ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

কাপ্তাই হ্রদের ১৬টি জলকপাট দিয়ে পানি ছাড়ার প্রস্তুতি


কাপ্তাই হ্রদের ১৬টি জলকপাট দিয়ে পানি ছাড়ার প্রস্তুতি

রাঙ্গামাটি, ২৯ আগস্ট, ২০২৬ : জেলায় কাপ্তাই হ্রদের পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার কাছাকাছি চলে যাওয়ায় বাঁধের স্পিলওয়ের ১৬টি জলকপাট দিয়ে পানি ছাড়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

আজ শনিবার রাত ১০টার দিকে ১৬টি জলকপাট দিয়ে ৬ ইঞ্চি করে পানি ছাড়ার প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। এতে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৯ হাজার কিউসেক পানি নিষ্কাশন করা হতে পারে।

কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক (তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী) মাহমুদ হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। 

আরও পড়ুন: ফেনীতে সাংবাদিকদের ‘মাল্টিমিডিয়া, এআই ও ফ্যাক্ট চেকিং’ বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠিত

কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক (তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী) মাহমুদ হাসান স্বাক্ষরিত জরুরী বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, শনিবার দুপুর ২টায় কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা ছিল ১০৫ দশমিক ৬৪ ফুট এমএসএল, যেখানে সর্বোচ্চ ধারণক্ষমতা ১০৯ ফুট এমএসএল।

বিজ্ঞপ্তিতে আর বলা হয়েছে, বর্তমানে কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিট চালু রয়েছে এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে প্রায় ৩২ হাজার কিউসেক পানি নিষ্কাশিত হচ্ছে।

এর আগে, জুলাই মাসেও কাপ্তাই বাঁধের স্পিলওয়ের ১৬টি গেট খুলে অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশন করা হয়েছিল। এবারও পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নতুন করে পানি ছাড়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: লগি-বৈঠার তাণ্ডব ও হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে চরফ্যাশনে জামায়াতে ইসলামীর বিক্ষোভ মিছিল

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাজধানীর যানজট নিরসনে প্রধানমন্ত্রীর একগুচ্ছ নির্দেশনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ২৯শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৬:৫৪ পি.এম


রাজধানীর যানজট নিরসনে প্রধানমন্ত্রীর একগুচ্ছ নির্দেশনা

রাজধানীর যানজট সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই বৈঠকটি শনিবার (২৯ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে ঢাকা মহানগরীর চলমান যানজট পরিস্থিতি, গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও ফ্লাইওভারে যানবাহনের চাপ, গণপরিবহন ব্যবস্থাপনা, বাস টার্মিনাল পুনর্বিন্যাস, পার্কিং ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

এক্সপ্রেসওয়ে ও ফ্লাইওভারের টোল প্লাজাগুলোতে ইলেকট্রনিক টোল আদায়ের সিস্টেম চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে টোল আদায়ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, দ্রুত এবং প্রযুক্তিনির্ভর করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর জন্য একটি অ্যাপ ডেভেলপমেন্টের সিদ্ধান্তও গৃহীত হয়েছে।

 

প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আগামী চার মাসের মধ্যে এই কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশনা দিয়েছেন।

যাত্রাবাড়ী-গুলিস্তান ফ্লাইওভারের আশপাশে দীর্ঘদিনের যানজট নিরসনের বিষয়েও বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ সময় বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) কর্তৃক পূর্বে প্রস্তুত করা বিদ্যমান প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে যানজট নিরসনে করণীয় নির্ধারণের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।

বুয়েটকে বিদ্যমান প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সুপারিশসহ একটি প্রতিবেদন আগামী ১৫ দিনের মধ্যে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

 

সিটি করপোরেশন ও ট্রাফিক পুলিশের সমন্বয়ে এ কার্যক্রম বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থাকে আরো সুশৃঙ্খল করতে ফুলবাড়িয়া বাস টার্মিনাল কেরানীগঞ্জে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৈঠকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় জমি অধিগ্রহণ করে এ প্রকল্প বাস্তবায়নের বিষয়ে আলোচনা হয়। এই বাস টার্মিনালটি স্থানান্তরিত হলে রাজধানীর কেন্দ্রীয় অংশে বাস ও আন্তঃজেলা যানবাহনের চাপ কমানোর পাশাপাশি যানজট নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে বৈঠকে উল্লেখ করা হয়।

