০৫:৫৪ পি.এম
সিলেটের চা বাগানের নারী শ্রমিকদের ফ্যামিলি কার্ড পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মন্তব্য করেছেন এবং বলেছেন যে তিনি নিজের দেওয়া কথা রাখতে পেরেছেন।
বিশেষ করে বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল ভিক্টোরিয়া কলেজ মাঠে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের উদ্বোধন উপলক্ষ্যে আয়োজিত জনসভায় তিনি এ কথা বলেন।
গত ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আগে সিলেট অঞ্চলে ভোট প্রচার করতে গিয়ে সব নারী চা শ্রমিককে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সে কথা মনে করে বক্তব্যের শুরুতেই তিনি বলেছেন, ‘আমি আমার কথা আজকে রাখতে পেরেছি। চা-বাগানের যারা নারী শ্রমিক আছেন, তাদের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিয়েছি। হ্যাঁ, হয়তো আজকে সবাইকে দিতে পারিনি, কিন্তু ইনশাআল্লাহ আগামী এক বছরের মধ্যে আমরা প্রায় সকল নারী শ্রমিকের কাছে, চা-বাগানের সকলের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেবো।’
আরও পড়ুন: মন্ত্রিসভার যে কাউকে পদত্যাগ করতে বলার ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীর: অ্যাটর্নি জেনারেল
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর তরফ থেকে ১০টি পরিবারের নারী প্রধানের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেওয়া হয়। পরে তিনি একটি কম্পিউটারের বোতাম চাপার মাধ্যমে ফ্যামিলি কার্ড তৃতীয় পর্যায় কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। সেইসঙ্গে চা শ্রমিক আবাসন সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে শ্রমিকদের প্রত্যেককে ২ লক্ষ টাকা করে অনুদান দেওয়া, চা শ্রমিকদের সন্তানদের জন্য বৃত্তি প্রদান এবং প্রতিবন্ধীদের জন্য আর্থিক অনুদানের চেক প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, পুরুষদের পাশাপাশি নারীদের স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য সাহায্য করা না গেলে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। আমাদের লক্ষ্য স্পষ্ট—বাংলাদেশের ভাগ্যের পরিবর্তন করা, বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা। এই কারণে আজ শুধু ফ্যামিলি কার্ড নয়, চা-বাগানের শ্রমিক নারী শ্রমিকদের ৫০ জনের ঘর বানানোর জন্য ২ লক্ষ টাকা দেওয়া হয়েছে। চা-শ্রমিকরা কঠিন পরিস্থিতিতে দিন কাটান, আমরা তাদের একটু ভালো অবস্থায় আনতে চাই। তাই এই ২ লক্ষ টাকা দেওয়া হয়েছে।
এছাড়াও চা-শ্রমিকদের সন্তানদের লেখাপড়ার জন্য বিশেষ বৃত্তির ব্যবস্থা করা হবে। অনুষ্ঠানে কয়েকজন প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। দেশের কৃষকদের সমর্থনে বাজেট অর্থ বরাদ্দ রাখার কথা এবং আগামী এক বছরে দেশের ৪০ লাখ কৃষকের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ প্রদান করার পরিকল্পনাও প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন।
তারেক রহমান বলেছেন, বাংলাদেশ হচ্ছে আমাদের প্রথম ঠিকানা, বাংলাদেশই হচ্ছে আমাদের শেষ ঠিকানা। আমাদের একটাই কাজ, বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটানো। আসুন, এই দেশকে আমাদের নিজেরা গড়তে হবে। আমাদের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে শ্রমিকের হাতে রূপান্তরিত করতে হবে। তাহলেই আমরা এই বাংলাদেশের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে সক্ষম হব।
আরও পড়ুন: আমি হাসপাতালের প্রতিমন্ত্রী নই: স্বাস্থ্যের প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত
সমাজ কল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী এজেডএম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে জনসভায় সমাজ কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফরজানা শারমিন, মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান চৌধুরী, সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্তি সচিব কামাল উদ্দিন বিশ্বাস এবং ফ্যামিলি কার্ড পাওয়া নারীদের মধ্যে শিউলী রানী দাস ও ওয়াজেদা বেগমসহ অন্যান্যরা বক্তব্য দেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন