ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

সেবক সংগঠনের উদ্যোগে জুনিয়র রোড সেফটি স্কুল প্রোগ্রাম আয়োজন


সেবক সংগঠনের উদ্যোগে জুনিয়র রোড সেফটি স্কুল প্রোগ্রাম আয়োজন

বাংলাদেশের প্রতিটি স্কুলে রোড সেফটি প্রোগ্রামের প্রশিক্ষণ আয়োজনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারপারসন মনসুর আহমেদ চৌধুরী। তিনি জানিয়েছেন, সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে এই উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার রোড-১৩, ব্লক-এ অবস্থিত ফোকাস স্কুল প্রাঙ্গণে ‘জুনিয়র রোড সেফটি স্কুল প্রোগ্রাম’ আয়োজন করে অরাজনৈতিক, অলাভজনক ও স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠন ‘সেবক’। সড়ক দুর্ঘটনা ও যানজটমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে স্কুল শিক্ষার্থীদের সড়ক ও যানবাহন ব্যবহারে সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে এই প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মনসুর আহমেদ চৌধুরী বলেন, "সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে বাংলাদেশের প্রতিটি স্কুলে এ ধরনের প্রশিক্ষণ আয়োজন করা প্রয়োজন।" তিনি আরও মন্তব্য করেন যে, সেবকের ২২টি বিষয়ের ওপর প্রশিক্ষণ শিক্ষার্থীদের সড়ক ও যানবাহন ব্যবহারে আরো সচেতন করে তুলবে।

আরও পড়ুন: প্রাথমিক শিক্ষকদের ৩ দাবি আদায়ে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা

তিনি উল্লেখ করেন, "আজকের শিশুরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। তারাই ভবিষ্যতে গাড়ির মালিক, যাত্রী, পথচারী কিংবা চালক হবে।" তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, তারা গড়ে তুলবে সড়ক দুর্ঘটনা ও যানজটমুক্ত বাংলাদেশ, ইনশাআল্লাহ।

বিশেষ অতিথি মো. আব্দুল বারী বলেন, সেবক নিজস্ব অর্থায়নে যে কার্যক্রম শুরু করেছে, তা দ্রুত দেশব্যাপী সম্প্রসারণ করা সংগঠনটির জন্য কঠিন। তিনি মন্তব্য করেন, "সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় এ ধরনের কর্মসূচি দ্রুত সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া প্রয়োজন।"

তিনি আরও বলেন, সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ সড়ক ও যানবাহনের সঠিক ব্যবহার সম্পর্কে অজ্ঞতা। তিনি মনে করেন, ছোটবেলা থেকেই শিক্ষার্থীদের এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া গেলে দুর্ঘটনা কমাতে তা ভূমিকা রাখবে।

ফোকাস স্কুলের সিইও নূরজাহান মুক্তা বলেন, সেবকের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বড়দেরও সড়ক ও যানবাহন ব্যবহারের বিষয়ে নতুন করে জানার সুযোগ হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, "ছোটবেলা থেকেই শিশুদের সড়ক নিরাপত্তা সম্পর্কে শিক্ষা দেওয়া প্রয়োজন।"

আরও পড়ুন: জাতীয়কৃত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য জরুরি এমপিও নির্দেশনা

ফোকাস স্কুলের হেড অব স্কুল জাহানারা বেগম ও ভাইস প্রিন্সিপাল মুন মুন শিরিয়া প্রশিক্ষণ কর্মশালার বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নেন এবং শিক্ষার্থীদের সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেন।

অনুষ্ঠানের সভাপতি ড. জাহিদ আহমেদ চৌধুরী বিপুল বলেন, সেবক সংগঠনের কার্যক্রমের মধ্যে রোড সেফটি নিয়ে কাজ তাকে বিশেষভাবে মুগ্ধ করেছে। তিনি দাবি করেন, সংগঠনের সদস্যরা নিজস্ব অর্থায়নে এ পর্যন্ত ৯ হাজার মোটরগাড়ি চালককে বিনামূল্যে ডিফেনসিভ ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ দিয়েছেন।

তিনি বলেন, "সেবকের পরিকল্পনা ও মডিউল অনুযায়ী ডিফেনসিভ ড্রাইভিং এবং জুনিয়র রোড সেফটি প্রোগ্রাম বাস্তবায়ন করা গেলে সড়ক দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।"

