শুক্রবার, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৭:০৩ পি.এম
চট্টগ্রাম, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ১১টি জেলায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান ও নিয়মিত মামলায় ৪৯৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
এই তথ্য আজ চট্টগ্রাম রেঞ্জ পুলিশ কার্যালয়ের প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে নিয়মিত মামলায় ৭২ জন, পূর্ববর্তী মামলায় ৮৩ জন, পুলিশ অ্যাক্ট ৩৪ ধারায় ৪১ জন, ফৌজদারী কার্যবিধির ৫৪ ধারায় ১৬ জন, কার্যবিধির ১৫১ ধারা ও অন্যান্য আইনে ৪৪ জন, পরোয়ানা মূলে ১১৪ জন এবং সাজা পরোয়ানা মূলে ১৪ জন রয়েছেন।
মাদক মামলায় ১১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাদের মধ্যে ৩ জন মাদকবহনকারী এবং ১০৯ জন মাদকসেবী। নিয়মিত ও অন্যান্য মামলায় ৩৭ জন মাদক ব্যবসায়ীসহ অভিযানে মোট ১৪৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৭৪ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ১৪ হাজার ৬০০ টাকা অর্থদণ্ড আদায় করা হয়েছে এবং ১৫টি মাদক মামলা দায়ের করা হয়েছে।
অভিযানে ১৫ হাজার ৩০৩ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ৫৮ কেজি ৪৩০ গ্রাম গাঁজা, ৭২ বোতল স্কাফ সিরাপ এবং ১২ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, জনস্বার্থে পরিচালিত এই বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
‘শাইনি হান্টার্স’ নামের একটি হ্যাকার গোষ্ঠী যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা (এফবিআই) এর প্রায় সব এজেন্ট এবং চাকরিতে আবেদনকারীদের 'অতি সংবেদনশীল তথ্য' চুরির দাবি করেছে। কর্তৃপক্ষ জানায়, তবে এই দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
হ্যাকাররা এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেল এবং সাইবার বিভাগের সহকারী পরিচালক ব্রেট লিদারম্যানকে পাঠানো একটি বার্তায় জানায়, তারা ব্যুরোর চাকরির ওয়েবসাইট 'fbijobs.gov'-এ অনধিকার প্রবেশ করেছে। এই ঘটনার পর বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল পর্যন্ত ওয়েবসাইটটি বন্ধ ছিল।
এফবিআই নিশ্চিত করেছে যে, নিরাপত্তা লঙ্ঘনের উৎস কোথা থেকে এসেছে তা নিশ্চিত হতে তদন্ত চলছে। এটি এফবিআইয়ের নিজস্ব ব্যবস্থা থেকে ঘটেছে, নাকি সংশ্লিষ্ট কোনো তৃতীয় পক্ষের সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের ত্রুটি থেকে ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সাইবার অপরাধ বিশেষজ্ঞ আইনজীবী মিরিয়াম উগমিস্টার জানান, শাইনি হান্টার্সের অতীত কর্মকাণ্ডের কারণে তাদের এই দাবি একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তবে ঠিক কতজন এজেন্ট ও আবেদনকারীর কী ধরনের তথ্য হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
গত মে মাসে এফবিআই শাইনি হান্টার্সকে 'থ্রেট অ্যাক্টর' বা ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠী হিসেবে চিহ্নিত করে একটি সতর্কবার্তা প্রকাশ করেছিল। হ্যাকারদের দাবি, ওই সতর্কবার্তার প্রতিশোধ নিতেই তারা এই হামলা চালিয়েছে এবং এফবিআইকে সেই সতর্কবার্তা প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, যদি সত্যিই তথ্য চুরি হয়ে থাকে, তবে এজেন্ট ও তাদের পরিবারের সদস্যরা হয়রানি, ব্লাকমেইল ও নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারেন। ইতিপূর্বেও একাধিকবার এফবিআইয়ের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থা ও পরিচালকদের তথ্য লক্ষ্য করে সাইবার হামলার ঘটনা ঘটেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রে বিদ্যুতের চাহিদা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে, এ কারণে পুরোনো পাওয়ার গ্রিডের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করেছে জ্বালানি বিভাগ। এই লক্ষ্যে ২৬টি অঙ্গরাজ্যের ৩১টি প্রকল্পে প্রায় ২০০ কোটি ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা তারা ঘোষণা করেছে।
যদি পরিকল্পিত প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হয়, তাহলে গ্রিডে অতিরিক্ত ২৩ গিগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহের সক্ষমতা তৈরি হবে, যা প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ পরিবারের জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহের সমান। এই উদ্যোগের আওতায় বিদ্যুতের নতুন সংযোগের পাশাপাশি আধুনিক সেন্সর ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিদ্যমান সঞ্চালন ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করা হবে।
জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তাদের মতে, এসব প্রকল্পের অধীনে ১ হাজার ৫০০ মাইলের বেশি বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের যন্ত্রাংশ উন্নত করা হবে। পাশাপাশি প্রায় ২১ হাজার মাইল জুড়ে সঞ্চালন ব্যবস্থার প্রযুক্তিগত আধুনিকায়ন করা হবে, যা তাৎক্ষণিক আবহাওয়ার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও লাইনের চাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হবে।
