মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০১:৪৮ পি.এম
যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ায় কোম্পানীগঞ্জ ওয়েলফেয়ার সোসাইটি অব পেনসিলভানিয়া ইউএসএ ইনকের ২০২৭-২০২৯ মেয়াদের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এতে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন ইব্রাহিম খলিল চৌধুরী রাকিব এবং সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন শরাফত উল্লাহ সোহাগ।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সংগঠনটির নিজস্ব কার্যালয় ৬২ রিচফিল্ড রোড, আপার ডারবি, পেনসিলভানিয়ায় নির্বাচন কমিশন নবনির্বাচিত কমিটির সদস্যদের নাম ঘোষণা করে।
কমিটির সিনিয়র সহসভাপতি হয়েছেন সাখাওয়াত হোসেন টিপু এবং সহসভাপতি হয়েছেন মো. সাহিদ কামাল সবুজ।
কমিটির অন্যান্য পদে নির্বাচিত হয়েছেন সহসাধারণ সম্পাদক নূর করিম রনি, সাংগঠনিক সম্পাদক নূর হোসেন এরশাদ, কোষাধ্যক্ষ মোহাম্মদ ইউসুফ নবী, সহকারী কোষাধ্যক্ষ শাহাব উদ্দিন, প্রচার সম্পাদক জহিরুল আলম নয়ন, দপ্তর সম্পাদক মোহাম্মেদ আরিফুর রহমান তারেক, সমাজকল্যাণ সম্পাদক মাইনুর রহমান জনি এবং ক্রীড়া সম্পাদক বেলাল হোসাইন রতন।
এ ছাড়া নির্বাহী সদস্য হয়েছেন ইকবাল চৌধুরী রিপন, ইউসুফ নবী, সালেহ উদ্দিন, আরিফুল হক রনি ও নূরুল আফসার রাজিব।
কোম্পানীগঞ্জের মুছাপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও প্রবীণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব মাহফুজুল হক চৌধুরীর ছেলে ইব্রাহিম খলিল চৌধুরী রাকিব নবনির্বাচিত কমিটির সভাপতি হয়েছেন। তার নেতৃত্বে প্রবাসে কোম্পানীগঞ্জের মানুষের মধ্যে ঐক্য, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। পাশাপাশি সংগঠনের কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং প্রবাসীদের কল্যাণে নতুন কমিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা করছে প্রবাসীরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাশিয়ার দখলে থাকা ইউক্রেনের ওলেশকি শহরে মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্যে আজ মঙ্গলবার ভোরে ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে।
গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প এই যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছিলেন।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাত ৩টা থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কথা জানানো হয়েছে উভয় পক্ষের তরফ থেকে। তবে সংঘর্ষের তীব্রতা কমেছে কি না, তাৎক্ষণিকভাবে তা যাচাই করতে পারেনি এএফপি।
এদিকে, মঙ্গলবার ভোরে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, রাজধানী কিয়েভের দিকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে।
২০২২ সালে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরুর সময় ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় খেরসন অঞ্চলের যুদ্ধবিধ্বস্ত ওলেশকি শহরটি রুশ বাহিনীর দখলে চলে যায়। এরপর থেকে শহরটি যুদ্ধের মাঝখানে আটকা পড়েছে।
চলতি বছরের শুরুর দিকে এএফপিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শহরটির সাবেক বাসিন্দারা জানিয়েছেন, সেখানে থেকে যাওয়া মানুষজন খাদ্যসংকটে ভুগছেন, প্রয়োজনীয় ওষুধ পাচ্ছেন না এবং সহজে শহর ছেড়ে যাওয়ার সুযোগও তাদের নেই।
