বৃহস্পতিবার, ১০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৬:০৫ পি.এম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মাদকমুক্ত সমাজ গঠন, তরুণ ও যুবসমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে সুনামগঞ্জের মধ্যনগরে মাদকবিরোধী র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) উপজেলার বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের রৌহা এলাকায় আলোকবর্তিকা সামাজিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। ‘মাদককে না বলুন, সুস্থ সমাজ গড়ুন’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে আয়োজিত র্যালিটি বীর মুক্তিযোদ্ধা নুর ইসলাম উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয়ে এলাকার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে এসে শেষ হয়।
র্যালিতে স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সংগঠনের সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন। এ সময় অংশগ্রহণকারীরা মাদকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সচেতনতামূলক স্লোগান দেন এবং মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
র্যালি শেষে বীর মুক্তিযোদ্ধা নুর ইসলাম উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে আলোকবর্তিকা সামাজিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সভাপতি ও গলহা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক আব্দুল কাদির সভাপতিত্ব করেন। সভা সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ঝুটন মিয়া।
আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. স্বপন আহমেদ, রৌহা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক বিপ্লব তালুকদার, সংগঠনের সদস্য মোবারক মিয়া, শিক্ষক বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী, বিদ্যুৎ সরকার, সমীরন তালুকদার ও মোশাররফ হোসেনসহ শিক্ষক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
বক্তারা বলেন, মাদক শুধু একজন ব্যক্তির জীবনই ধ্বংস করে না; এর ক্ষতিকর প্রভাব পরিবার, সমাজ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ধ্বংস করে। মাদকের বিস্তার রোধে শুধু আইন প্রয়োগ নয়, প্রয়োজন সামাজিক সচেতনতা ও সম্মিলিত উদ্যোগ। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন, তরুণ সমাজ এবং সর্বস্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে মাদকের বিরুদ্ধে কাজ করতে হবে।
আয়োজকরা বলেন, আলোকবর্তিকা সামাজিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ভবিষ্যতেও মাদকবিরোধী জনসচেতনতামূলক কর্মসূচিসহ বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করবে। মাদকমুক্ত ও সুস্থ সমাজ গঠনে তারা এলাকাবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পূর্ব চীনের কিংদাও বন্দরে একটি বিদেশি পতাকাবাহী কার্গো জাহাজে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অন্তত ২০ জনের মৃত্যু ঘটেছে। বৃহস্পতিবার, চীনের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভির উদ্ধৃতি দিয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এই তথ্য প্রকাশ করেছে।
সিসিটিভির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ‘ওশান মেলোডি’ নামের জাহাজটিতে আগুন লাগার সময় মোট ৪২ জন কর্মী উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে ১৭ জনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া সম্ভব হয়েছে।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা ১৫ মিনিটের দিকে কিংদাও শহরের একটি শিপইয়ার্ডে জাহাজটির রক্ষণাবেক্ষণের কাজ চলাকালীন অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত ঘটে।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং উদ্ধারকাজে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াংও জাহাজে আটকে পড়াদের উদ্ধারের জন্য দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।
সরকারি গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে জাহাজটিকে ‘ওশান মেলোডি’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই জাহাজটি লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী এবং এর দৈর্ঘ্য প্রায় ১৯০ মিটার। ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, এটি ৩১ আগস্ট কিংদাও বন্দরে পৌঁছেছিল। সূত্র: বিবিসি, এএফপি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
