শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১১:২৮ এম
৩৩ বছর বয়সী মার্কিন ওপেন-ওয়াটার সাঁতারু ক্যাথরিন ব্রিড অসাধ্য সাধন করেছেন। তিনি মাত্র ১১১ দিনের মধ্যে ক্যালিফোর্নিয়ার ৯০০ মাইল দীর্ঘ উপকূল সাঁতরে পার হয়ে একটি অবিশ্বাস্য ইতিহাস গড়েছেন। এই দীর্ঘ ও চ্যালেঞ্জিং যাত্রা শুরু হয়েছিল গত ১ জুলাই ওরেগন সীমান্ত থেকে এবং সফলভাবে শেষ হয় ১৯ অক্টোবর মেক্সিকোর টিজুয়ানা সীমান্তে।
ক্যাথরিন প্রতিদিন গড়ে পাঁচ থেকে আট ঘণ্টা খোলা সমুদ্রে সাঁতার কাটতেন। লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমস ও নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, "এই অর্জন আমার কাছে এখনো স্বপ্নের মতো মনে হচ্ছে।"
চার মাসের এই রোমাঞ্চকর যাত্রা মোটেও সহজ ছিল না। বিশেষ করে ‘এল নিনো’র প্রভাবে সমুদ্রের বৈরী আবহাওয়ার কারণে তাকে বারবার দিক পরিবর্তন করতে হয়েছে। এতে তার সাঁতারের সময় ও দূরত্ব উভয়ই বেড়ে যায়। এছাড়াও, সমুদ্রের দ্রুততম শিকারি ‘মাকো হাঙর’-এর মুখোমুখি হতে হয়েছিল তাকে।
হাঙর দেখার মাত্র ১০ সেকেন্ডের মধ্যেই দলের ক্যাপ্টেন মেইসি ব্রিস্টো তাকে নিরাপদে ৫২ ফুট দীর্ঘ নৌকায় তুলে নেন। ওয়ার্ল্ড ওপেন ওয়াটার সুইমিং অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাহী পরিচালক কুইন ফিটজগেরাল্ড জানান, এল নিনোর প্রতিকূল পরিস্থিতিতে এমন উচ্চাভিলাষী অভিযান সফল করা ক্যাথরিনের অসাধারণ প্রতিভার প্রমাণ।
ঐতিহাসিক এই অর্জনের পর ক্যাথরিন ব্রিড তার অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে পুরো ক্রু দলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। সমুদ্রের বুকে টানা প্রায় চার মাস কাটানোর পর তিনি মধ্য আমেরিকায় এক বন্ধুর বিয়ের অনুষ্ঠানে ছুটি কাটাতে যাবেন। এরপর সমুদ্র সংরক্ষণ এবং সাধারণ মানুষকে বড় লক্ষ্য অর্জনে অনুপ্রাণিত করতে নিজের এই রোমাঞ্চকর যাত্রার গল্প সবার কাছে তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে এই অদম্য সাঁতারুর।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিশ্বজুড়ে সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে, যখন বহুল ব্যবহৃত প্রোগ্রামিং ভাষা পিএইচপিতে নিরাপত্তা ত্রুটি শনাক্ত হয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সাহায্যে হ্যাকারদের জন্য সফটওয়্যারের দুর্বলতা খুঁজে বের করা এবং সেগুলো কাজে লাগানো সহজ হয়ে উঠছে। এই প্রেক্ষাপটে, অনলাইনে নিরাপদ থাকার জন্য বিশেষজ্ঞরা পাঁচটি পরামর্শ প্রদান করেছেন।
১. একাধিক স্তরের নিরাপত্তা চালু করুন: প্রতিটি ওয়েবসাইটের জন্য আলাদা ও শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা উচিত। পাশাপাশি, দ্বিস্তরীয় বা বহুধাপের পরিচয় যাচাইকরণ (এমএফএ) চালু রাখা প্রয়োজন। সম্ভব হলে, পাসওয়ার্ডের বিকল্প হিসেবে পাসকি ব্যবহার করা উচিত।
২. স্বয়ংক্রিয় আপডেট চালু রাখুন: ফোন, কম্পিউটার, রাউটার এবং অন্যান্য ইন্টারনেট-সংযুক্ত যন্ত্রে স্বয়ংক্রিয় আপডেট চালু রাখা উচিত। নিরাপত্তা ত্রুটি সংশোধনে প্রকাশিত আপডেটগুলো দ্রুত ইনস্টল করা জরুরি।
৩. সফটওয়্যার নিয়মিত হালনাগাদ করুন: ব্যবহৃত অ্যাপ ও ডিজিটাল সেবাগুলো নিয়মিতভাবে আপডেট করা উচিত। স্মার্ট হোম ডিভাইসসহ যেসব যন্ত্রে নিরাপত্তা আপডেট কম আসে, সেগুলোর বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
৪. প্রতারণামূলক লিংক থেকে সতর্ক থাকুন: বড় কোনো সাইবার হামলার খবর ছড়ালে, প্রতারকেরা ভুয়া বার্তা দিয়ে ব্যবহারকারীদের ফাঁদে ফেলতে পারে। অ্যাকাউন্ট সুরক্ষার নামে আসা অপরিচিত লিংকে ক্লিক না করে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে সরাসরি প্রবেশ করা উচিত।
৫. অনলাইন লেনদেনে সতর্ক থাকুন: ব্যাংকের নিরাপত্তাব্যবস্থা তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী হলেও, অপরিচিত অনলাইন বিক্রেতা বা কম সুরক্ষিত ওয়েবসাইটে কেনাকাটার সময় বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। বিভিন্ন সাইটে একই পাসওয়ার্ড ব্যবহার না করার পাশাপাশি, সন্দেহজনক লেনদেনের বিষয়ে নজর রাখা উচিত।
ব্যক্তিগত সতর্কতা গুরুত্বপূর্ণ, তবে সব সাইবার ঝুঁকি ব্যবহারকারীর পক্ষে ঠেকানো সম্ভব নয়। তাই সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর দ্রুত নিরাপত্তা ত্রুটি সংশোধন, নিয়মিত সফটওয়্যার হালনাগাদ এবং আক্রান্ত সিস্টেমে অনুপ্রবেশ ঘটেছে কি না, তা যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি।
সূত্র: রয়টার্স
আরএ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) পরিচালিত অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৪৭৭ জনকে আটক করা হয়েছে। একই সময়ে ৩৪টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) এই তথ্য নিশ্চিত করেন ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. আকতার হোসেন।
তিনি উল্লেখ করেন, আটকদের মধ্যে রমনা বিভাগ থেকে ২৫ জন, লালবাগ বিভাগ থেকে ৩৪ জন, ওয়ারী বিভাগ থেকে ৩৫ জন, মতিঝিল বিভাগ থেকে ৩৬ জন, তেজগাঁও বিভাগ থেকে ৮৫ জন, মিরপুর বিভাগ থেকে ১৬১ জন, গুলশান বিভাগ থেকে ৫২ জন, উত্তরা বিভাগ থেকে ৪৬ জন এবং গোয়েন্দা বিভাগ থেকে তিনজনকে আটক করা হয়েছে।
অভিযান চলাকালে ৪৩৬ পিস ইয়াবা, ৪ বোতল বিদেশি মদ, ৭টি মোবাইলফোন, নগদ ৬ হাজার ৫৫০ টাকা এবং একজন ভিকটিম উদ্ধার করা হয়।
রাজধানীর বিভিন্ন থানার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে বিভিন্ন আলামত ও মাদকদ্রব্য উদ্ধারসহ আটককৃতদের গ্রেফতার করা হয়েছে।
আটকদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গাজীপুরের কালীগঞ্জে রাতে টহল দেওয়ার সময় কাভার্ড ভ্যানের চাপায় পুলিশের এক উপপরিদর্শকসহ (এসআই) দুজন নিহত হয়েছেন। এই দুর্ঘটনায় আরো দুইজন আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ভোরে কালীগঞ্জ সরকারি শ্রমিক কলেজের সামনে এই ঘটনা ঘটে।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন কালীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক মিজানুর রহমান (৩০) এবং তুমুলিয়া এলাকার মৃত ওয়াজ উদ্দিন মোল্লার ছেলে রফিক মোল্লা (৪৫)। আহতদের মধ্যে উপপরিদর্শক জাবেদ ওমর (২৮) ও গাড়িচালক রাব্বি (২৮) অন্তর্ভুক্ত। জাবেদ ওমর বর্তমানে ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে এসআই মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল নিয়মিত টহল দিচ্ছিল। এক পর্যায়ে, কালীগঞ্জ সরকারি শ্রমিক কলেজের সামনে পুলিশের গাড়ি থামিয়ে সড়কের পাশে এক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলছিলেন মিজানুর রহমান, জাবেদ ওমর ও রাব্বি। এই সময় ঘোড়াশালমুখী একটি কাভার্ড ভ্যান তাদের চাপা দিয়ে চলে যায়।
