বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৩:৩১ এম
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগদান উপলক্ষে নিউইয়র্কে অবস্থানরত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে জাতিসংঘ মহাসচিবের মিয়ানমার বিষয়ক বিশেষ দূত জুলি বিশপের সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কের হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল হোটেলে প্রধানমন্ত্রীর আবাসস্থলে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
সাক্ষাৎকালে রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান এবং এ সমস্যা সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রোহিঙ্গাদের সম্মানজনক প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা কামনা করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে যেকোনো সময়ের তুলনায় সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। ইরান নিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তির সম্ভাবনা বিদ্যমান।
নিউইয়র্কে মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প এই তথ্য জানান। জাতিসংঘে উপস্থিত প্রতিনিধিদের স্বাগত জানিয়ে এবং যুক্তরাষ্ট্রের পুনরুদ্ধার হওয়া শক্তির প্রশংসা করে তিনি তার বক্তব্য শুরু করেন। ট্রাম্প দাবি করেন, অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্র আজ আরও শক্তিশালী।
ট্রাম্প বলেন, ‘আমেরিকা আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে এবং আমাদের দেশ আজ আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে আরও বেশি শক্তিশালী।’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ‘ইরানের সঙ্গে কি এমন কোনো চুক্তি হবে, যা তাদের ঘুরে দাঁড়াতে এবং আগের চেয়ে আরও ভালো একটি দেশ হিসেবে গড়ে উঠতে সাহায্য করবে, নাকি আমি ইসলামিক রিপাবলিকে সম্পূর্ণরূপে গুঁড়িয়ে দেব?’
তিনি যোগ করেন, ‘আমি কি তাদের নরকে ঠেলে দেব, যেখান থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর আর কোনো সুযোগই থাকবে না? তবে আমার বিশ্বাস, নির্বাচনের পরপরই আমরা একটি চুক্তিতে পৌঁছাব, কারণ তা না করাটা মোটেই বুদ্ধিমানের কাজ হবে না।’
ট্রাম্প বলেন, আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলের জন্য ইরান অপেক্ষা করছে। তিনি বলেন, ‘তারা যা বুঝতে পারছে না তা হলো, আমি এই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছি না।’ তিনি আরও জানান, ইতোমধ্যেই বিপুল ব্যবধানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তিনি জয়ী হয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সৌদি আরবের ৯৬তম জাতীয় দিবস উপলক্ষে ঢাকায় সৌদি আরবের দূতাবাস আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর বনানীর শেরাটন ঢাকার গ্র্যান্ড বলরুমে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ডা. শফিকুর রহমান সৌদি আরবের ৯৬তম জাতীয় দিবস উপলক্ষে সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদের প্রতি অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়ে একটি চিঠি বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফর বিন আবিয়াহর হাতে তুলে দেন।
চিঠিতে ডা. শফিকুর রহমান বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের জনগণের পক্ষ থেকে সৌদি বাদশাহ, রাজপরিবার, সৌদি সরকার এবং ভ্রাতৃপ্রতিম সৌদি জনগণের প্রতি আন্তরিক অভিনন্দন ও উষ্ণ শুভেচ্ছা জানান।
একইসাথে, চিঠিতে সৌদি আরবের প্রতি বিশ্বের মুসলমানদের গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার বিষয়টি তুলে ধরে মক্কা আল-মুকাররমার মসজিদুল হারাম এবং মদিনা আল-মুনাওয়ারার মসজিদে নববী (সা.)-এর সেবা ও ব্যবস্থাপনায় সৌদি আরবের মহান দায়িত্বের কথা উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত মুসলমানদের হজ ও ওমরাহ পালনে সৌদি আরবের সহযোগিতা ও সেবার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়।
এতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের সম্পর্ক প্রচলিত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের গণ্ডি ছাড়িয়ে গভীর ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক ও জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্কের ওপর প্রতিষ্ঠিত। সৌদি আরবে বসবাসরত বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি দুই দেশের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ মানবিক সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করছেন বলেও উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি, দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।
জামায়াতের আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা এ সময় বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ও অনুষ্ঠানে আগত অতিথিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মাসুম, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা মোহাম্মদ আবদুল হালিম, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এবং বিরোধীদলীয় নেতার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির সদস্য আলী আহমাদ মাবরুর।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাইয়ের পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম মন্তব্য করেছেন যে, বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর দেশজুড়ে খুন, সন্ত্রাস এবং বিদেশে অর্থ পাচারসহ বিভিন্ন অপরাধ কর্মকাণ্ড অব্যাহত রয়েছে।
