মঙ্গলবার, ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৭:৫৪ পি.এম
শিল্প, বাণিজ্য, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির মন্তব্য করেছেন, উন্নত বাংলাদেশ গড়ার জন্য মেধার বিকল্প নেই। তিনি উল্লেখ করেছেন, বিশ্বের যেসব দেশ উন্নতি সাধন করেছে, তারা শিক্ষা, গবেষণা এবং নতুন উদ্ভাবনে বিনিয়োগ করেছে। এই বিনিয়োগ শুধুমাত্র দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করে না, বরং দেশের সামগ্রিক উন্নতির একটি শক্ত ভিত্তি গড়ে তোলে। তিনি বলেন, "আমরা এসব বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছি।"
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে সিলেট সিটি কর্পোরেশন ও সিলেট সদর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী আরও বলেন, "বাংলাদেশে অনেক মেধাবী ফ্রিল্যান্সার রয়েছেন, যারা প্রতি মাসে ৫০ থেকে ৬০ হাজার ডলার পর্যন্ত আয় করছেন।" তিনি জানান, সিলেটে একটি এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে মেধাবী শিক্ষার্থীরা তাদের সুপ্ত প্রতিভাকে কাজে লাগানোর সুযোগ পাবে। তারা নিজেদের উন্নতির পাশাপাশি জ্ঞান-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে বাংলাদেশকে আরও এগিয়ে নিতে ভূমিকা রাখতে পারবে।
তিনি শিক্ষার্থীদের মেধা ও দক্ষতাকে কাজে লাগানোর জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ সৃষ্টি করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, "তাদের সামনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে হবে, যাতে তারা নিজেদের প্রস্তুত করতে পারে।"
শিক্ষার্থীদের মাদক থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়ে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, "শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় অনেক সময় ব্যয় করতে হয়। তাই মাদকের পেছনে সময় ব্যয় করার সুযোগ নেই।" তিনি সতর্ক থাকার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন যাতে কেউ মাদকে জড়িয়ে না পড়ে। তিনি বলেন, "নিজেদের মাদক থেকে দূরে রাখতে হবে এবং অন্যদেরও মাদক থেকে দূরে থাকার বিষয়ে সচেতন করতে হবে।"
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, অতীতে সিলেটের অনেক মেধাবী মানুষ দেশ ও সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিয়েছেন। কিন্তু নানা কারণে বর্তমানে আমরা পিছিয়ে পড়েছি। তিনি বলেন, "এই অবস্থার পরিবর্তন করতে হলে শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।"
তিনি আরও জানান, সিলেটের শিক্ষাক্ষেত্রকে আরও এগিয়ে নিতে তারা নানা উদ্যোগ গ্রহণ করছেন। তিনি বলেন, "দেশের বিভিন্ন পেশা ও গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সিলেটের মানুষের অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে।" তিনি সতর্ক করেন যে, "বিভিন্ন পেশায় আমাদের যোগ্য ও দক্ষ প্রতিনিধিত্ব না থাকলে আঞ্চলিক উন্নয়ন ও বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি হয়।"
সিলেটের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সিলেট সদর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা অভিজিত কুমার পাল।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. খায়রুল ইসলাম, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর সিলেট অঞ্চলের পরিচালক প্রফেসর ড. দিদার চৌধুরী, সিলেট ক্যাডেট কলেজের অধ্যক্ষ আ ফ ম মোরতাহিন বিল্লাহ এবং সিলেট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোশনূর রুবাইয়াত।
এবার সিলেট সিটি কর্পোরেশন ও সিলেট সদর উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে মোট ১ হাজার ৬৭৭ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। এর মধ্যে এসএসসিতে ১ হাজার ৫৫৫ জন, মাদ্রাসায় ৯১ জন এবং ভোকেশনালে ৯ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে।
অনুষ্ঠানে কৃতী শিক্ষার্থীদের পক্ষে অনুভূতি প্রকাশ করেন রেজওয়ানা হালিম তাহিয়া ও আহমেদ ওয়াকিল।
এ সময় সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন, সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে কৃতী শিক্ষার্থীদের হাতে ক্রেস্ট তুলে দেন প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথি ও অন্যান্য অতিথিরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বরিশাল, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : আজ বিভাগীয় প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা শিশুদের প্রতি সহিংসতা বন্ধ বিষয়ক দ্বিতীয় বৈশ্বিক মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনের প্রস্তুতির অংশ।
মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে মঙ্গলবার বেলা ১১টায় বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ।
বিভাগীয় কমিশনার তাঁর বক্তৃতায় উল্লেখ করেন, "শিশুরা দেশের ভবিষ্যৎ।" তিনি বলেন, অর্থনৈতিক সংকট, দারিদ্র্য, পারিবারিক অসচেতনতা ও শিক্ষার সুযোগের অভাবে অনেক শিশু এখনো বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ ও কষ্টসাধ্য কাজে যুক্ত হচ্ছে। শিশুশ্রম তাদের স্বাভাবিক শারীরিক ও মানসিক বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করে এবং শিক্ষাজীবন থেকে তাদের দূরে সরিয়ে দেয়।
তিনি আরো বলেন, "শিশুশ্রম বন্ধে শুধু আইন প্রয়োগ করলেই হবে না, এর পাশাপাশি দরিদ্র পরিবারের আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, ঝরে পড়া শিশুদের বিদ্যালয়ে ফিরিয়ে আনা এবং অভিভাবকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে হবে।" তিনি উল্লেখ করেন, কলকারখানা, দোকানপাট, পরিবহনসহ বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রে শিশুশ্রমের ব্যবহার বন্ধে নিয়মিত নজরদারি ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, "কোনো অবস্থাতেই শিশুদের ওপর অমানবিক আচরণ কাম্য নয়।" অতিরিক্ত শাসন না করে ভালোবাসার মাধ্যমে শিশুদের সংশোধনের চেষ্টা করার আহ্বান জানান তিনি। কর্মব্যস্ততার পাশাপাশি মা-বাবাকে সন্তানদের জন্য পর্যাপ্ত সময় দিতে হবে, বিশেষ করে পারিবারিক বন্ধন শক্তিশালী করা জরুরি।
সভাটি সহকারী কমিশনার মো. ইশতিয়াক হাসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি মো. জুলফিকার আলী হায়দার, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মো. আহসান হাবিব, উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আব্দুল হান্নান, বিভাগীয় সমাজসেবা অফিসের পরিচালক শাহ মো. রফিকুল ইসলাম, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মেহেরুন নাহার মুন্নি এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা এবায়দুল হক চাঁন।
এ সময় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিনিধি, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকবৃন্দ, সরকারি-বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধি, শিশু প্রতিবন্ধী কমিটির সদস্য, শিশু ও কিশোর-কিশোরীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, সভায় শিশুদের প্রতি সহিংসতা নিরসনের ওপর ইউনিসেফ বাংলাদেশের বরিশাল ও খুলনা অঞ্চলের প্রধান মোহাম্মদ কাওসার হোসেন একটি ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অংশগ্রহণ করেছেন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে।
এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ইভেন্ট, যেখানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতারা একত্রিত হন।
প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি এই অধিবেশনের গুরুত্বকে বাড়িয়ে তোলে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র 'রামদাস বিল'-এর সৌন্দর্য বর্ধন ও পরিবেশ সুরক্ষায় বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে উপজেলা প্রশাসন। এরই অংশ হিসেবে বিলে আনুষ্ঠানিকভাবে তালগাছের চারা রোপণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
মঙ্গলবার বিকেলে রহনপুর ও রাধানগর ইউনিয়নের অন্তর্গত এই রামদাস বিলে তালগাছ রোপণ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিল্লুর রহমান।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রকৌশলী আছহাবুর রহমান, পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা রাইসুল ইসলাম এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ফিল্ড সুপারভাইজার মাসুম। এছাড়া স্থানীয় সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে রহনপুর রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি আবদুল্লাহ আল মামুন নাহিদ, সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম দোয়েল, সাংবাদিক জুলকারনাইন ও ইমরান আলী নিশান বাবু সহ অন্যান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
তালগাছ রোপণকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিল্লুর রহমান বলেন, “রামদাস বিল এ অঞ্চলের অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি পর্যটন কেন্দ্র। এই স্থানটিকে আরও আকর্ষণীয় ও মনোরম করে তুলতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় পুরো বিল এলাকায় প্রায় দেড় হাজার তালগাছের চারা রোপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।”
প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বৃদ্ধির পাশাপাশি বজ্রপাত প্রতিরোধ ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এই তালগাছ রোপণ উদ্যোগ বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শ্রীলঙ্কার হাইকোর্ট ২০১৯ সালের খ্রিস্টীয় ইস্টারের দিনে সংঘটিত রক্তক্ষয়ী সিরিজ বোমা হামলার মামলায় ১৫ জনকে দোষী সাব্যস্ত করেছে। এই হামলায় ২৭০ জন প্রাণ হারিয়েছিল এবং ৫০০ জনেরও বেশি আহত হয়েছিল।
আদালতের বিচারের শেষে প্রধান পরিকল্পনাকারী নাওফার মৌলভীসহ ১৫ আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। একই মামলায় অপর ৯ আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
২০০৯ সালে দীর্ঘ গৃহযুদ্ধের সমাপ্তির পর এটি শ্রীলঙ্কার ইতিহাসে সবচেয়ে মারাত্মক সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। তিনটি গির্জা এবং তিনটি বিলাসবহুল হোটেলে সংঘটিত এই আত্মঘাতী হামলায় ৪৫ জন বিদেশী নাগরিকও নিহত হন।
মামলায় মোট ২৫ জন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে হত্যা, সন্ত্রাসবাদের ষড়যন্ত্র এবং আগ্নেয়াস্ত্র রাখার মতো ২৩,০০০-এরও বেশি ধারায় অভিযোগ গঠন করা হয়েছিল। বিচার চলাকালীন ২,৩০০ জনেরও বেশি সাক্ষী প্রসিকিউশনের পক্ষে সাক্ষ্য দেন এবং হাজার হাজার আলামত আদালতে উপস্থাপন করা হয়।
হামলার পর শ্রীলঙ্কা সরকারের গোয়েন্দা ব্যর্থতা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। জানা যায়, ভারত থেকে হামলার বিষয়ে আগাম সতর্কবার্তা পাওয়া সত্ত্বেও তা কার্যকর করা হয়নি। গোয়েন্দা ব্যর্থতার জন্য ২০২৩ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনাকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেয় সর্বোচ্চ আদালত। এছাড়া, দায়িত্বে অবহেলার কারণে সম্প্রতি দেশটির দুই সাবেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
নিহতদের স্বজন এবং সাধারণ মানুষ দীর্ঘ সময় ধরে এই হামলার বিচার ও ন্যায়বিচারের দাবিতে আন্দোলন করে আসছিলেন। আদালতের এই রায়কে বিচার পাওয়ার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