মঙ্গলবার, ১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৫:৪৩ পি.এম
তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে কুড়িগ্রামের রাজারহাটে ভাঙন শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে হঠাৎ করে বাঁধে ভাঙন দেখা দেয়।
এখন পর্যন্ত উপজেলার বুড়িরহাট এলাকার ক্রসবাঁধের ৪০ মিটার অংশ নদীগর্ভে চলে গেছে। স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে, কারণ দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে বাঁধটি ভেঙে গেলে বড়দারগা, বুড়িরহাট, রামহরি, চতুরা, কালিরমেলা ও ডাংরারহাট গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়বে। বসতভিটা, ফসলি জমি এবং অন্তত পাঁচটি বাজার নদীতে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, তিস্তা নদীর কাউনিয়া স্টেশনে মঙ্গলবার সকাল ৬টায় পানির উচ্চতা ছিল ২৮ দশমিক ৭৩ মিটার এবং সকাল ৯টায় তা ২৮ দশমিক ৭৫ মিটার।
ওই স্টেশনে তিস্তার বিপৎসীমা ২৯ দশমিক ৩১ মিটার। স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার সকাল ৭টা থেকে বুড়িরহাট ক্রসবাঁধের কিছু অংশে হঠাৎ ভাঙন শুরু হয়। পরে বাঁধের উত্তর ও দক্ষিণ পাশে ভাঙন ছড়িয়ে পড়ে। নদীর স্রোত তীব্র থাকায় বাঁধের নিচের অংশের মাটি ও বালু সরে যাওয়ার কারণে পরিস্থিতি আরো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. সালাম মিয়া অভিযোগ করেন, “গতকাল আমরা দেখেছি নদীর স্রোত অনেক বেশি ছিল। গত বছরের মতো এবারও ভাঙনের লক্ষণ দেখেছিলাম। আশঙ্কার কথা অনেককে জানিয়েছি। কিন্তু তখন কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।”
বুড়িরহাট এলাকার আরেক বাসিন্দা মাইদুল ইসলাম (৩৫) বলেন, “শুকনা মৌসুমে এখানে বালু ছিল।
একটা জায়গা অল্প দেবে গিয়েছিল। তখন কাজ করা হয়নি। এখন পানি বেড়েছে, বালু নেই, কীভাবে ভাঙন সামলাবে?”
এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান বলেন, “বুড়িরহাট ক্রসবাঁধে হঠাৎ ভাঙন দেখা দেওয়ার খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। ভাঙন রোধে জিও ব্যাগ ফেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আশা করি দ্রুত ভাঙন রোধ করা সম্ভব হবে।”
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সাবেক সংসদ সদস্য এ এম নাঈমুর রহমান দুর্জয়ের স্ত্রী ফারহানা রহমান হ্যাপি, ঘিওরের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান জনি এবং যুবলীগ নেতা মো. আবুল বাশারকে সম্পদ বিবরণী দাখিলের নির্দেশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
আজ দুদক প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত নিয়মিত ব্রিফিংয়ে কমিশনের জনসংযোগ বিভাগের উপপরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম এই তথ্য প্রকাশ করেন।
দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধানে তাদের নামে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদ এবং অস্বাভাবিক আর্থিক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। এই প্রেক্ষাপটে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(১) ধারা অনুযায়ী সম্পদ বিবরণী দাখিলের আদেশ জারির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
দুদক জানায়, সাবেক সংসদ সদস্য এ এম নাঈমুর রহমান দুর্জয়ের স্ত্রী ফারহানা রহমান হ্যাপির নামে ১ কোটি ৩৯ লাখ ৬৭ হাজার ১৬৭ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। তাঁর অর্জিত সম্পদের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ উদঘাটন এবং আয়ের উৎসের সঠিকতা যাচাইয়ের জন্য এই আদেশ প্রদান করা হচ্ছে।
