ঢাকা শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

ইয়েমেনে সরকারি বাহিনীর অভিযানে ৪৪০ হুথি যোদ্ধা হতাহত


ইয়েমেনে সরকারি বাহিনীর অভিযানে ৪৪০ হুথি যোদ্ধা হতাহত

ইয়েমেনে চলমান সামরিক অভিযানে ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের অনুগত বাহিনী ৪৪০ জন যোদ্ধাকে নিষ্ক্রিয় করার দাবি করেছে। একই অভিযানে তারা ১৩২টি হুথি যানবাহন, সাঁজোয়া সামরিক ইউনিট ও ভারী অস্ত্র ধ্বংস অথবা অকার্যকর করার কথাও জানিয়েছে।

সরকার পরিচালিত সংবাদ সংস্থা সাবার একটি প্রতিবেদনে এসব তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘ডন অব ইয়েমেন’ নামের চলমান সামরিক অভিযানে সরকারি বাহিনী এ পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ৩০০টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে।

দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র কর্নেল মাজেদ আবদুল্লাহ আল-নাজিলি অভিযানের অগ্রগতির বিষয়ে তথ্য প্রদান করেছেন। তার দাবি, অভিযানে ৪৪০ জন হুথি যোদ্ধাকে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। এ ছাড়া, হুথিদের ব্যবহৃত ১৩২টি যানবাহন, সাঁজোয়া ইউনিট ও ভারী অস্ত্র ধ্বংস অথবা অকার্যকর করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস আজ

গত ৫ অক্টোবর ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার এই সামরিক অভিযান শুরু করে। রাজধানী সানা এবং হুথিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা অন্যান্য এলাকা পুনরুদ্ধার করাই অভিযানের মূল লক্ষ্য।

তবে, অভিযান শুরুর এক মাস পর যুদ্ধের ধরনে পরিবর্তন দেখা দিয়েছে। প্রাথমিক আক্রমণাত্মক তৎপরতার পর লড়াই এখন দীর্ঘস্থায়ী ক্ষয়যুদ্ধে রূপ নিয়েছে। অর্থাৎ, উভয় পক্ষের সামরিক সক্ষমতা ও জনবল ক্ষয় করার মাধ্যমে লড়াই এগিয়ে চলছে।

উল্লেখ্য, ইয়েমেনে দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমা সমর্থিত ‘সরকার ও হুথি বিদ্রোহীদের মধ্যে সংঘাত চলছে। দেশটির রাজধানী সানাসহ বিস্তীর্ণ এলাকা হুথিদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

রাজধানী সানাসহ ইয়েমেনের একটি বড় অংশ এবং প্রধান সরকারি অফিসগুলোর নিয়ন্ত্রণ মূলত হুথিদের হাতে রয়েছে। ২০১৪ সালের শেষের দিকে হুথিরা সানা দখল করার পর থেকে তারা সেখানে নিজস্ব প্রশাসনিক কাঠামো ও সরকার পরিচালনা করে আসছে। তবে, কূটনীতি এবং জাতিসংঘের দপ্তরে ইয়েমেনের বৈধ সরকার হিসেবে স্বীকৃতি ভোগ করে কথিত ‘সরকারি বাহিনী’, যাদের সঙ্গে হুথিদের সংঘাত চলছে।

আরও পড়ুন: জামায়াতে ইসলামীর ইসলাম অস্বীকার করলেন হেফাজতের আমির বাবুনগরী

এএম

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জলবায়ু হুমকি বাড়তে থাকায় কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে কপ৩১ সম্মেলন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১২:০৫ পি.এম


জলবায়ু হুমকি বাড়তে থাকায় কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে কপ৩১ সম্মেলন

ঢাকা, ৬ নভেম্বর, ২০২৬ : জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহ প্রভাব ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে, আগামী সোমবার তুরস্কে জাতিসংঘের জলবায়ুবিষয়ক সম্মেলন কপ৩১ শুরু হতে যাচ্ছে।

তবে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, জলবায়ু তহবিল এবং জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমানোর প্রশ্নে মতবিরোধের কারণে সম্মেলন থেকে বড় কোনো অগ্রগতির প্রত্যাশা কম।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলীয় শহর আনতালিয়ায় জাতিসংঘের দুই সপ্তাহব্যাপী এই জলবায়ু সম্মেলনে বিশ্বের প্রায় ২০০টি দেশের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি এক লাখের বেশি মানুষের অংশগ্রহণের কথা রয়েছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান কারণ জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমাতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনা কম বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অন্যদিকে, আর্থিক সংকটে থাকা উন্নত দেশগুলো জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি মোকাবিলায় উন্নয়নশীল দেশগুলোকে আরও বেশি অর্থ দিতে আগ্রহী নয়।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট জ্বালানি সংকট ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির চাপও সম্মেলনের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