পরে অন্য পুলিশ সদস্যরা আহত চারজনকে উদ্ধার করে রাত ৩টা ৫০ মিনিটে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক রফিক মোল্লাকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত মিজানুর রহমান ও জাবেদ ওমরকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ঢাকায় পাঠানো হয়। পরে তাদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়, যেখানে শুক্রবার সকাল ৬টা ৪৭ মিনিটে চিকিৎসকরা মিজানুর রহমানকে মৃত ঘোষণা করেন।
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকির হোসেন জানান, দিনগত রাতে পুলিশের নিয়মিত টহল চলছিল। এ সময় তাদের গাড়িচাপা দেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় এসআই মিজানুর রহমানের মৃত্যু হয়। জাবেদ ওমর গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। রাব্বি প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। এই ঘটনায় স্থানীয় একজন ব্যক্তিও মারা গেছেন।
চাপা দেওয়া গাড়িটি শনাক্তের চেষ্টা চলছে এবং আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলে তিনি জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে পূর্বাচল ৩০০ ফিট এক্সপ্রেসওয়েতে সংঘটিত একটি দুর্ঘটনায় দুই বন্ধু প্রাণ হারিয়েছেন। মোটরসাইকেল ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষের ফলে একজন গুরুতর আহত হয়েছেন। তার অবস্থা বর্তমানে আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাতে উপজেলার পূর্বাচল ৩০০ ফিট এক্সপ্রেসওয়ের ভূঁইয়াবাড়ী ব্রিজ এলাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন রূপগঞ্জ উপজেলার দিঘিরপাড় এলাকার আক্তার মিয়ার ছেলে রুদ্র মিয়া এবং বেল্লারটেক এলাকার কামালের ছেলে ইয়াছিন। অপরদিকে, আহত শ্রাবণ মিয়া বাঘবের সিটি মার্কেট এলাকার জিল্লুরের সন্তান।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, তিন বন্ধু একটি নিবন্ধনহীন মোটরসাইকেলে করে পূর্বাচল এলাকায় ঘুরতে বের হন। এক পর্যায়ে, তারা ভূঁইয়াবাড়ী ব্রিজের পশ্চিম পাশে সার্ভিস লেন দিয়ে উল্টো পথে যাওয়ার সময় একটি অজ্ঞাতনামা ট্রাকের সঙ্গে তাদের মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। এই সংঘর্ষের ফলে ঘটনাস্থলেই রুদ্র ও ইয়াছিন নিহত হন এবং গুরুতর আহত হন শ্রাবণ মিয়া।
রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএইচএম সালাউদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, দুর্ঘটনার পর ট্রাকের চালক পালিয়ে যায়। পুলিশ ট্রাক ও চালককে শনাক্ত করে আটকের চেষ্টা চালাচ্ছে।
তিনি আরও জানান, এই ঘটনার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