মঙ্গলবার রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে।
মন্ত্রণালয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রাম চ্যানেলে বলেছে, ‘খেরসন অঞ্চলের ওলেশকি এলাকায় একটি মানবিক ত্রাণ কার্যক্রমের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে (রুশ বাহিনী) খেরসন রণাঙ্গনে গোলাবর্ষণ বন্ধ করেছে ও ‘নীরবতা বজায় রাখার ব্যবস্থা’ চালু করেছে।’
ইউক্রেনের মানবাধিকারবিষয়ক কমিশনার দিমিত্রো লুবিনেৎস জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতি মেনে চলার ক্ষেত্রে ইউক্রেন তার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে তিনি বলেন, ‘আমরা যে সমঝোতায় পৌঁছেছি এবং উভয় পক্ষই তা মেনে চলছে।’
সীমিত একটি এলাকায় কার্যকর হওয়া এই যুদ্ধবিরতি এমন সময়ে শুরু হলো, যখন ইউক্রেন যুদ্ধ পঞ্চম বছরে গড়িয়েছে।
কয়েক মাসের বিরতির পর আগামী নভেম্বরে ওয়াশিংটন, মস্কো ও কিয়েভের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় শান্তি আলোচনা আবারও শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
তবে যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব কারা পালন করবে কিংবা এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মানবিক সহায়তা কার্যক্রম কীভাবে পরিচালিত হবে, সে বিষয়ে রাশিয়া, ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্র— কোনো পক্ষই বিস্তারিত জানায়নি।
গত শুক্রবার যুদ্ধবিরতির মধ্যস্থতা করার ঘোষণা দিয়ে মেলানিয়া ট্রাম্প বলেছিলেন, রাশিয়া ও ইউক্রেনের বেসামরিক কর্মকর্তারা শহরটির বাসিন্দাদের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলবেন এবং তাদের কী ধরনের সহায়তা প্রয়োজন, তা নির্ধারণ করবেন।
তিনি বলেন, ‘যেসব বাসিন্দা শহর ছেড়ে যেতে চান, তাদের পছন্দের গন্তব্যে পৌঁছে দিতে সমন্বিত সহায়তা ও পরিবহনের ব্যবস্থা করা হবে। আমার ধারণা, তাদের কেউ রাশিয়ায় যেতে চাইবেন, আবার কেউ ইউক্রেনে ফিরতে চাইবেন।’
যুক্তরাষ্ট্রের ডানপন্থী টেলিভিশন নেটওয়ার্ক নিউজম্যাক্স জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার শহরটিতে প্রবেশকারী পর্যবেক্ষকদের সঙ্গে গিয়ে প্রতিবেদন তৈরির জন্য তারা ‘এক্সক্লুসিভ টেলিভিশন সম্প্রচারের সুযোগ’ পেয়েছে।
যুদ্ধবিরতি কত দিন স্থায়ী হবে, সে বিষয়ে রাশিয়া বা ইউক্রেন— কোনো পক্ষই কিছু জানায়নি।
শুক্রবার রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, যুদ্ধবিরতি চলাকালে খেরসন রণাঙ্গনে গোলাবর্ষণ বন্ধ রাখা হবে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
রাশিয়ার সেনাপ্রধান ভ্যালেরি গেরাসিমভের বক্তব্য উদ্ধৃত করে মন্ত্রণালয়টি বলেছিল, ‘জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অত্যাবশ্যকীয় মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার জন্য... খেরসন অঞ্চলের ওলেশকি শহরে একটি মানবিক ত্রাণবাহী বহরকে নিরাপদে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হবে।’
ইউক্রেনের অভিযোগ, রাশিয়া শহরটির বাসিন্দাদের সেখান থেকে বের হতে বাধা দিচ্ছে। তবে মস্কো এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
দনিপ্রো নদীর দক্ষিণ তীরে অবস্থিত ওলেশকি শহরটি ২০২২ সালে রুশ সেনারা দখল করে নেয়।
ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, রাশিয়ার আগ্রাসনের আগে শহরটিতে প্রায় ২৪ হাজার মানুষ বসবাস করতেন। বর্তমানে সেই সংখ্যা কমে প্রায় দুই হাজারে দাঁড়িয়েছে। তাদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৫০ জন শিশু রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রাশিয়ার মানবাধিকারবিষয়ক কমিশনার ইয়ানা লানত্রাতোভা সোমবার দাবি করেন, শহর ছেড়ে যেতে ইচ্ছুক অধিকাংশ মানুষ ইতোমধ্যেই চলে গেছেন।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, তারা সবাই ‘সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায়’ শহর ছেড়েছেন।
তবে চলতি বছরের শুরুর দিকে এএফপিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শহরটির সাবেক বাসিন্দারা জানিয়েছেন, সেখানে থেকে যাওয়া মানুষজন অনাহারে দিন কাটাচ্ছেন।
ওলেশকিতে অবস্থানরত দুটি পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা ওলগা নামের এক নারী বলেন, ‘তারা রুটির কথাই ভুলে গেছে। রুটি বানাতে ময়দা লাগে, অথচ সেখানে এখন ময়দাও নেই।’
২০২৩ সালে কাখোভকা বাঁধ ধ্বংস হয়ে দনিপ্রো নদীর তীরবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকায় ভয়াবহ বন্যার ঘটনায় শহরটি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
শুক্রবার ইউক্রেনের সেনাবাহিনী জানিয়েছিল, ওলেশকির বাসিন্দাদের সহায়তা করতে তারা ‘সর্বাত্মক চেষ্টা’ চালাবে এবং নিজেদের নাগরিকদের নিরাপত্তা ও উদ্ধার নিশ্চিত করতে সব ধরনের পদক্ষেপ নেবে।
ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী প্রকাশিত ড্রোনের ভিডিওচিত্রে শহরটিতে সারি সারি ফাঁকা আবাসিক ভবন দেখা গেছে। কয়েকটি ভবন আগুনে পুড়ে গেছে, আবার কিছু ভবন সংঘর্ষে আংশিক ধ্বংস হয়েছে।
অন্য কিছু ভিডিওতে দেখা গেছে, ইউক্রেনের কর্তৃপক্ষ ড্রোনের মাধ্যমে শহরে থেকে যাওয়া বাসিন্দাদের কাছে ওষুধ ও খাবার পৌঁছে দিচ্ছে।
রাশিয়ার সামরিক বাহিনী সাধারণত আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে তাদের দখলে থাকা এলাকাগুলোতে প্রবেশের অনুমতি দেয় না। ওলেশকিও এর ব্যতিক্রম নয়।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন শুরুর পর থেকে এ যুদ্ধে কয়েক লাখ সেনা ও বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন এবং লাখ লাখ মানুষ নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপে এটিই সবচেয়ে প্রাণঘাতী সংঘাতে পরিণত হয়েছে।
বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগ অস্বীকার করে আসা রাশিয়া বর্তমানে প্রতিবেশী ইউক্রেনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণ করছে। এর মধ্যে রয়েছে ২০১৪ সালে নিজেদের সঙ্গে যুক্ত করে নেওয়া ক্রিমিয়া উপদ্বীপ, পূর্বাঞ্চলের দোনেৎস্ক ও লুহানস্ক অঞ্চলের অধিকাংশ এলাকা—যা সম্মিলিতভাবে দনবাস নামে পরিচিত—এবং দক্ষিণাঞ্চলীয় জাপোরিঝঝিয়া ও খেরসন অঞ্চলের বড় অংশ।