জলবায়ু সম্মেলনে ফ্রান্সের সাবেক প্রধান আলোচক পল ওয়াটকিনসন মন্তব্য করেন, ‘এবারের সম্মেলন বিশ্বকে বদলে দেওয়ার মতো কোনো সম্মেলন হতে যাচ্ছে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘অনেক দিক থেকে এটি একটি মধ্যবর্তী পর্যায়ের সম্মেলন। তবে সম্মেলনটি গুরুত্বপূর্ণ এবং এখানে অগ্রগতি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।’

নেপালে ভয়াবহ বন্যা, ইউরোপে তীব্র তাপপ্রবাহ ও ইন্দোনেশিয়ায় বড় ধরনের দাবানলের পর এবারের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

এদিকে, চলতি বছরের শেষ দিকে এল নিনো নামের একটি শক্তিশালী জলবায়ু পরিস্থিতি সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এর ফলে চরম আবহাওয়ার ঘটনা আরও বাড়তে পারে। একই সঙ্গে ২০২৬ বা ২০২৭ সাল বিশ্বের ইতিহাসে সবচেয়ে উষ্ণ বছর হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

জলবায়ু পরিস্থিতির পূর্বাভাস ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। গত সেপ্টেম্বর মাসে জাতিসংঘ সতর্ক করে জানায়, শিল্পবিপ্লব-পূর্ব সময়ের তুলনায় বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির হার ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যাওয়ার পথে রয়েছে।

প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে তাপমাত্রা বৃদ্ধির যে সবচেয়ে উচ্চাভিলাষী সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল, এটি তার চেয়েও বেশি।

বাস্তবায়নই এবারের সম্মেলনের মূল লক্ষ্য।

এবারের কপ৩১ সম্মেলনের সভাপতিত্ব করছে তুরস্ক। তবে একটি বিশেষ সমঝোতার আওতায় সম্মেলনের আলোচনা প্রক্রিয়ায় নেতৃত্ব দিচ্ছে অস্ট্রেলিয়া।

সম্মেলনটি কোথায় অনুষ্ঠিত হবে, তা নিয়ে বিরোধের অবসান ঘটাতেই এই ব্যতিক্রমী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ার জলবায়ুবিষয়ক মন্ত্রী ক্রিস বোয়েন বলেন, ‘বিশ্বের জন্য অত্যন্ত কঠিন এক সময়ে কপ৩১ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রায় ২০০টি দেশের মধ্যে ঐকমত্যে পৌঁছানো সহজ হবে না। তবে জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় পারস্পরিক সহযোগিতার কোনো বিকল্প নেই।’

কপ৩১-এর সভাপতি ও তুরস্কের পরিবেশমন্ত্রী মুরাত কুরুম জানান, অতীতের জলবায়ু সম্মেলনগুলোতে নেওয়া অঙ্গীকারগুলোকে বাস্তব ফলাফলে রূপ দেওয়ার চেষ্টা করবে এবারের সম্মেলন।

আনুষ্ঠানিক আলোচনার পাশাপাশি তুরস্ক একটি ‘অ্যাকশন এজেন্ডা’ বা কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরছে। এতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা থেকে শুরু করে বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন বিষয়ে দেশগুলোকে স্বেচ্ছামূলক অঙ্গীকার গ্রহণে উৎসাহিত করা হবে। এসব অঙ্গীকার বাধ্যতামূলক নয়।

এই কর্মপরিকল্পনার অন্যতম প্রধান উদ্যোগ হলো বিদ্যুতায়ন বাড়ানো। বর্তমানে বিশ্বের মোট জ্বালানি চাহিদার প্রায় ২০ শতাংশ বিদ্যুতের মাধ্যমে পূরণ হয়। ২০৩৫ সালের মধ্যে এ হার বাড়িয়ে ৩৫ শতাংশে উন্নীত করতে চায় তুরস্ক।

মুরাত কুরুম বলেন, ‘এ বছরের জ্বালানি সংকট আমাদের আত্মতুষ্টি থেকে বেরিয়ে আসতে বাধ্য করেছে। বিদ্যুতায়নই এর সমাধান। এটি বৈশ্বিক বাজারের অস্থিরতা থেকে জনগণকে সুরক্ষা দেবে ও কার্বন নিঃসরণ কমাবে।’