অনুষ্ঠানে আয়োজক সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, শিক্ষার্থীদের সড়ক নিরাপত্তা, পথচারী হিসেবে দায়িত্ব, যানবাহনে নিরাপদ চলাচল এবং সড়ক ব্যবহারের বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন: জাবির ১১ শিক্ষার্থী ১৮তম বিজেএসে সুপারিশপ্রাপ্ত, প্রশাসনের অভিনন্দন

এছাড়া ফোকাস স্কুল ঢাকার হেড অব স্কুল জাহানারা বেগম ও ভাইস প্রিন্সিপাল মুন মুন শিরিয়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সেবক সংগঠনের সিনিয়র উপদেষ্টা ও টিআইবির সদস্য ড. জাহিদ আহমেদ চৌধুরী বিপুল। সঞ্চালনা ও প্রশিক্ষণ পরিচালনা করেন সেবকের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও সিনিয়র প্রশিক্ষক খান মো. বাবুল।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জামায়াতের চেয়ে সাপকে বেশি বিশ্বাস করবেন: ফজলুর রহমান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:২৬ পি.এম


জামায়াতের চেয়ে সাপকে বেশি বিশ্বাস করবেন: ফজলুর রহমান

কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট মো. ফজলুর রহমান মন্তব্য করেছেন যে, জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের চেয়ে সাপকে বেশি বিশ্বাস করবেন।

তিনি রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার প্রতিবাদে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই কথা বলেন।

ফজলুর রহমান বলেন, ‘জামায়াতের মতো মুনাফেক দল পৃথিবীতে আর সৃষ্টি হয়নি। আপনারা সাপকে বিশ্বাস করবেন। একটা সাপ ও একটা জামায়াত যদি আসে, তাহলে আগে জামায়াত সম্পর্কে সাবধান হবেন, তারপরে সাপটিকে মারবেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘রাষ্ট্রক্ষমতায় তারেক রহমানকে বিএনপিতে রাখতে চাইলে নিজেদের সততা বজায় রাখেন। চাঁদাবাজি, ধান্দাবাজি ও ক্ষমতার দাপট দেখালে মানুষ কিন্তু খুব সচেতন। আমাদের কিছু ভুল হয়নি, তা কিন্তু না।’

শেখ হাসিনার সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনা দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করেছিলেন। ২০১৪ সালে একা একা নির্বাচন করেছিলেন। ২০১৮ সালে দিনের ভোট নিশিরাতে করেছিলেন। ২০২৪ সালে করেছিলেন আমি-ডামির নির্বাচন। বিএনপিকে সহসা ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেবে—এটা মনে করার কোনো কারণ নেই। শেখ হাসিনা বলতাছে, আসতাছে আসতাছে; কিন্তু সে আসবে না।’

জামায়াতে ইসলামীকে নিয়ে ফজলুর রহমান আরো বলেন, ‘যারা আমার মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল, আমার মা-বোনের ইজ্জত ধ্বংস করেছিল, যারা মুনীর চৌধুরী, আলীম চৌধুরী, শহীদুল্লাহ কায়সার, জহির রায়হানের মতো বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করেছিল—আপনারা যদি বিশ্বাস করেন, সেই জামায়াতে ইসলামী আপনাদের খালাতো ভাই লাগে, তাহলে আপনারা ভুল করবেন। আমি বলে গেলাম, আমাকে ভুল বুঝতে পারেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘এরা যখন পার্লামেন্টে যায়, তখন তারা নবজাতক শিশু। আর পার্লামেন্ট থেকে বের হয়ে বলে এক দফা দিলাম। বিএনপিকে দেশ থেকে তাড়িয়ে দিতে চায়। তাই এ বিষয়ে আমাদের সাবধান থাকতে হবে।’

নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও নাসিকের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান বক্তা ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির ঢাকা বিভাগের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম।

মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপুর সঞ্চালনায় সমাবেশে আরো বক্তব্য দেন অ্যাডভোকেট জাকির হোসেন, অ্যাডভোকেট সরকার হুমায়ুন কবির, ফতেহ মোহাম্মদ রেজা রিপন ও মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম সজলসহ অন্যরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ডা. তহুরার সুনাম নিয়ে ই-র্ষা থেকে অপপ্রচারের অভিযোগ উঠেছে। একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অ-ভি-যোগ পাওয়া গেছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্টাফ রিপোর্টার বরিশাল