স্থায়ী বাস টার্মিনাল নির্মাণ যেহেতু দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প, তাই আগামী চার মাসের মধ্যে ঝিলমিল প্রকল্পের ১৫ একর জমিতে একটি অস্থায়ী বাস টার্মিনাল নির্মাণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

 

গাবতলী বাস টার্মিনাল সম্প্রসারণ

গাবতলী বাস টার্মিনালের পেছনের অংশ সম্প্রসারণের সিদ্ধান্তও বৈঠকে নেওয়া হয়। এই কাজ দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সড়ক বিভাগ, ট্রাফিক পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।

রাজধানীর যানজট কমাতে কারওয়ান বাজারের কিচেন মার্কেট গাবতলীতে স্থানান্তরের সিদ্ধান্তও গৃহীত হয়েছে। বৈঠকে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়।

সচিবালয়ের আশপাশে পার্কিংব্যবস্থা

সচিবালয়ের চারপাশে যানজট নিরসনে পার্কিং ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়। এ লক্ষ্যে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। একই সঙ্গে প্রয়োজন অনুযায়ী বিকল্প পার্কিংয়ের স্থানও অনুসন্ধান করতে বলা হয়। সচিবালয়কেন্দ্রিক যানবাহনের চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং আশপাশের সড়কে চলাচল স্বাভাবিক রাখতে এ উদ্যোগ নেওয়া হবে।

অটোরিকশা চলাচলে নীতিমালা

ঢাকা শহরে অটোরিকশা চলাচলকে আরো সুশৃঙ্খল ও নিয়ন্ত্রিত করার জন্য একটি পৃথক নীতিমালা প্রণয়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অনুমোদনহীন ডাবল ডেকার স্লিপার বাসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি অনুমোদনহীন ডাবল ডেকার স্লিপার বাসের চলাচলের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী রাজধানীর যানজট নিরসনে বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় জোরদার এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কাজগুলো সম্পন্ন করতে সবার আন্তরিক প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

 

 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জর্জিয়ায় নতুন মসজিদ নির্মাণে তহবিল সংগ্রহে বাংলাদেশিদের এগিয়ে আসার আহ্বান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ২৯শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৬:৫৪ পি.এম


জর্জিয়ায় নতুন মসজিদ নির্মাণে তহবিল সংগ্রহে বাংলাদেশিদের এগিয়ে আসার আহ্বান

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ার কামিং এলাকায় ক্রমবর্ধমান মুসলিম কমিউনিটির জন্য নতুন মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মসজিদ আল-রহমানের এই প্রকল্প বাস্তবায়নে জমি ক্রয়ে মোট ২.৯ মিলিয়ন ডলার সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ১,০৩৩,৬১৬ ডলার সংগ্রহ হয়েছে। আগামী ৩১ আগস্টের মধ্যে জমি কেনার ক্লোজিং সম্পন্ন করতে বাকি অর্থ সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।

নতুন মসজিদের জন্য ১৩০০ Peachtree Parkway এ ৭.৫ একর জমি কেনার চুক্তি হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী সেখানে ৩০০টির বেশি পার্কিং স্পেস, একটি মাল্টিপারপাস হল এবং ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণের সুযোগসহ নতুন মসজিদ নির্মাণ করা হবে।

মসজিদ কর্তৃপক্ষ জানায়, বর্তমানে প্রতি জুমায় ৫০০ এর বেশি মুসল্লি নামাজ আদায় করেন। বর্তমান স্থানে জায়গা ও পার্কিং সংকট ক্রমেই বাড়ছে। বিশেষ করে রমজানে নারীদের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা এবং বয়স্কদের জন্য অ্যাক্সেসিবল সুবিধারও ঘাটতি রয়েছে। নতুন মসজিদে এসব বিষয় বিবেচনায় রেখে সুবিধা তৈরির পরিকল্পনা করা হয়েছে। শিশু ও তরুণদের জন্য থাকবে আলাদা কার্যক্রম এবং আউটডোর স্পোর্টসের সুযোগ।