‘শিক্ষক-শিক্ষার্থী’ অনুপাতকে আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষার পরিবেশ ও একাডেমিক মানদণ্ড মূল্যায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে গণ্য করা হয়। তবে, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) এই সূচকে দেশের অন্যান্য স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগ ও ইনস্টিটিউটভেদে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাতের মধ্যে বড় ধরনের পার্থক্য লক্ষ্য করা গেছে। ৬১টি বিভাগ ও ইনস্টিটিউটের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ৩৪টিতে একজন শিক্ষকের বিপরীতে শিক্ষার্থী ২৫ জনের বেশি রয়েছে।
শিক্ষার পরিবেশ মূল্যায়নের ক্ষেত্রে কিউএস ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র্যাঙ্কিংস ও টাইমস হায়ার এডুকেশন আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় র্যাঙ্কিংয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাতকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচনা করে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের বার্ষিক প্রতিবেদন ও উচ্চশিক্ষাসংক্রান্ত নীতিমালা পর্যালোচনায় দেখা যায়, বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর কাম্য অনুপাত প্রতি ১৫ জন শিক্ষার্থীর জন্য ১ জন শিক্ষক এবং সর্বোচ্চ সহনীয় সীমা প্রতি ২০ জন শিক্ষার্থীর জন্য ১ জন শিক্ষক হিসেবে ধরা হয়। সেই অনুযায়ী, রাবির ৩৪টি বিভাগ ও ইনস্টিটিউটে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাত সহনীয় সীমার চেয়েও বেশি।
এদিকে, ইউজিসির ২০২৫ সালে প্রকাশিত ৫০তম বার্ষিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, তিন স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতি ১৫ জন শিক্ষার্থীর জন্য ১ জন শিক্ষক, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতি ১৮ জন শিক্ষার্থীর জন্য ১ জন এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতি ১৮ জন শিক্ষার্থীর জন্য ১ জন শিক্ষক রয়েছেন। এর তুলনায়, রাবিতে প্রতি ২১ জন শিক্ষার্থীর জন্য ১ জন শিক্ষক রয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, রাবিতে বর্তমানে ৩০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী এবং প্রায় ১ হাজার ২০০ শিক্ষক রয়েছেন। এ হিসাবে, বর্তমান শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত দাঁড়ায় প্রায় প্রতি ২৫ জন শিক্ষার্থীর জন্য ১ জন শিক্ষক। অর্থাৎ, একজন শিক্ষককে গড়ে প্রায় ২৫ জন শিক্ষার্থীকে পাঠদান করতে হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সর্বশেষ পাঁচটি বার্ষিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণে দেখা যায়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাতের কিছুটা উন্নতি ঘটেছে, তবে তা ধারাবাহিক নয়। ৪৬তম প্রতিবেদনে প্রতি ৩৩ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে একজন শিক্ষক থাকলেও ৪৭তম প্রতিবেদনে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩৫ জনে। এরপর ৪৮তম প্রতিবেদনে ২৪, ৪৯তম প্রতিবেদনে ২০ এবং সর্বশেষ ৫০তম প্রতিবেদনে প্রতি ২১ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে একজন শিক্ষক ছিলেন।
৩৪ বিভাগে নেই আন্তর্জাতিক মান
বিভাগভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাতে সবচেয়ে নাজুক অবস্থায় রয়েছে মাইক্রোবায়োলজি বিভাগ। সেখানে প্রতি ৫৬ জন শিক্ষার্থীর জন্য ১ জন শিক্ষক। এরপর ব্যাংকিং অ্যান্ড ইনস্যুরেন্সে প্রতি ৪৬ জনের জন্য ১ জন, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্টে প্রতি ৪১ জনের জন্য ১ জন রয়েছেন।
রাষ্ট্রবিজ্ঞানে প্রতি ৪০ জনের জন্য ১ জন শিক্ষক, সংস্কৃত বিভাগে প্রতি ৩৮ জনের জন্য ১ জন, চিত্রকলা, প্রাচ্যকলা ও ছাপচিত্র এবং অর্থনীতি বিভাগে প্রতি ৩৫ জনের জন্য ১ জন, আইবিএতে প্রতি ৩৪ জনের জন্য ১ জন এবং চিকিৎসা মনোবিজ্ঞানে প্রতি ৩৩ জনের জন্য ১ জন শিক্ষক রয়েছেন।
মার্কেটিং বিভাগে প্রতি ৩২ জনের জন্য ১ জন, ইতিহাসে প্রতি ৩১ জনের জন্য ১ জন, আইন ও ভূমি প্রশাসন, শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট এবং ইংরেজি বিভাগে প্রতি ৩০ জনের জন্য ১ জন শিক্ষক রয়েছেন।
দর্শনে প্রতি ২৯ জনের জন্য ১ জন, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতিতে প্রতি ২৮ জনের জন্য ১ জন, ইনফরমেশন সায়েন্স অ্যান্ড লাইব্রেরি ম্যানেজমেন্ট, ইসলামিক স্টাডিজ ও ফাইন্যান্সে প্রতি ২৭ জনের জন্য ১ জন এবং আইন ও ফলিত গণিতে প্রতি ২৬ জনের জন্য ১ জন শিক্ষক রয়েছেন।
সমাজবিজ্ঞান, গ্রাফিক ডিজাইন, কারুশিল্প ও শিল্পকলার ইতিহাস এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে প্রতি ২৫ জনের জন্য ১ জন; মৃৎশিল্প ও ভাস্কর্য, ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ এবং ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যায় প্রতি ২৪ জনের জন্য ১ জন, ভূ-তত্ত্ব ও খনিবিদ্যা এবং নৃবিজ্ঞানে প্রতি ২৩ জনের জন্য ১ জন শিক্ষক রয়েছেন।
ফারসি ও ভাষা সাহিত্যে প্রতি ২২ জনের জন্য ১ জন এবং শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞানে প্রতি ২১ জনের জন্য ১ জন শিক্ষক রয়েছেন। একই অনুপাতে বাংলা, প্রাণিবিদ্যা এবং ফলিত রসায়ন ও রসায়ন প্রকৌশল বিভাগেও প্রতি ২১ জন শিক্ষার্থীর জন্য ১ জন শিক্ষক রয়েছেন।
অনুপাতে এগিয়ে ১৭ বিভাগ
অন্যদিকে, ১৭টি বিভাগ ও ইনস্টিটিউটে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাত কাম্য সীমার মধ্যে রয়েছে। সবচেয়ে ভালো অবস্থানে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগে প্রতি ৭ জন শিক্ষার্থীর জন্য ১ জন শিক্ষক এবং প্রাণ রসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগে প্রতি ৮ জনের জন্য ১ জন শিক্ষক রয়েছেন।
নাট্যকলায় প্রতি ৯ জনের জন্য ১ জন, ফার্মেসিতে প্রতি ১০ জনের জন্য ১ জন, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং ও ভেটেরিনারি অ্যান্ড এনিমেল সায়েন্সেসে প্রতি ১১ জনের জন্য ১ জন।
কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ও পদার্থবিজ্ঞানে প্রতি ১২ জনের জন্য ১ জন এবং ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে প্রতি ১৩ জনের জন্য ১ জন শিক্ষক রয়েছেন।
পপুলেশন সায়েন্স অ্যান্ড হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট, ক্রপ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি, রসায়ন ও ফিশারিজে প্রতি ১৪ জনের জন্য ১ জন এবং সমাজকর্ম, উদ্ভিদবিজ্ঞান, লোক প্রশাসন ও গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে প্রতি ১৫ জন শিক্ষার্থীর জন্য ১ জন শিক্ষক রয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেলের (আইকিউএসি) পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. আবু রেজা মন্তব্য করেন, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাত শিক্ষার মান ও পাঠদানের ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলে। অনুপাত ঠিক না থাকলে একজন শিক্ষকের ওপর শিক্ষার্থীর চাপ বৃদ্ধি পায়। ফলে পর্যাপ্তসংখ্যক শিক্ষার্থীকে কার্যকরভাবে পাঠদান করা কঠিন হয়ে পড়ে এবং শিক্ষার মানে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। একটি বিভাগে যদি শিক্ষার্থীসংখ্যা বেশি থাকে কিন্তু শিক্ষক কয়েকজন থাকেন, তাহলে প্রত্যেক শিক্ষকের ওপর অতিরিক্ত একাডেমিক চাপ তৈরি হয়। এ অবস্থায় মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা কঠিন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সভাপতি অধ্যাপক ড. আকতার বানু বলেন, শিক্ষার মানের ক্ষেত্রে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাতের প্রভাব অত্যন্ত বেশি। ক্লাসে শিক্ষার্থীর সংখ্যা যত বেশি হয়, একজন শিক্ষকের পক্ষে পুরো শ্রেণিকক্ষ নিয়ন্ত্রণ করা এবং প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কাছে পাঠটি যথাযথভাবে পৌঁছে দেওয়া তত কঠিন হয়ে পড়ে। কারণ সব শিক্ষার্থী একইভাবে বা একই গতিতে বিষয় বুঝতে পারে না। কারও দ্রুত বোঝার সক্ষমতা থাকে, আবার কারও বেশি সময় প্রয়োজন হয়। শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাত কম থাকলে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর প্রয়োজন ও সমস্যাকে আলাদাভাবে গুরুত্ব দিয়ে মোকাবিলা করা সম্ভব হয়।
