বৃহস্পতিবার, ১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১০:৪৩ পি.এম
ঢাকা, ১ অক্টোবর, ২০২৬ : কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত পরিবর্তনশীল যুগের প্রেক্ষাপটে পুলিশি ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ, ডিজিটাল নিরাপত্তা জোরদার এবং তদন্ত সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাংলাদেশ পুলিশের একটি স্বতন্ত্র সাইবার ইউনিট উদ্বোধন করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
মন্ত্রী উল্লেখ করেন, সাইবার অপরাধ দমনে পুলিশকে দেশ ও বিদেশে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। এ ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞদের চুক্তি ভিত্তিক নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। আজকের দিন থেকে পুলিশের সাইবার সিকিউরিটি ইউনিটের কার্যক্রম শুরু হলো, যা অনলাইন ভিত্তিক অপরাধ দমনে কাজ করবে।
বাংলাদেশ পুলিশের স্বতন্ত্র ‘সাইবার পুলিশ ইউনিট’-এর উদ্বোধন উপলক্ষে আজ পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের হল অব প্রাইডে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অপরাধের পরিবর্তনশীল প্রকৃতি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত অগ্রগতির কারণে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে প্রচলিত পুলিশি পদ্ধতির বাইরে গিয়ে প্রযুক্তি-চালিত ও জ্ঞান-ভিত্তিক পন্থা অবলম্বন করতে হবে।
“কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে অপরাধের ধরণ দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। আমাদের পুলিশি ব্যবস্থাকেও সেই অনুযায়ী বিকশিত হতে হবে। সাইবার পুলিশ ইউনিট বাংলাদেশ পুলিশকে একটি আধুনিক, প্রযুক্তি-চালিত ও জ্ঞান-ভিত্তিক বাহিনীতে রূপান্তরিত করার পথে এটি একটি বড় পদক্ষেপ।”
নতুন এই ইউনিটটির পরিচালনার দায়িত্ব থাকবে একজন অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত আইজিপি)-এর হাতে। প্রাথমিকভাবে, মোহাম্মদ ইকবাল হোসেনকে এই ইউনিটের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। তিনি জানান, বিভাগীয় পর্যায়ে উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) এবং অতিরিক্ত ডিআইজিরা সাইবার পুলিশি কার্যক্রম তদারকি করবেন, আর জেলা পর্যায়ে পুলিশ সুপার (এসপি) বা মনোনীত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালন করবেন।
সাইবার-সম্পর্কিত সেবা প্রদান এবং তদন্ত পরিচালনার জন্য থানাগুলোতে বিশেষায়িত উপ-পরিদর্শক, সহকারী উপ-পরিদর্শক এবং কনস্টেবলও মোতায়েন করা হবে। অনুমোদিত সাংগঠনিক কাঠামো অনুযায়ী, এই ইউনিটে মোট ৪ হাজার ৫৯২ জন সদস্য থাকবে। প্রাথমিকভাবে, বিদ্যমান পুলিশ বাহিনীর অভিজ্ঞ ও প্রশিক্ষিত সদস্যদের মোতায়েন করা হবে এবং জনবল কাঠামো সম্পূর্ণ করার জন্য অতিরিক্ত নিয়োগ দেওয়া হবে।
সরকার সাইবার নিরাপত্তা এবং ডিজিটাল তদন্তের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ পেশাদারদের চুক্তিভিত্তিক ও আউটসোর্সড নিয়োগের মাধ্যমে এই ইউনিটের মধ্যে একটি বিশেষায়িত কারিগরি কর্মী বাহিনীও গঠন করছে।
মন্ত্রী বলেন, সিস্টেম অ্যানালিস্ট, ফিনান্সিয়াল ডেটা অ্যানালিস্ট, সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ, নেটওয়ার্ক অ্যাডমিনিস্ট্রেটর, ডার্ক-ওয়েব অ্যানালিস্ট, ক্রিপ্টো অ্যানালিস্ট, ম্যালওয়্যার অ্যানালিস্ট, সোশ্যাল-মিডিয়া অ্যানালিস্ট, জরুরি-প্রতিক্রিয়া পরামর্শক এবং দুর্যোগ-পুনরুদ্ধার বিশেষজ্ঞসহ বিভিন্ন বিশেষজ্ঞকে পৃথক ও প্রতিযোগিতামূলক পারিশ্রমিক ব্যবস্থার অধীনে নিয়োগ করা হবে।
নিয়মিত পুলিশ বাহিনীর তথ্যপ্রযুক্তি-প্রশিক্ষিত সদস্যরাও এই ইউনিটে মোতায়েনের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবেন। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞরা দেশে ও বিদেশে উন্নত প্রশিক্ষণ গ্রহণ করবেন। সাইবার পুলিশ ইউনিটের অধীনে একটি আধুনিক ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাবরেটরিও স্থাপন করা হচ্ছে, যা উন্নত প্রযুক্তি এবং বিশেষায়িত সাইবার-তদন্ত সরঞ্জাম দিয়ে সজ্জিত থাকবে।
এই ব্যবস্থা আর্থিক অপরাধ, অর্থ পাচার, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম-ভিত্তিক অপরাধ, অপতথ্য, মাদক-সংক্রান্ত অপরাধ এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম-সম্পর্কিত চরমপন্থী কার্যকলাপের তদন্তে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নতুন এই কাঠামোটি সাইবার-তদন্ত কার্যক্রমকে একত্রিত করবে, যা পূর্বে বিভিন্ন পুলিশ ইউনিট দ্বারা পৃথকভাবে পরিচালিত হতো। তিনি বলেন, “সাইবার তদন্ত পূর্বে বিভিন্ন ইউনিটের মধ্যে খণ্ডিতভাবে পরিচালিত হতো। নতুন সাইবার পুলিশ ইউনিট এই কার্যক্রমগুলোকে একটি একক, সমন্বিত কাঠামোর অধীনে নিয়ে আসবে, যা আমাদের তদন্তের কার্যকারিতা, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় উন্নত করতে সাহায্য করবে।”
তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, এই বিশেষায়িত ইউনিটটি সাইবার অপরাধ প্রতিরোধ ও তদন্ত এবং সাইবার স্পেসের অপব্যবহার মোকাবেলায় দেশের সক্ষমতাকে উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী করবে। মন্ত্রী বলেন, সিআরপিসির মাধ্যমে এভিডেন্সের মাধ্যমে আমরা যেই বিচারকার্য পরিচালনা করতাম তার মধ্যে এখন অনেক বেশি পরিবর্তন এসেছে। সাক্ষ্য কম আইনে পরিবর্তন আসছে। আমাদের ফরেন্সিক ল্যাবরেটরি প্রয়োজন হয়ে যাচ্ছে প্রায় সকল ক্ষেত্রে। আগে কেমিক্যাল ল্যাবের প্রচলন বেশি ছিল। এখন কেমিক্যাল ল্যাবের পাশাপাশি ফরেন্সিক ল্যাব আমাদের প্রয়োজন হচ্ছে প্রায় সর্বক্ষেত্রে।
মন্ত্রী বলেন, মাদক, জুয়া, অন্যান্য অপরাধ, সন্ত্রাস, মানি লন্ডারিং, ফিনান্সিয়াল বিভিন্ন ক্রাইম ও সোশাল সিকিউরিটির ক্ষেত্রেসহ সাইবার রিলেটেড বিভিন্ন অফেন্সের ক্ষেত্রে আমাদের এই ফরেন্সিক ল্যাবের প্রয়োজন হচ্ছে এবং ডিজিটাল ল্যাবের প্রয়োজন হচ্ছে। আশা করি ইনশাআল্লাহ সকলের সহযোগিতায় আমরা সফলকাম হব এবং সাইবার রিলেটেড সমস্ত অপরাধ সাইবার স্পেস ব্যবহার করে সমস্ত অপরাধকে দমন করতে পারবো।
ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোরশেদ চৌধুরী, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির এবং ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নেত্রকোনার দুর্গাপুরে কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে কোনো ধরনের অনিয়ম, বৈষম্য বা স্বজনপ্রীতি হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তিনি বলেছেন, অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বা জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তির পাশাপাশি প্রয়োজনে ফৌজদারি মামলা করা হবে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় দুর্গাপুরের সুসং সরকারি কলেজ মাঠে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
এর আগে বিকেলে উপজেলার বিরিশিরি ইউনিয়নের উপকারভোগীদের মধ্যে কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সারা দেশে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
কার্ড বিতরণে কোনো ধরনের বৈষম্য করা হবে না জানিয়ে কায়সার কামাল বলেন, দল, মত, পথ, জাতি, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে স্বচ্ছভাবে কার্ড বিতরণ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি রয়েছে।
আগের ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে কিছু ভুল ও অনিয়ম ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেসব ত্রুটি সংশোধন করে নতুনভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে যাতে একই ধরনের ভুল না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি নিয়েও কথা বলেন ডেপুটি স্পিকার। জনগণের জন্য বরাদ্দ হওয়া বিভিন্ন অনুদান ও সরকারি কার্যক্রম সম্পর্কে স্থানীয় সংসদ সদস্যদের অবহিত করার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
কার্ড বিতরণে অনিয়মের বিষয়ে সতর্ক করে কায়সার কামাল বলেন, কেউ নির্দেশনার ব্যত্যয় ঘটালে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলাও করা হবে।
কর্মকর্তা ও শিক্ষকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিতে হবে। অতীতকে ক্ষমা করা হলেও সেখান থেকে শিক্ষা না নিলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
১,১৭০ কৃষকের তথ্য সংগ্রহ
কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ জুলাই থেকে কৃষক কার্ডের জন্য তথ্য সংগ্রহ শুরু হয়। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে উপজেলা কৃষি অফিসের আটজন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহের কাজ করেন।
প্রাথমিকভাবে বিরিশিরি ইউনিয়নের তিনটি ব্লকের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে কাপাসাটিয়া ব্লকে ১ হাজার ১৭০ জন কৃষকের তথ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৮৫ জন নারী ও ১ হাজার ৮৫ জন পুরুষ কৃষক।
কৃষকদের শ্রেণিবিন্যাস অনুযায়ী, ভূমিহীন বা বর্গাচাষি ২৩ জন, প্রান্তিক কৃষক ৩৫৩ জন, ক্ষুদ্র কৃষক ৬৭০ জন, মাঝারি কৃষক ১১৩ জন এবং বড় কৃষক ১১ জন রয়েছেন।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পর্যায়ক্রমে অন্যান্য ইউনিয়নেও কৃষক কার্ডের জন্য তথ্য সংগ্রহের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রাম, ১ অক্টোবর, ২০২৬ : মাসব্যাপী স্তন ক্যান্সার সচেতনতা কর্মসূচি শুরু হয়েছে চট্টগ্রামে। এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন, বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান সিএসসিআর এবং পোস্টগ্র্যাজুয়েট সার্জিক্যাল এডুকেশন অ্যান্ড ট্রেনিং ইনস্টিটিউট পিজিএস একাডেমিয়ার যৌথ উদ্যোগে।
আজ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষের কার্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে স্তন ক্যান্সার সচেতনতামূলক একটি শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি নেতৃত্ব দেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধ ও চিকিৎসায় জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব আরোপ করে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, "স্তন ক্যান্সার একটি প্রাণঘাতী রোগ হলেও সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং সময়মতো চিকিৎসার মাধ্যমে এর ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।"
তিনি আরও বলেন, "এ রোগের বিষয়ে নারীদের পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদেরও সচেতন হতে হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্ত করা গেলে চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। স্তন ক্যানসারের ক্ষেত্রে রোগ নির্ণয়ে দেরি হলে চিকিৎসা জটিল হয়ে যেতে পারে এবং মৃত্যুঝুঁকিও বেড়ে যায়। তাই কোনো ধরনের অস্বাভাবিকতা বা উপসর্গ দেখা দিলে সংকোচ না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানো জরুরি।"
মেয়র পিংক অক্টোবর উপলক্ষে নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, "নিজ নিজ বাসাবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে দৃশ্যমান স্থানে একটি গোলাপি আলো জ্বালানোর অনুরোধ জানান।" তিনি উল্লেখ করেন, "এই ছোট্ট আলো মা, বোন, স্ত্রী ও কন্যাসহ প্রতিটি নারীর সুস্বাস্থ্য এবং স্তন ক্যানসার সচেতনতার প্রতি আমাদের সংহতির প্রতীক হয়ে দাঁড়াবে।"
শোভাযাত্রায় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. ওমর ফারুক ইউসুফ, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন, দৈনিক পূর্বকোণের সম্পাদক ডা. ম. রমিজ উদ্দিন চৌধুরী, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. তসলিম উদ্দিন, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অধ্যাপক আনিসুল হোসেন, চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. শেখ ফজলে রাব্বী, জেলা সিভিল সার্জন ডা. সাজেদুর রহমান, সিএসসিআরের চেয়ারম্যান ডা. খুরশিদ জামিল চৌধুরী, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. মোরশেদুল করিম চৌধুরী এবং অধ্যাপক ডা. গোফরানুল হক ও অধ্যাপক ডা. সাজ্জাদসহ বিভিন্ন পর্যায়ের চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্টরা।
শোভাযাত্রার শেষ প্রান্তে বিআরটিএ’র একটি দ্বিতল গোলাপি বাস অংশগ্রহণকারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। এই বাসের মাধ্যমে অক্টোবর মাসের প্রতি শনিবার বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন এলাকায় ভ্রাম্যমাণ ব্রেস্ট ক্যানসার স্ক্রিনিং কার্যক্রম পরিচালিত হবে। সার্জারি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নেতৃত্বে পরিচালিত এ কর্মসূচির মাধ্যমে নগরীর বিভিন্ন এলাকার নারীদের স্তন ক্যানসার বিষয়ে সচেতন করা এবং প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তকরণে সহায়তা করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সিরাজগঞ্জ, ১ অক্টোবর, ২০২৬ : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আহ্বানে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের উদ্যোগের অংশ হিসেবে জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৫ শতাধিক বৃক্ষরোপণ সম্পন্ন হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে সদর উপজেলার খোকশাবাড়ী ইউনিয়নের আজিজিয়া হাফিজিয়া দাখিল মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণের উদ্বোধন করেন সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মামুন খান।
উদ্বোধনের পর পূর্ব দিয়ার পাঁচিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, খোকশাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদ, চর খোকশাবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়, চন্দ্রকণা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শালুয়াভিটা দাখিল মাদ্রাসা, হাটবয়ড়া উচ্চ বিদ্যালয়, ব্রাহ্মণবয়ড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পুরান শৈলাবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মোহাম্মদ আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১নং ও ২নং চায়না বাঁধ এলাকায় বৃক্ষরোপণের জন্য গাছের চারা, বাঁশ ও নেট বিতরণ করা হয়।
