শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৭:১৬ পি.এম
মুয়াম্মার গাদ্দাফির পতনের পর থেকে গৃহযুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত উত্তর আফ্রিকার তেলসমৃদ্ধ দেশ লিবিয়া মূলত পূর্ব ও পশ্চিম—এই দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছিল। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিষয়গুলিতে দুই পক্ষের অবস্থান ছিল সম্পূর্ণ বিপরীত। তবে ভূমধ্যসাগরের সমুদ্রসীমা ইস্যুতে তুরস্কের সঙ্গে এক কাতারে এসে দাঁড়িয়েছে লিবিয়ার দুই পক্ষ।
সম্প্রতি ২০ অক্টোবর আঙ্কারার সঙ্গে সম্পাদিত সমুদ্রসীমা চুক্তিটি অনুমোদন করেছে লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় পার্লামেন্ট। এই ঐতিহাসিক সমঝোতা মেনে নিতে পারছে না মিসর, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), গ্রিস ও ইসরাইল। চুক্তিটির ফলে পূর্ব ভূমধ্যসাগরের ভূরাজনীতি ও জ্বালানি কূটনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
চুক্তির পটভূমি ও কৌশলগত গুরুত্ব
২০১৯ সালের ২৭ নভেম্বর তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েব এরদোয়ান এবং জাতিসংঘ স্বীকৃত ত্রিপোলিভিত্তিক লিবিয়া সরকারের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ফায়েজ আল সাররাজের মধ্যে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তির মূল লক্ষ্য ছিল পূর্ব ভূমধ্যসাগরে দুই দেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (EEZ) ও সমুদ্রসীমা নির্ধারণ করা।
এই চুক্তির মাধ্যমে আঙ্কারা পূর্ব ভূমধ্যসাগরের বিস্তীর্ণ জলসীমায় নিজেদের অর্থনৈতিক অধিকার ও খনিজ সম্পদ অনুসন্ধানের আইনি ভিত্তি তৈরি করে। ধারণা করা হয়, এই অঞ্চলে বিপুল পরিমাণ প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুদ রয়েছে। তবে ২০২০ সালে চুক্তিটির তীব্র বিরোধিতা করে তা প্রত্যাখ্যান করেছিল লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় সরকার এবং তাদের সামরিক কমান্ডার খলিফা হাফতার। हालाँकि সম্প্রতি হাফতারের ছেলে সাদ্দাম হাফতারের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং ক্ষমতার মসনদে বসার সমীকরণে তুরস্কের সঙ্গে কৌশলগত আপস করে পূর্বাঞ্চলীয় পার্লামেন্টও এটি অনুমোদন করে।
যে কারণে ক্ষুব্ধ সংশ্লিষ্ট দেশগুলো
• মিসরের অসন্তোষ: প্রতিবেশী মিসরের দাবি, এই চুক্তির কারণে ভূমধ্যসাগরে তাদের নিজস্ব সমুদ্রসীমা ও অর্থনৈতিক অঞ্চলের অধিকার ক্ষুণ্ণ হবে। কায়রোর দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ মিত্র খলিফা হাফতারের সঙ্গে তুরস্কের সামরিক সখ্য এবং পূর্ব লিবিয়ায় তুর্কি বাহিনীর সম্ভাব্য উপস্থিতি মিসরের প্রেসিডেন্ট আব্দেল ফাত্তাহ আল-সিসির প্রশাসনকে চরম উদ্বেগে ফেলেছে।
• ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) আপত্তি: ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিরোধিতার প্রধান কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে তাদের সদস্য দেশ গ্রিস ও সাইপ্রাসের স্বার্থ। ব্রাসেলসের অভিযোগ, এই চুক্তি গ্রিস ও সাইপ্রাসের সার্বভৌম জলসীমার অধিকার চরমভাবে লঙ্ঘন করে। ইইউ একে জাতিসংঘের সমুদ্র আইনবিষয়ক সনদের (UNCLOS) পরিপন্থি বলেও দাবি করছে। যদিও তুরস্ক এই সনদে স্বাক্ষরকারী দেশ না হওয়ায় তারা এটি মানতে বাধ্য নয় বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে।
• ইসরাইল প্রতিক্রিয়া: চুক্তির তীব্র নিন্দা জানিয়ে ইসরাইল অভিযোগ করেছে, আঙ্কারা পূর্ব ভূমধ্যসাগরের স্থিতিশীলতা নষ্ট করছে। তেল আবিবের ক্ষোভের মূল কারণ হলো জ্বালানি রাজনীতি। গ্রিস ও সাইপ্রাসের সঙ্গে ইসরাইল গভীর সামরিক ও জ্বালানি অংশীদারত্ব রয়েছে। ওই অঞ্চলে তেল আবিবের পাইপলাইন ও গ্যাস উত্তোলন প্রকল্পের জন্য তুরস্কের এই সমুদ্রসীমা চুক্তি সরাসরি কৌশলগত হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তুরস্কের শক্ত অবস্থান