নতুন মসজিদ নির্মাণের পাশাপাশি ১২৩৫ Peachtree Parkway এ অবস্থিত বর্তমান ভবনটিকে একটি ফুল-টাইম ইসলামিক স্কুল হিসেবে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। স্কুলটি স্বাধীনভাবে পরিচালিত হবে।

তহবিল সংগ্রহে বাংলাদেশি কমিউনিটির প্রতিও বিশেষ আহ্বান জানানো হয়েছে। মসজিদ কমিউনিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, এটি কোনো একক দেশের মানুষের মসজিদ নয়। বাংলাদেশি, পাকিস্তানি, ভারতীয়সহ বিভিন্ন দেশের মুসলিমদের সমন্বয়ে এখানে একটি বৃহৎ কমিউনিটি গড়ে উঠেছে।

বাংলাদেশি কমিউনিটির যার যতটুকু সামর্থ্য আছে, সাধ্যমতো দান করার পাশাপাশি যারা প্রকল্পটি সম্পর্কে জানেন না, তাদেরও বিষয়টি জানিয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।

প্রচারাভিযানে ১০০ ডলারকে একটি ইট, ১,০০০ ডলারকে একটি নামাজের স্থান বা মুসাল্লা, ৬,০০০ ডলারকে একটি পার্কিং স্পেস এবং ২৫,০০০ ডলারকে একটি ক্লাসরুমের প্রতীকী অনুদান হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। এককালীন অনুদানের পাশাপাশি মাসিক ভিত্তিতেও দানের সুযোগ রয়েছে।

মসজিদ কর্তৃপক্ষের লক্ষ্য, নতুন এই প্রকল্পের মাধ্যমে শুধু বর্তমান স্থান সংকটের সমাধান নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি স্থায়ী ইসলামিক ও কমিউনিটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা। ৩১ আগস্টের ক্লোজিং সামনে রেখে বাংলাদেশিসহ বৃহত্তর মুসলিম কমিউনিটির সবাইকে নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।

মসজিদ প্রকল্পটি সরাসরি দেখতে এবং অনুদান দিতে নিচের লিংকে ক্লিক করুন:

https://cummingcommunitycenter.com

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাজশাহীতে বিজিবির অভিযানে ইয়াবা, ট্যাপেনটাডল ও ভারতীয় সিরাপ জব্দ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মাসুদ রানা রাব্বানী, রাজশাহী

শনিবার, ২৯শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৬:৫৬ পি.এম


রাজশাহীতে বিজিবির অভিযানে ইয়াবা, ট্যাপেনটাডল ও ভারতীয় সিরাপ জব্দ

রাজশাহীর সীমান্ত এলাকায় পৃথক অভিযানে বিজিবি ২৯৯ পিস ভারতীয় ইয়াবা, ১৯০ পিস ভারতীয় ট্যাপেনটাডল ট্যাবলেট ও ১৭ বোতল ভারতীয় ঊংশঁভ সিরাপ জব্দ করেছে। এই সকল মাদকদ্রব্য পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।

শনিবার (২৯ আগস্ট) ভোর ৫টার দিকে রাজশাহী ব্যাটালিয়নের (১ বিজিবি) অধীনে খানপুর বিওপির একটি আভিযানিক দল দামকুড়া থানার ষাঁট বিঘা এলাকার জঙ্গলে অভিযান পরিচালনা করে ২৯৯ পিস ভারতীয় ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করে।

একই রাতে, রাত পৌনে ১টার দিকে শাহাপুর বিওপির নিয়মিত টহল দল কাটাখালী থানার টাংগন পশ্চিমপাড়া এলাকায় বালুর চরে অভিযান চালিয়ে ১৯০ পিস ভারতীয় ট্যাপেনটাডল ট্যাবলেট পরিত্যক্ত অবস্থায় জব্দ করে।

এর আগে শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাত পৌনে ১১টার দিকে বেলপুকুর থানার জামিয়া পাড়া আমবাগানে অভিযান চালিয়ে মাটির নিচে লুকানো অবস্থায় ১৭ বোতল ভারতীয় ঊংশঁভ সিরাপ জব্দ করা হয়।

বিজিবি জানিয়েছে, জব্দ করা মাদকদ্রব্য সংশ্লিষ্ট থানায় জমা দেওয়া হয়েছে। এসব ঘটনার সাথে জড়িত মাদক কারবারিদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিজিবির গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

থানায় থানায় কথিত কড়া মামলা, বাধাগ্রস্ত হচ্ছে ন্যায্য বিচার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ২৯শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৬:৫৭ পি.এম


থানায় থানায় কথিত কড়া মামলা, বাধাগ্রস্ত হচ্ছে ন্যায্য বিচার

এলাকায় ছোটখাটো বিরোধ কিংবা কথা কাটাকাটির মতো তুচ্ছ ঘটনায়ও থানায় জমা পড়ছে ‘কড়া’ বা ‘শক্ত’ লিখিত অভিযোগ। এসব অভিযোগে অবলীলায় জুড়ে দেওয়া হচ্ছে শ্লীলতাহানি, সোনার চেইন কিংবা লাখ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের মতো গুরুতর সব ঘটনার বিবরণ।

তবে পুলিশের তদন্তে প্রকাশ পাচ্ছে ভিন্ন ও বাস্তব চিত্র। দেখা যাচ্ছে, যে বাদী সোনার চেইন ছিনতাইয়ের মামলা করেছেন, তিনি হয়তো জীবনে কোনো দিন সোনার চেইনই পরেননি কিংবা তা কেনার মতো আর্থিক সক্ষমতাও তার নেই। এসব ঘটনার কাল্পনিক বা মিথ্যা বিবরণে মামলা হচ্ছে ময়মনসিংহের থানাগুলোতে।

জেলার বিভিন্ন থানার ওসি ও তদন্ত কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিমাসে গড়ে ২৫টি মামলা বা অভিযোগ জমা পড়লে, তার মধ্যে অন্তত ২০টিতেই এ ধরনের অতিরঞ্জিত গল্প সাজানো হয়।

মামলার বিবরণীতে দাবি করা হয়, বাদী বা ভুক্তভোগীর গলা থেকে সোনার চেইন, হাতের বালা কিংবা কানের দুল ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং ঘরে থাকা লাখ টাকা লুট করা হয়েছে। কিন্তু তদন্তকারী কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে গিয়ে বাদীর আর্থিক ও সামাজিক অবস্থা যাচাই করতে গিয়ে থমকে যান।

দেখা যায়, অনেক বাদীর ঘরে হয়তো ঘটনার দিন নগদ ১০টি টাকাও ছিল না। অথচ মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে লাখ টাকা।

এ ক্ষেত্রে টাকার উৎস জানতে চাইলে প্রায় সব মামলায়ই চেনা অজুহাত দেওয়া হয়। যেমন গরু বিক্রির টাকা বা ‘পরদিন বাজার থেকে গরু কেনা হতো’ কিংবা ‘এনজিও থেকে ঋণ তুলে ঘরে রাখা হয়েছিল’।

ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটার পরপরই তারা আইনি প্রতিকারের জন্য থানায় ছোটেন। সেখানে লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হলে তারা আদালতের মুহুরি বা থানাসংলগ্ন অভিযোগ লেখকদের শরণাপন্ন হন।

অভিযোগ লেখকরা তখন জানান, ভুক্তভোগীরা প্রথমে যা ঘটেছে ঠিক তা-ই বলেন।

কিন্তু আসামি যেন সহজে পার না পেয়ে যায় এবং পুলিশ যাতে ঘটনাটিকে গুরুত্ব দেয়, সেজন্য বাদীর কানপড়া দেওয়া হয় ‘মামলা শক্ত না করলে আসামি জামিন পেয়ে যাবে’। এই ‘জামিন ঠেকানো’ ও প্রতিপক্ষকে চরম বিপদে ফেলার মানসিকতা থেকেই বাদীর সম্মতিতে মারধরের পাশাপাশি শ্লীলতাহানি, দামি মোবাইল ও স্বর্ণালংকার ছিনতাইয়ের মতো কাল্পনিক তথ্য যুক্ত করা হয়।

মামলায় এ ধরনের মিথ্যার আশ্রয় নেওয়াকে আইনি ভাষায় ‘আত্মঘাতী’ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

ময়মনসিংহের কয়েকটি থানার তদন্তকারী কর্মকর্তারা (এসআই) জানান, যা ঘটেছে ঠিক তা দিয়ে মামলা হলে তদন্ত করা সহজ হয় এবং দ্রুত আদালতে নিখুঁত চার্জশিট (চূড়ান্ত প্রতিবেদন) জমা দেওয়া যায়, কিন্তু মামলায় অবাস্তব ও বানোয়াট তথ্য ঢুকিয়ে দেওয়া হলে তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশকে চরম বেগ পেতে হয়। ছিনতাই বা শ্লীলতাহানির কোনো সত্যতা বা তথ্যপ্রমাণ না পেয়ে পুলিশ বাধ্য হয়ে শুধু মূল ঘটনার (যেমন সামান্য মারামারি বা হুমকি) ধারাগুলো রেখে আদালতে প্রতিবেদন পাঠায়। এতে মামলাটি দুর্বল হয়ে পড়ে আদালতে।

এদিকে, বিচারকরা যখন দেখেন বাদীর আর্থিক সক্ষমতা না থাকা সত্ত্বেও লাখ টাকা বা সোনার চেইনের কাল্পনিক দাবি করা হয়েছে, তখন মামলার বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট হয়। আইনি এই ফাঁক-ফোঁকরের সুযোগ নিয়ে মূল অপরাধীরা সহজেই আদালত থেকে জামিন ও চূড়ান্ত খালাস পেয়ে যান। ফলে বিনা অপরাধে অনেকে যেমন হয়রানির শিকার হন, তেমনি ভুক্তভোগীরাও বঞ্চিত হন প্রকৃত বিচার থেকে।

এ ব্যাপারে ময়মনসিংহ জেলা আদালতের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এমদাদুল হক মিল্লাত বলেন, অপরাধীকে শাস্তি দিতে হলে মামলার অভিযোগ হতে হবে সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ। আবেগের বশে বা জিদ মেটাতে গিয়ে মামলায় কাল্পনিক গল্প সাজালে শেষ পর্যন্ত নিজেরই ক্ষতি হয়। তাই থানায় অতিরঞ্জিত কিছু না লিখে, বাস্তবে যা ঘটেছে হুবহু তা-ই উল্লেখ করা দরকার।

ময়মনসিংহের কয়েকটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, থানায় সাজানো বা অতিরঞ্জিত অভিযোগ করায় মামলার তদন্তে চরম জটিলতা তৈরি হচ্ছে এবং বানোয়াট তথ্যের জট খুলতে পুলিশের মূল্যবান সময় নষ্ট হচ্ছে। তারা বলেন, যা ঘটেছে, হুবহু তা দিয়ে অভিযোগ করলে তাদের জন্য তদন্ত করা সহজ হয় এবং খুব দ্রুততম সময়ে আদালতে নিখুঁত চার্জশিট জমা দেওয়া সম্ভব হয়।

এ ব্যাপারে ময়মনসিংহ জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) আব্দুল্লাহ আল মামুন কালের কণ্ঠকে বলেন, মামলার অভিযোগ অতিরিক্ত ‘কড়া’ বা ‘শক্ত’ করার মানসিকতা একটি আইনি আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। অনেক বাদী মনে করেন গুরুতর ধারা যুক্ত না করলে পুলিশ গুরুত্ব দেবে না—এই ধারণা ভুল। সক্ষমতা না থাকা সত্ত্বেও লাখ টাকা লুট বা সোনার চেইন ছিনতাইয়ের কাল্পনিক দাবি করা হলে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তেই বিষয়টি ধরা পড়ে যায়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, ‘আসামিপক্ষ এই বানোয়াট তথ্যের সুযোগ নিয়ে সহজেই খালাস পেয়ে যায় এবং বাদী প্রকৃত বিচার থেকে বঞ্চিত হন। তাই প্রতিপক্ষকে অতিরিক্ত ঘায়েল করার মানসিকতা পরিহার করে থানায় হুবহু সত্য ঘটনার ভিত্তিতে অভিযোগ করতে হবে।

 

 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%