এ সময় সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সহ-দফতর সম্পাদক সাংবাদিক শেখ মো. এনামুল হক, ৫নং খোকশাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান এ্যাড. আব্দুল মান্নান, খোকশাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের সচিব শফিকুল ইসলাম, খোকশাবাড়ী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক বখতিয়ার ফিরোজ, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক নিজাম উদ্দিন, শালুয়াভিটা দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা মো. আব্দুল মালেক জাকির, আজিজিয়া হাফিজিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা মো. আব্দুর রহমান, সহ-সুপার মাওলানা মো. আব্দুল কাইয়ুম, খোকশাবাড়ী ইউনিয়ন বিএনপি নেতা মুক্তা, রিপন হোসেন, খোকশাবাড়ী ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মিজানুর রহমান মৃদুলসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষিকা ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুমিল্লা, ১ অক্টোবর, ২০২৬ : কুমিল্লা সিটি করপোরেশন (কুসিক) এলাকায় ২০টি খেলার মাঠ নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু এ তথ্য জানিয়েছেন, যা নতুন প্রজন্মকে খেলাধুলায় উৎসাহিত করার লক্ষ্যে নেওয়া হচ্ছে। তথ্যপ্রযুক্তির ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিক সম্পর্কে সচেতন থাকার পাশাপাশি এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার কুমিল্লা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ১২তম বিএফএফ-সমকাল জাতীয় বিজ্ঞান বিতর্ক উৎসবের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ইউসুফ মোল্লা টিপু উল্লেখ করেন, "তথ্যপ্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির ফলে পুরো বিশ্ব এগিয়ে যাচ্ছে। তবে প্রযুক্তির ইতিবাচক ব্যবহারের পাশাপাশি এর নেতিবাচক দিক সম্পর্কেও নতুন প্রজন্মকে সচেতন থাকতে হবে।" শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তির সুফল কাজে লাগানোর পাশাপাশি সতর্কতার সঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা তিনি তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রী নতুন প্রজন্মকে খেলাধুলায় উৎসাহিত করার জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। এর অংশ হিসেবে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের ২৭টি ওয়ার্ডে ২০টি খেলার মাঠ নির্মাণ করা হচ্ছে, যা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার ভিত্তিতে বাস্তবায়িত হচ্ছে।
দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত বিতর্ক প্রতিযোগিতায় নবাব ফয়জুন্নেছা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় চ্যাম্পিয়ন হয়েছে এবং কুমিল্লা মডার্ণ হাইস্কুল রানারআপ হয়েছে। প্রতিযোগিতায় শ্রেষ্ঠ বক্তা নির্বাচিত হয়েছেন চ্যাম্পিয়ন দলের দলনেতা ও দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী তাজরিদা মোশাররাত।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. লুৎফর রহমান, ভাষা সৈনিক অজিত গুহ মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ শরিফুল ইসলাম এবং আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মহিউদ্দিন লিটন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মীর শাহ আলম, কুমিল্লা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইমতিয়াজ আহমেদ জিতু, সহ-সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসাইন আকাইদ, অর্থ সম্পাদক শাহ আলম শফি, দপ্তর সম্পাদক ওমর ফারুকী তাপসসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
সমকালের কুমিল্লা প্রতিনিধি মো. কামাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে জানানো হয়, এবারের প্রতিযোগিতায় কুমিল্লার আটটি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেছে।
দুটি ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতায় বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটির আবদুর রহমান আস সাদী, মো. এনায়েত হোসেন, আবিদুর রহমান সাগর, নাজমুল হাসান ফাহিম, ফারহা খানম, আবছার উদ্দিন ইফতি, আসিফ ফেরদৌস জিদনী, ফাহিমা সুলতানা রাতুয়া ও ইসরাত জাহান ইতি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