এছাড়া, মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান জনির নামে ৬৯ লাখ ৯৪ লাখ ১৮৪ টাকার অসংগতিপূর্ণ সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। তাঁর স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের সঠিক হিসাব বের করার জন্য দুর্নীতি দমন কমিশন আইন অনুযায়ী একই আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, যুবলীগ নেতা মো. আবুল বাশারের বিরুদ্ধে ২০১০ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত অবৈধ বালু ব্যবসা, দুর্নীতি এবং অর্থ পাচারের (মানি লন্ডারিং) মাধ্যমে বিপুল অর্থ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। তাঁর মালিকানাধীন ১৪টি ব্যাংক হিসাবে মোট ৮৬ কোটি ৮০ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪৯ টাকার অস্বাভাবিক লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
দুদকের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আবুল বাশারের নামে আরও বেনামী স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ থাকতে পারে। তাই তাঁর অর্জিত সব সম্পদের উৎস এবং সত্যতা যাচাইয়ের জন্য সম্পদ বিবরণী দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া, সাবেক সংসদ সদস্য এ এম নাঈমুর রহমান দুর্জয়ের বিরুদ্ধে ১ কোটি ২১ লাখ ৮১ হাজার ৭৯০ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং ২২টি ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে ৯৩ কোটি ৬৫ লাখ ৯৯ হাজার ৬৫০ টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগে ২০২৪ সালের ১৮ ডিসেম্বর দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় (সজেকা), ঢাকা-১-এ একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।
দুদক প্রধান কার্যালয়ের পরিচালক মো. আবুল হাসনাতের নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের অনুসন্ধান দল এই বিষয়ে তদন্ত পরিচালনা করছে। দলের অন্য সদস্যরা হলেনÑসহকারী পরিচালক তাপস ভট্টাচার্য্য এবং উপ-সহকারী পরিচালক ওয়াশকুরুনী।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জেলার সদর উপজেলার বেগমপুর কলোনি পাড়ার হুমায়ুন কবীর ফরাজী (৫১) কৃষিতে বৈচিত্র্য ও আধুনিকতার ছোঁয়া এনে সফলতার নতুন উদাহরণ স্থাপন করেছেন।
তিনি চুয়াডাঙ্গায় প্রথমবারের মতো ‘ভ্যানিলা’ চাষ করে সাধারণ সবজি ও ফল চাষের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে এলাকায় সাড়া ফেলেছেন। চার বছরের নিবিড় পরিচর্যার পর এবার ভ্যানিলার গাছে ফুল থেকে ফল ধরেছে। বরবটির মতো দেখতে বিদেশি এ ফল দেখার জন্য অনেকেই তার খামারে ভিড় করছেন। হুমায়ুন কবীর তার সমন্বিত খামারের নাম দিয়েছেন ‘নিউ কামাল এগ্রো’। এই খামার ১৮ বিঘা জমির উপর প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বর্তমানে তার খামারে ভ্যানিলা, কাশ্মীরি কলা, পেঁপে ও ড্রাগন ফল চাষ হচ্ছে। এছাড়া তিনি ছাগল, দুম্বা, ভেড়া ও গরু পালন করছেন।
হুমায়ুন কবীর, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার দর্শনা থানার বেগমপুর গ্রামের মৃত কামাল উদ্দীন ফরাজী ও রাশেদা বেগমের পাঁচ পুত্র ও দুই কন্যার মধ্যে সেজো ছেলে। তিনি দুই সন্তানের জনক।
চুয়াডাঙ্গা জেলা শহর থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত বেগমপুর কলোনি পাড়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, হুমায়ুনের ‘নিউ কামাল এগ্রো’ খামারের এক প্রান্তে থাকার জন্য দুটি কক্ষ নির্মিত হয়েছে। এর একপাশে ডেইরি খামার এবং অন্য পাশে দুম্বা, ছাগল ও ভেড়ার খামার রয়েছে। কিছুটা সামনে এগোলেই রয়েছে ভ্যানিলা বাগান। ১০ কাঠা জায়গা নেট দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে। নেটের ভিতরে ৬০০ থেকে ৭০০ পিলারে লতায়-পাতায় ঝুলছে ভ্যানিলা গাছ। গাছের আগার দিকে ঝুলে আছে ভ্যানিলা ফল। প্রতিটি ফল ৮ থেকে ১০ ইঞ্চি লম্বা, যা বরবটি সবজির মতো দেখতে সবুজ রঙের। কিছুদিন পর হালকা বাদামি রং ধারণ করলে গাছ থেকে ফলটি তোলা যাবে। ভ্যানিলা বাগানের পাশে ড্রাগন ও কাশ্মীরি কলা রয়েছে।
বাসসের সাথে আলাপচারিতায় হুমায়ুন কবীর জানান, কর্মজীবনে তিনি দীর্ঘদিন আম এবং নানারকম ফলের ব্যবসা করেছেন। ঢাকার কাওরান বাজারে তার বাবার কুষ্টিয়া ভান্ডার নামে একটি ফলের আড়ত রয়েছে। সেখান থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে ২০ বছর আগে তিনি আধুনিক ফল চাষে নামার সিদ্ধান্ত নেন। সেই থেকেই তিনি নিজ জেলায় শুরু করেন নানান রকম ফলের চাষ। শুরুতে তিনি লিচু, ড্রাগন, মার্লবেরি ও অ্যাভোকাডোর চাষ শুরু করেন। এরপর চার বছর আগে পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে পেনিফোলিয়া জাতের ভ্যানিলার চারা কিনে আনেন। পরীক্ষামূলকভাবে নিজের ১০ কাঠা জমিতে পিলার করে গ্রিন হাউস প্রক্রিয়ায় চাষ শুরু করেন। চার বছরে পুরো চাষ প্রক্রিয়ায় তার খরচ হয়েছে প্রায় ৯ লাখ টাকা। নানা চড়াই উৎরাই পেরিয়ে বর্তমানে সেই ভ্যানিলার গাছে প্রথমবারের মতো ফুল থেকে ফল এসেছে। চলতি বছরে তার বাগানের ভ্যানিলা বিক্রি করে ৬ থেকে ৭ লাখ টাকা আয় হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, "১০ কাঠা জমিতে ভ্যানিলা চাষ করেছি, ২০২২ সালেই এই চারাগুলো আমি সংগ্রহ করি। ইউটিউবে এবং ভ্যানিলার প্রজেক্ট প্রোগ্রামে আমি অংশগ্রহণ করি। প্রথমত পার্শ্ববর্তী দেশে গিয়ে এই চারাগুলো দেখি ও রোপণের পদ্ধতি জেনে নিই। সেখানে থেকে উদ্বুদ্ধ হয়ে আমি চারাগুলো ২০২২ সালে লাগিয়েছি। এখন এই গাছগুলোতে ফুল ও ফল এসেছে। এই ফলগুলো এক থেকে দেড় মাস পরে উত্তোলন করা যাবে। ভ্যানিলার ভিতরে রং অনেকটা সুরমার রঙের মতো। চলতি মৌসুমে তার জমি থেকে প্রায় ১২০ কেজি ভ্যানিলা উৎপাদন হবে।"
জানা যায়, বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি ভ্যানিলা প্রকারভেদে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যদি বাজার ঠিক থাকে তাহলে ৭ থেকে ৮ লাখ টাকায় ফলগুলো বিক্রি করা যাবে। ভ্যানিলা চাষে অনেক ধৈর্য্য লাগে। তার ভ্যানিলা বাগান পরিচর্যার জন্য দৈনিক চার জন শ্রমিক নিয়োজিত রয়েছে। এছাড়া অন্যান্য কাজে আরো ৬ থেকে ৭ জন শ্রমিক নিয়োগ করা হয়। এটি খুব সম্ভাবনাময় একটি ফসল। বাংলাদেশে বাণিজ্যিকভাবে ভ্যানিলা চাষ করা হলে দেশের চাহিদা মিটিয়ে এটি বিদেশেও রপ্তানি করা যাবে।
কৃষি বিশেষজ্ঞরা জানান, বাংলাদেশের আবহাওয়া ভ্যানিলা চাষের জন্য পুরোপুরি উপযোগী নয়। তবে গ্রিন হাউজ করে ছায়াযুক্ত স্থানে এটি চাষ করা সম্ভব। ভ্যানিলা চাষের জন্য সহনীয় তাপমাত্রা ১৬ থেকে ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস এর মধ্যে থাকতে হয়।
হুমায়ুন কবীর ২০২২ সালে এক লাখ টাকা খরচ করে পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে ১৫০ মিটার ভ্যানিলা লতা নিয়ে আসেন। পরে সেগুলো একটি করে গিঁট রেখে ছোট ছোট করে কেটে প্রায় হাজার খানেক চারার পাতো দেন। চার মাস পাতো দেওয়ার পর সেগুলো রোপণ করা হয়। এর আগে বেলে-দোঁআশ মাটি ও জৈব সার মিশিয়ে মাটি তৈরি করেন। ভ্যানিলার পাতো সেই মাটিতে রোপণ করা হয়। ভ্যানিলা স্যাঁতস্যাঁতে পরিবেশের ফসল হওয়ায় প্রতিনিয়ত এখানে পানি স্প্রে করতে হয়। ভ্যানিলা গাছ আস্তে আস্তে বড় হচ্ছে, এর লতা-পাতা আশেপাশে ছড়িয়ে পড়ছে। ভ্যানিলা গাছ রোপণের ৪ থেকে ৫ বছর পর ফল দিতে শুরু করে। বছরে দুইবার ফল ধরে। সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবর সময়ে ফলের পরিমাণ বেশি থাকে। ফল তোলার পর এর ডগা কেটে পাতো দিতে হয়। আর এই পাতো জমিতে রোপণ করা যায়।
ভ্যানিলায় তেমন একটা রোগ বালাই দেখা যায় না। তবে কিছু ছত্রাকনাশক ও কীটনাশক প্রয়োগে হালকা কিছু রোগ বালাই হলে তা দমন করা যায়। এপ্রিল থেকে মে মাসের মধ্যেই ভ্যানিলা গাছে ফুল আসে। এরপর পরিচর্যা করলে খুব দ্রুতই ফুল থেকে ফলে রূপান্তরিত হয়। অক্টোবর মাসের মধ্যেই ফলগুলো পরিপক্ব হয়ে যায়। গাছ থেকে ফল তোলার পর ৬০ থেকে ৭০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় তিন মিনিট করে শেকিং বা সেদ্ধ করা হয়। এভাবে তিন বার সেকিং করা হয়। তারপর এই সেদ্ধ ফলগুলো রোদে শুকিয়ে বাজারজাত করা হয়। প্রতি কেজি শুকনো ভ্যানিলা ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন পাঁচতারকা হোটেল ও বড় বড় ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানিগুলো ভ্যানিলার ক্রেতা।
চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার বলেন, সদর উপজেলার বেগমপুর ইউনিয়নের কলোনীপাড়ায় হুমায়ুন কবির ফরাজী নিজে উদ্যোগী হয়ে ১০ কাঠা জমিতে ভ্যানিলা চাষ করেছেন। চার বছর পরে এবারে ফুল ও ফল এসেছে। আশা করি আগামী এক থেকে দেড় মাসের মধ্যেই উনি সব ফল সংগ্রহ করতে পারবেন।
তিনি বলেন, "এ ব্যাপারে আসলে যে টেকনোলজি আছে, এই টেকনোলজিগুলোর সম্পর্কে আরো যদি একটু আমরা জানতে পারি বা আমাদের গবেষকরা যদি এটি নিয়ে আরো একটু গবেষণা করে ভবিষ্যতে ভ্যানিলা চাষ সম্প্রসারণ সম্ভব। যেহেতু ভ্যানিলা একটি অত্যন্ত উচ্চমূল্যের ফসল, এর সম্প্রসারণ ঘটাতে পারলে দেশের চাহিদা পূরণ করে দেশের বাইরেও রপ্তানি করা সম্ভব। রপ্তানি করলে আমাদের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হবে। আবার বাইরে থেকে ভ্যানিলা আমদানির খরচও লাগবে না। এর সাথে সংশ্লিষ্ট কাজে বেশ কিছু লোকের কর্মসংস্থানও হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
অবশেষে আফগান নাগরিক হাসমতের মরদেহ স্বদেশের পথে পাঠানো হলো।
দীর্ঘ আইনি ও দাপ্তরিক প্রক্রিয়ার পর, দাফনের ১৪০ দিন পর ঝিনাইদহ পৌর কেন্দ্রীয় কবরস্থান থেকে আফগানিস্তানের নাগরিক হাসমত মোহাম্মদীর মরদেহ উত্তোলন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের উপস্থিতিতে কবর থেকে মরদেহটি উত্তোলন করে তাঁর ছোট ভাই ইমাল মোহাম্মদীর কাছে হস্তান্তর করা হয়।
মরদেহ উত্তোলনের সময় উপস্থিত ছিলেন ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান, মেডিক্যাল কর্মকর্তা ডা. ফারহানা তাসনিম, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও মহেশপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) টিপু সুলতান, নিহতের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাহমুদুল হাসান মাসুম, নিহতের ভাই ইমাল মোহাম্মদী, ঝিনাইদহ আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলামের দুলাল হোসেন এবং বিভিন্ন সরকারি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধিরা।
মরদেহ হাতে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ইমাল মোহাম্মদী। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বাংলাদেশ সরকার, ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসন, পুলিশ বিভাগ ও স্থানীয় সাংবাদিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
ইমাল বলেন, ‘অসুস্থ মায়ের কাকুতি-মিনতির কারণে আমার ভাইয়ের নিথর দেহটি অন্তত নিজের দেশের মাটিতে নিয়ে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করতে পারছি—এটাই আমাদের জন্য পরম সান্ত্বনা।
দীর্ঘ প্রতীক্ষায় বাংলাদেশ সরকার ও ঝিনাইদহের স্থানীয় প্রশাসন আমাদের যে আন্তরিক সহযোগিতা করেছে, তার জন্য আমরা চিরকৃতজ্ঞ।’
