ঢাকা শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ৩১শে আশ্বিন, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ০৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ৩১শে আশ্বিন, ১৪৩২বাং

ওপেনএআই বয়কটের মধ্যেই গণিত নিয়ে মুখ খুললেন গুগল ডিপমাইন্ডের বিজ্ঞানী পুষমিত কোহলি


ওপেনএআই বয়কটের মধ্যেই গণিত নিয়ে মুখ খুললেন গুগল ডিপমাইন্ডের বিজ্ঞানী পুষমিত কোহলি

গণিত গবেষণায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার নিয়ে চলমান বিতর্কের মাঝে গুগল ডিপমাইন্ডের ভাইস প্রেসিডেন্ট পুষমিত কোহলি তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, এআই গণিতবিদদের কাজের বিকল্প হিসেবে কাজ করবে না; বরং এটি নতুন গাণিতিক সমস্যা খুঁজে বের করা, প্রমাণ খোঁজা এবং জটিল প্রশ্নের সমাধানে গবেষকদের সহায়তা করার জন্য একটি কার্যকর হাতিয়ার। কোহলি মনে করেন, গণিতের সব সমস্যার সমাধান কখনোই সম্পূর্ণরূপে শেষ হবে না।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে-এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ওপেনএআইয়ের সাম্প্রতিক গণিত গবেষণা প্রকাশের বিরুদ্ধে গণিতবিদদের একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠানটিকে বয়কটের আহ্বান জানায়। এই প্রেক্ষাপটে কোহলি মন্তব্য করেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে একাধিক পোস্টে তিনি জানান, গণিতের অগ্রগতির মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত গণিতবিদদের আরও সক্ষম করে তোলা। তিনি বলেন, গুগল ডিপমাইন্ড শুরু থেকেই গণিতবিদদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে নতুন প্রযুক্তি ও গবেষণার সরঞ্জাম তৈরিতে গুরুত্ব দিয়েছে।

আরও পড়ুন: সাইবার ঝুঁকিতে ১৫ খাত, বিশেষজ্ঞদের সতর্কতার আহ্বান

কোহলির মতে, এআইয়ের মাধ্যমে গাণিতিক প্রমাণ খুঁজে বের করার সক্ষমতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। একই সঙ্গে, গাণিতিক প্রমাণ যাচাইয়ের প্রযুক্তিও উন্নত হচ্ছে। এর ফলে গবেষকেরা জটিল সমস্যার উত্তর দ্রুত খুঁজে পেতে সক্ষম হচ্ছেন। তবে তিনি সতর্ক করেন যে, একটি প্রশ্নের উত্তর পাওয়া মানেই গবেষণা শেষ হয়ে যাওয়া নয়; বরং প্রতিটি উত্তর নতুন প্রশ্নের জন্ম দেয়।

তিনি লেখেন, গণিতের ক্ষেত্রে এআইয়ের অগ্রগতি একটি রূপান্তরমূলক সময়ের সূচনা করেছে। তবে গণিত কখনোই পুরোপুরি ‘সমাধান’ হয়ে যাবে না। প্রতিটি উত্তর নতুন প্রশ্নের দরজা খুলে দেয়।

কেন ওপেনএআই বয়কটের ডাক?

ওপেনএআইয়ের সাম্প্রতিক গণিত গবেষণা প্রকাশের পর ‘অ্যাসোসিয়েশন ফর হিউম্যান ম্যাথমেটিকস’ নামের একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে কাজ বন্ধ করার জন্য গণিতবিদদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

আরও পড়ুন: অপরিচিত নাম্বার থেকে ফোনের ভোগান্তি রুখতে ভারত সরকারের কড়া নির্দেশিকা

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওপেনএআইয়ের প্রকাশিত গবেষণায় ৩৭৭টি গাণিতিক সমস্যা নিয়ে কাজের ফলাফল এবং ৭০০টির বেশি ফাইলের একটি সংগ্রহ রয়েছে। সংগঠনটি দাবি করেছে, এ কাজের জন্য গণিতবিদেরা অনুরোধ করেননি। তাদের মতে, গবেষণাটি প্রকাশের পদ্ধতি বৈজ্ঞানিক গবেষণার প্রচলিত রীতিনীতি ও নৈতিকতার প্রশ্ন তুলেছে।

সংগঠনটি এ উদ্যোগকে গবেষণার অগ্রগতির প্রদর্শন না বলে ক্ষমতা প্রদর্শনের উদাহরণ হিসেবে বর্ণনা করেছে।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রিন্সটনে ইনস্টিটিউট ফর অ্যাডভান্সড স্টাডির অধীনে থাকা গণিত ও এআই বিষয়ক একটি স্বাধীন পরামর্শক গোষ্ঠীও এআই দিয়ে তৈরি গাণিতিক যুক্তি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের আশঙ্কা, এআইয়ের তৈরি যুক্তি গবেষকদের পক্ষে বোঝা, যাচাই করা কিংবা তার দায় নেওয়া কঠিন হতে পারে। উন্নত এআই মডেল ও কম্পিউটিং সুবিধায় অসম প্রবেশাধিকার গবেষণায় বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকেও বাড়তি সুবিধা দিতে পারে।

তবে ওপেনএআই জানিয়েছে, গবেষণার ফলাফল প্রকাশের আগে তারা ওই পরামর্শক গোষ্ঠীর সঙ্গে আলোচনা করেছে এবং তাদের পরামর্শ ও প্রকাশ্য সুপারিশ অনুসরণ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি গিটহাবেও গবেষণার উপকরণ প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে লিন নামের একটি আনুষ্ঠানিক গাণিতিক যাচাইব্যবস্থায় তৈরি অনেক প্রমাণের সংস্করণ এবং মডেলের যুক্তি নিয়ে সারসংক্ষেপ রয়েছে।

আরও পড়ুন: ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় দুর্নীতি ও বিধিমালা নিয়ে উদাসীনতা: টিআইবি

গণিতবিদদের সঙ্গে সহযোগিতায় জোর দিচ্ছে ডিপমাইন্ড।

কোহলি জানান, গণিতবিদদের সঙ্গে সহযোগিতার মাধ্যমে এআইয়ের কার্যকর ব্যবহার গড়ে তোলার চেষ্টা করছে গুগল ডিপমাইন্ড। এ ক্ষেত্রে তিনি সিডনি বিশ্ববিদ্যালয় ও অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের সঙ্গে প্রাথমিক সহযোগিতার কথা উল্লেখ করেন। ওই সহযোগিতার ভিত্তিতে ২০২১ সালে নেচার সাময়িকীতে প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্রে দেখানো হয়েছিল, কীভাবে এআই গণিতবিদদের নতুন গাণিতিক অনুমান বা কনজেকচার তৈরি করতে সাহায্য করতে পারে।

তিনি আরও বলেন, গণিতবিদদের মতামত ডিপমাইন্ডের আলফাএভলভ ও আলফাপ্রুফের মতো এআই সরঞ্জাম তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে। পাশাপাশি গাণিতিক প্রমাণ যাচাইয়ের জন্য লিনের মতো প্রযুক্তি উন্নয়নের ক্ষেত্রেও আনুষ্ঠানিক গণিত গবেষণা সম্প্রদায়ের অবদান রয়েছে।

গণিত গবেষণায় এআইয়ের ক্রমবর্ধমান সক্ষমতা নতুন সম্ভাবনা তৈরি করলেও এর ব্যবহার কীভাবে হবে, তা নিয়ে বিতর্ক বাড়ছে। কোহলির বক্তব্যে জোর দেওয়া হয়েছে—এআইয়ের লক্ষ্য গণিতবিদদের সরিয়ে দেওয়া নয়, বরং তাঁদের আরও জটিল প্রশ্ন নিয়ে কাজ করার সুযোগ করে দেওয়া।

আরও পড়ুন: অ্যামাজনে নতুন ছাঁটাই, প্রায় এক হাজার কর্মী চাকরি হারালেন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মিরপুরে পাঁচ লেগুনা স্ট্যান্ড দখল, গাড়িপ্রতি ৩০০ টাকা চাঁদা দাবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:০৬ পি.এম


মিরপুরে পাঁচ লেগুনা স্ট্যান্ড দখল, গাড়িপ্রতি ৩০০ টাকা চাঁদা দাবি

রাজধানীর মিরপুরের পাঁচটি লেগুনা স্ট্যান্ড জোরপূর্বক দখল করার অভিযোগ উঠেছে। গাড়িপ্রতি ৩০০ টাকা চাঁদা দাবি করা হচ্ছে এবং মালিকদের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটেছে। চাঁদাবাজী বন্ধ করা, হামলার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করা এবং স্ট্যান্ডগুলো দখলমুক্ত করার দাবি জানানো হয়েছে। বৃহত্তর মিরপুর লেগুনা মালিক-শ্রমিক ইউনিয়ন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইজিপি, ডিএমপি কমিশনারসহ সংশ্লিষ্টদের জরুরী হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন।

শুক্রবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) দ্বিতীয় তলার সাগর-রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের নেতারা এসব অভিযোগ তুলে ধরেন। লিখিত বক্তব্যে মো. ইয়াকুব আলী জানান, গত ৫ অক্টোবর সকাল সাড়ে ১১টার দিকে অস্ত্র প্রদর্শন করে এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে মিরপুর ১ নম্বর সেকশনের পাঁচটি লেগুনা স্ট্যান্ড নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়। এই ঘটনায় ঢাকা-১৪ আসনের বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী এস এ সিদ্দিক সাজ্জুর সমর্থক ও সহযোগী হিসেবে পরিচিত বিপ্লব, সোলেমান দেওয়ান, মহব্বত আলী, পাভেল ভূঁইয়া, তৈয়ব আলী, আলমগীর হোসেন, শামীম ও মজিবর রহমানসহ ৬০ থেকে ৭০ জন জড়িত বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

সংগঠনের নেতারা জানান, লেগুনার মালিকদের কাছ থেকে প্রতিটি গাড়ির জন্য ৩০০ টাকা চাঁদা দাবি করা হচ্ছে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ভয়ভীতি দেখানো ও চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। এ ছাড়া লেগুনার মালিক ইয়াকুব আলী, নজরুল ইসলাম ও বাবুলের ওপর হামলার অভিযোগ করা হয়েছে। ইয়াকুব আলীর শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং তাঁর চিকিৎসাসংক্রান্ত কাগজপত্র ও মেডিকেল রিপোর্ট সংগঠনের কাছে আছে বলে জানানো হয়েছে।

বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, হামলার ঘটনার পর ইয়াকুব আলী দারুস সালাম থানায় অভিযোগ জানাতে গেলে তাঁর অভিযোগ গ্রহণ করা হয়নি। তাঁরা তদন্তের দাবি জানান এবং কোনো পুলিশ সদস্যের গাফিলতি প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।

সংবাদ সম্মেলনে পাঁচটি স্ট্যান্ড দখলের অভিযোগ তদন্ত, ভিডিও ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য যাচাই, হামলার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার, অবৈধ চাঁদাবাজি বন্ধ এবং স্ট্যান্ডগুলো দখলমুক্ত করার দাবি জানানো হয়। বক্তারা রাজনৈতিক পরিচয় যেন তদন্তে প্রভাব না ফেলে, সে আহ্বান জানান। তাঁদের দাবি, ঘটনার ভিডিও ফুটেজ ও অন্যান্য প্রমাণ তাঁদের কাছে রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মো. ইয়াকুব আলী, মো. নজরুল ইসলাম, মো. সাইদুল শেখ, আলামিন ও ফিরোজসহ সংগঠনের অন্য সদস্যরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নানা পাটেকরের বিরুদ্ধে তনুশ্রীর করা হেনস্থার অভিযোগ মামলার নিষ্পত্তি হয়েছিল যেভাবে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