উদ্যোগটিতে ১৯০ কোটি ডলার সরকারি অনুদানের সঙ্গে বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে আরও ৩৩৫ কোটি ডলার যৌথ অর্থায়ন আসবে। কলোরাডো, ইন্ডিয়ানা, ওহাইও ও ওকলাহোমার চারটি সরকারি সংস্থা সহ বিভিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এই আর্থিক সুবিধা পাবে।
সাম্প্রতিক সময়ে ডেটা সেন্টার, শিল্পকারখানা ও বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে যুক্তরাষ্ট্রে বিদ্যুতের ব্যবহার ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে। এই বাড়তি চাহিদা মেটাতে বাইডেন প্রশাসনের সময় পাস হওয়া দ্বিদলীয় অবকাঠামো তহবিলের আওতায় প্রকল্পগুলোতে অর্থায়ন করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার দ্বিতীয় মেয়াদে দেশীয় তেল-গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধি এবং পুরোনো কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো চালু রাখার নীতি জোরদার করছেন। এই প্রেক্ষাপটেও নতুন গ্রিড আধুনিকায়ন প্রকল্প যুক্তরাষ্ট্রের পাওয়ার গ্রিডের ওপর চাপ কমিয়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের সমাধান সাময়িক বিরতি বা জোড়াতালির ভিত্তিতে সম্ভব নয়, বরং এই যুদ্ধের অবসানে একটি দীর্ঘমেয়াদী স্থায়ী শান্তি চুক্তির প্রয়োজন রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) প্রেসিডেন্টের কূটনৈতিক উপদেষ্টা ড. আনোয়ার মোহাম্মদ গারগাশ। মার্কিন সাময়িকী ফরেন অ্যাফেয়ার্স-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এ বিষয়ে আহ্বান জানান।
ড. গারগাশ বলেন, "আমাদের এমন এক শান্তি প্রক্রিয়ার দিকে এগোতে হবে যা দীর্ঘস্থায়ী হবে। তিন, চার বা পাঁচ মাস পর আবার যাতে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে, তেমন কোনো ক্ষণস্থায়ী সমাধান বা অকার্যকর সমঝোতা আমরা চাই না।"
এই জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক জোর দিয়ে জানান, টেকসই শান্তির জন্য কেবল ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা যথেষ্ট নয়। বরং ইরান এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর (জিসিসি) মধ্যে সরাসরি ও সুনির্দিষ্ট দ্বিপাক্ষিক আলোচনা শুরু হওয়া অত্যন্ত জরুরি।
সাক্ষাৎকারে ড. গারগাশ উল্লেখ করেন, শুরু থেকেই ইউএই যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধের ছড়িয়ে পড়া এবং দীর্ঘায়িত হওয়ার বিষয়ে সতর্ক করে আসছিল। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইরানের পক্ষ থেকে আরব আমিরাতকে লক্ষ্য করে প্রায় ৩,৩০০টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়, যার ৯৫ শতাংশই ছিল বেসামরিক অবকাঠামো কেন্দ্রিক। তবে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশটি এর বেশিরভাগ হামলা প্রতিরোধ করতে সক্ষম হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, "সাময়িক উত্তেজনার পর কূটনীতিক ও ভৌগোলিক বাস্তবতার স্বার্থে ইরানের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হতে পারে, তবে সাম্প্রতিক হামলার কারণে ভঙ্গ হওয়া পারস্পরিক বিশ্বাস পুনরুদ্ধার হতে বেশ দীর্ঘ সময় লাগবে।"
একই সাথে তিনি মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভৌগোলিক-অর্থনৈতিক (Geo-economic) অগ্রগতি ও কৌশলগত স্বাবলম্বিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে ক্রেতা সেজে অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ একটি আমেরিকান পিস্তল, পাঁচ রাউন্ড গুলি এবং দুটি ম্যাগজিনসহ দুই যুবককে আটক করেছে। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে উপজেলার মনাকষা সাহাপাড়া বাজার থেকে তাঁদের আটক করা হয়।
আটক হওয়া ব্যক্তিরা হলেন শিবগঞ্জের সীমান্তবর্তী মনাকষা ইউনিয়নের তারাপুর পন্ডিতপাড়া গ্রামের মৃত আফসার আলীর ছেলে মো. রফিকুল (৩০) এবং তারাপুর মোড়্লপাড়া গ্রামের মো. জাহাঙ্গীরের ছেলে মো. রুবেল, যিনি ডলার নামেও পরিচিত (১৯)।
পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার বিকেলে মনাকষা সাহাপাড়া বাজারের মোবাইল টাওয়ারের পশ্চিম পাশে মোস্তফা মার্কেটের পেছনে সাহাপাড়া প্রি-ক্যাডেট স্কুলের পূর্ব পাশে অভিযান চালানো হয়। সেখানে স্কুলের বাথরুমের সামনে থেকে রফিকুল ও রুবেলকে আটক করা হয়। পরে তাঁদের দেহ তল্লাশি করে রফিকুলের কোমরে গোঁজা একটি পিস্তল, পাঁচ রাউন্ড গুলি এবং দুটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়।
শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মতিউর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আটকরা বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। পুলিশ ক্রেতা সেজে ফাঁদ পেতে রফিকুল ও তাঁর সহযোগী রুবেলকে অস্ত্রসহ আটক করেছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ওয়াসিম ফিরোজ বলেন, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। আটক দুইজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