তিনি আরও বলেন, আমাদের দেশে জনসংখ্যা অনেক বেশি, সে তুলনায় শিক্ষকসংখ্যা কম। একইসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থী ভর্তির সংখ্যাও বেশি। ফলে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাত কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে রাখা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। দেশের অতিরিক্ত জনসংখ্যার প্রভাব শিক্ষা থেকে শুরু করে জীবনের প্রায় সব ক্ষেত্রেই পড়ছে। শিক্ষার্থীর সংখ্যা ও শিক্ষকের সংখ্যার মধ্যে একটি ভারসাম্য তৈরি করা খুবই জরুরি।
সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল আলিম জানান, রাবিতে দীর্ঘদিন শিক্ষক নিয়োগ বন্ধ থাকায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাতের মধ্যে বড় ধরনের ঘাটতি সৃষ্টি হয়েছে। ২০১৮ থেকে প্রায় ২০২৪ সাল পর্যন্ত কয়েক বছর নিয়মিত শিক্ষক নিয়োগ না হওয়ায় এ অনুপাত আরও বেড়ে গেছে। অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় রাবিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাত কিছুটা বেশি। দীর্ঘ সময় নিয়োগ বন্ধ থাকায় পরিস্থিতি আরও প্রকট হয়েছে।
আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাতের বিষয়ে তিনি বলেন, "আমরা সব ক্ষেত্রেই আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখার চেষ্টা করছি। শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাতও এর একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক। কাঙ্ক্ষিত আন্তর্জাতিক মানে পৌঁছাতে না পারা অবশ্যই আমাদের জন্য একটি নেতিবাচক দিক। শিক্ষকসংকট কমিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাত উন্নত করার বিষয়টি আমাদের বিবেচনায় রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন ২০৩০ সালের জাতীয় আদমশুমারি বা সেনসাস থেকে অবৈধ অভিবাসীদের বাদ দেওয়ার প্রস্তাবটি ট্রাম্প প্রশাসন উত্থাপন করেছে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) মার্কিন সেনসাস ব্যুরোর তরফ থেকে প্রকাশিত এই নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, ভবিষ্যতে আদমশুমারিতে শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্রের বৈধ নাগরিক এবং স্থায়ী বাসিন্দাদের (Permanent Residents) গণনা করা হবে।
এর ফলে, যারা অবৈধভাবে দেশটিতে বসবাস করছেন বা বৈধ উপায়ে সাময়িকভাবে অবস্থান করছেন, তারা এই গণনার আওতার বাইরে থাকবেন। তাছাড়া, ১৭৯০ সাল থেকে আদমশুমারিতে অন্তর্ভুক্ত জাতি বা বর্ণ (Race or Ethnicity) সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের অংশটিও বাদ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।
এই প্রস্তাবের বাস্তবায়নের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব এবং কেন্দ্রীয় তহবিল বরাদ্দে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মার্কিন সংবিধানের ১৪তম সংশোধনী অনুযায়ী, প্রতিটি রাজ্যের মোট জনসংখ্যার ভিত্তিতে কংগ্রেসের প্রতিনিধি সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়। যদি বিপুল সংখ্যক অভিবাসীকে গণনার বাইরে রাখা হয়, তবে অভিবাসী-অধ্যুষিত শহর ও অঙ্গরাজ্যগুলো তাদের ন্যায্য রাজনৈতিক আসন এবং কেন্দ্রীয় অনুদান থেকে বঞ্চিত হবে।
ডেমোগ্রাফি বিশেষজ্ঞ এবং নাগরিক অধিকারকর্মীরা সতর্ক করেছেন যে, এই পদক্ষেপটি চরম বৈষম্যমূলক এবং এর ফলে দেশের একটি ভুল চিত্র তৈরি হবে। সিভিল অ্যান্ড হিউম্যান রাইটসের লিডারশিপ কনফারেন্সের জ্যেষ্ঠ পরিচালক মিতা আনন্দ জানিয়েছেন, "ত্রুটিপূর্ণ তথ্যের ওপর ভিত্তি করে নীতি নির্ধারণ করা হলে তা দীর্ঘ মেয়াদে দেশের জন্য ক্ষতিকর হবে।"
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই আদমশুমারিতে অবৈধ অভিবাসীদের অন্তর্ভুক্তির বিরোধিতা করে আসছেন। তার প্রথম মেয়াদে ২০২০ সালের আদমশুমারিতে নাগরিকত্ব সংক্রান্ত প্রশ্ন যুক্ত করার চেষ্টা করা হয়েছিল, যা পরবর্তীতে সুপ্রিম কোর্ট আটকে দেয়।
গত ২ সেপ্টেম্বর মার্কিন বিচার বিভাগও এক সতর্কবার্তায় জানিয়েছে, যেসব অঙ্গরাজ্য তাদের অঞ্চলে অবস্থানরত অবৈধ অভিবাসীদের তথ্য ঠিকমতো রিপোর্ট করবে না, তারা কেন্দ্রীয় সরকারের বিলিয়ন ডলারের কল্যাণ তহবিল থেকে বঞ্চিত হতে পারে। বর্তমানে এই নতুন আদমশুমারি প্রস্তাবটি ৩০ দিনের জন্য জনসাধারণের মতামতের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