তিনি মঙ্গলবার বিকালে শহরের চাষাঢ়ায় শহীদ মিনারে অনুষ্ঠিত এক সমাবেশে এই বক্তব্য দেন।
সমাবেশটি ইসলামী যুব আন্দোলনের নারায়ণগঞ্জ বন্দর থানার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহিদ আল আমিন বুলবুল হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে আয়োজন করা হয়।
রেজাউল করীম বলেন, "চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর দেশবাসী সুন্দর বাংলাদেশ পাওয়ার আশা করেছিল; কিন্তু বিএনপি রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসার পর বাস্তবে তা হয়নি।" তিনি আরও বলেন, "এখনো বিগত সরকারের আমলের ধারাবাহিকতাই চলছে।" তিনি সকলকে সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিবাজদের প্রতিহত করার জন্য ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানান। তিনি সতর্ক করেন যে, সরকার যদি কোন ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি পালন করা হবে।
তিনি জ্বালানি তেল ও গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় যে সংকট সৃষ্টি হয়েছে, তা তুলে ধরে সরকারের কাছে জনবান্ধব সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানান।
শহীদ জাহিদ আল আমিন বুলবুলের হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচারের জোর দাবি জানান তিনি এবং অবিলম্বে সিফাত বাহিনীর জড়িতদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান করেন। ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশের দায়িত্বশীল বুলবুলের হত্যাকারীদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে ফাঁসিকাষ্ঠে ঝুলিয়ে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। "আমার ভাইয়ের বিচার আদায় না করে আমরা কেউ রাজপথ ত্যাগ করবো না।"
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, "শহীদ বুলবুলের রক্ত বৃথা যেতে দেওয়া হবে না এবং যতদিন পর্যন্ত হত্যাকারীদের যথাযথ বিচার নিশ্চিত না হবে, ততদিন আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।" তিনি সতর্ক করেন যে, সরকার যদি অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিতে কালক্ষেপণ বা টালবাহানা করে, তাহলে আরও কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, "সারা দেশে ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তাহীনতার জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে এর দায়ভার নিতে হবে।" তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে স্মরণ করিয়ে দেন যে, সংবিধান এবং আইন সংসদে কেবল চর্চা না করে, তা রাষ্ট্র যথাযথভাবে প্রয়োগ করতে হবে।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মুহাম্মদ নেছার উদ্দিন, এবং সভাপতিত্ব করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নারায়ণগঞ্জ মহানগরের সভাপতি মাওলানা মুহাম্মদ দ্বীন ইসলাম।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বার্ষিক অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক স্বীকৃতির জোর দাবি জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। বিশ্বজুড়ে শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখার মূল দায়িত্ব পালনে জাতিসংঘ চরমভাবে ব্যর্থ হচ্ছে বলে অভিযোগ করে তিনি প্রভাবশালী নিরাপত্তা পরিষদের ক্ষমতা কাঠামোর জরুরি ও আমূল সংস্কারের আহ্বান জানান।
সাধারণ পরিষদের মঞ্চে বিশ্বনেতাদের উদ্দেশ্যে এরদোয়ান বলেন, ৮১ বছর আগে যে লক্ষ্য ও আদর্শ নিয়ে জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, সংস্থাটি আজ সেই উদ্দেশ্য পূরণে পুরোপুরি ব্যর্থ এবং কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে। নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য দেশগুলোর একচ্ছত্র আধিপত্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘আমাদের এটি মেনে নেওয়া উচিত, ১৯০টিরও বেশি দেশের সার্বিক ইচ্ছাকে মাত্র ৫টি দেশের খেয়ালখুশির ওপর জিম্মি করে রাখার যে ব্যবস্থা, তা কোনোভাবেই ন্যায়সংগত হতে পারে না। এই ব্যবস্থা বিশ্বের মানুষের পূর্ণ আস্থা অর্জনেও পুরোপুরি ব্যর্থ।’ নিরাপত্তা পরিষদকে আরও বিস্তৃত, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সমতাভিত্তিক সংস্থায় রূপান্তরের জন্য তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান।
যেসব দেশ এখন পর্যন্ত ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়নি, তাদের অবস্থান অবিলম্বে পুনর্বিবেচনা করার অনুরোধ জানান এরদোয়ান। একই সঙ্গে চলমান রক্তক্ষয় ও সংঘাত বন্ধে ইসরায়েলের ওপর সর্বোচ্চ বৈশ্বিক চাপ প্রয়োগের ওপর জোর দেন তিনি।
ন্যাটোভুক্ত দেশ হওয়া সত্ত্বেও গাজায় সামরিক অভিযানের শুরু থেকেই ইসরায়েলের কঠোর সমালোচক হিসেবে ভূমিকা রেখে আসছে তুরস্ক। আঙ্কারার স্পষ্ট অভিযোগ, গাজায় পরিচালিত অভিযান স্পষ্টতই গণহত্যার শামিল এবং এর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক বিচার ও কঠোর নিষেধাজ্ঞা প্রয়োজন। তবে বরাবরের মতো শুরু থেকেই গণহত্যার এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে আসছে ইসরায়েল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