তুরস্ক ও অস্ট্রেলিয়া চায় বিদ্যুতায়ন বাড়ানোর বিষয়টি সম্মেলনের চূড়ান্ত রাজনৈতিক ঘোষণাপত্রেও অন্তর্ভুক্ত হোক।

এ ঘোষণাপত্রটি সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর ঐকমত্যের ভিত্তিতে তৈরি করা হয় এবং এতে সম্মেলনের প্রধান সিদ্ধান্তগুলো তুলে ধরা হয়।

তবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ‘পরিচ্ছন্ন বিদ্যুতায়ন’-এর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। এ বিষয়টি তুরস্কের প্রস্তাবে জীবাশ্ম জ্বালানির ভূমিকা নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি করতে পারে।

জলবায়ু কূটনীতি নিয়ে কাজ করা গবেষণা প্রতিষ্ঠান ই৩জি-এর বিশেষজ্ঞ কসিমা ক্যাসেল বলেন, ‘তুরস্কের কপ৩১ সভাপতিত্বের পক্ষ থেকে বিদ্যুতায়ন নিয়ে যে অঙ্গীকারের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, তার ভাষা বেশ সতর্কতার সঙ্গে নির্ধারণ করা হয়েছে।’

তিনি মনে করেন, প্রস্তাবটি বেশ উন্মুক্তভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। ফলে অনেক দেশই এতে যুক্ত হতে পারবে। কারণ, এতে বিভিন্ন ধরনের ও টেকসই জ্বালানির উৎস ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে।

জলবায়ু অর্থায়ন নিয়ে বিরোধ

২০২৩ সালে কপ২৮ সম্মেলনে জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে ধীরে ধীরে সরে আসার বিষয়ে একটি ঐতিহাসিক চুক্তিতে সম্মত হয়েছিল দেশগুলো। তবে সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নের পদ্ধতি নিয়ে এখনো মতৈক্যে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।

গত বছরের কপ৩০ সম্মেলনেও জীবাশ্ম জ্বালানি নিয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট উল্লেখ ছাড়াই চুক্তি হয়। তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর আপত্তির কারণে চূড়ান্ত চুক্তিতে এ বিষয়ে স্পষ্ট ভাষা রাখা সম্ভব হয়নি।

এর পরিবর্তে ব্রাজিল একটি স্বেচ্ছামূলক রূপরেখা তৈরি করে। এতে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার পর্যায়ক্রমে বন্ধ করার বিভিন্ন প্রস্তাব রাখা হয়। প্রতিটি দেশ নিজেদের পরিস্থিতি অনুযায়ী এসব প্রস্তাব বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।

পর্যবেক্ষকদের মতে, গত বছরের সম্মেলনে জীবাশ্ম জ্বালানি নিয়ে যে বিরোধ তৈরি হয়েছিল, কপ৩১-এ তুরস্ক ও অস্ট্রেলিয়া তার পুনরাবৃত্তি এড়াতে চায়।

তবে উন্নত দেশগুলোর প্রতিশ্রুত জলবায়ু অর্থায়ন নিয়ে নতুন বিরোধ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি মোকাবিলা এবং পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে রূপান্তরের জন্য উন্নয়নশীল দেশগুলোকে অর্থ সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি এখনো পুরোপুরি বাস্তবায়ন করেনি ধনী দেশগুলো।

আফ্রিকার দেশগুলোর আলোচকরা দাবি করেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় অভিযোজন খাতে অর্থায়ন তিন গুণ বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি এবারের সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক আলোচ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় অবকাঠামো, কৃষি, পানি ও অন্যান্য খাতকে প্রস্তুত করার জন্য যে অর্থ ব্যয় করা হয়, তাকে অভিযোজন অর্থায়ন বলা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা ও বিশ্বনেতাদের অংশগ্রহণও গুরুত্বপূর্ণ।

সাম্প্রতিক নির্বাচনের ফলাফল জলবায়ু আন্দোলনকর্মীদের নতুন করে আশাবাদী করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে যাওয়ায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাজনৈতিকভাবে চাপে পড়েছেন।

ট্রাম্প অবশ্য বৈশ্বিক উষ্ণায়নকে বরাবরই ‘ভাঁওতাবাজি’ বলে দাবি করে আসছেন।

কপ৩১ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের একটি প্রতিনিধিদল অংশ নেবে। তবে ট্রাম্প প্রশাসন সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক আলোচনায় অংশ নিচ্ছে না।

অন্যদিকে, ব্রাজিলের রক্ষণশীল প্রতিদ্বন্দ্বী ফ্লাভিও বলসোনারোকে পরাজিত করে পুনর্নির্বাচিত হওয়ার পর দেশটির প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা আগামী সপ্তাহে আনতালিয়া সফর করবেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বই জমা দিতে দেরির জন্য শিক্ষার্থীকে ১ টাকা জরিমানা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১২:০৬ পি.এম