রবিবার, ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:২৯ পি.এম


ডা. তহুরার সুনাম নিয়ে ই-র্ষা থেকে অপপ্রচারের অভিযোগ উঠেছে। একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অ-ভি-যোগ পাওয়া গেছে

সুনাম ও রোগীদের আস্থায় ডা. তহুরা, অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় অপপ্রচার নয় নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

বরিশাল প্রতিনিধি: গাইনি ও প্রসূতিবিদ্যা (Gynecologist & Obstetrician), বন্ধ্যাত্ব বিশেষজ্ঞ ও সার্জন হিসেবে বরিশালে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছেন ডা. তহুরা আক্তার। রোগীদের একটি বড় অংশের কাছে তিনি দায়িত্বশীল, সদালাপী, মানবিক ও আন্তরিক চিকিৎসক হিসেবে পরিচিত। দীর্ঘদিনের রোগী ও তাঁদের স্বজনদের অনেকেই তাঁর চিকিৎসাসেবা, রোগীদের প্রতি আন্তরিকতা এবং প্রয়োজনের সময় পাশে থাকার বিষয়টি ইতিবাচকভাবে তুলে ধরেছেন।

রোগীদের ভাষ্য, ডা. তহুরা চিকিৎসার সময় পর্যাপ্ত সময় দিয়ে তাঁদের সমস্যার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পরামর্শ দেন। অনেক রোগী তাঁকে সহজে যোগাযোগযোগ্য চিকিৎসক হিসেবেও উল্লেখ করেছেন। জরুরি প্রয়োজনে ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি পরিস্থিতি অনুযায়ী সাড়া দেওয়ার চেষ্টা করেন বলেও জানিয়েছেন তাঁর দীর্ঘদিনের রোগীদের কেউ কেউ। তাঁদের মতে, প্রসূতি ও সিজারিয়ান সেবার ক্ষেত্রেও তিনি তুলনামূলকভাবে সাধ্যের মধ্যে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার চেষ্টা করেন।

বরিশাল নগরীর কেডিসি এলাকার তেল ব্যবসায়ী সোহেল খান জানান, তাঁর দুই সন্তানের জন্মের সময় তিনি ডা. তহুরা আক্তারের পরামর্শ ও চিকিৎসাসেবা নিয়েছেন এবং উভয় ক্ষেত্রেই সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার করা হয়। তাঁর ভাষ্য, ওই দুই চিকিৎসা-পর্বে তিনি ব্যক্তিগতভাবে কোনো অনিয়ম বা গাফিলতি লক্ষ্য করেননি।

সোহেল খান জানান, চিকিৎসার সময় ডা. তহুরার সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ ও আচরণ নিয়ে তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ইতিবাচক ছিল। চিকিৎসা ব্যয়ের ক্ষেত্রেও একবার তাঁকে কিছুটা ছাড় দেওয়া হয়েছিল বলে তিনি জানান।

সাম্প্রতিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন আলোচনা প্রসঙ্গে সোহেল খান বলেন, “আমি আমার পরিবারের চিকিৎসার সময় যে অভিজ্ঞতা পেয়েছি, সেটিই বলতে পারি। কোনো অভিযোগ থাকলে তা সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক, রোগীর স্বজন ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাই করে প্রকাশ করা উচিত বলে মনে করি।”

এই দীর্ঘদিনের পেশাগত সুনাম ও রোগীদের আস্থার মধ্যেই সম্প্রতি বরিশালের রাহাত-আনোয়ার হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসাধীন এক প্রসূতি রোগীর মৃত্যুর ঘটনা সামনে আসে। গত ২৪ সেপ্টেম্বর নাজিয়া রহমান মাইশা নামে ওই প্রসূতির সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের পর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে এবং পরবর্তীতে তাঁর মৃত্যু হয়। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন আলোচনা ও চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ে।

তবে ডা. তহুরার দীর্ঘদিনের রোগী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের একটি অংশ মনে করেন, কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত চিকিৎসা-ঘটনার প্রকৃত কারণ যথাযথ তদন্ত ছাড়া নিশ্চিতভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। তাঁদের মতে, একটি দুঃখজনক ঘটনাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের চিকিৎসাসেবা ও পেশাগত সুনামকে প্রশ্নবিদ্ধ করার আগে ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করা প্রয়োজন।