আন্তর্জাতিক মহলের এই তীব্র সমালোচনার মুখেও নিজেদের অবস্থান থেকে একচুল নড়তে নারাজ আঙ্কারা। তুরস্কের দাবি, চুক্তিটি আন্তর্জাতিক আইন ও ন্যায্যতার নীতির ভিত্তিতেই কার্যকর হয়েছে। তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান স্পষ্ট বার্তা দিয়ে জানিয়েছেন, কারা এই চুক্তির বিরোধিতা করছে তা তাদের জানা রয়েছে এবং বিরোধীদের এসব আপত্তিকে কোনোভাবেই গুরুত্ব দেবে না আঙ্কারা।
বিশ্লেষকদের মতে, দৃশ্যত এটি কেবল সমুদ্রসীমা নির্ধারণের চুক্তি মনে হলেও এর পেছনে জড়িয়ে আছে বিপুল গ্যাস মজুদের নিয়ন্ত্রণ, সামরিক প্রভাব বিস্তার এবং মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষার গভীর খেলা। ফলে চুক্তিটি বিরোধ নিষ্পত্তির চেয়ে পূর্ব ভূমধ্যসাগরে পরাশক্তিগুলোর মুখোমুখি অবস্থানকে আরও তীব্র করে তুলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সৌদি আরবের পবিত্র মক্কা নগরীর মসজিদুল হারামে জুমার নামাজ আদায় করতে লাখো মুসল্লির সমাগম ঘটে। পবিত্র কাবা শরিফকে কেন্দ্র করে অবস্থিত মসজিদুল হারাম ও এর চারপাশে মুসল্লিদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) মসজিদুল হারামে জুমার নামাজে ইমামতি করেন শায়খ সালেহ বিন হুমাইদ। তিনি পবিত্র দুই মসজিদের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী জুমার নামাজ পরিচালনা করেন।
শায়খ সালেহ বিন হুমাইদ সৌদি আরবের একজন প্রখ্যাত আলেম এবং মসজিদুল হারামের জ্যেষ্ঠ ইমাম। ১৯৫০ সালে সৌদি আরবের কাসিম প্রদেশের বুরাইদাহ শহরে তার জন্ম হয়। তিনি মক্কার উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শরিয়াহ বিষয়ে উচ্চশিক্ষা ও ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন।
১৯৮৪ সালে মসজিদুল হারামের ইমাম হিসেবে নিযুক্ত হওয়ার পর থেকে তিনি দীর্ঘদিন ধরে সেখানে ইমামতি ও খুতবা প্রদানের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। ইসলামি জ্ঞানচর্চা ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডে তার অবদানও প্রশংসিত।
পবিত্র মসজিদুল হারামে জুমার নামাজ আদায় করতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা মুসল্লিদের সমাগম ঘটে। বিশেষ করে ওমরাহ পালনকারীদের উপস্থিতিতে মসজিদ প্রাঙ্গণ সব সময়ই প্রাণবন্ত থাকে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর মতিঝিল এলাকায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কাছে চাঁদার দাবিতে হামলা চালিয়ে দোকানপাট বন্ধ করে দিয়েছে সন্ত্রাসীরা। স্থানীয় একটি ক্লাবে একজন ব্যবসায়ীকে তুলে নিয়ে শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়েছে কিশোর গ্যাংয়ের প্রধান জাহিদ হাসান ও তার সহযোগিদের দ্বারা। পরে ২০ হাজার টাকা আদায়ের পর তাকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
গতকাল শুক্রবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী ও নির্যাতিত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম ওরফে মুন্না অভিযোগ করেন। এসময় তার স্ত্রী রুপা বেগম, ছোট ভাই মো. শুভ এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত অভিযোগে মুন্না জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে মতিঝিল ক্লাবপাড়ায় ভাতের হোটেলের ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। গত ৭ থেকে ৮ মাস আগে মতিঝিল এলাকার কিশোর গ্যাংয়ের প্রধান জাহিদ হাসান, ইমুন, আজমির, রানা, মাজেদ, পানি বাবুসহ পনেরো জনের একটি সন্ত্রাসী দল তার হোটেলে এসে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। একদিন তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর চালিয়ে দোকানের ক্যাশ ভেঙে বিশ হাজার টাকা লুট করে নেয়।
এ ঘটনার পর মুন্না বাদি হয়ে মতিঝিল থানায় একটি চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করেন। উক্ত মামলায় পুলিশ জাহিদ হাসানকে গ্রেফতার করে। দীর্ঘ চার মাস জেল খেটে জাহিদ হাসান গত সেপ্টেম্বর মাসে বের হয়ে পুনরায় তার দোকানে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের নিয়ে এসে ব্যাপক হামলা চালায়, ভাঙচুর ও লুটপাট করে। এ ঘটনার পর মুন্না মতিঝিল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন। তিনি আরও জানান, একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের পরিচয়ে সন্ত্রাসীরা মতিঝিল এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ব্যাপক চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চালিয়ে আসছে।
এসব সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কেউ কোন প্রতিবাদ করতে পারছে না। সন্ত্রাসীদের ভয়ে ইতিমধ্যেই অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী তাদের ব্যবসা গুটিয়ে নিয়েছেন। এ ব্যাপারে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে প্রধানমন্ত্রী, স্বারাষ্ট্রমন্ত্রী, পুলিশের আইজিসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভোলায় সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্যে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এবং ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য আন্দালিভ রহমান পার্থের উদ্যোগে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ক্যাম্প ও ওষুধ বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত দুই মাস ধরে ৫টি ধাপে ভোলার নির্বাচনী এলাকায় এই চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ বিতরণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। জেলার সদর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে প্রায় ২২ হাজার মানুষ চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ পেয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, অর্থের অভাবে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে না পারা দরিদ্র ও অসহায় মানুষের কাছে চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের বিভিন্ন ধাপে সকাল ১০টা থেকে ভোলা পৌর এলাকার শান্ত নীড় ও ভোলা সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় এবং সদর উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের রতনপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়। এতে বিভিন্ন বয়সী শিশু, নারী ও পুরুষরা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের কাছ থেকে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করেছেন। ২২ হাজারেরও বেশি নারী, পুরুষ ও শিশুদের চিকিৎসা এবং বিনামূল্যে ওষুধ বিতরণ করা হয়েছে।
ক্যাম্পে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগীরা জানান, এখানে বিনা মূল্যে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ নেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ওষুধও পাওয়া যাচ্ছে। তারা অর্থ ব্যয় না করে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন।
রোগী ও তাদের স্বজনেরা তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। তাদের মতে, দরিদ্র মানুষের জন্য এ ধরনের উদ্যোগ চিকিৎসাসেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আরও জানান, অর্থাভাবে যারা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে পারেন না, তাদের দোরগোড়ায় চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়াই এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য। পাঁচটি ধাপে সদর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নে এই কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ পেয়ে উপকৃত হয়েছেন প্রায় ২২ হাজার মানুষ।
আয়োজক কমিটির সদস্য ও বিজেপি ভোলা জেলা সভাপতি আমিরুল ইসলাম রতন ইনকিলাবকে জানান, অর্থাভাবে যারা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের চিকিৎসা সেবা নিতে পারেন না, তাদের দোরগোড়ায় চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়াই এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।
তিনি জানান, পাঁচটি ধাপে ভোলা সদর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নে এই কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা গ্রহণ এবং ওষুধ পেয়ে এ পর্যন্ত উপকৃত হয়েছেন প্রায় ২২ হাজার মানুষ। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থের দেওয়া এই মানবিক চিকিৎসা সেবা চলমান থাকবে বলেও জানান, জেলা বিজেপির এ শীর্ষ প্রবীণ নেতা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সাবেক ওপেনার ইমরুল কায়েস, সংযুক্ত আরব আমিরাতের মাটিতে অনুষ্ঠিত ত্রিদেশীয় সিরিজে বাংলাদেশের হতাশাজনক পারফরম্যান্সে ক্ষুব্ধ। আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ চলাকালে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দল নির্বাচন ও ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্স নিয়ে সরব হয়েছিলেন। এবার দেশের ক্রিকেটের সামগ্রিক চিত্র, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ঘাটতি এবং নিজের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের নানা দিক নিয়ে কথা বলেছেন সাবেক এই ব্যাটার।
নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে বাংলাদেশের খেলা দেখে হতাশার কথা তুলে ধরেন ইমরুল। তিনি মন্তব্য করেন, ‘সত্যি বলতে, বাংলাদেশের খেলা দেখে আমি ভীষণ মর্মাহত হয়েছি। ব্যস্ততার কারণে সব সময় খেলা দেখার সুযোগ হয় না। কিন্তু গতকাল অনেক আশা নিয়ে বাংলাদেশের ম্যাচটি দেখতে বসেছিলাম।’
জাতীয় দলের পারফরম্যান্সের উন্নতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাবেক এই ওপেনার। তার মতে, দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও বাংলাদেশ ক্রিকেট প্রত্যাশা অনুযায়ী এগোতে পারেনি। বরং দলের বর্তমান অবস্থায় অতীতের দুর্বলতার প্রতিচ্ছবি দেখতে পাচ্ছেন তিনি।
ইমরুলের ভাষায়, ‘দলের পারফরম্যান্স দেখে আমার মনে হয়েছে, আমরা যেন আবার সেই ২০০৬-২০০৮ সালের বাংলাদেশ ক্রিকেটের জায়গাতেই ফিরে গেছি। এত বছর পরও যদি আমাদের একই জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকতে হয়, তাহলে আমাদের উন্নতির পথটা আসলে কোথায়?’
নিজের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার নিয়েও আক্ষেপের কথা জানিয়েছেন ইমরুল। বড় কোনো অর্জন কিংবা তারকা পরিচিতি না পেলেও দেশের হয়ে নিজের সামর্থ্যের সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন বলে মনে করেন তিনি। তবে বর্তমান প্রজন্মের ক্রিকেটারদের মতো সুযোগ-সুবিধা, স্বাধীনতা এবং নিজেদের প্রতিভা প্রকাশের অনুকূল পরিবেশ পেলে তার ক্যারিয়ারের চিত্র হয়ত অন্য রকম হতে পারত।
এ প্রসঙ্গে ইমরুল বলেন, ‘অনেক বাধা, প্রতিকূলতা ও সীমাবদ্ধতার মধ্যেও দেশের জন্য নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। মাঝেমধ্যে মনে হয়, বর্তমান প্রজন্মের ক্রিকেটারদের মতো যদি আমরাও আরও বেশি স্বাধীনতা, সুযোগ-সুবিধা এবং নিজেদের মেলে ধরার পরিবেশ পেতাম, তাহলে হয়ত আমার আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যারিয়ারও অন্য রকম হতে পারত।’
বাংলাদেশের ক্রিকেটে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও ধারাবাহিক উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে ইমরুলের এই মন্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ত্রিদেশীয় সিরিজে দলের ব্যর্থতার পর তার বক্তব্যে উঠে এসেছে জাতীয় দলের পারফরম্যান্স নিয়ে হতাশা এবং সাবেক ক্রিকেটারদের সুযোগ-সুবিধা নিয়ে পুরোনো আক্ষেপও।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