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বই জমা দিতে দেরির জন্য শিক্ষার্থীকে ১ টাকা জরিমানা

শুধু ১ টাকা জরিমানা, কিন্তু তা পরিশোধের জন্য ব্যাংকে যেতে হয়েছে, এবং লাইনে দাঁড়াতে হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান গ্রন্থাগার থেকে বই জমা দিতে দেরি হওয়ায় এক শিক্ষার্থীর এমন অভিজ্ঞতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা সৃষ্টি করেছে।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী নাবিলা হক তার এক টাকা জরিমানা হওয়ার অভিজ্ঞতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করলে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে।

তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৫০ বছরের পুরোনো নিয়ম অনুসারে এখনো ব্যাংকের মাধ্যমে জরিমানা আদায় করা হচ্ছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগার পরিচালক অনলাইনে এই প্রক্রিয়া চালুর উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।

পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী নাবিলা হক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লেখেন, “ঢাকা ইউনিভার্সিটি লাইব্রেরি একটা বই ৮-৯ দিন দেরিতে জমা দেওয়ার কারণে আমাকে ১ টাকা জরিমানা করেছে! এখন আমাকে টিএসসি জনতা ব্যাংকে যেতে হবে, লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে, আর তারপর একটা মাত্র কয়েন দিয়ে সেই জরিমানা পরিশোধ করতে হবে।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন, “আমি পূজার ছুটির আগে বিজ্ঞান গ্রন্থাগার থেকে বই নিয়েছিলাম। বই ফেরত দেওয়ার শেষ সময় ২২ তারিখ থাকলেও আমি পরের মাসের ৩ তারিখে বই জমা দিতে যাই। তখন ২২ তারিখ থেকে হিসাব করে আমাকে ১ টাকা জরিমানা করা হয়।”

নাবিলা হক বলেন, “আমার হল কাছে, তাই ব্যাংকে টাকা দিতে আমার অতটা প্যারা হয়নি। কিন্তু জিনিসটা বেশ অদ্ভুত।”

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারের পরিচালক অধ্যাপক ড. কাজী মোস্তাক গাউসুল সংবাদমাধ্যমকে জানান, “আসলে আমারও জানা ছিল না এক টাকা হলেও ব্যাংকে দিতে হয়। এই জরিমানায় নিয়ম অনেক পুরোনো। আমি কাগজ ঘেঁটে দেখলাম ১৯৭৫ সাল বা স্বাধীনতার আগ থেকেই এই নিয়ম রয়েছে। আমাদের সামনে লাইব্রেরি কমিটির মিটিংও আছে, আমি কথা বলব কর্তৃপক্ষের সঙ্গে। এটা যেহেতু সামান্য অর্থ, আমরা হয়তো অনলাইনে নিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করব।”

তিনি আরও বলেন, “গ্রন্থাগারে বই নির্ধারিত সময়ের পর জমা দেওয়া কিংবা হারিয়ে ফেললে বিভিন্ন নিয়ম আছে। বইটা যদি খুব সাম্প্রতিক হয়, তাহলে বইয়ের দাম দিলেই হয়। কিন্তু বইটা যদি ১৯৬০ সালের হয়, ওখানে দাম লেখা আছে ৫০ পয়সা। তাহলে এইটার জন্য আমাদের ভিন্ন নিয়ম আছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মার্কিন বাহিনী ইরানে হামলার জন্য প্রস্তুত, ট্রাম্পের নির্দেশের অপেক্ষা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১২:০৬ পি.এম


মার্কিন বাহিনী ইরানে হামলার জন্য প্রস্তুত, ট্রাম্পের নির্দেশের অপেক্ষা

মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের বিরুদ্ধে একটি বড় ধরনের সামরিক অভিযান পুনরায় শুরু করার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশ আসলেই এই অভিযান শুরু হতে পারে। বুধবার নিউইয়র্ক টাইমসের একটি প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

প্রতিবেদনটি নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পেন্টাগনের কর্মকর্তাদের এবং সামরিক কমান্ডারদের উদ্ধৃতি দিয়ে জানায়, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটি এবং যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে অবস্থানরত হাজার হাজার মার্কিন সেনা, এক ডজনেরও বেশি যুদ্ধজাহাজ ও বিমানবাহী সামরিক শক্তি এই অভিযানের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