কোনো চিকিৎসকই চান না তাঁর চিকিৎসাধীন কোনো রোগী মৃত্যুবরণ করুন। একটি রোগীর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে একটি পরিবারের আশা, ভালোবাসা ও ভবিষ্যতের স্বপ্ন। তাই সর্বোচ্চ চেষ্টা করেও যখন একটি জীবন হারিয়ে যায়, সেই বেদনা শুধু স্বজনদের নয়, চিকিৎসকের হৃদয়েও গভীরভাবে দাগ কাটে। একজন চিকিৎসক জীবন বাঁচাতে জ্ঞান, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার সর্বোচ্চটুকু দিয়ে চেষ্টা করেন। কিন্তু জীবন-মৃত্যুর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত মানুষের হাতে নয়, মহান আল্লাহর হাতে।

একজন চিকিৎসকও একজন মানুষ। তাঁরও অনুভূতি আছে, দায়িত্ববোধ আছে এবং একজন রোগীকে সুস্থ করে তাঁর প্রিয়জনদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার আকাঙ্ক্ষা আছে। বিশেষ করে প্রসূতি চিকিৎসার ক্ষেত্রে একজন মা ও তাঁর সন্তানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা চিকিৎসকের জন্য শুধু পেশাগত দায়িত্ব নয়, একই সঙ্গে একটি গভীর মানবিক দায়বদ্ধতাও।

ডা. তহুরার রোগী ও পরিচিতজনদের একটি অংশের অভিযোগ, একটি মহল তাঁর দীর্ঘদিনের পেশাগত সুনাম ও রোগীদের আস্থার কারণে ঈর্ষান্বিত হয়ে সাম্প্রতিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে অতিরঞ্জিত বা একতরফা প্রচারণা চালাচ্ছে। এমনকি কিছু সাংবাদিককে অসম্পূর্ণ তথ্য দিয়ে বিষয়টি ভিন্নভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও তাঁদের অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কোনো চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে তা অবশ্যই গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা উচিত। একই সঙ্গে অভিযোগকারী, রোগীর স্বজন, চিকিৎসক, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট চিকিৎসা-নথি ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রতিবেদনসহ সব পক্ষের বক্তব্য ও তথ্য বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। এতে যেমন রোগীর পরিবারের ন্যায়বিচারের দাবি গুরুত্ব পাবে, তেমনি প্রমাণ ছাড়া কোনো চিকিৎসকের পেশাগত সুনাম ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কাও কমবে।

জীবন-মৃত্যু মহান আল্লাহর হাতে। চিকিৎসাক্ষেত্রে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা অত্যন্ত বেদনাদায়ক হলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আবেগ, গুজব, অনুমান বা একতরফা বক্তব্যের ভিত্তিতে কোনো চিকিৎসককে দোষী সাব্যস্ত করা উচিত নয়। প্রকৃত সত্য উদঘাটনে প্রয়োজন তথ্য, প্রমাণ, নিরপেক্ষ তদন্ত ও চিকিৎসাবিজ্ঞানের প্রমাণভিত্তিক মূল্যায়ন।

ডা. তহুরার দীর্ঘদিনের রোগী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের পক্ষ থেকে তাই দাবি উঠেছে, অপপ্রচার নয়, ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত হোক। অভিযোগ সত্য হলে দায় নির্ধারণ করা হোক। আর অভিযোগের ভিত্তি না থাকলে একজন চিকিৎসকের পেশাগত সুনাম অযথা ক্ষুণ্ন করার প্রচেষ্টাও বন্ধ করা হোক।

সমালোচনা হোক তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে, ব্যক্তিগত আক্রমণ বা অপপ্রচার নয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুক্তরাজ্যে মার্কিন বিমানঘাঁটি এলাকা থেকে ৫ সন্দেহভাজন গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:৩২ পি.এম


যুক্তরাজ্যে মার্কিন বিমানঘাঁটি এলাকা থেকে ৫ সন্দেহভাজন গ্রেপ্তার

ব্রিটিশ পুলিশ যুক্তরাজ্যের একটি মার্কিন বিমানঘাঁটি এলাকা থেকে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে, যাদের বিরুদ্ধে ইরানে হামলায় ব্যবহৃত হওয়ার সন্দেহ রয়েছে। তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে বিস্ফোরক আইনে অপরাধ এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতির অভিযোগে।

