১০:৫২ পি.এম
আসামের শ্রীভূমি জেলায় বেআইনিভাবে বসবাসকারী ২৮ জন 'বাংলাদেশী নাগরিককে' শনাক্ত করে তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর দাবি করেছেন আসামের মুখ্যমন্ত্রী উগ্র হিন্দুত্ববাদী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা।
শনিবার (৭ নভেম্বর) এই দাবি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, "অবৈধ অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে আসামের ধৈর্য্যের বাঁধ ভেঙে গেছে। শ্রীভূমি পুলিশ চিহ্নিত করা ২৮ জন অবৈধ অভিবাসীকে বহিষ্কার করেছে। দৃঢ় সংকল্প নিয়ে আমরা এই অভিযান চালিয়ে যাব। আমাদের সীমান্ত, রাজ্য ও আসামের নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না।"
আসামের সর্বদক্ষিণের জেলা শ্রীভূমি, যার পূর্বনাম করিমগঞ্জ ছিল, ২০২৪ সালের নভেম্বরে নতুন নামকরণ করা হয়। এই জেলা বাংলাদেশের সিলেট বিভাগের সীমান্তবর্তী। আসামের যেসব জেলা আন্তর্জাতিক সীমান্তে অবস্থিত, তার মধ্যে ধুবড়ি, দক্ষিণ সালমারা-মানকাচর ও কাছাড়ের পাশাপাশি শ্রীভূমিও অন্যতম। শ্রীভূমিতে আসামের একটি সমন্বিত চেকপোস্ট (ইন্টিগ্রেটেড চেকপোস্ট) এবং মানকাচরে একটি ল্যান্ড কাস্টমস স্টেশন রয়েছে।
আরও পড়ুন: ইয়েমেনে বিমান হামলায় নারী-শিশুসহ ২৫ জন নিহত
ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ১৯৫০ সালের 'ইমিগ্র্যান্টস (এক্সপালশন ফ্রম আসাম) অ্যাক্ট'-এর অধীনে এই বিতাড়ন প্রক্রিয়া পরিচালিত হচ্ছে। গত বছরের সেপ্টেম্বরে রাজ্য মন্ত্রিসভা এই আইনের অধীনে একটি 'স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর' (এসওপি) অনুমোদন করে, যা জেলা কমিশনারদের যেকোনো সন্দেহভাজন বিদেশী নাগরিককে বিতাড়নের নির্দেশ দেওয়ার ক্ষমতা প্রদান করে। গত বছরের মে মাস থেকে সীমান্ত অঞ্চলে নিয়মিত "পুশব্যাক" ড্রাইভ চালানো হচ্ছে, যার অনেকগুলোই রাতে অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং মুখ্যমন্ত্রী নিজেই সেগুলো সামাজিক মাধ্যমে ঘোষণা দিয়েছেন।
এই অভিযানের পরিসর ও সংখ্যা মোটেও কম নয়। চলতি বছর রাজ্য বিধানসভায় পেশ করা এক লিখিত জবাবে আসাম চুক্তি বাস্তবায়ন মন্ত্রী অতুল বোড়া জানান, ২০১৬ সাল থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত রাজ্য থেকে মোট ২,০৮৯ জন অবৈধ বিদেশী নাগরিককে পুশব্যাক, দেড়ান্তর বা বিতাড়িত করা হয়েছে। এর মধ্যে ২,০২৩ জনকেই বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। শুধু একটি বছরেই সর্বাধিক ১,৮১১ জনকে ফেরত পাঠানোর রেকর্ড রয়েছে।
তবে আসামের পুরো সীমান্ত অঞ্চল এখনো সম্পূর্ণ সুরক্ষিত নয়। বাংলাদেশের সাথে আসামের ২৬৭.৫ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে, যা পর্যবেক্ষণ করছে বিএসএফ-এর (বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স) ৯১টি সীমান্ত চৌকি, আসাম পুলিশের ১৪টি দ্বিতীয় স্তরের চৌকি এবং ১৪টি টহল পোস্ট। এর মধ্যে শ্রীভূমির কুশিয়ারা নদী সংলগ্ন ৪.৩৫ কিলোমিটার অংশে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) আপত্তির কারণে এখনো কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া সম্ভব হয়নি; ফলে এলাকাটিতে কেবল বিএসএফ টহলের মাধ্যমে নজরদারি চালানো হয়। ২০২৪ সালে ফ্যাসিস্ট হাসিনার ভারতে পলায়নের পর থেকেই ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ১,৮৮৫ কিলোমিটার দীর্ঘ ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বিএসএফ তাদের নজরদারি জোরদার করেছে। পাশাপাশি আসাম পুলিশও পানি ও স্থলপথে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।
অনুপ্রবেশের এই বিষয়টি এখন আসামের রাজনীতিতে অন্যতম প্রধান চর্চার বিষয়। বিজেপি মন্ত্রীরা গত সপ্তাহজুড়ে 'ইন্ডিয়া' জোটকে অভিযুক্ত করে আসছেন যে তারা ভারতে "বাংলাদেশের মতো সরকার পরিবর্তনের" চেষ্টা করছে। অন্যদিকে বিশ্ব শর্মা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন রাজ্যকে অনুপ্রবেশমুক্ত করার। তবে বিরোধী দলগুলো এই অভিযানের পদ্ধতি ও গতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেছে, কেবল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুশব্যাকের ঘোষণা দিয়ে আসল সমস্যার সমাধান হবে না; এর একমাত্র স্থায়ী সমাধান সীমান্তে পুরোপুরি কাঁটাতারের বেড়া নিশ্চিত করা।
আরও পড়ুন: জার্সিতে লাল ফুল, বাঁশিতে করুণ সুর—প্রিমিয়ার লিগে যুদ্ধাহত সেনাদের স্মরণ
প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবারের এই ঘটনাটি সাম্প্রতিক ধারাবাহিক অভিযানেরই অংশ। ঠিক গত সপ্তাহে ধুবড়ির একটি খেয়াঘাট থেকে ৩৬ জন সন্দেহভাজন বাংলাদেশী নাগরিককে আটক করেছিল পুলিশ—তারা দক্ষিণ সালমারা-মানকাচর থেকে আসা ১২০ জনের একটি নৌকায় অবস্থান করছিল। এছাড়া এর আগে গুয়াহাটির বিভিন্ন হোটেল ও রেলওয়ে স্টেশন থেকেও ২০ জনেরও বেশি সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন