১০:১১ পি.এম
এক পেশায় দিনমজুর মহিউদ্দিন, যিনি রাজনীতির জটিল সমীকরণ তেমন বোঝেন না।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির শরিক দল গণঅধিকার, এনসিপির বিপক্ষে ট্রাক মার্কায় এজেন্ট হওয়ার অপরাধে হামলার শিকার হন। হাসনাত আব্দুল্লাহর অনুসারীরা হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা করে তার ওপর। অভিযোগ রয়েছে যে মারধর করে টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। কালের কণ্ঠের অনুসন্ধানী টিমের প্রতিবেদনে এসব চিত্র উঠে এসেছে।
মহিউদ্দিন হামলার শিকার হয়ে জানান, জাতীয় নির্বাচনের দিন তিনি তার আত্মীয়ের কাছে ট্রাক মার্কায় ভোট চেয়েছিলেন।
আরও পড়ুন: আজ বাংলাদেশে প্রথম নারী চিকিৎসক জোহরা বেগম কাজীর মৃত্যুবার্ষিকী
এ সময় এনসিপির নেতারা শাপলা কলিতে ভোট দিতে জোর করতে থাকেন ভোটারদের। পরে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে মহিউদ্দিনের সঙ্গে কথা কাটাকাটি শুরু হয় হাসনাত আব্দুল্লাহর সমর্থিত নেতাকর্মীদের। নির্বাচনের পরের দিন রাতে স্থানীয় বাজারে এনসিপি নেতা আল-আমিনের নেতৃত্বে ২০-৩০ জনের একটি দল মহিউদ্দিনকে হত্যার জন্য তার ওপর হামলা করে। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তিনি প্রাণে রক্ষা পান। বিষয়টি ঘটে যেতেই তার কাছে থাকা সন্তানের চিকিৎসার জন্য ১১ হাজার টাকা লুট করে নেয় এনসিপি নেতা আল-আমিন ও তার লোকজন।
মহিউদ্দিনের স্ত্রী হ্যাপি বেগম জানান, হামলাকারীরা বিএনপির রাজনীতি করার অভিযোগে তার স্বামীকে হত্যার চেষ্টা করেছে। তিনি বলেন, ‘১৫ থেকে ২০ জনের ওপরে হবে। তারা ব্যারিকেড দিয়ে ৩ থেকে ৪ জন শুধু মারছে। আমার হাজবেন্ডের মাথায় গাই দিছে।
আমার স্বামী বলছেন ভাই, আমি কিছু করি নাই। তারা কোনো কিছু শুনছে না, শুধু মারছে। তাকে যারা মারছে, তাদের বিচার চাই।’
হ্যাপি বেগম আরও বলেন, ‘বিএনপিকে তারা শেষ কইরা দিবো। তাদের এতটুকুই ক্ষোভ। তারা বিএনপি চায় না। তারা চায় নতুন কিছু।’
আরও পড়ুন: পদ্মা সেতু হয়ে রূপপুরে ইউরেনিয়াম পরিবহন, শ্রমিক আন্দোলনের শঙ্কা
হামলার শিকার মহিউদ্দিনের বড় ভাই জানান, মামলা করতে গেলে সেটি না নিয়ে উল্টো থানা থেকে বলা হয় আগুন নিয়ে খেলবেন না। এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, মুখে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে কথা বললেও দেবীদ্বারে আওয়ামী পুনর্বাসনে সরাসরি কাজ করেন সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ।
তিনি বলেন, ‘এক হাসনাত আব্দুল্লাহ দেবীদ্বারে আওয়ামী লীগ পুনর্বাসন করছেন।’
থানায় গিয়ে মামলা করতে ব্যর্থ হওয়ায় নিরাপত্তার স্বার্থে হামলাকারীদের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা করেন ভুক্তভোগী মহিউদ্দিনের বাবা মনু মিঞা। তিনি অভিযোগ করেন, সেখানে হুমকি দেন হাসনাতের পালিত সন্ত্রাসী বাহিনী।
মনু মিঞা বলেন, ‘যেটা হওয়ার হয়ে গেছে, আমরা এখন মিলেমিশে চলতে চাই। কিন্তু তারা একেকজন একেক রকম কথা বলে। তাদের ভাষাই আলাদা। তারা হুমকি দেয় আমরা এনসিপির লোক, দেইখ্যা দিমু। হাসনাত আব্দুল্লাহর লোক এনসিপি করছে। তারা এখনো মানুষের ওপর জোর-জুলুম করছে। আমরা হাসনাতের বিচার চাই।’
আরও পড়ুন: ত্রিশাল ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ২০ বছরেও নিয়োগ হয়নি জনবল
এদিকে ঘটনার সত্যতা জানতে অভিযুক্ত ও হাসনাত আব্দুল্লাহর অনুসারী আল-আমিন মোল্লাকে ফোন দিলে তিনি দাবি করেন, এ ঘটনার সঙ্গে তিনি জড়িত নন। তিনি বললেন, ‘কে বা কারা মহিউদ্দিনকে মেরেছে তাদেরও নাকি তিনি চেনেন না।’
তিনি মন্তব্য করেন, ‘মারামারিতে ছোট ছেলেপুলে ছিল। টাকা নিছে কি নিছে না, আমি জানি না।’
এ প্রসঙ্গে দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামানের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বক্তব্য দেন, ঘটনার বিষয়ে তিনি জানেন না এবং এ বিষয়ে কোনো মামলা করতে আসেনি কেউ। নির্বাচনের দিন নানা কাজে ব্যস্ত ছিলেন তিনি। তিনি বলেন, কেউ মামলা করতে আসছিল বলে আমার মনে পড়ে না।
আরও পড়ুন: জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে গাইবান্ধার স্মৃতি খাতুনের সাফল্য
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন