ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

কক্সবাজারে পুলিশের বিশেষ অভিযানে ১৭ আসামি গ্রেফতার


কক্সবাজারে পুলিশের বিশেষ অভিযানে ১৭ আসামি গ্রেফতার

কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশের বিশেষ অভিযান চলাকালে গত ২৪ ঘণ্টায় কক্সবাজার পৌরসভা ও বিভিন্ন ইউনিয়ন এলাকা থেকে ১৭ জন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি অনুযায়ী, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে ৪ জন চোর/ছিনতাইকারী, ২ জন মাদক সেবনকারী, ৬ জন ধর্তব্য অপরাধে এবং ৫ জন বিভিন্ন মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি রয়েছে।

কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ জানায়, চোর ও ছিনতাইকারী গ্রেফতারের উদ্দেশ্যে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে তাদের আটক করা হয়। পরে তাদের বিরুদ্ধে প্রযোজ্য আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

গ্রেফতার হওয়া চোর/ছিনতাইকারীদের মধ্যে রয়েছেন—দক্ষিণ রুমালিয়ারছড়ার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের গিয়াস উদ্দিনের ছেলে মো. রমজান উদ্দিন (১৪), তোতকখালী তাহের মোহাম্মদ ঘোনার মো. শরিয়ত উল্লাহর ছেলে মো. আসিফ ওরফে আশিক উল্ল্যাহ (২৬), পিএমখালী ইউনিয়নের মাইজপাড়ার আমির হামজার ছেলে মো. আরিফ (২৫) এবং ঝিলংজা ইউনিয়নের দক্ষিণ ডিককুলের মো. হোসাইনের ছেলে মো. আরমান (২৬)।

আরও পড়ুন: শেরপুরে বাস-সিএনজির সংঘর্ষে জুয়েল মিয়া নিহত, আহত ৪

পুলিশের তথ্য অনুসারে, মো. আরিফের বিরুদ্ধে কক্সবাজার সদর থানায় দুটি পৃথক মামলা রয়েছে। এর মধ্যে একটি মামলা ২০২৩ সালের ২৭ নভেম্বরের, যেখানে দণ্ডবিধির ১৪৩/৪৪৮/৩২৩/৩২৫/৩০৭/৩৮৫/৩৭৯/৪২৭/৫০৬ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। অন্য মামলাটি ২০২২ সালের ২৭ জুলাইয়ের, যেখানে আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) (সংশোধন) আইন, ২০১৯-এর ৪/৫ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এদিকে, মাদক সেবনের অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া দুজন হলেন—ঝিলংজা ইউনিয়নের দক্ষিণ মুহুরীপাড়ার মো. জামাল (২২) এবং কক্সবাজার পৌরসভার বৈদ্যঘোনার রাজু ইসলাম (২০)। পুলিশ জানায়, রাজু ইসলাম বর্তমানে টেকপাড়া মাঝিরঘাট এলাকায় ভাড়াবাসায় বসবাস করছিলেন।

ধর্তব্য অপরাধে গ্রেফতার হওয়া ছয়জন হলেন—কক্সবাজার পৌরসভার বাদশা ঘোনার রবিউল হাসান (২০) ও করিম (২১), রামুর দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়নের সাদরপাড়ার মো. শওকত হোসেন (৩২), কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়নের মিরপুর এলাকার সুমন চন্দ্র রায় ওরফে হাসান (৪৫), পিএমখালী ইউনিয়নের মাইজপাড়ার রহমত উল্লাহ (৩৬) এবং ঝিলংজা ইউনিয়নের দক্ষিণ হাজীরপাড়ার রবিউল হাসান রাতুল (২২)।

অন্যদিকে, বিভিন্ন মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি হিসেবে গ্রেফতার করা হয়েছে—কক্সবাজার পৌরসভার মঞ্জিল এলাকার মো. শহিদুল ইসলাম প্রকাশ শহিদ, ঝিলংজার জানার ঘোনার এহছানুল হক (৩০), কক্সবাজার সদর এলাকার পেতা সওদাগরপাড়ার খোরশেদ আলম, কক্সবাজার পৌরসভার লাইট হাউস পাড়া-ফতের ঘোনার আবু বক্কর ছিদ্দিক এবং পশ্চিম কুতুবদিয়াপাড়ার মোহাম্মদ আনিস (২৩)। কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট মামলায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

আরও পড়ুন: কেন্দুয়ায় পাচারের সময় ৩২ বস্তা সার জব্দ, চালক পালিয়েছে

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সুন্দরবন সুরক্ষা কমিটির সভাপতিকে হরিণ শিকারে বাধা দেওয়ার জন্য হত্যার হুমকি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৩৫ পি.এম


সুন্দরবন সুরক্ষা কমিটির সভাপতিকে হরিণ শিকারে বাধা দেওয়ার জন্য হত্যার হুমকি

সুন্দরবনে বিষ দিয়ে মাছ ধরা এবং হরিণ শিকারে বাধা দেওয়ার কারণে হত্যার হুমকি ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচারের অভিযোগ করেছেন মোংলা উপজেলার চিলা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি এবং বনবিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের কো-ম্যানেজমেন্ট কমিটির (সুন্দরবন সুরক্ষা কমিটি) সভাপতি মো. ফারুক হাওলাদার। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে তিনি মোংলা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

বুধবার (৭ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টায় মোংলা প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই অভিযোগ তুলে ধরেন।

ফারুক হাওলাদার জানান, সুন্দরবন সুরক্ষায় কো-ম্যানেজমেন্ট কমিটির কার্যক্রমের ফলে বন কেন্দ্রিক একটি অসাধু চক্রের অবৈধ কর্মকাণ্ডে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। এর ফলস্বরূপ, তার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিথ্যা, মানহানিকর ও কুরুচিপূর্ণ অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

তিনি অভিযোগ করেন, মোংলার জয়মনি এলাকার সোহেল শেখ এবং চিলা এলাকার গাববুনিয়ার মিলন শেখ ষড়যন্ত্রমূলকভাবে ‘রাজ খান’ এবং ‘মিডিয়া সেল মোংলা’ নামক দুটি ফেসবুক আইডি/পেজের মাধ্যমে এসব অপপ্রচার চালাচ্ছেন। পাশাপাশি, তাকে খুন ও জখমের হুমকিও দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।

ফারুক হাওলাদার জানান, তিনি দীর্ঘকাল ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। তিনি মৌসুমি ইলিশ মাছের ব্যবসা করেন এবং চাঁদপাই রেঞ্জের কো-ম্যানেজমেন্ট কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। সুন্দরবন রক্ষায় দায়িত্ব পালন করার কারণে তার ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি জানান, খুন ও জখমের হুমকি দেওয়ার ঘটনায় নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ইতিমধ্যে থানায় জিডি করেছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার ও হুমকির অভিযোগে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে সাইবার অপরাধ আইনে মামলা করার প্রস্তুতিও চলছে।

সংবাদ সম্মেলনে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় অবৈধ মাছ শিকার ও বন্যপ্রাণী নিধন বন্ধে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

অন্যদিকে, অভিযুক্ত সোহেল শেখ তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, এসবই প্রতিপক্ষের অপপ্রচার। অপর অভিযুক্ত মিলন শেখের মোবাইল বন্ধ পাওয়ায় তার বক্তব্য জানা যায়নি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মালয়েশিয়ায় জিরো কস্টে ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর উদ্যোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৩৫ পি.এম


মালয়েশিয়ায় জিরো কস্টে ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর উদ্যোগ

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর জন্য নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে দেশটিতে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের জন্য ৬ হাজারের বেশি কোটা বরাদ্দ করা হয়েছে। বরাদ্দকৃত কোটার বিপরীতে নিয়োগকর্তাদের ডিমান্ড লেটার সত্যায়নের জন্য বাংলাদেশ হাইকমিশনে আবেদন জমা পড়েছে। এর মধ্যে কিছু ডিমান্ড লেটার ইতিমধ্যেই সত্যায়ন করা হয়েছে।

এছাড়া, প্রথম ধাপে রাষ্ট্রীয় সংস্থা বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের (বোয়েসেল) মাধ্যমে জিরো মাইগ্রেশন কস্টে ১০ হাজার কর্মী মালয়েশিয়ায় পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। পরবর্তীতে বেসরকারি রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে কর্মী পাঠানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক জানিয়েছেন, "আগে বোয়েসেলের মাধ্যমে জিরো কস্টে ১০ হাজার শ্রমিক পাঠানো হবে। এরপর বেসরকারি রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকরা শ্রমিক পাঠাবেন।" মেডিকেল সেন্টারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে জটিলতার বিষয়টিও তিনি অস্বীকার করেন।

সংশ্লিষ্টরা জানাচ্ছেন, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে সরকারের অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে অভিবাসন ব্যয় কমানো এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা। এই কারণে জিরো-কস্টে কর্মী পাঠানোর উদ্যোগকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

এখন পর্যন্ত প্রায় ৩৫০ জন মালয়েশীয় নিয়োগকর্তা বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের জন্য কোটা বরাদ্দের আবেদন করেছেন। তাদের মধ্যে ৬ হাজারের বেশি কর্মীর কোটা বরাদ্দ হয়েছে। নিয়োগকর্তারা প্রয়োজনীয় সরকারি ফি ও লেভি পরিশোধের পর নিয়ম অনুযায়ী এসব কোটা পেয়েছেন। এরপর ডিমান্ড লেটার সত্যায়নের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, বরাদ্দ পাওয়া কোটার কর্মীদের দ্রুত পাঠানোর পাশাপাশি জিরো-কস্টে ১০ হাজার কর্মী পাঠানোর উদ্যোগ সমান্তরালভাবে এগিয়ে নেওয়া গেলে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর সুযোগ বৃদ্ধি পাবে। এতে কর্মীদের অভিবাসন ব্যয় কমানোর পাশাপাশি বেসরকারি খাতের কর্মী প্রেরণের সুযোগও তৈরি হবে।

মালয়েশিয়ায় নতুন করে কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে কোটা ও ডিমান্ড লেটার যথাযথভাবে যাচাইয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। দেশটিতে বিপুলসংখ্যক অনিবন্ধিত বিদেশি কর্মী থাকায় নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বায়রার নেতারা মন্তব্য করেছেন, বরাদ্দ পাওয়া কোটার কর্মীদের দ্রুত মালয়েশিয়ায় পাঠানোর পাশাপাশি জিরো-কস্টে কর্মী পাঠানোর সরকারি উদ্যোগ অব্যাহত রাখা প্রয়োজন। এতে কর্মীদের আর্থিক চাপ কমানোর পাশাপাশি দেশটির শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সুযোগ তৈরির পথ তৈরি হতে পারে।

সরকারের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জিরো-কস্টে কর্মী পাঠানোর উদ্যোগ সফল হলে মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের অভিবাসন ব্যয় কমবে। পাশাপাশি বেসরকারি খাতের মাধ্যমে নিয়মিত কর্মী পাঠানো চালু থাকলে দেশটির শ্রমবাজারে বাংলাদেশের কর্মীদের উপস্থিতি আরও বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ক্যাবিনেট মন্ত্রীর মর্যাদায় পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উপদেষ্টা মিঠুন চক্রবর্তী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৩৬ পি.এম


ক্যাবিনেট মন্ত্রীর মর্যাদায় পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উপদেষ্টা মিঠুন চক্রবর্তী

পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের উপদেষ্টা হিসেবে অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তীকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি ক্যাবিনেট মন্ত্রীর মর্যাদায় এই দায়িত্ব পালন করবেন।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাজ্যের কর্মীবর্গ ও প্রশাসনিক সংস্কার দপ্তরের আইএএস সেল থেকে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে মিঠুনের নিয়োগের বিষয়টি জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, রাজ্যপালের অনুমোদন নিয়ে তাকে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে।

মিঠুন চক্রবর্তীর অভিনয় জীবনের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। অভিনয়ের পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে রাজনীতিতে তার সক্রিয়তা লক্ষ্য করা গেছে।

এখন তিনি সরকারি কাঠামোর মধ্যে আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের সঙ্গে তার নতুন ভূমিকা যুক্ত হওয়ায় প্রশাসনিক মহলে এই নিয়োগ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যসচিব মনোজ কুমার আগরওয়ালের স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে মিঠুনের নিয়োগের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও কর্মকর্তাদের বিষয়টি জানানো হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তর, তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তর, স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দপ্তরসহ একাধিক জায়গায় বিজ্ঞপ্তির কপি পাঠানো হয়েছে।

এখন থেকে মিঠুন চক্রবর্তী শুধুমাত্র সাংস্কৃতিক জগতের পরিচিত মুখ হিসেবে নয়, বরং রাজ্য সরকারের প্রশাসনিক ব্যবস্থার অংশ হিসেবেও নতুন ভূমিকায় দেখা যাবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

স্যাটেলাইটের ধ্বংসাবশেষ ছুটে আসলেও রক্ষা পেল বাংলাদেশের বিএস-১

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৩৬ পি.এম


স্যাটেলাইটের ধ্বংসাবশেষ ছুটে আসলেও রক্ষা পেল বাংলাদেশের বিএস-১

গত ৯ আগস্ট সন্ধ্যায় বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেডের (বিএসসিএল) গ্রাউন্ড কন্ট্রোল স্টেশনে একটি সতর্কবার্তা আসে। যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ নজরদারি ও ট্র্যাকিং তথ্যের সরকারি প্ল্যাটফর্ম স্পেস ট্র্যাকার জানায়, বাংলাদেশ স্যাটেলাইট-১ (বিএস-১)-এর দিকে দ্রুতগতিতে এগিয়ে আসছে একটি স্যাটেলাইটের ধ্বংসাবশেষ।

এই ধ্বংসাবশেষটি ভারতের পুরোনো ইনস্যাট-১এ স্যাটেলাইটের অংশ ছিল। এটি বিএস-১-এর খুব কাছ দিয়ে অতিক্রম করার কথা ছিল, যা সংঘর্ষের আশঙ্কা তৈরি করে। সংঘর্ষ হলে বাংলাদেশের একমাত্র যোগাযোগ স্যাটেলাইট ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হতে পারত।

বিএসসিএলের প্রকৌশলীদের হাতে সময় ছিল খুব কম। পরবর্তী চার দিন গাজীপুরের জয়দেবপুরে অবস্থিত গ্রাউন্ড স্টেশনে ঝুঁকি পর্যবেক্ষণ ও হিসাব-নিকাশ চলতে থাকে। শেষ পর্যন্ত ১৩ আগস্ট বিএস-১-এর অবস্থানে সামান্য পরিবর্তন এনে বিপদ এড়ানো হয়।

রাজধানীর বাংলামোটরে বিএসসিএলের কার্যালয়ে বুধবার (৬ অক্টোবর) সকালে সেদিনের ঘটনার বর্ণনা দেন সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মুহাম্মদ ইমাদুর রহমান। তিনি বলেন, ‘ওই কয়েকটি দিন খুবই উদ্বেগের মধ্যে কেটেছে। হাতে সময় কম ছিল। আবার বিএস-১-কে সরানোর সুযোগও ছিল সীমিত। তবে শেষ পর্যন্ত বিপদ হয়নি। স্যাটেলাইটটি রক্ষা করা গেছে।’

মহাকাশে সচল স্যাটেলাইটের পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে উৎক্ষেপণ করা স্যাটেলাইটের অকেজো অংশ, নিয়ন্ত্রণ হারানো মহাকাশযানের বিভিন্ন অংশসহ নানা ধরনের বস্তু পৃথিবীর কক্ষপথে ঘুরে থাকে। এসবকে স্পেস ডেব্রিস বা মহাকাশের বর্জ্য বলা হয়।

মহাকাশে কোনো স্যাটেলাইটের সঙ্গে এসব বর্জ্যের সংঘর্ষের আশঙ্কা তৈরি হলে বিভিন্ন ট্র্যাকিং ব্যবস্থা থেকে সতর্কবার্তা প্রদান করা হয়। বিএসসিএলও নিয়মিত এ ধরনের তথ্য পর্যবেক্ষণ করে।

৯ আগস্টের সতর্কবার্তা থেকে বিএসসিএল জানতে পারে, বিএস-১-এর দিকে এগিয়ে আসা ধ্বংসাবশেষটি ভারতের ইনস্যাট-১এ স্যাটেলাইটের।

ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থার (ইসরো) তথ্য অনুযায়ী, ইনস্যাট-১এ ১৯৮২ সালের ১০ এপ্রিল উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল। উৎক্ষেপণের কয়েক মাস পরই এতে সমস্যা দেখা দেয় এবং ওই বছরের ৬ সেপ্টেম্বর স্যাটেলাইটটি নিষ্ক্রিয় করা হয়।

মহাকাশে স্যাটেলাইটের সঙ্গে ধ্বংসাবশেষ বা অন্য কোনো বস্তুর সংঘর্ষের ঝুঁকি কতটা ভয়াবহ হতে পারে, তার উদাহরণ রয়েছে। ২০০৯ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি রাশিয়ার অকেজো স্যাটেলাইট কসমস-২২৫১ এবং যুক্তরাষ্ট্রের সচল যোগাযোগ স্যাটেলাইট ইরিডিয়াম-৩৩ মহাকাশে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে, যার ফলে দুটি স্যাটেলাইটই ধ্বংস হয়।

বিএস-১-এর জন্য এ ধরনের ঝুঁকি এবারই প্রথম তৈরি হয়নি। বিএসসিএল সূত্র জানায়, ২০২১ ও ২০২৫ সালেও দুবার স্যাটেলাইটটির সঙ্গে মহাকাশের অন্য বস্তুর সংঘর্ষের আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। ২০২১ সালে ঝুঁকির কারণ ছিল রাশিয়ার একটি স্যাটেলাইটের ধ্বংসাবশেষ, আর ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের একটি স্যাটেলাইট বিএস-১-এর খুব কাছাকাছি চলে এসেছিল।

২০১৮ সালের ১২ মে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে মহাকাশে উৎক্ষেপণ করা হয় বিএস-১। বিএসসিএলের তথ্য অনুযায়ী, স্যাটেলাইটটি তৈরিতে ও উৎক্ষেপণে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা খরচ হয়। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ নিজস্ব স্যাটেলাইটের মালিক হওয়া বিশ্বের ৫৭তম দেশ হিসেবে পরিচিতি পায়।

২০১৮ সালে ফ্রান্সের থালেস অ্যালেনিয়া স্পেস বিএস-১ তৈরি করে। শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি ও দক্ষিণ কোরিয়ায় থাকা তিনটি গ্রাউন্ড স্টেশনের মাধ্যমে বাংলাদেশের সঙ্গে যৌথভাবে স্যাটেলাইটটির কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করত প্রতিষ্ঠানটি।

সরকারের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী, ২০২১ সাল থেকে বিএস-১-এর পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব নেয় বিএসসিএল। গাজীপুরের জয়দেবপুরে অবস্থিত গ্রাউন্ড স্টেশনটি এখন স্যাটেলাইট নিয়ন্ত্রণের প্রধান কেন্দ্র।

বিএসসিএলের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে ৫০ জনের বেশি প্রকৌশলী কাজ করেন। ২৪ ঘণ্টা স্যাটেলাইটের ওপর নজর রাখা হয় এবং কর্মীরা পালা করে দায়িত্ব পালন করেন।

৯ আগস্ট সতর্কবার্তা পাওয়ার পর প্রকৌশলীদের সতর্ক করা হয় এবং ছুটি বাতিল করা হয়। বিএসসিএলের কর্মকর্তারা মহাকাশের বস্তুর গতিপথ ও অবস্থান নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে থাকেন।

ইমাদুর রহমান বলেন, ‘ধ্বংসাবশেষটি এড়িয়ে বিএস-১-কে সরানো হবে কি না, সরানো হলে কোন দিকে এবং কতটা সরানো যাবে—এসব বিষয় বিবেচনায় নিতে হচ্ছিল। স্যাটেলাইটকে নতুন অবস্থানে নিলে সেখানেও কোনো ঝুঁকি তৈরি হবে কি না, সেটিও হিসাব করতে হচ্ছিল।’

শেষ পর্যন্ত ১৩ আগস্ট বিএস-১-কে সামান্য বাঁ দিকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন প্রকৌশলীরা। এরপর ধ্বংসাবশেষটি অতিক্রম করা পর্যন্ত অপেক্ষা করা হয়। ঝুঁকিপূর্ণ সময় পার হওয়ার পর স্যাটেলাইটটিকে আবার আগের অবস্থানে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।

বিএসসিএলের তথ্য অনুযায়ী, ধ্বংসাবশেষটি একপর্যায়ে বিএস-১-এর মাত্র ৮৫২ মিটারের মধ্যে চলে এসেছিল।

ইমাদুর রহমান বলেন, পুরো প্রক্রিয়ায় বড় কোনো ক্ষতি হয়নি। বিএসসিএলের প্রকৌশলীদের জন্য এটি একটি সাফল্য।

বাংলাদেশের বিএস-১ স্যাটেলাইটে ৪০টি ট্রান্সপন্ডার রয়েছে। এর মধ্যে ২০টি বাংলাদেশের জন্য এবং বাকি ২০টি দেশের বাইরের গ্রাহকদের জন্য ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। এসব ট্রান্সপন্ডার বিদেশে ইজারা দিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা যায়।

বিএসসিএল জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেল বিএস-১-এর সেবা ব্যবহার করছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%