সংবাদ মাধ্যম আলজাজিরা জানাচ্ছে, রবিবার ভোরে স্থানীয় সময় গ্লুচেস্টারশায়ার ওয়েলফোর্ড এলাকায় তিনটি সন্দেহজনক যানবাহনের খবর পাওয়ার পর সশস্ত্র পুলিশ অভিযান চালিয়ে ওই পাঁচজনকে আটক করে। পরে কাউন্টার টেররিজম পুলিশ ঘটনাটির তদন্তে যুক্ত হয়। গাড়িগুলো ঘিরে ৪০০ মিটার নিরাপত্তাবেষ্টনী তৈরি করা হয়েছে এবং সেনাবাহিনীর বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয়করণ দল সেগুলো পরীক্ষা করছে।

ঘটনার পর আশপাশের প্রায় ৮৫টি বাড়ির বাসিন্দাকে নিরাপত্তার কারণে সরিয়ে নেওয়া হয়। পুলিশ জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং পাঁচজনই হেফাজতে আছেন।

কাউন্টার টেররিজম পুলিশের সিনিয়র ন্যাশনাল কো-অর্ডিনেটর ভিকি ইভান্স বলেছেন, "তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।"

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ঘাঁটিটি হলো রয়্যাল এয়ার ফোর্সের (আরএএফ) ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটি। ব্রিটিশ সরকারের অনুমোদনে যুক্তরাষ্ট্র এই ঘাঁটি থেকে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে বলে জানা গেছে।

জুলাই মাসে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড (আইআরজিসি) সতর্ক করে বলেছিল, যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ব্যবহৃত কোনো ঘাঁটি বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আলফাডাঙ্গায় আলোচিত রবিউল হত্যা মামলার আসামি মারুফ গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

কবির হোসেন, আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি

রবিবার, ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:৩৪ পি.এম


আলফাডাঙ্গায় আলোচিত রবিউল হত্যা মামলার আসামি মারুফ গ্রেপ্তার

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার বড়ভাগ গ্রামের বহুল আলোচিত রবিউল ইসলাম শেখ ওরফে পাইচো (৫৫) হত্যা মামলার আসামি মারুফ শেখকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শনিবার গভীর রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে যশোরের কোতোয়ালি থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আজ রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘদিনের গ্রাম্য বিরোধ ও পূর্বশত্রুতার জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। কাশিয়ানী সদর বাজারের চায়ের দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পথে মালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাছে রবিউল ও তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে রবিউল গুরুতর আহত হন এবং ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।

নিহত রবিউল ইসলাম শেখ টগরবন্দ ইউনিয়নের বড়ভাগ গ্রামের সাত্তার শেখের ছেলে। তিনি কাশিয়ানী সদর বাজারে চায়ের দোকান চালাতেন।
এর আগে গত ২৬ জুন একই ইউনিয়নের বড়ভাগ পূর্বপাড়া গ্রামের উকিল শেখের বাড়ির সামনে মোটরসাইকেলে যাওয়ার সময় কলেজছাত্র সুমন শেখ (২৪)কে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। সুমন ছিলেন রবিউল ইসলামের ভাতিজা। তিনি আলাউদ্দিন শেখের ছেলে এবং কাশিয়ানী এম.এ. খালেক ডিগ্রি কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বড়ভাগ গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার ও গ্রাম্য বিরোধ চলে আসছে। এ বিরোধকে কেন্দ্র করে একাধিক সংঘর্ষ, হামলা-পাল্টা হামলা ও মামলা হয়েছে।
সুমন হত্যা মামলায় কয়েকজন আসামি গ্রেপ্তারের পর সম্প্রতি জামিনে বের হয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানান। তবে তাঁদের কেউ রবিউল হত্যাকাণ্ডে জড়িত কি না, তা পুলিশ নিশ্চিত করেনি।

উল্লেখ্য, আড়াই মাসের ব্যবধানে একই বিরোধের জেরে চাচা-ভাতিজা দুজন নিহত হওয়ায় বড়ভাগ গ্রামসহ আশপাশের এলাকায় নতুন করে আতঙ্ক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।

আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল সরোয়ার বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে যশোরের কোতোয়ালি থানা এলাকা থেকে মামলার আসামি মারুফ শেখকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫১
মাগরিব ০৫:২৮
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%