মোঃ ওসমান গনি শেরপুর জেলা প্রতিনিধি
১১:১৩ এম
শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার কোচপাড়া সীমান্ত এলাকা দিয়ে চোরাইপথে আনা মালিকবিহীন ভারতীয় মদসহ মো. কবির হোসেন (১৮) নামে এক যুবককে আটক করেছে ময়মনসিংহ ব্যাটালিয়ন (৩৯ বিজিবি)।
(৩ সেপ্টেম্বর) রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হলদিগ্রাম বিজিবি ক্যাম্পের সদস্যরা কোচপাড়া সীমান্ত এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন।
এ সময় ৪৭ বোতল ভারতীয় মদসহ মো. কবির হোসেন (১৮)-কে আটক করা হয়। আটক কবির হোসেন নালিতাবাড়ী উপজেলার সমশ্চূড়া গ্রামের মৃত মোর্শেদের ছেলে।
অভিযানে তার কাছ থেকে একটি ভিভো মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়। জব্দ করা ভারতীয় মদের আনুমানিক সিজার মূল্য ৯০ হাজার ৫০০ টাকা। এ ঘটনায় আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে নালিতাবাড়ী থানায় মামলা রুজু করা হয়েছে।
ময়মনসিংহ ব্যাটালিয়ন (৩৯ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নুরুল আজিম বায়েজীদ বলেন, সীমান্তে চোরাচালান ও অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে বিজিবি কঠোর অবস্থানে রয়েছে। এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ক্রিকেটে ব্যাটারদের মাথার সুরক্ষায় আধুনিক হেলমেট ব্যবহারের ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য নাম হলো ইংল্যান্ডের কিংবদন্তি ডেনিস অ্যামিস। তিনি মোটরসাইকেলের হেলমেট মাথায় তুলে ভয়ংকর গতির ফাস্ট বোলারদের মোকাবিলা করতে গিয়ে একসময় কটাক্ষের শিকার হন। তবে, তার সাহসী উদ্যোগই পরবর্তী সময়ে ক্রিকেটে সুরক্ষার নতুন দিগন্ত উন্মোচনে সহায়ক হয়।
১৯৭০-এর দশকে ক্রিকেটে ব্যাটারদের জন্য আধুনিক হেলমেটের প্রচলন ছিল না। ডেনিস লিলি, জেফ থম্পসন, মাইকেল হোল্ডিং, অ্যান্ডি রবার্টস, জোয়েল গার্নার ও ইমরান খানের মতো গতিদানবদের সামনে ব্যাটারদের সাহস, দক্ষতা ও প্রতিক্রিয়ার ওপর নির্ভর করতে হতো।
এমন পরিস্থিতিতে ১৯৭৭ থেকে ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড সিরিজ ক্রিকেটে মোটরসাইকেলের ভারী হেলমেট ও পলিকার্বনেটের ভাইজর পরে ব্যাটিং করেন অ্যামিস। তার এই উদ্যোগ ক্রিকেটে মাথার সুরক্ষার বিষয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করে সবাইকে।
অ্যামিস ৫০টি টেস্ট খেলে ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে প্রথম সেঞ্চুরিয়ান হিসেবেও পরিচিত। তবে, হেলমেট ব্যবহারের শুরুটা তার জন্য সহজ ছিল না। সতীর্থ ও প্রতিপক্ষের কাছ থেকে তাকে নানা ধরনের কটাক্ষ শুনতে হয়েছিল।
এক সাক্ষাৎকারে অ্যামিস তার সিদ্ধান্তের পেছনের কারণ ব্যাখ্যা করে বলেন, "ওয়ার্ল্ড সিরিজ ক্রিকেটে ঘণ্টায় ৯০ মাইল বা প্রায় ১৪৫ কিলোমিটার গতিতে বল করতে সক্ষম এমন ১৯ জন ফাস্ট বোলার ছিলেন।" এর আগে লিলি ও থম্পসনের মুখোমুখি হওয়ার অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি মাথার সুরক্ষার গুরুত্ব বুঝতে পারেন।
অ্যামিসের ভাষায়, "মাথায় আঘাতের পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে।" ক্রিকেটার ফিলিপ হিউজের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা সেই ঝুঁকির নির্মম উদাহরণ। এসব বিবেচনা করে তিনি মোটরসাইকেলের হেলমেটের সঙ্গে পলিকার্বনেটের ভাইজর ব্যবহার শুরু করেন।
শুরুর দিকে তাকে শুনতে হতো, "এই অ্যামিস, তোমার মোটরসাইকেল কোথায়?" কিন্তু সময়ের সঙ্গে পরিস্থিতি বদলে যায়। একসময় অন্য ব্যাটাররাও হেলমেটের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেন।
অ্যামিস জানান, অস্ট্রেলীয় ব্যাটার ডেভিড হুকসের চোয়াল ভেঙে যাওয়ার পর তাকে ছয় সপ্তাহ স্ট্র দিয়ে তরল খাবার খেতে হয়েছিল। এরপর অ্যান্ডি রবার্টসের বিপক্ষে খেলতে নামার আগে হুকস অ্যামিসের কাছে হেলমেট ধার চান।
এরপর ঘটে যায় একটি স্মরণীয় ঘটনা। হেলমেট পরে রবার্টসের করা প্রথম বলটি মাথার দিকে উঠে এলে হুকস সেটিকে হুক করে ছক্কা হাঁকান। অ্যামিসের চোখের সামনেই ঘটে ঘটনাটি।
সেই মুহূর্তের স্মৃতিচারণ করে অ্যামিস বলেন, "ধারাভাষ্যকার রিচি বেনো ঘটনাটিকে ক্রিকেটের সংজ্ঞা নির্ধারণ করে দেওয়া মুহূর্ত হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন।"
অ্যামিসের কাছে ঘটনাটি ছিল বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। যে ব্যাটার কয়েক সপ্তাহ আগে চোয়াল ভাঙার কারণে স্বাভাবিকভাবে খেতে পারছিলেন না, সেই তিনিই একই বোলারের বিপক্ষে একই মাঠে দ্রুতগতির বল হুক করে সীমানার বাইরে পাঠিয়েছিলেন।
ক্রিকেটে হেলমেটের ব্যবহার এক দিনে সর্বজনীন হয়ে ওঠেনি। তবে, ডেনিস অ্যামিসের সেই সাহসী পদক্ষেপ ব্যাটারদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একসময় যে হেলমেট নিয়ে তাকে বিদ্রূপ সহ্য করতে হয়েছিল, সেটিই পরবর্তী সময়ে আধুনিক ক্রিকেটে ব্যাটারদের অপরিহার্য সুরক্ষাসামগ্রীর একটি হয়ে ওঠে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঝালকাঠির নলছিটিতে পুলিশ জুয়া খেলার সরঞ্জাম ও নগদ টাকাসহ একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। শনিবার (৩ অক্টোবর) রাত ১১টা ৪৫ মিনিটে সুবিদপুর ইউনিয়নের গোপালপুর এলাকার ব্র্যাক হাউজ আবাসনে অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, নলছিটি থানার এসআই (নিঃ) মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে একটি পুলিশ দল গোপালপুর এলাকার তুলু মালির বসতঘরে অভিযান চালায়। অভিযানের সময় জুয়া খেলার সরঞ্জাম, নগদ টাকা এবং মাদকসেবনের যন্ত্রাংশসহ মোল্লারহাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা মোঃ রিপন হাওলাদার, যিনি ‘হঠাৎ রিপন’ নামে পরিচিত (৪৫), গ্রেপ্তার হন।
এছাড়া, পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে কামদেবপুর গ্রামের মৃত মান্নাতের ছেলে মো. নাছির উদ্দিন (৫০) সহ আরও ২-৩ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
গ্রেপ্তার হওয়া রিপন হাওলাদার নলছিটি উপজেলার মালুহার গ্রামের মৃত আ. লতিফ হাওলাদের পুত্র। তিনি দীর্ঘ সময় ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। অপরদিকে, পলাতক নাসিরুদ্দিন সুবিদপুর ইউনিয়ন বিএনপির রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় নলছিটি থানায় ৪ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে এফআইআর নং-২ এবং জিআর নং-২০০-এ জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬-এর ১৫ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
নলছিটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুজ্জামান সোহাগ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, "জুয়া-মাদকসহ সব ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।" জুয়া আয়োজন বা অংশগ্রহণের তথ্য পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং পলাতকদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ব্রাজিল সরকার চীনা ইস্পাত আমদানিতে কড়াকড়ি আরোপ করায় বিশ্বখ্যাত ইস্পাত প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ‘আর্সেলরমিত্তাল’ ব্রাজিলের অভ্যন্তরীণ বাজারে নতুন বিনিয়োগে নামার পরিকল্পনা করছে। বিদেশি ইস্পাতের প্রবাহ কমে যাওয়ার কারণে, ভারতীয় মিত্তাল পরিবারের নিয়ন্ত্রণাধীন এই প্রতিষ্ঠানটি সেখানে ১০ বিলিয়ন রেইসেরও (প্রায় ২৩,৫৪৩ কোটি টাকা) বেশি অর্থ বিনিয়োগের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
ব্রাজিল চীনা ইস্পাত পণ্যের ওপর একাধিক ‘অ্যান্টি-ডাম্পিং’ শুল্ক আরোপ করেছে, যার ফলে স্থানীয় বাজারে আমদানি করা ইস্পাতের দখল ২৫% থেকে কমে ১৬%-এ নেমে এসেছে। আর্সেলরমিত্তালের মতে, বাজারে সুস্থ প্রতিযোগিতার জন্য এই হার ১০%-এর কাছাকাছি থাকা উচিত।
এএনআই সূত্রে জানা গেছে, ব্রাজিলের এসপিরিটো সান্তোর টুবারাও প্ল্যান্টে ৪ থেকে ৫ বিলিয়ন রেইস নিশ্চিত বিনিয়োগ করা হচ্ছে, যা অটোমোটিভ, নির্মাণ ও গৃহস্থালী খাতের জন্য উন্নত মানের ইস্পাত উৎপাদন করবে। সেয়ারার পেসেম প্ল্যান্টে হট-রোল্ড কয়েল উৎপাদন বাড়াতে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ৫ বিলিয়ন রেইস বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে। ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
আর্সেলরমিত্তাল ব্রাজিলের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাজার হিসেবে পরিচিত, যেখানে ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ৩.১৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করেছে। চলতি বছরের মার্চ মাসে মিনাস গেরাইসে ২.৫ বিলিয়ন রিয়ালের একটি লৌহ আকরিক প্রক্রিয়াকরণ প্ল্যান্ট উদ্বোধন করা হয়েছিল। বাজারের পরিস্থিতি উন্নতির দিকে থাকলেও, উচ্চ জ্বালানি খরচ, প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম এবং ব্রাজিলের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক কাঠামোগত খরচকে আর্সেলরমিত্তাল প্রতিযোগিতার প্রধান প্রতিবন্ধকতা হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চলতি বছর বোরো চাল সংগ্রহের মৌসুমে সরকারিভাবে সাতক্ষীরায় ১৯ হাজার ৬৪৯ দশমিক ৫৫০ টন সেদ্ধ চাল ক্রয় করা হয়েছে। প্রতি কেজির জন্য ৪৯ টাকা দরে এই চালের মোট মূল্য দাঁড়িয়েছে ৯৬ কোটি ২৮ লাখ ২৭ হাজার ৯৫০ টাকা।
সাতক্ষীরা জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় থেকে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, চলতি মৌসুমে চাল সংগ্রহ অভিযানের লক্ষ্যমাত্রা গত মৌসুমের তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ বেশি।
জানা গেছে, সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় ১০ হাজার ১৫৬ দশমিক ৭০ টন, কলরোয়া উপজেলায় ১ হাজার ২১৪ টন, দেবহাটায় ১ হাজার ২৭৩ টন, কালিগঞ্জে ৬৭৫ টন, শ্যামনগরে ১৪২ টন, আশাশুনিতে ১৭৫ দশমিক ৯৮০ টন এবং তালা উপজেলার জন্য ৬ হাজার ১৩ দশমিক ৫৬০ টন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
চলতি মৌসুমে মোটা জাতের বোরো চালের জন্য সরকারিভাবে প্রতি কেজির মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৯ টাকা। এই হিসাব অনুযায়ী, ক্রয়কৃত ১৯ হাজার ৬৪৯ দশমিক ৫৫০ টন চালের মোট মূল্য ৯৬ কোটি ২৮ লাখ ২৭ হাজার ৯৫০ টাকা।
সূত্রটি আরও জানায়, ১৫ মে থেকে চাল সংগ্রহ অভিযান শুরু হয়ে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত শতভাগ সংগ্রহ সম্পন্ন হয়েছে। গত বোরো মৌসুমে জেলায় ১১ হাজার ৯৫৩ টন চাল সংগ্রহ করা হয়েছিল, যার মোট মূল্য ছিল ৫৮ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। এই হিসাবে, চলতি মৌসুমে ৭ হাজার ৬৯৬ দশমিক ৫৫ টন চালের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
সাতক্ষীরা জেলা (ভারপ্রাপ্ত) খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. ওমর ফারুক জানিয়েছেন, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী, জেলার সাতটি উপজেলার ২৪৭টি নিবন্ধিত মিল মালিকদের থেকে সচ্ছতা বজায় রেখে চলতি মৌসুমে ১৯ হাজার ৬৪৯ দশমিক ৫৫০ টন চাল ক্রয় করা হয়েছে। এ সময় চালের গুণগত মান বা পুষ্টি সঠিকভাবে যাচাই করা হয়েছে। তাছাড়া জেলার সকল গুদাম কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যেন কেউ অসৎ উপায়ে নিম্নমানের চাল সরকারি গুদামে প্রবেশ করতে না পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