গত মাসে নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছিল যে, ইরানে সম্ভাব্য মার্কিন হামলা হবে ‘স্বল্পমেয়াদি ও তীব্র’। মার্কিন কর্মকর্তা এবং আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের উদ্ধৃতি দিয়ে ওই প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়েছিল।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্যবস্তু হিসেবে থাকতে পারে ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো, পারমাণবিক স্থাপনা এবং ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের মজুতভান্ডার।

সূত্র: আলজাজিরা

আরএ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাভার ও আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে স্বস্তি ফিরেছে, জনজীবন সম্পূর্ণ স্বাভাবিক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১২:০৭ পি.এম


সাভার ও আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে স্বস্তি ফিরেছে, জনজীবন সম্পূর্ণ স্বাভাবিক

ছুটির দিনে শিল্পাঞ্চলে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিরাজমান, সাধারণ মানুষ নির্বিঘ্নে চলাচল করছেন। সাভার ও আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন, বিক্ষোভ, কারখানায় ভাঙচুর ও সড়ক অবরোধের কারণে যে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছিল, তা কাটিয়ে আবারও স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরে এসেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে ছুটির দিনে শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন সড়ক, বাজার ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিরাজ করায় তারা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সাভার ও আশুলিয়ার বিভিন্ন শিল্পাঞ্চল পরিদর্শন করে দেখা যায়, অধিকাংশ এলাকায় কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি নেই। সড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। কোথাও শ্রমিকদের বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ কিংবা সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়নি। শিল্পাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতেও পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। তবে ছুটির দিন হওয়ায় অধিকাংশ পোশাক কারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

সাভারের নবীনগর, বাইপাইল, জামগড়া, জিরাবো, নিশ্চিন্তপুর, পলাশবাড়ী, কাঠগড়া ও আশপাশের শিল্পাঞ্চলে ঘুরে দেখা যায়, সড়কে মানুষের চলাচল স্বাভাবিক। বিভিন্ন বাজার ও দোকানপাটে সাধারণ মানুষ কেনাকাটা করছেন। গণপরিবহন ও ব্যক্তিগত যানবাহন স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে দেখা গেছে। সাম্প্রতিক সময়ের অস্থিরতার কারণে যেসব এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল, সেখানে এখন অনেকটাই স্বস্তির পরিবেশ বিরাজ করছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কয়েক দিন আগে শ্রমিক অসন্তোষের কারণে সড়ক অবরোধ, যানবাহন ভাঙচুর এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনায় সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছিলেন। কর্মস্থলে যাওয়া, শিক্ষার্থীদের যাতায়াত এবং জরুরি প্রয়োজনে বাইরে বের হওয়া নিয়ে উদ্বেগ ছিল। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় তারা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।

একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, "আমরা সাধারণ মানুষ শান্তিপূর্ণ পরিবেশ চাই। আন্দোলন বা শ্রমিকদের দাবি-দাওয়া থাকতেই পারে, তবে কোনোভাবেই যেন সাধারণ মানুষের চলাচলে বাধা সৃষ্টি না হয়।" কয়েক দিন ধরে যে অস্থিরতা ছিল, তা কেটে যাওয়ায় তারা স্বস্তি পাচ্ছেন।

একজন ব্যবসায়ী জানান, অস্থিরতার সময় ক্রেতাদের উপস্থিতি কমে যাওয়ায় ব্যবসায়িক কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছিল। অনেকেই নিরাপত্তার কারণে দোকানপাট বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছিলেন। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় ব্যবসা-বাণিজ্যেও ইতিবাচক পরিবেশ ফিরে আসছে।

এদিকে শিল্পাঞ্চলের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তৎপরতা অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা করছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, পোশাকশিল্প দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। তাই শিল্পকারখানার স্বাভাবিক উৎপাদন, শ্রমিকদের কর্মসংস্থান এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।

সচেতন মহলের মতে, শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি-দাওয়া আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা উচিত। একই সঙ্গে শিল্পাঞ্চলে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা, সহিংসতা কিংবা উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড যাতে পরিস্থিতিকে আবারও অস্থিতিশীল করতে না পারে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

সব মিলিয়ে ছুটির দিনে সাভার ও আশুলিয়ার শিল্পাঞ্চলে শান্তিপূর্ণ ও স্বাভাবিক পরিবেশ বিরাজ করায় সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। এই স্থিতিশীলতা যেন আগামী দিনগুলোতেও অব্যাহত থাকে—এমন প্রত্যাশা শ্রমিক, ব্যবসায়ী, পরিবহনকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫০
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪০
মাগরিব ০৫:১৬
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৮ সূর্যাস্ত : ০৫:১৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%