শুক্রবার, ৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:০৭ পি.এম


নানা পাটেকরের বিরুদ্ধে তনুশ্রীর করা হেনস্থার অভিযোগ মামলার নিষ্পত্তি হয়েছিল যেভাবে

২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে তনুশ্রী দত্ত বলিউডে একটি তোলপাড় তৈরি করেন। তিনি প্রায় দশ বছর আগে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা সামনে এনে নানা পাটেকরের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ উত্থাপন করেন।

ঘটনাটি ২০০৮ সালে ‘হর্ন ওকে প্লিজ’ ছবির একটি গানের শুটিংয়ের সময় ঘটে। তনুশ্রীর অভিযোগ ছিল, গানটিতে নানা পাটেকরের থাকার কথা ছিল না। তবে তিনি সেটে এসে তার সঙ্গে অশোভন আচরণ করেন। বৃহস্পতিবার (০৮ অক্টোবর) এই বর্ষীয়ান অভিনেতার মৃত্যুর পর সেই ঘটনা আবার আলোচনায় উঠে আসে।

তনুশ্রীর দাবি ছিল, তাকে একক নাচের জন্য চুক্তিবদ্ধ করা হয়েছিল। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছিলেন, অশ্লীল বা অস্বস্তিকর কোনো নাচের অংশে তিনি অংশগ্রহণ করবেন না। অভিনেত্রীর অভিযোগ, নাচ শেখানোর অজুহাতে নানা তার হাত ধরে টানেন, ধাক্কা দেন এবং শরীরে অনভিপ্রেতভাবে স্পর্শ করেন।

তনুশ্রী বলেছিলেন, ‘তিনি আমার হাত ধরে টানছিলেন, আমাকে ধাক্কা দিচ্ছিলেন, চিৎকার করছিলেন।’ তার আরও অভিযোগ ছিল, পরে গানের নাচের ভঙ্গি বদলে নানার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ দৃশ্য রাখার চেষ্টা হয়েছিল। নাচটির কোরিওগ্রাফার ছিলেন গণেশ আচার্য। তনুশ্রীর অভিযোগ ছিল, গণেশও নানা পাটেকরকে সমর্থন করেছিলেন। শেষ পর্যন্ত ওই ছবিতে আর কাজ করেননি অভিনেত্রী।

হেনস্থার ঘটনার পর তনুশ্রী শুটিং ছেড়ে সাজঘরে চলে যান এবং তার বাবা-মা তাকে নিতে এলে তিনি গাড়িতে করে স্টুডিও থেকে বেরোনোর চেষ্টা করেন। তনুশ্রীর অভিযোগ, বাইরে একদল লোক তার গাড়ি ঘিরে হামলা চালায় এবং গাড়ি ভাঙচুর করে। তার দাবি ছিল, ওই হামলার সঙ্গে নানার ঘনিষ্ঠদের যোগ ছিল। তবে ২০০৮ সালের পুলিশি অভিযোগে মূলত গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনাটাই নথিভুক্ত হয়েছিল। যৌন হেনস্থার অভিযোগ সেখানে ছিল না।

দশ বছর পরে ২০১৮ সালে তনুশ্রী ফের বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেন। তার বক্তব্য ছিল, ‘সবাই জানত, কিন্তু কেউ কিছু বলেনি।’ তার এসব অভিযোগ সামনে আসার পর ভারতে যৌন হেনস্থার বিরুদ্ধে আন্দোলন নতুন গতি পায়। সেই সময়ের ‘হ্যাশট্যাগ মিটু’ আন্দোলনে একের পর এক যৌন হেনস্থার অভিযোগ উঠে আসে।

তনুশ্রীর অভিযোগ নানা পাটেকর শুরু থেকেই অস্বীকার করেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি পালটা প্রশ্ন তুলেছিলেন, ‘যৌন হেনস্থা বলতে কী বোঝাচ্ছেন? সেখানে পঞ্চাশ থেকে একশো জন মানুষ ছিল।’ পরে নানার আইনজীবী তনুশ্রীকে আইনি নোটিস পাঠিয়ে অভিযোগ প্রত্যাহার করে ক্ষমা চাইতে বলেন।

২০১৮ সালের অক্টোবরে তনুশ্রীর অভিযোগের ভিত্তিতে ওশিওয়ারা থানায় মামলা হয়। নানা ছাড়াও নৃত্য পরিচালক গণেশ আচার্যের নামও অভিযোগে ছিল। ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৫৪ এবং ৫০৯ ধারায় মামলা করা হয়েছিল।

এর প্রেক্ষিতে ২০১৯ সালে মুম্বাই পুলিশের বক্তব্য ছিল, অভিযোগের পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তনুশ্রী সেই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেন। এরপর দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পরে ২০২৫ সালের মার্চে আন্ধেরির আদালত মামলাটি নিষ্পত্তি করে। আদালত জানায়, ২০০৮ সালের ঘটনার প্রায় দশ বছর পরে দায়ের হওয়া মামলাটি আইন নির্ধারিত সময়সীমার বাইরে। ফলে মূল অভিযোগ সত্যি না মিথ্যা, সেই প্রশ্নে যাওয়ার সুযোগই পায়নি আদালত।

অর্থাৎ, আদালত নানা পাটেকরকে অভিযোগ থেকে বেকসুর খালাস করেনি, আবার তনুশ্রীর অভিযোগকেও সত্য বলে প্রতিষ্ঠা করেনি। পুলিশ তদন্তে পর্যাপ্ত প্রমাণ না পাওয়ার কথা জানিয়েছিল, আর আদালত পরে সময়সীমার কারণে মামলাটি নিষ্পত্তি করে।

নানার মৃত্যুর পর তার দীর্ঘ অভিনয়জীবন নিয়ে অনেকেই স্মৃতিচারণ করেন। বহু তারকাই শোক প্রকাশ করেন। তার পাশাপাশি তনুশ্রীর এই অভিযোগের প্রসঙ্গও ফিরে আসে।

তনুশ্রী নাম উল্লেখ না করেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি একটি ভিডিও বার্তায় বলেন, ‘আমি খবরটা শুনেছি। কিন্তু আজ আমার কাজের দিন। আমি একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে লখনৌ যাচ্ছি। আমি সেটাতেই মন দিতে চাই। এমন একটা দিনে এই সব কিছু ঘটল, ব্যাপারটা খুব অদ্ভুত। লখনৌতে আমার একটি বড় অনুষ্ঠান রয়েছে। সেটি আমার কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ। সারা দিনের জন্য অনেক কিছু পরিকল্পনা করে রেখেছিলাম। সরাসরি অনুষ্ঠান করব, বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলব, এমন পরিকল্পনাও ছিল।’

লখনৌতে অনুষ্ঠান নিয়ে উত্তেজিত ছিলেন তনুশ্রী। কিন্তু নানার মৃত্যুর খবর পাওয়ার পরে তিনি খানিক আতঙ্কিত হয়ে বলেন, ‘এখন আমার ভয় হচ্ছে, সন্ধ্যায় সকলের আগ্রহের বিষয় হয়ে উঠবে এই মৃত্যু। সংবাদমাধ্যম এই নিয়েই প্রশ্ন করবে। তাই কী ভাবে এই প্রতিক্রিয়া জানানো উচিত জানি না। আমি আমার প্রতিক্রিয়া জানাব। পরিবারের প্রতি অবশ্যই সমবেদনা রইল।’

সূত্র: আনন্দবাজার

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

স্কুলছাত্রী তাজমিন হত্যাকাণ্ডে সুমন গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:০৭ পি.এম


স্কুলছাত্রী তাজমিন হত্যাকাণ্ডে সুমন গ্রেপ্তার

কুমিল্লার লালমাইয়ে ফসলি জমি থেকে উদ্ধার হওয়া জান্নাতুল তাজমিনের (১৫) মরদেহের ঘটনায় মূল আসামি সুমনকে চট্টগ্রাম থেকে আটক করেছে পুলিশ। কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পাশাপাশি, অন্য কেউ জড়িত কিনা সেটি খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকালে চট্টগ্রাম নগরী থেকে সুমনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এসপি আনিসুজ্জামান জানান, গ্রেপ্তার সুমন স্কুলছাত্রীকে বহনকারী সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশের একাধিক টিম অভিযান চালিয়ে তাকে চট্টগ্রাম নগরী থেকে আটক করে। সুমনকে নিয়ে পুলিশ কুমিল্লার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিয়েছে। কুমিল্লায় পৌঁছালে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিস্তারিত জানানো হবে। তবে সংবাদ সম্মেলন কখন হবে, সে বিষয়ে নিশ্চিত কিছু বলেননি তিনি।

এদিকে, তাজমিনের মৃত্যুর আগের রাতের চলাচলের একটি সিসিটিভি ফুটেজ উদ্ধার করা হয়েছে। ফুটেজে দেখা যায়, বুধবার (৭ অক্টোবর) রাত পৌনে ১২টার দিকে পদুয়ার বাজারের নূরজাহান হোটেলের সামনে আইকনিক পরিবহনের একটি বাস থেকে নামে তাজমিন। এরপর হোটেলের পশ্চিম পাশে কয়েকটি স্টেশনারি দোকানের দিকে যায় সে। একটি দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে দোকানির সঙ্গে কথা বলার সময় তাকে কিছু দেখাতে বা কোনো দিক নির্দেশ করতে দেখা যায়।

ফুটেজে আরও দেখা যায়, দোকানের সামনে কিছু দেখানোর পর তাজমিন সেখান থেকে সরে অন্য পাশে যায়। পরে রাত সোয়া ১২টার দিকে তাকে নূরজাহান হোটেল এলাকা ছেড়ে যেতে দেখা যায়। তবে এলাকা ছাড়ার পর তাজমিন কোন পথে গিয়েছিল, সে বিষয়ে এখনও কোনো সিসিটিভি ফুটেজ পাওয়া যায়নি। তার চলাচলের পথ এবং সম্ভাব্য যাতায়াতের মাধ্যম নিয়ে তদন্ত করছে পুলিশ।

এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, পুলিশ জানায়, চারদিন আগে বাড়ি থেকে বেরিয়ে তাজমিন প্রথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যায়। পরদিন কুমিল্লায় ফিরে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। ৭ অক্টোবর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কক্সবাজার থেকে কুমিল্লার উদ্দেশ্যে রওনা দেয় তাজমিন। রাতে পদুয়ার বাজারে পৌঁছে নূরজাহান হোটেলের সামনে নামে সে। সিসিটিভি ফুটেজে ওই এলাকায় তার অবস্থান ও দোকানির সঙ্গে কথা বলার দৃশ্য দেখা গেলেও সেখান থেকে চলে যাওয়ার পরদিন তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকাল ৮টার দিকে লালমাই উপজেলার পেরুল উত্তর ইউনিয়নের জগতপুর উত্তরপাড়ার মানুমুড়া জঙ্গলসংলগ্ন ফসলি জমি থেকে তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তার গলায় গামছা পেঁচানো ছিল।

নিহত তাজমিন যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের ছাতিয়ানতলা এলাকার আবদুল আলীমের মেয়ে। সে পরিবারের সঙ্গে কুমিল্লা নগরের রেসকোর্স এলাকার একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করত।

বৃহস্পতিবার ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ বাড়ি নিয়ে যায় স্বজনরা। এর আগে রাতে লালমাই থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহতের বাবা আবদুল আলীম।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

স্ত্রীর বেতনেই চলত নানার সংসার, সম্পর্ক ভালো ছিল না

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

শুক্রবার, ৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:০৭ পি.এম


স্ত্রীর বেতনেই চলত নানার সংসার, সম্পর্ক ভালো ছিল না

বলিউডের প্রতিভাবান অভিনেতা নানা পাটেকরের দীর্ঘ অভিনয়জীবনের আড়ালে রয়েছে সংগ্রাম, ব্যক্তিগত বেদনা ও সম্পর্কের টানাপোড়েনের নানা অধ্যায়। তার পর্দায় দাপুটে উপস্থিতি, সংলাপ পরিবেশনের স্বতন্ত্র ধরন এবং অনবদ্য অভিনয় সবসময় দর্শকদের মুগ্ধ করেছে। কিন্তু বাস্তব জীবনে তাকে কিছু কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে, যা তিনি খুব একটা প্রকাশ্যে আনেননি।

ক্যারিয়ারের শুরুতে, যখন মাত্র ৫০ টাকা পারিশ্রমিক পেতেন নানা, তখন তার পাশে ছিলেন স্ত্রী নীলকান্তি পাটেকর। এর পাশাপাশি, মাত্র আড়াই বছর বয়সে বড় ছেলেকে হারানোর মর্মান্তিক অভিজ্ঞতাও তার জীবনে এসেছে। জীবনের সেই কঠিন সময়ের কথা একসময় নিজেই প্রকাশ করেছিলেন এই অভিনেতা।

অভিনেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আগে নানার জীবন ছিল অনেকটাই ভিন্ন। নাটকের মঞ্চে কাজ করার সময় তার পারিশ্রমিক ছিল খুবই সামান্য। সেই সময় একটি নাটকে অভিনয় করতে গিয়ে নীলকান্তির সঙ্গে তার পরিচয় ঘটে। নীলকান্তি তখন অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং একটি ব্যাঙ্কে আধিকারিক হিসেবে কাজ করতেন।

এক সাক্ষাৎকারে নিজের জীবনের সেই সময়ের কথা বলতে গিয়ে নানা জানিয়েছেন, একটি নাটকে অভিনয় করে তিনি পেতেন মাত্র ৫০ টাকা। মাসে ১৫-২০টি শো করলেও তার মোট আয় দাঁড়াত প্রায় ৭৫০ টাকা।

অন্যদিকে, ব্যাঙ্কে চাকরি করার সুবাদে নীলকান্তির মাসিক বেতন ছিল প্রায় ২ হাজার ৫০০ টাকা। ফলে সংসার চালানো এবং অভিনয়ের প্রতি নিজের ভালোবাসাকে বাঁচিয়ে রাখার ক্ষেত্রে স্ত্রীর আর্থিক সহায়তা তাকে খুব সাহায্য করেছে।

নানার জীবনের সবচেয়ে মর্মান্তিক অধ্যায়গুলির মধ্যে অন্যতম তার বড় ছেলে দুর্বাসার মৃত্যু। মাত্র আড়াই বছর বয়সে মৃত্যু হয়। অতীতে এক সাক্ষাৎকারে নিজের সন্তানের শারীরিক সমস্যা এবং তাকে হারানোর যন্ত্রণা নিয়ে কথা বলেছিলেন এই অভিনেতা। নানা জানিয়েছিলেন, জন্মের সময় তার ছেলের ঠোঁটে জন্মগত ত্রুটি ছিল। একটি চোখে দেখতেও সমস্যা হতো শিশুটির। সেই পরিস্থিতিতে নিজের মানসিক অবস্থার কথা বলতে গিয়ে অভিনেতা আত্মসমালোচনাও করেছিলেন। সন্তানের শারীরিক অবস্থার দিকে তাকিয়ে প্রথমেই তার মনে হয়েছিল, অন্যেরা কী ভাববে।

ছেলেকে হারানোর প্রসঙ্গে নানা জানিয়েছেন, তিনি কাঁদেননি। তবে চোখের জল না ফেলা মানে যে মনের ভিতরে যন্ত্রণা ছিল না, তা নয়। বরং এই ঘটনা তার জীবনে এমন এক ক্ষত তৈরি করেছিল, যার কথা স্মরণ করাও সহজ ছিল না।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৪
মাগরিব ০৫:৩২
ইশা ০৬:৪৩
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%