ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ভূমিকম্পের সতর্কবার্তা দ্রুত পৌঁছাতে নতুন উদ্যোগ ইন্দোনেশিয়ায়


ভূমিকম্পের সতর্কবার্তা দ্রুত পৌঁছাতে নতুন উদ্যোগ ইন্দোনেশিয়ায়

ভূমিকম্পের আগাম সতর্কবার্তা দ্রুত মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে মসজিদের মাইক ব্যবহারের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে ইন্দোনেশিয়া। দেশটির প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছে সতর্কবার্তা পৌঁছানোর জন্য আগে থেকেই থাকা মসজিদের লাউডস্পিকারগুলো কাজে লাগানোর সম্ভাবনা যাচাই করছেন বিজ্ঞানীরা। এ লক্ষ্যে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি পরীক্ষামূলক প্রকল্প চলমান রয়েছে, যা ২০৩০ সাল পর্যন্ত অব্যাহত থাকার কথা।

প্রকল্পটির উদ্যোক্তা জাপানের দুর্যোগবিষয়ক বিজ্ঞানী ইনোয়ে হিরোশি। তিনি জাপানের কিয়োটো বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্যোগ প্রতিরোধ গবেষণা ইনস্টিটিউটের সঙ্গে যুক্ত এবং ইন্দোনেশিয়া সরকারের সহযোগিতায় কাজ করছেন। তাদের লক্ষ্য হলো, দেশটিতে জাপানের মতো ভূমিকম্পের আগাম সতর্কবার্তা দেওয়ার ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব কি না, তা যাচাই করা।

ইনোয়ে জানিয়েছেন, ইন্দোনেশিয়ার প্রতিটি জনপদে প্রায় মসজিদ রয়েছে। ফলে এসব প্রতিষ্ঠানের মাইক সতর্কবার্তা প্রচারের কাজে ব্যবহার করা গেলে দুর্গম এলাকার মানুষের কাছে দ্রুত খবর পৌঁছানো সম্ভব হতে পারে।

আরও পড়ুন: বোম্বে হাইকোর্ট ইমরান খানের ভারত ছাড়ার নোটিশ স্থগিত করেছে

দুই দশক আগে সুমাত্রায় ভয়াবহ ভূমিকম্পের সময় তার মাথায় এ ধারণা আসে। ২০০৯ সালে পশ্চিম সুমাত্রায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত এক হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। ওই অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে ইনোয়ে বলেন, "ভূমিকম্পের কম্পন পৌঁছানোর আগেই মানুষ সতর্কবার্তা পেলে অনেক প্রাণ বাঁচানো সম্ভব হতো।"

মোবাইল নেটওয়ার্কের বিকল্প হতে পারে মসজিদের মাইক। বিশ্বের সবচেয়ে বেশি মুসলিম জনসংখ্যার দেশ ইন্দোনেশিয়ায় লাখ লাখ মসজিদ রয়েছে। এসব মসজিদে প্রতিদিন পাঁচবার আজান দেওয়া হয় এবং মাইকের ব্যবস্থা নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়।

গবেষকদের মতে, দুর্যোগের সময় সতর্কবার্তা পৌঁছানোর জন্য একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্কের পাশাপাশি সেটি সচল রাখাও জরুরি। এ ক্ষেত্রে মসজিদের মাইক বিশেষ সুবিধা দিতে পারে। কারণ, এগুলো আগে থেকেই স্থাপিত এবং স্থানীয় মানুষের উদ্যোগে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়।

বর্তমানে অনেক দেশে দুর্যোগের সতর্কবার্তা পৌঁছাতে মোবাইল ফোননির্ভর ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়। তবে ভূমিকম্পে যোগাযোগ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হলে মোবাইল নেটওয়ার্কও অকার্যকর হয়ে পড়তে পারে। ফলে বিকল্প হিসেবে মসজিদের মাইক কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানীরা।

আরও পড়ুন: সুদানে স্বর্ণের খোঁজে শ্রমিকেরা জীবন ঝুঁকিতে, খনিতে প্রাণ হারাচ্ছেন

পরীক্ষামূলক প্রকল্পের আওতায় ইতিমধ্যে কয়েকটি মসজিদকে ভূমিকম্প শনাক্তকারী সেন্সর নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। তবে এখনো এই ব্যবস্থা থেকে সাধারণ মানুষের কাছে সরাসরি সতর্কবার্তা পাঠানো হচ্ছে না।

ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় গবেষণা ও উদ্ভাবন সংস্থার জ্যেষ্ঠ গবেষক এবং যৌথ গবেষক দলের দেশীয় প্রধান আন্ডি একা সাকিয়া বলেন, "প্রকল্পটি এখনো পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে। এর মূল লক্ষ্য হলো, ভূমিকম্পের সম্ভাব্য বিপদ সম্পর্কে মানুষকে যত দ্রুত সম্ভব সতর্ক করা, যাতে তাঁরা দ্রুত নিরাপদ পদক্ষেপ নিতে পারেন।"

তার মতে, ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল থেকে ৫০ কিলোমিটার দূরের কোনো গ্রামের বাসিন্দারা সতর্ক হওয়ার জন্য মাত্র পাঁচ থেকে ১০ সেকেন্ড সময় পেতে পারেন। কারণ, ভূমিকম্পের তরঙ্গ মাটির ভেতর দিয়ে অত্যন্ত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

ইন্দোনেশিয়ায় ২০০৮ সাল থেকে সুনামির আগাম সতর্কবার্তা দেওয়ার ব্যবস্থা চালু রয়েছে। তবে ভূমিকম্পের ক্ষেত্রে মসজিদের মাইকনির্ভর এই উদ্যোগ নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন গবেষকেরা।

আরও পড়ুন: জার্মান ভাইস মিনিস্টার ড. বারবেল কোফলারের আবুল খায়ের স্টীল মেল্টিং লিমিটেড পরিদর্শন

ভূমিকম্পের সময় কীভাবে নিরাপদ থাকা যায়, তা নিয়েও গবেষণা করছেন জাপান ও ইন্দোনেশিয়ার বিজ্ঞানীরা। দুই দেশই প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলে অবস্থিত। ফলে উভয় দেশেই প্রায়ই ভূমিকম্প হয়।

জাপানে ভূমিকম্পের সময় সাধারণত মজবুত টেবিলের নিচে আশ্রয় নেওয়া এবং মাথা ও শরীর সুরক্ষিত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু ইন্দোনেশিয়ার অনেক এলাকায় ভবন নির্মাণে এমন উপকরণ ব্যবহার করা হয়, যা ভূমিকম্পে সহজেই ধসে পড়তে পারে। বিশেষ করে অপর্যাপ্তভাবে শক্তিশালী করা ইটের দেয়াল ও ভবন বড় ঝুঁকি তৈরি করে।

এ কারণে কিছু ক্ষেত্রে ঘরের ভেতরে আশ্রয় নেওয়ার পরিবর্তে দ্রুত বাইরে বেরিয়ে আসা মানুষের জন্য বেশি নিরাপদ হতে পারে। ইনোয়ের মতে, ইন্দোনেশিয়ার মানুষ ভূমিকম্পের সময় দ্রুত ঘর থেকে বেরিয়ে আসার প্রবণতা দেখান। তবে কোন পরিস্থিতিতে কোন কৌশল সবচেয়ে নিরাপদ, তা বৈজ্ঞানিকভাবে নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

এ লক্ষ্যে গবেষকেরা বিভিন্ন পরিস্থিতির অনুকরণে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও মানুষের আচরণ নিয়ে গবেষণা করছেন। তাদের উদ্দেশ্য হলো, দেশটির ভবন নির্মাণের ধরন ও স্থানীয় বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে ভূমিকম্পের সময় করণীয় সম্পর্কে কার্যকর নির্দেশনা তৈরি করা।

আরও পড়ুন: হলুদ বিন্দু দেখে খননে ২ কোটি টাকার স্বর্ণের খণ্ড উদ্ধার

শুধু ইন্দোনেশিয়া নয়, মুসলিম-অধ্যুষিত আরো কয়েকটি দেশেও দুর্যোগের সতর্কবার্তা প্রচারে মসজিদের লাউডস্পিকার ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের বারাকাহ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের পরিকল্পনার সময় সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ার মতো পরিস্থিতিতে সতর্কবার্তা দেওয়ার বৃহত্তর ব্যবস্থার অংশ হিসেবে মসজিদের মাইক ব্যবহার করা হতে পারে।

এদিকে উজবেকিস্তানে আরো বড় পরিসরে এমন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। দেশটির জরুরি পরিস্থিতি মন্ত্রণালয় চলতি বছর ২৭২টি মসজিদে সতর্কবার্তা দেওয়ার যন্ত্র স্থাপনের একটি পরীক্ষামূলক প্রকল্প ঘোষণা করেছে। এসব যন্ত্রের মাধ্যমে বন্যা, কাদামাটির স্রোত, ভূমিধস ও তুষারধসের বিষয়ে মানুষকে সতর্ক করার পরিকল্পনা রয়েছে।

জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) বলেছে, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব রয়েছে এবং মানুষ যেসব প্রতিষ্ঠানকে আস্থার জায়গা হিসেবে দেখে, সেগুলোকে দুর্যোগ মোকাবিলায় কাজে লাগানো গুরুত্বপূর্ণ।

আরও পড়ুন: ফ্লাভিও বলসোনারোর পাসপোর্ট বাতিল

ইন্দোনেশিয়ার প্রকল্পটি ২০৩০ সাল পর্যন্ত চলার কথা। মসজিদের পাশাপাশি স্কুলের লাউডস্পিকার, রেডিও ও টেলিভিশন সম্প্রচারের মাধ্যমেও কীভাবে সতর্কবার্তা পৌঁছানো যায়, তা খতিয়ে দেখছেন গবেষকেরা।

প্রকল্পটি সফল হলে আগে থেকে থাকা অবকাঠামো ব্যবহার করেই দুর্গম এলাকার মানুষের কাছে ভূমিকম্পের সতর্কবার্তা পৌঁছানোর নতুন পথ তৈরি হতে পারে। তবে সাধারণ মানুষের জন্য ব্যবস্থা চালু করার আগে এর কার্যকারিতা যাচাই ও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাগলা মসজিদের দানবাক্সের সোনা-রুপার ওজন ও বৈদেশিক মুদ্রা গণনা শুরু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৪৫ পি.এম


পাগলা মসজিদের দানবাক্সের সোনা-রুপার ওজন ও বৈদেশিক মুদ্রা গণনা শুরু

কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্সে জমা হওয়া সোনা, রুপা এবং বৈদেশিক মুদ্রার ওজন নির্ধারণ ও গণনার কার্যক্রম ছয় বছর পর শুরু হয়েছে। সোমবার সকাল থেকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ট্রেজারিতে ৯টি মাঝারি আকারের জার এবং ৬টি সিলগালাকৃত খাম খুলে গণনার কাজ শুরু করা হয়।

দেশ-বিদেশের দর্শনার্থীরা পাগলা মসজিদে নগদ টাকার পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ-রুপার গয়না এবং বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক মুদ্রা দান করেন। দানবাক্স খোলার পর এসব মূল্যবান সামগ্রী সিলগালা করে জেলা প্রশাসনের ট্রেজারিতে সংরক্ষণ করা হয়। বর্তমানে সেগুলো খুলে ক্যারেট অনুযায়ী স্বর্ণ ও রুপা পৃথক করে ওজন নির্ধারণ করা হচ্ছে। পরবর্তীতে বাজারমূল্য নির্ধারণ সাপেক্ষে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিলামে বিক্রি করা হবে। বৈদেশিক মুদ্রাগুলো দেশভিত্তিক আলাদা করে বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ বিনিময় হার অনুযায়ী নগদায়ন করা হবে।

জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জানান, সর্বশেষ ২০২০ সালের ১১ মার্চ পাগলা মসজিদের দানবাক্সে পাওয়া সোনা, রুপা ও বৈদেশিক মুদ্রা গণনা করা হয়েছিল। সে সময় ৪১৫ ভরি ১ আনা স্বর্ণ এবং ১৮৪ ভরি রুপা নিলামে বিক্রি করে ১ কোটি ১৫ লাখ ৪ হাজার ৯০০ টাকা পাওয়া গিয়েছিল। এছাড়া বৈদেশিক মুদ্রা নগদায়ন করে ১ লাখ ২৭ হাজার ৬৫১ টাকা পাওয়া গিয়েছিল।

তিনি আরও জানান, ২০২০ সালের ১১ মার্চের পর থেকে মোট ১৮ বার দানবাক্স খোলা হয়েছে, যার মধ্যে সর্বশেষ গত ২৭ জুন দানবাক্স খোলা হয়েছিল। বর্তমানে পাগলা মসজিদের মূল তহবিলে জমা রয়েছে ১৩১ কোটি ৮৫ লাখ ৪৪ হাজার ৮১০ টাকা। মসজিদের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইনে এ পর্যন্ত অনুদান হিসেবে এসেছে ৩৯ লাখ ৩২ হাজার ৯০৬ টাকা।

জেলা প্রশাসক মসজিদের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড তুলে ধরে জানান, ১ কোটি ১০ লাখ ৮৮ হাজার ৪৬৪ টাকা ব্যয়ে মসজিদ প্রাঙ্গণে তিনটি নামাজের শেড, ওজুখানা ও নারীদের জন্য পৃথক ওয়াশব্লক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত ২৭ সেপ্টেম্বর এ কাজের কার্যাদেশ দেওয়া হয়। ইতোমধ্যে মুসল্লিদের সুবিধার জন্য মসজিদের বাইরে পাবলিক টয়লেট নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে। পাশাপাশি একটি দৃষ্টিনন্দন আন্তর্জাতিক মানের আধুনিক মসজিদ কমপ্লেক্স নির্মাণের নকশা প্রণয়নের কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

সোনা, রুপা ও বৈদেশিক মুদ্রা গণনা এবং ওজন নির্ধারণের পুরো প্রক্রিয়ায় কঠোর নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সার্বিক নিরাপত্তায় তিনজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, ১০ জন পুলিশ সদস্য ও ছয়জন আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। গণনার কাজে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ছয়জন কর্মচারী, মসজিদের কর্মী, বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির (বাজুস) ১০ জন স্বর্ণকার এবং রূপালী ব্যাংকের কর্মকর্তারা সরাসরি সহযোগিতা করছেন।

গণনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. ইশতিয়াক ইমন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. এরশাদুল আহমেদ, কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুল হাসান মারুফসহ জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মেসি ও রোনালদোকে ‘ভিনগ্রহের খেলোয়াড়’ বললেন সাবেক ব্যালন ডি অর প্রধান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

সোমবার, ১২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৪৫ পি.এম


মেসি ও রোনালদোকে ‘ভিনগ্রহের খেলোয়াড়’ বললেন সাবেক ব্যালন ডি অর প্রধান

লিওনেল মেসি এবং ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর দীর্ঘকালীন ব্যালন ডি’অর আধিপত্যের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে সাবেক প্রধান পাসকাল ফেরে উভয়কেই ‘ভিনগ্রহের খেলোয়াড়’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তাঁর মতে, ২০০৮ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ফুটবলের সবচেয়ে সম্মানজনক ব্যক্তিগত পুরস্কারে মেসি ও রোনালদোর আধিপত্যের প্রধান কারণ ছিল তাঁদের মাঠে অসাধারণ পারফরম্যান্স।

ফ্রান্স ফুটবলের প্রাক্তন সম্পাদক ফেরে মন্তব্য করেন, ‘২০০৮ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত তারা ব্যালন ডি’অর নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিয়েছে, কারণ তারা ছিলেন বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়। তারা দুজন ছিলেন ভিনগ্রহের।’ তাঁর এই বক্তব্য ফুটবলের ইতিহাসে মেসি ও রোনালদোর এক দশকের প্রতিদ্বন্দ্বিতার অনন্যতা তুলে ধরে।

এই সময়ের মধ্যে ২০০৮ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ১০টি ব্যালন ডি’অরের মধ্যে রোনালদো চারবার এবং মেসি পাঁচবার পুরস্কারটি জিতেছেন। ২০১০ সালে মেসি সতীর্থ আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা ও জাভিকে পেছনে ফেলে পুরস্কারটি অর্জন করেন। রোনালদো ২০১৩ ও ২০১৪ সালে টানা দুইবার পুরস্কার জিতে নিজের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেন।

মেসি ও রোনালদোর প্রতিদ্বন্দ্বিতা কেবল পুরস্কারের মঞ্চেই সীমাবদ্ধ ছিল না। এক যুগেরও বেশি সময় ধরে তাঁদের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স, গোল, রেকর্ড এবং দলীয় সাফল্য বিশ্ব ফুটবলের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। ২০১৮ সালে লুকা মদরিচ ব্যালন ডি’অর জেতার মাধ্যমে সেই ধারায় ছেদ পড়ে। ২০২০ সালে রবার্ট লেভানদোভস্কি দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেও পুরস্কার না পাওয়ায় সেবার ব্যালন ডি’অর নিয়ে আলাদা বিতর্ক সৃষ্টি হয়।

ফেরের সঙ্গে রোনালদোর অতীতেও প্রকাশ্য মতবিরোধ হয়েছিল। এক সাক্ষাৎকারে ফেরে দাবি করেছিলেন, রোনালদোর অন্যতম লক্ষ্য ছিল মেসির চেয়ে বেশি ব্যালন ডি’অর জেতা। সেই বক্তব্যের প্রতিবাদ করেছিলেন রোনালদো নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে ফেরে সেই ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে বলেন, তাঁর মন্তব্যের কারণে রোনালদোর অনেক সমর্থকের কাছে তিনি মিথ্যাবাদী হিসেবে বিবেচিত হয়েছিলেন। তবে সাবেক এই কর্মকর্তা বিষয়টিকে গুরুতর কোনো ব্যক্তিগত বিরোধ হিসেবে দেখেন না।

শেষ পর্যন্ত, মেসি ও রোনালদোর দ্বৈরথ কেবল ব্যালন ডি’অর জেতার প্রতিযোগিতা ছিল না; এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তাঁদের পারফরম্যান্স বিশ্ব ফুটবলের আলোচনার অন্যতম প্রধান মানদণ্ড হয়ে উঠেছিল। ফেরের ‘ভিনগ্রহের খেলোয়াড়’ মন্তব্য সেই ব্যতিক্রমী যুগের প্রতি তাঁর দৃষ্টিভঙ্গিটিকে তুলে ধরেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

উখিয়ায় রোহিঙ্গা দুই ভাইকে দেশীয় অস্ত্র ও গুলিসহ গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৪৬ পি.এম


উখিয়ায় রোহিঙ্গা দুই ভাইকে দেশীয় অস্ত্র ও গুলিসহ গ্রেপ্তার

কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) দেশে তৈরি ওয়ান শুটারগান, চার রাউন্ড গুলি এবং দুটি শটগানের কার্তুজসহ দুই রোহিঙ্গা ভাইকে গ্রেপ্তার করেছে।

সোমবার ভোরে উখিয়ার ২ নম্বর (ওয়েস্ট) রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সি-০৫ ব্লকে এই অভিযানটি চালানো হয়।

গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন ওই ক্যাম্পের বাসিন্দা সৈয়দ হোসেনের ছেলে মো. ফয়সাল (২১) এবং তার বড় ভাই রবিউল আলম (২৩)।

এপিবিএন সূত্রে জানা গেছে, গোপন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে দুই ভাইয়ের নিজস্ব বসতঘরে (শেল্টার) তল্লাশি করা হয়। এ সময় তাদের হেফাজত থেকে দেশে তৈরি দুটি ওয়ান শুটারগান, চার রাউন্ড গুলি ও দুটি শটগানের কার্তুজ উদ্ধার করা হয়। পরে তাদের আটক করে উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ এপিবিএন হেফাজতে নেওয়া হয়।

এ বিষয়ে ১৪ এপিবিএনের অধিনায়ক (অতিরিক্ত ডিআইজি) মোহাম্মদ সিরাজ আমীন জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ক্যাম্পে যেকোনো ধরনের অপরাধ দমনে এপিবিএন সদস্যরা সর্বোচ্চ তৎপর রয়েছেন। অভিযানে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভারতীয় দলে ফিরতে না পারার হতাশায় শামি: ‘আমি তো ভালো বোলার নই’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

সোমবার, ১২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৪৬ পি.এম


ভারতীয় দলে ফিরতে না পারার হতাশায় শামি: ‘আমি তো ভালো বোলার নই’

ভুবনেশ্বর কুমার ৩৬ বছর বয়সে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নতুন অধ্যায় শুরু করছেন। প্রায় চার বছর পর ঘরোয়া ক্রিকেটে দারুণ পারফর্ম করার পর তিনি ভারত জাতীয় দলে ফিরেছেন।

হিন্দুস্তান টাইমসের সাংবাদিক মোহাম্মদ শামিকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে জিজ্ঞেস করেছিলেন, ‘আপনিও তো ঘরোয়া ক্রিকেটে পারফর্ম করছেন...!’ প্রশ্নটি শেষ হওয়ার আগেই শামি দ্রুত উত্তর দেন, ‘আরে না না, আমি তো ভালো বোলার নই।’

এটি বলার অপেক্ষা রাখে না যে, ভারতীয় দলে ফিরতে না পারার হতাশা, কষ্ট, অভিমান, হতাশা এবং ক্ষোভ নিয়ে শামি এই মন্তব্য করেছেন। ক্রিকেটবিশ্ব জানে তিনি কেমন বোলার। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে তাকে দূরে রাখা হয়েছে।

তবে ঘরোয়া ক্রিকেটে শামির তেজ ঠিকই ফুটে উঠছে। ‘ভালো বোলার নই’ বলার দিনেও তিনি দারুণ বোলিং করেছেন। রঞ্জি ট্রফির নতুন মৌসুমের প্রথম দিনেই পশ্চিমবঙ্গের হয়ে ৪ উইকেট নিয়েছেন।

গত মৌসুমে রঞ্জি ট্রফিতে শামির পারফরম্যান্সও ছিল দুর্দান্ত। ১৬.৭২ গড়ে ৭ ম্যাচে ৩৭ উইকেট নিয়ে আসরের দ্বিতীয় সেরা পেসার ছিলেন তিনি। অন্যান্য ঘরোয়া টুর্নামেন্টেও তার পারফরম্যান্স ছিল ভালো। কিন্তু ভারতীয় দলের জন্য তার দরজা বন্ধ রাখা হয়েছে।

শামি সর্বশেষ টেস্ট খেলেছেন ২০২৩ সালের জুনে, বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে। ওই বছরের ওয়ানডে বিশ্বকাপে তিনি সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি ছিলেন। পরে একটি বড় চোট তার ক্যারিয়ারে বিশাল ধাক্কা হয়ে আসে, যা এখনো তাকে প্রভাবিত করছে।

প্রায় দেড় বছর পর তিনি ভারতীয় দলে ফেরেন। চ্যাম্পিয়নস ট্রফির প্রথম ম্যাচে ৫ উইকেট শিকার করেন, সেমিফাইনালে ৩টি উইকেট নেন। দলের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পেছনে তার বড় অবদান ছিল। কিন্তু চ্যাম্পিয়নস ট্রফির পর তিনি বাদ পড়েন এবং আর ফিরতে পারেননি।

শামির ফিটনেস নিয়ে বিভিন্ন সময়ে সংশয়ের আলোচনা উঠেছে। তবে দিল্লির বিপক্ষে ৪ উইকেট নিয়ে রঞ্জি মৌসুম শুরু করার পর ফিটনেস নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তার পাল্টা তির ছিল, ‘আপনি তো দেখছেন আমার ফিটনেস। লিখে দিন, আপনারা তো দেখছেনই! আমার কথায় কি হবে? আমি মাঠে আছি, খেলছি। যেখানে সম্ভব হয়, খেলে যাচ্ছি।’

শামির হতাশার মধ্যেও ভুবনেশ্বরের দলে ফেরাকে আলোর রেখা বলা যায়। সামনে নিউজিল্যান্ড সফরে ভারতের টি-টোয়েন্টি দলে ৩৬ বছর বয়সী পেসারকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। গত আইপিএলে ২৮ উইকেট নিয়ে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর শিরোপা জয়ে তার বড় অবদান ছিল। আগের আসরে তিনি ১৭ উইকেট নিয়েছিলেন।

শামির মতে, ভুবনেশ্বরকে আরো আগেই দলে নেওয়া উচিত ছিল। ‘ভুবিকে আরো অনেক আগেই দলে নেওয়া উচিত ছিল। সে তো কারো সঙ্গে এসব নিয়ে কথা বলে না। সে ওরকম নয়। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, এরকম প্রতিভাবান একজনকে এত লম্বা সময় দল থেকে দূরে রাখতে হবে। তার জন্য ভালো হয়েছে। আইপিএলে সে টানা পারফর্ম করে গেছে। এটা তার প্রাপ্য ছিল।’

ভুবনেশ্বরের চেয়ে সাত মাসের ছোট শামি নিজেও পারফর্ম করে চলেছেন। তিনি যৌক্তিক প্রশ্নটি তুলে ধরেন, ‘ভুবি অনেক দিন পর দলে ফিরেছে। কেউ যদি পরিশ্রম করে যায় এবং সম্ভাবনা থাকে, কেন তাকে সুযোগ দেওয়া হবে না?’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%