নিহতের বাংলাদেশি আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাহমুদুল হাসান মাসুম বলেন, স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত অনুমোদন এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই মরদেহ উত্তোলনের অনুমতি পাওয়া গেছে।
তিনি বলেন, ‘স্থানীয় সাংবাদিকদের জোরালো সংবাদ প্রকাশ ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে বিষয়টি দ্রুত দাপ্তরিক গুরুত্ব পেয়েছে।’
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান বলেন, ‘আইনি সব নিয়মকানুন মেনে এবং প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেই আফগান নাগরিক হাসমত মোহাম্মদীর মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করে তাঁর স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।এর আগে গত ১৩ এপ্রিল ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার পলিয়ানপুর সীমান্তসংলগ্ন ইছামতী নদী থেকে হাসমত মোহাম্মদীর ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ ও বিজিবি। পরে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) জাতীয় পরিচয়পত্রের ডেটাবেজে তাঁর পরিচয়ের কোনো মিল না পাওয়ায় ১৪ এপ্রিল আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলামের মাধ্যমে তাঁকে বেওয়ারিশ হিসেবে ঝিনাইদহ পৌর কেন্দ্রীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়।
পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত মরদেহের ছবি দেখে পরিবারের সদস্যরা হাসমত মোহাম্মদীকে শনাক্ত করেন। এরপর তাঁর মরদেহ স্বদেশে ফিরিয়ে নিতে বাংলাদেশে আসেন ছোট ভাই ইমাল মোহাম্মদী।
প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহ ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে প্রায় ৫৮ দিন বাংলাদেশে অবস্থান করেন ইমাল।
শেষ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অনাপত্তিপত্র পাওয়ার পর মঙ্গলবার দাফনের ১৪০ দিন পর কবর থেকে মরদেহ উত্তোলন করা হয়। পরে মরদেহ নিয়ে আফগানিস্তানের উদ্দেশে রওনা হন তাঁর স্বজনেরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের ওপর যুক্তরাজ্যের সার্বভৌমত্বের প্রতি মার্কিন সমর্থন পুনর্বিবেচনার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সামনে এই মন্তব্য করেন, যা ওয়াশিংটন ও লন্ডনের মধ্যে বহুল আলোচিত বিশেষ সম্পর্কের মধ্যে নতুন টানাপোড়েন সৃষ্টি করতে পারে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে, ট্রাম্প বলেন, দক্ষিণ আটলান্টিকের এই দ্বীপপুঞ্জটির ওপর যুক্তরাজ্যের অবস্থান পর্যালোচনা করা হচ্ছে কি না, তিনি সব সময়ই প্রতিটি অবস্থান পর্যালোচনা করে দেখেন এবং এটিও তেমনই অনেকগুলোর মধ্যে একটি।
ঐতিহাসিকভাবে, যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরের এই দ্বীপপুঞ্জটির ওপর দাপ্তরিকভাবে একটি নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রেখে আসছে, তবে বাস্তবে দেশটি ব্রিটিশ শাসনকেই স্বীকৃতি দিয়ে থাকে। ১৭শ শতাব্দীর শেষের দিকে যুক্তরাজ্য প্রথম এই দ্বীপপুঞ্জটি দাবি করে এবং ১৮৩৩ সাল থেকে প্রায় অবিচ্ছিন্নভাবে এটি নিয়ন্ত্রণ করে আসছে। ১৯৮২ সালে আর্জেন্টিনা অঞ্চলটি আক্রমণ করলে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ সংঘটিত হয়।
ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যের প্রেক্ষিতে যুক্তরাজ্য সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ব্রিটেনের নতুন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের সরকারের ওপর প্রতিরক্ষা বাজেট বৃদ্ধি এবং ন্যাটোতে অবদান বাড়ানোর জন্য চাপ প্রয়োগ করতে ট্রাম্প এই সীমান্ত বিরোধটিকে একটি হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন। গত সপ্তাহে দ্য টেলিগ্রামকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এক নাম প্রকাশ না করা মার্কিন কর্মকর্তা জানান, ব্রিটেন যদি তার প্রতিরক্ষা ব্যয়ের প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থ হয়, তবে ওয়াশিংটন এই দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে তার অবস্থান বদলে ফেলতে পারে। ২৮ অক্টোবর যুক্তরাজ্যের অর্থমন্ত্রী জন হিলি তার প্রথম বাজেট পেশ করার কথা রয়েছে, যেখানে ২০৩০ সালের মধ্যে প্রতিরক্ষা খাতে জিডিপির তিন শতাংশ বরাদ্দ করার পূর্ব প্রতিশ্রুতি থেকে ব্রিটেন সরে আসতে পারে বলে গুঞ্জন ওঠার পরপরই ট্রাম্পের দিক থেকে এই রাজনৈতিক চাপটি এলো।
ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের উভয় মেয়াদেই মার্কিন মিত্রদের প্রতিরক্ষা বাজেট বাড়াতে এবং ন্যাটোতে চাঁদার পরিমাণ বাড়াতে কঠোর চাপ প্রয়োগ করে আসছেন। অন্যান্য দেশকে বিনামূল্যে সুবিধা ভোগকারী হিসেবে অভিযুক্ত করার ধারাবাহিকতায় গত বছর হেগ সম্মেলনে ন্যাটো মিত্ররা ২০৩৫ সালের মধ্যে প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত ব্যয়ে জিডিপির পাঁচ শতাংশ খরচ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। এর আগে গত এপ্রিল মাসে পেন্টাগনের একটি ফাঁস হওয়া ইমেইলে দেখা গিয়েছিল যে, ট্রাম্পের ইরান নীতিতে ব্রিটেনের সমর্থনের অভাবের জবাব হিসেবে দেশটির ফকল্যান্ড দাবির বিষয়টি পুনর্বিবেচনার প্রস্তাব রাখা হয়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্র যদি ফকল্যান্ডের ওপর থেকে তার সমর্থনের অবস্থান সরিয়ে নেয়, তবে তা হবে ব্রিটেনের সার্বভৌমত্ব ভাবমূর্তির জন্য একটি বড় ধরনের মনস্তাত্ত্বিক ধাক্কা। ১৯৮২ সালে আর্জেন্টিনার আক্রমণের পর তৎকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচারের সরকার একটি নৌ টাস্কফোর্স পাঠিয়ে দ্বীপটি পুনরুদ্ধার করে। সেই সময়ে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগান আর্জেন্টিনার সামরিক জান্তার সাথে সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও থ্যাচার সরকারের পক্ষে শক্ত কূটনৈতিক অবস্থান নিয়েছিলেন। সেই যুদ্ধে প্রায় ৬৪৯ জন আর্জেন্টিনীয় এবং ২৫৫ জন ব্রিটিশ সামরিক সদস্য নিহত হয়েছিলেন।
সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্প আর্জেন্টিনার পপুলিস্ট প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেইয়ের খুব কাছাকাছি এসেছেন, যিনি গত বছরের জানুয়ারিতে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের অভিষেক অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। অর্থনৈতিক সংকটে পড়া আর্জেন্টিনাকে ২০ বিলিয়ন ডলারের আর্থিক সহায়তার অনুমোদন দিয়েছিলেন ট্রাম্প। তবে শর্ত ছিল পরবর্তীতে মিলেইয়ের দলকে সংসদীয় নির্বাচনে জয়ী হতে হবে। জরিপকারীদের পূর্বাভাস ভুল প্রমাণ করে সেই নির্বাচনে মিলেইয়ের দল জয়লাভ করে এবং পরক্ষণেই ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে আর্জেন্টিনার গরুর মাংস আমদানির অনুমতি দেন।
ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের ওপর আর্জেন্টিনার দাবির পক্ষে প্রেসিডেন্ট মিলেই শুরু থেকেই সোচ্চার। তবে অন্যদিকে ২০১৩ সালের এক গণভোটে ফকল্যান্ডের ১৫১৭ জন ভোটারের মধ্যে ১৫১৩ জনই যুক্তরাজ্যের অংশ হিসেবে থাকার পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন। এই ভূখণ্ড নিয়ে জনগণের আবেগ কতটা তীব্র, তা দেখা গিয়েছিল গত জুলাই মাসে ফুটবল বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ২-১ গোলে জয়ের পর। তৎকালীন উদযাপনের সময় আর্জেন্টিনীয় ফুটবলাররা ফকল্যান্ড আর্জেন্টিনার লেখা একটি ব্যানার প্রদর্শন করেছিলেন।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