১১:০৬ পি.এম
ইয়েমেনের রাজধানী সানার নিকটবর্তী একটি গ্রামে বিমান হামলায় অন্তত ২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় আরও ৩০ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে বেশিরভাগই নারী ও শিশু।
শনিবার (৭ নভেম্বর) ইয়েমেনের বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুথি নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র এই তথ্য প্রকাশ করেছেন।
মুখপাত্র আনিস আল-আসবাহি বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) দেওয়া সাক্ষাৎকারে সৌদি আরবকে হামলার জন্য দায়ী করেছেন।
আরও পড়ুন: জার্সিতে লাল ফুল, বাঁশিতে করুণ সুর-প্রিমিয়ার লিগে যুদ্ধাহত সেনাদের স্মরণ
তার অভিযোগ, আল-শারিয়া গ্রামে এই বিমান হামলা পরিচালিত হয়েছে। তবে এপির পক্ষ থেকে অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সৌদি আরবের তথ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে মন্তব্যের জন্য যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
এই হতাহতের সংখ্যা ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধের ক্রমবর্ধমান অবনতিশীল পরিস্থিতির প্রতিফলন। কয়েক বছর ধরে চলমান যুদ্ধের মধ্যে গত গ্রীষ্মে দীর্ঘকালীন যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ে। এরপর ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহী এবং সৌদি আরব-সমর্থিত প্রতিপক্ষের মধ্যে লড়াই আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। হুথিরা ইয়েমেনের রাজধানী সানা এবং দেশের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করছে। অন্যদিকে সৌদি সমর্থিত বাহিনীগুলোর অবস্থান দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলে রয়েছে।
এর আগে শুক্রবার দক্ষিণ ইয়েমেনের একটি বাজারে বিমান হামলায় অন্তত ৩০ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। ওই হামলার জন্য হুথি এবং সৌদি সমর্থিত ইয়েমেনি সামরিক বাহিনী পরস্পরকে দায়ী করেছে।
শনিবারের হামলার পর হুথি পরিচালিত আল-মাসিরা টেলিভিশনে প্রচারিত ভিডিওতে দেখা যায়, স্থানীয় একটি হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স থেকে একাধিক শিশুর নিথর দেহ বের করে আনা হচ্ছে। একটি ছোট মেয়ের মাথা গুরুতরভাবে ক্ষতবিক্ষত ছিল। অন্য শিশুরা রক্তাক্ত ও ব্যান্ডেজে মোড়ানো অবস্থায় স্ট্রেচারে শুয়ে ছিল। হাসপাতালের কর্মীরা তাদের চিকিৎসা প্রদান করছিলেন।
আরও পড়ুন: সোনিয়া গান্ধী: মোদি সরকারের আমলে ২০ কোটি মুসলিম নিপীড়নের শিকার
হুথিদের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় অবস্থিত ওই কৃষিপ্রধান গ্রামটি রাজধানী সানা থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত। হামলার পর সেখানকার ভিডিওতে ধ্বংস হয়ে যাওয়া বাড়িঘরের ধ্বংসস্তূপ এবং বাতাসে ধুলার কুণ্ডলী দেখা যায়। হামলা থেকে বাঁচতে স্থানীয়দের আশপাশের কৃষিজমিতে আশ্রয় নিতে দেখা যায়।
আল-আসবাহি আল-মাসিরাকে জানিয়েছেন, হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ২৫ হয়েছে। এর আগে তিনি এপিকে ২২ জন নিহত হওয়ার কথা জানিয়েছিলেন।
তিনি আরও বলেন, হামলায় বিধ্বস্ত বাড়িঘরের ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো বেসামরিক মানুষ আটকে রয়েছেন। উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিতদের উদ্ধারের চেষ্টা চালানোর সময় পরবর্তী হামলাগুলো তাদের লক্ষ্য করেও চালানো হয় বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। সূত্র: এপি
আরও পড়ুন: যুদ্ধের মধ্যেও অস্ত্র উৎপাদন অব্যাহত রাখতে ইরান নির্মাণ করছে বিশাল ভূগর্ভস্থ স্থাপনা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন