২৩ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে।
জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে ২০০ মেট্রিক টন চাল এবং ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। এর পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে ২০ লাখ টাকা পাওয়া গেছে। বানভাসি জনগণ যাতে খাদ্য সংকটে না পড়ে, সেই কারণে এসব বরাদ্দ ইউএনওদের চাহিদার ভিত্তিতে দ্রুত বিতরণ করা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