রবিবার, ২০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০২:০১ পি.এম
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, কুমিল্লায় সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের হত্যার বিচার দ্রুততম সময়ের মধ্যে সম্পন্ন হবে। তিনি উল্লেখ করেন, "রামিসা হত্যাকাণ্ডের বিচার যেমন দ্রুত হয়েছিল, অপ্রতিমের ক্ষেত্রেও তেমন হবে। আমরা পুলিশের পক্ষ থেকে সব সহযোগিতা করবো।"
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব মন্তব্য করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি আরও বলেন, "কুমিল্লার এই মর্মান্তিক ঘটনায় সারাদেশের মানুষ মর্মাহত।" ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পুলিশ লাশ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে এবং সন্দেহভাজন চারজনকে ১২ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃতরা আদালতে অপরাধ স্বীকার করেছে এবং তারা মূলত কিশোর অপরাধী ছিল। ভিকটিমের সাথে তাদের পরিচয় ছিল। পুলিশ ইতোমধ্যে ঘটনার সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ আলামত সংগ্রহ করেছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, "এই ধরনের মারাত্মক অপরাধের পেছনে মাদকসহ নানা সামাজিক কারণ যুক্ত থাকে।" কিশোর অপরাধ রোধে স্কুল পর্যায়ে ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা সামাজিক পচন রোধে সরকার ও সাধারণ মানুষকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন আসন্ন হওয়ায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্য ও সিদ্ধান্তগুলো নতুন রাজনৈতিক ও আইনগত বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। ৫ হাজার ডলারের অর্থপ্রদানের প্রতিশ্রুতি, দুর্যোগ সহায়তা নিয়ে মন্তব্য, সংবাদমাধ্যমের প্রবেশাধিকার সীমিত করা, ২০২৪ সালের হত্যাচেষ্টা নিয়ে অভিযোগ এবং বিভিন্ন নীতিগত অবস্থান এসব বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু। সিএনএনের একটি বিশ্লেষণে গত কয়েক সপ্তাহের ঘটনাবলীর প্রেক্ষাপট তুলে ধরা হয়েছে।
১০ সেপ্টেম্বর রিপাবলিকানদের মধ্যবর্তী নির্বাচন সম্মেলনে ট্রাম্প ঘোষণা করেন, যদি তাঁর দল প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে ৫ হাজার ডলারের ‘ডিভিডেন্ড’ প্রদান করা হবে। তবে অর্থের উৎস ও বিতরণের পদ্ধতি সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত কোনো পরিকল্পনা দেননি। রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এই প্রস্তাব বাস্তবায়নের জন্য কংগ্রেসের অনুমোদনসহ নানা আইনি ও আর্থিক বিষয় জড়িত।
এর আগে ট্রাম্প শুল্ক থেকে পাওয়া অর্থের ভিত্তিতে ২ হাজার ডলারের অর্থপ্রদানের কথাও বলেছিলেন। নতুন ৫ হাজার ডলারের প্রস্তাবের ক্ষেত্রেও অর্থায়নের উৎস নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রস্তাবটির সম্ভাব্য ব্যয় ১ ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি হতে পারে এবং এর বাস্তবায়নে কংগ্রেসের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
নর্থ ক্যারোলাইনায় রিপাবলিকান সিনেট প্রার্থী মাইকেল হোয়াটলির প্রচারণায় গিয়ে ট্রাম্প দুর্যোগ সহায়তা নিয়ে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ওই প্রার্থী নির্বাচনে জয়ী না হলে রাজ্যটিতে অতিরিক্ত দুর্যোগ সহায়তা প্রদান করা হবে। পরে তিনি এটিকে রসিকতা হিসেবে ব্যাখ্যা করেন এবং জানান যে সহায়তা প্রদান করা হবে। এই মন্তব্য সরকারি সহায়তা ও নির্বাচনী প্রচারণার সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন সৃষ্টি করে।
মধ্যবর্তী নির্বাচন উপলক্ষে ট্রাম্প ভোটারদের তাঁর সমর্থিত প্রার্থীদের পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি ভোটারদের এমনভাবে ভোট দিতে বলেছেন যেন তিনি নিজেও ব্যালটে রয়েছেন। রয়টার্সের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের কংগ্রেস নির্বাচনে রিপাবলিকান দলকে সমর্থন দেওয়ার আহ্বানে ট্রাম্প নিজেকে প্রচারণার কেন্দ্রীয় চরিত্র হিসেবে তুলে ধরছেন।
২০২৪ সালে পেনসিলভানিয়ার বাটলারে তাঁর হত্যাচেষ্টার ঘটনা ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যের একটি বড় বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি এক পোস্টে তিনি কোনো প্রমাণ উপস্থাপন না করেই ঘটনাটিকে ‘ডেমোক্র্যাটদের ষড়যন্ত্র’ বলে দাবি করেন। তবে প্রকাশ্যে তদন্তে হামলাকারী থমাস ক্রুকসের সঙ্গে ডেমোক্র্যাটদের কোনো সংগঠিত সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। রয়টার্সের আগের যাচাইয়েও ঘটনাটিকে ঘিরে বিভিন্ন ভিত্তিহীন দাবি শনাক্ত করা হয়েছিল।
৯/১১ হামলার ২৫তম বার্ষিকী উপলক্ষে ট্রাম্পের নিজের অভিজ্ঞতার বর্ণনা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। তাঁর বক্তব্যের কিছু অংশের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও ২০০১ সালের হামলার ঘটনাবলি ও তাঁর ব্যক্তিগত উপস্থিতির বিস্তারিত যাচাইয়ের প্রয়োজন রয়েছে। এ কারণে ট্রাম্পের বক্তব্য ও স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য আলাদা করে দেখা জরুরি।
হোয়াইট হাউসে সংবাদমাধ্যমের প্রবেশাধিকার নিয়েও নতুন করে বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে। ১৮ সেপ্টেম্বর ট্রাম্প সিএনএন, এমএস নাউ ও পলিটিকোকে হোয়াইট হাউসে নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দেন। পরদিন এসব সংবাদমাধ্যমের কয়েকজন সাংবাদিককে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি এবং তাঁদের প্রেস পাস অকার্যকর বা প্রত্যাহার করা হয়। সংবাদমাধ্যমগুলো এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করেছে এবং হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন প্রবেশাধিকার পুনর্বহালের আহ্বান জানিয়েছে।
ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের কারণ হিসেবে কোনো নির্দিষ্ট প্রতিবেদন দেখানো হয়নি। তিনি বলেছেন, কয়েক বছরের সম্মিলিত সংবাদ কভারেজের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরও সংবাদমাধ্যমকে নিষিদ্ধ করা হতে পারে। সিএনএন, এমএস নাউ ও পলিটিকো জানিয়েছে, তারা সংবাদ সংগ্রহের অধিকার রক্ষায় আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে।
সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের নিয়েও সম্প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প। তাঁর নিয়োগ দেওয়া কয়েকজন বিচারপতি বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর অবস্থানের বিপরীতে রায় দেওয়ার পর তিনি তাঁদের নিয়ে প্রকাশ্যে ক্ষোভ জানিয়েছেন। এ বিষয়টি প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বিচার বিভাগের সম্পর্ক এবং বিচারপতিদের স্বাধীনতা নিয়ে নতুন আলোচনা সৃষ্টি করেছে।
আয়ারল্যান্ড সফরের সময় ট্রাম্প দেশটির পুনঃএকত্রীকরণের সম্ভাবনাকে ইতিবাচকভাবে দেখার কথা বলেন। ১২ সেপ্টেম্বর ডাবলিনে তিনি বলেন, তিনি আয়ারল্যান্ডকে ঐক্যবদ্ধ দেখতে চান এবং একসময় তা ঘটবে বলে মনে করেন। একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেন, উত্তর আয়ারল্যান্ডের অবস্থান নিয়ে যুক্তরাজ্যেরও মতামত গুরুত্বপূর্ণ।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়েও ট্রাম্পের অবস্থান আলোচনায় এসেছে। ১৯ সেপ্টেম্বর তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ‘এআই ফোর্স’ গঠনের ঘোষণা দেন এবং নতুন একজন এআই উপদেষ্টা নিয়োগের কথা জানান। তবে উদ্যোগটির কাঠামো, দায়িত্ব ও বাস্তবায়ন পদ্ধতি সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত জানাননি। একই সময়ে এআইয়ের ঝুঁকি নিয়ে গবেষক ও প্রযুক্তি খাতের বিভিন্ন মহল সতর্কতা জারি করে আসছে।
কেনেডি সেন্টার নিয়েও ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে আইনি বিরোধ চলছে। ট্রাম্পের নাম ভবনের সম্মুখভাগে যুক্ত করার উদ্যোগ আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। ১৫ সেপ্টেম্বর একটি ফেডারেল বিচারক ওই নাম যুক্ত করার পরিকল্পনা স্থগিত করার আদেশ দেন। এর পর কেন্দ্রটির পরিচালনা পর্ষদ প্রায় ২৫৭ মিলিয়ন ডলারের সংস্কারকাজের জন্য প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘ সময় বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়; ট্রাম্প আদালতের সিদ্ধান্ত বদল না হলে সংস্কারকাজে বাধা দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
ইরান যুদ্ধও ট্রাম্পের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। তিনি যুদ্ধের অবসান নিয়ে বিভিন্ন সময় ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন এবং সেপ্টেম্বরে রয়টার্সকে বলেন, সংঘাত বছরের শেষের দিকে শেষ হতে পারে, এমনকি মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরও তা চলতে পারে। যুদ্ধের প্রভাব জ্বালানি বাজার, মার্কিন সামরিক ব্যয় ও দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে পড়ছে।
ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা নিয়েও সাম্প্রতিক জরিপে বিভিন্ন তথ্য উঠে এসেছে। ১৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত রয়টার্স-ইপসস জরিপে তাঁর কাজের অনুমোদন ৩৫ শতাংশ ছিল। একই জরিপে ৬৩ শতাংশ উত্তরদাতা ট্রাম্পের ৫ হাজার ডলারের অর্থপ্রদানের প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছেন। এই জরিপ নির্দিষ্ট সময়ের জনমতকে প্রতিফলিত করে এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের সঙ্গে ফলও বদলাতে পারে।
এদিকে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে বিরোধ, ইরান যুদ্ধ, অর্থনৈতিক প্রতিশ্রুতি, আদালতের সঙ্গে সংঘাত এবং বিভিন্ন পররাষ্ট্র ও প্রযুক্তিনীতি নিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্য মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে। তাঁর সমর্থকেরা এসব পদক্ষেপকে প্রশাসনের নীতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে দেখছেন। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাট ও বিভিন্ন নাগরিক ও গণমাধ্যম সংগঠন কয়েকটি পদক্ষেপের আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
ফলে মধ্যবর্তী নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, ট্রাম্পের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত ও মন্তব্যগুলো শুধু তাঁর প্রশাসনের নীতির অংশ হিসেবেই নয়, কংগ্রেস নির্বাচনকে ঘিরে চলমান রাজনৈতিক বিতর্কেরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। তবে এসব পদক্ষেপের নির্বাচনী প্রভাব কী হবে, তা নির্ধারণ করা এখনো সম্ভব নয়; জনমত ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি আগামী সপ্তাহগুলোতে পরিবর্তিত হতে পারে। তথ্যসূত্র: সিএনএন, রয়টার্স
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : হংকংয়ের সাবেক নেতা তুং চি-হুয়ার শেষকৃত্যে রোববার সরকারি কর্মকর্তা এবং সাধারণ মানুষেরা শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এএফপির সাংবাদিকরা এই দৃশ্য প্রত্যক্ষ করেন।
চলতি মাসে ৮৯ বছর বয়সে তুং মারা যান। সাবেক ব্রিটিশ উপনিবেশ হংকং ১৯৯৭ সালে চীনের কাছে হস্তান্তরের পর, বেইজিংয়ের মনোনীত সাবেক এই জাহাজ ব্যবসায়ী নগরীর নেতৃত্বে আসেন। হংকং থেকে এএফপি সংবাদ সংস্থা এ খবর জানায়।
কট্টর রক্ষণশীল হিসেবে পরিচিত তুং আট বছর দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৫ সালে ব্যাপক বিক্ষোভের পর তিনি পদত্যাগ করেন। তার মেয়াদজুড়ে নানা সংকট দেখা দেয়।
রোববার, চীনের জাতীয় পতাকায় মোড়ানো তুংয়ের কফিন শববাহী গাড়িতে করে হংকং ফিউনারেল হোম থেকে একটি দাহস্থলে নিয়ে যাওয়া হয়।
স্মরণসভা কক্ষে তুংয়ের একটি প্রতিকৃতি স্থাপন করা হয়। ছবিতে তাকে হাস্যোজ্জ্বল ও তার স্বভাবসুলভ ছোট করে ছাঁটা চুলে দেখা যায়। চারপাশে ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার প্রতীক হিসেবে সাদা অর্কিড রাখা হয়।
স্মরণসভা কক্ষের বাইরের রাস্তাজুড়ে সরকারি কর্মকর্তা এবং ব্যবসায়ী নেতাদের পাঠানো শত শত পুষ্পস্তবক রাখা হয়।
তুংয়ের সাবেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব লিভারপুলের শোকবার্তায় বলা হয়েছে, ‘গভীর কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধার সঙ্গে আমরা তাকে স্মরণ করছি।’
শেষকৃত্য আয়োজক কমিটি তাকে ‘খ্যাতিমান দেশপ্রেমিক’ এবং ‘চীনা কমিউনিস্ট পার্টির ঘনিষ্ঠ বন্ধু’ হিসেবে অভিহিত করেছে।
৮৯ বছর বয়সী অবসরপ্রাপ্ত সংস্কারকর্মী চেউং কোয়ক-লিক জানান, সাবেক এই নেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে তিনি বাসে করে এক ঘণ্টার পথ পেরিয়ে এসেছেন।
তুংয়ের দায়িত্ব পালনের সময় এশীয় আর্থিক সংকট ও প্রাণঘাতী সার্স মহামারি মোকাবিলা করতে হয়েছিল। চেউং বলেন, ‘এটি কোনোভাবেই সহজ ছিল না।’
তুংয়ের নেতৃত্বের সময় রেকর্ড বেকারত্ব এবং ১৯৯৭ সালের বার্ড ফ্লুর প্রাদুর্ভাবও ঘটে।
নগরীর বাসিন্দা কিকি হো জানান, শ্রদ্ধা জানানোর পরও তিনি ‘দুঃখ ভারাক্রান্ত ও আবেগাপ্লুত’ অনুভব করছেন।
৬৮ বছর বয়সী এই নারী বলেন, ‘তিনি যে সময় ও পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিলেন, তাতে পরিস্থিতি তার অনুকূলে ছিল না।’
তিনি আরও বলেন, ‘তিনি একজন ভদ্রলোক ছিলেন। অভিজ্ঞ একজন মানুষ ছিলেন। হংকংয়ের জন্য সত্যিকার অর্থেই কিছু করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু রাজনৈতিক অঙ্গন হয়তো তার জন্য খুব বেশি জটিল ছিল।’
এর আগে ব্রিটিশ ও মার্কিন কনস্যুলেট তুংয়ের ঐতিহাসিক ভূমিকার প্রশংসা করে।
কয়েক দশক ধরে তিনি বেইজিং, হংকং এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধ হিসেবে কাজ করেছেন।
চীনে নিযুক্ত সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত ম্যাক্স বাউকাস তুংকে ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ‘জীবনের শেষ কয়েক দশকে তিনি এই বিশ্বাসে নিবেদিত ছিলেন যে, আমাদের দুই দেশের পারস্পরিক শান্তি নিশ্চিত ও বজায় রাখা প্রয়োজন।’
বাউকাস আরও বলেন, ‘এটি অর্জনের সবচেয়ে ভালো উপায় হল জনগণের মধ্যে কূটনীতিÑএমনটাই তিনি বিশ্বাস করতেন।’
তুং তার স্ত্রী বেটি চিউ, দুই ছেলে এবং এক মেয়ে রেখে গেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বার্সেলোনা একসময় বিশ্বফুটবল শাসন করেছে জাভি হার্নান্দেজের মাঝমাঠ এবং লিওনেল মেসির আক্রমণভাগের জুটিতে। ২০১৫ সালে জাভি কাতালান ক্লাবটি ত্যাগ করার পর দুজনের পথ আলাদা হয়ে যায়। তবে ২০২১ সালে বার্সার প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর জাভি তার পুরনো বন্ধু মেসিকে ক্যাম্প ন্যুয়ে ফেরানোর জন্য চেষ্টা করেন।
সাবেক এই স্প্যানিশ মিডফিল্ডার সম্প্রতি বিস্ফোরক তথ্য প্রকাশ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, সভাপতি হোয়ান লাপোর্তার অনীহার কারণে মেসির প্রত্যাবর্তন বাস্তবে রূপ নেয়নি। মেসি ২০২১ সালে বার্সেলোনা ছেড়ে পিএসজিতে যাওয়ার মাত্র তিন মাস পর জাভি ক্লাবের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এরপর লাপোর্তা প্রশাসন তাকে বরখাস্ত করে হান্সি ফ্লিককে কোচ হিসেবে নিয়োগ দেয়। জাভির দায়িত্বে থাকাকালীন সময়ে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ জয় করার পর মেসিকে ফেরানোর একটি বিশাল পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছিল।
জাভি সম্প্রতি বলেন, ‘মেসি আমার খুব কাছের বন্ধু এবং আমরা সবসময়ই যোগাযোগ রাখতাম। বার্সেলোনায় ফেরার জন্য সে নিজেও ভীষণ আগ্রহী ছিল, আর আমিও শতভাগ এর পক্ষে ছিলাম। পুরো চার মাস আমরা টানা যোগাযোগের মধ্যে ছিলাম। তবে শেষ পর্যন্ত সভাপতি লাপোর্তা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানান যে, তিনি মেসিকে পুনরায় সাইন করাতে চান না। তিনি চাননি মেসি বার্সেলোনায় ফিরুক, এটাই আসল সত্য।’
মেসিকে ফেরাতে না পারার দুঃখ প্রকাশ করে জাভি বলেন, ‘মেসি নিজেও অনেক আশা নিয়ে ছিল, আমি এবং পুরো কোচিং স্টাফও অনেক প্রত্যাশা নিয়ে অপেক্ষা করছিলাম। কিন্তু হঠাৎ করেই সভাপতি সবকিছু বাতিল করে দেন। হ্যাঁ, বাস্তবতা এতটাই নিষ্ঠুর ছিল! এটি বাস্তবায়িত হলে ফুটবলের ইতিহাসে একটি স্বপ্নের অধ্যায় হতে পারত, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা আর সম্ভব হয়নি। বিষয়টি সত্যিই অত্যন্ত আফসোসের।’
অন্যদিকে, আর্জেন্টিনা জাতীয় দলকে বিদায় জানিয়েছেন মেসি। জাভি জানান, নিয়মিত যোগাযোগের কারণে তিনি এই সিদ্ধান্তের আভাস পেয়েছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানার সামনে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টির ঘটনায় মূল অভিযুক্তসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের ওয়ারী বিভাগ। গ্রেপ্তারকৃত এক আসামির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে লালবাগ এলাকা থেকে চারটি অবিস্ফোরিত ককটেল উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—মো. রায়হান উদ্দিন (৩৫), রাসেল খান (৩২), আলা উদ্দিন (২৮) ও আব্দুল্লাহ (২৮)।
ডিবি ওয়ারী বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ৮টার দিকে যাত্রাবাড়ী থানার সামনে সড়কে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে এক পথচারী গুরুতর আহত হন। ঘটনার পর যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশের পাশাপাশি ডিবি ওয়ারী বিভাগ ছায়া তদন্ত শুরু করে।
ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করা হয়। একপর্যায়ে ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে সংশ্লিষ্টদের শনাক্ত করা হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৯ সেপ্টেম্বর বংশাল থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে রায়হান উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে ডিবি ওয়ারী বিভাগের একটি দল।
পরে রায়হান উদ্দিনকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ২০ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ১২টা ১৫ মিনিটে লালবাগ থানাধীন জেন সাহা রোডের একটি ১০ তলা ভবনের নিচতলার পার্কিং এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় পার্কিংয়ের একটি পিলারের পাশে ইটের সুরকির বস্তার মধ্য থেকে লাল রঙের কসটেপ দিয়ে মোড়ানো চারটি অবিস্ফোরিত ককটেল উদ্ধার করা হয়।
এরপর ডেমরা থানাধীন ডগাইর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ডিবি ওয়ারী বিভাগ জানায়, গ্রেপ্তার রায়হান উদ্দিন এর আগে মতিঝিল থানার একটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে দীর্ঘদিন কারাগারে ছিলেন। পরে জামিনে বের হয়ে তিনি পুনরায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন বলে তদন্তে জানা গেছে।
পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি রাজনৈতিক সংগঠনের সক্রিয় সদস্য। তবে এ বিষয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যাত্রাবাড়ী থানায় বিস্ফোরকদ্রব্য আইনে মামলা করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে ডিবি ও থানা পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