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে শান্তি আলোচনা আগামী নভেম্বরে আবারও শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথভাবে ইরানে হামলা চালানোর পর থেকে কার্যত এ আলোচনা স্থবির হয়ে ছিল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বরিশাল মহানগরীর সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, অপরাধ দমন ও মাদকবিরোধী কার্যক্রমের অংশ হিসেবে গত ২৪ ঘণ্টায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ (বিএমপি)। গত ২৬ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে মহানগর পুলিশের চারটি থানা ও গোয়েন্দা শাখার পৃথক অভিযানে ১৯৭ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। একই সময়ে বিভিন্ন মামলায় ও অভিযোগে মোট ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিএমপি মিডিয়া সেলের প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
বিএমপি মিডিয়া সেলের তথ্য অনুযায়ী, মহানগরীর বিভিন্ন স্থানে পরিচালিত অভিযানে ১৯৭ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মাদকদ্রব্য উদ্ধার ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের পাশাপাশি অন্যান্য অপরাধে জড়িত এবং বিভিন্ন মামলার আসামিদের বিরুদ্ধেও অভিযান পরিচালনা করেছে পুলিশ।
মহানগরীর চারটি থানা ও গোয়েন্দা শাখার বিশেষ আভিযানিক দল পৃথকভাবে এসব অভিযান পরিচালনা করে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এ অভিযান চালানো হয়।
বিএমপি মিডিয়া সেলের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গ্রেপ্তারের যে হিসাব দেওয়া হয়েছে, তা হলো—
মাদকদ্রব্য উদ্ধারসহ গ্রেপ্তার: ১৯৭ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ ৪ জন।
গ্রেপ্তারি পরোয়ানামূলে: ৪ জন।
নিয়মিত মামলায়: ৩ জন।
অন্যান্য আইনে: ৪ জন।
বরিশাল মহানগর অধ্যাদেশে:** ২ জন।
পুলিশের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, সব মিলিয়ে মোট ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বরিশাল মহানগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অপরাধপ্রবণতা রোধ, মাদকদ্রব্যের অবৈধ বিস্তার প্রতিরোধ এবং বিভিন্ন মামলার আসামিদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশের এ ধরনের অভিযান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বিশেষ করে মাদকদ্রব্য উদ্ধার ও মাদক-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের মাধ্যমে মাদকবিরোধী কার্যক্রম অব্যাহত রাখার বিষয়টি এ অভিযানে উঠে এসেছে। পাশাপাশি গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত ব্যক্তি ও বিভিন্ন মামলার আসামিদের গ্রেপ্তার করাও পুলিশের অপরাধ দমন কার্যক্রমের অংশ।
মাদকদ্রব্যের অবৈধ কেনাবেচা, সরবরাহ ও বিস্তার সম্পর্কে কোনো তথ্য জানা থাকলে তা পুলিশকে জানানোর আহ্বান জানিয়েছে বিএমপি। এ ক্ষেত্রে তথ্যদাতার পরিচয় গোপন রাখা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মাদকসংক্রান্ত তথ্য জানাতে যোগাযোগের নম্বর:
☎️ *০১৩২০-০৬৪০০০*
☎️ *০১৩২০-০৬৪০৪৪*
বিএমপি মিডিয়া সেলের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৬ অক্টোবর পরিচালিত ২৪ ঘণ্টার বিশেষ অভিযানে চারটি থানা ও গোয়েন্দা শাখার কার্যক্রমে মোট ১৭ জনকে গ্রেপ্তার এবং ১৯৭ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকাই মসলিন আবার বাণিজ্যিক উৎপাদনের পথে রয়েছে, যা প্রায় ১৭০ বছর পর নতুন করে শুরু হচ্ছে। হারিয়ে যাওয়া ফুটি কার্পাস তুলা ও ঐতিহ্যবাহী মসলিন তৈরির প্রযুক্তি পুনরুদ্ধার করার পর বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের চেষ্টা করছে।
যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স ও জাপানের বিলাসবহুল ফ্যাশন ব্র্যান্ডগুলোর আগ্রহ এবং ৫০০ গজ মসলিন কাপড়ের একটি আন্তর্জাতিক অর্ডার সম্পন্ন হওয়ার তথ্য বাংলাদেশের এই সম্ভাবনাকে সামনে এনেছে। তবে, উচ্চ উৎপাদন ব্যয়, কাঁচামালের সীমিত সরবরাহ এবং দীর্ঘ উৎপাদন প্রক্রিয়া এই শিল্পের বাণিজ্যিক সম্প্রসারণে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের মাধ্যমে বাস্তবায়িত মসলিন পুনরুদ্ধার প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে ব্যয় হয়েছে ১২ কোটি ১০ লাখ টাকা। বর্তমানে দ্বিতীয় পর্যায়ে ১৮ কোটি ৫০ লাখ টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সরকারের লক্ষ্য হলো, গবেষণায় পুনরুদ্ধার করা প্রযুক্তি বেসরকারি উদ্যোক্তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া, ফুটি কার্পাসের উৎপাদন বাড়ানো এবং মসলিনকে বাণিজ্যিকভাবে টেকসই পণ্যে পরিণত করা।
মসলিনের অতি সূক্ষ্ম সুতা কাটার জন্য ৩০০-এর বেশি প্রান্তিক নারীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের তারাবোয় প্রতিষ্ঠিত ‘ঢাকাই মসলিন হাউস’কে কেন্দ্র করে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের কাছে প্রযুক্তি হস্তান্তরের উদ্যোগও চলছে।
উৎপাদন ব্যয়ই বড় বাধা
মসলিনের বাণিজ্যিক উৎপাদনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে এর ব্যয়। প্রথম দিকে একটি মসলিন শাড়ি তৈরিতে খরচ হয়েছে প্রায় ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা। একটি শাড়ি বুনতে দুই থেকে চারজন তাঁতির কয়েক মাস সময় লাগে। ফলে সাধারণ পোশাকের বাজারে প্রতিযোগিতা করার পরিবর্তে শুরুতে উচ্চমূল্যের বিলাসবহুল ফ্যাশনপণ্য হিসেবে আন্তর্জাতিক বাজার ধরাই এ শিল্পের জন্য বাস্তবসম্মত হতে পারে।
ব্যাপক উৎপাদনের মাধ্যমে শাড়িপ্রতি ব্যয় এক লাখ থেকে তিন লাখ টাকার মধ্যে নামিয়ে আনার চেষ্টা চলছে, তবে এটি এখনো একটি লক্ষ্য; বাস্তবে কতটা ব্যয় কমানো সম্ভব হবে, তা নির্ভর করবে কাঁচামালের সরবরাহ, উৎপাদন প্রযুক্তি, শ্রমের দক্ষতা এবং উৎপাদনের পরিমাণের ওপর।
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত বড় পরিসরে উৎপাদন ও আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের সঙ্গে দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক সম্পর্কের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। মসলিনের উৎপাদন প্রক্রিয়া ভিন্ন। এখানে অতিসূক্ষ্ম সুতা তৈরি, দক্ষ কারিগর এবং কাপড়ের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি গুণগত মান অক্ষুণ্ন রাখা জরুরি।
ফুটি কার্পাসের সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগ
মসলিন তৈরির বিশেষ কাঁচামাল ফুটি কার্পাসের উৎপাদন বাড়াতে কাপাসিয়া, রাজশাহী ও কুমিল্লার কৃষকদের সঙ্গে চুক্তিভিত্তিক চাষের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে তুলার ফলন, আঁশের গুণমান এবং উৎপাদন প্রক্রিয়া উন্নত করার গবেষণা চলছে। বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব শরফ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী সম্প্রতি জানিয়েছেন, গবেষকেরা এমন জাত উন্নয়নে কাজ করছেন, যাতে তুলার ফলন বাড়ে এবং বড় ও বেশি তুলার বীজকোষ পাওয়া যায়।
২০১৪ সালে বাংলাদেশ তাঁত বোর্ড মসলিন পুনরুদ্ধারে গবেষণা শুরু করে। ঐতিহাসিক সূত্র ও বিভিন্ন অঞ্চলের বন্য তুলার জাত সংগ্রহ করে গবেষকেরা ফুটি কার্পাস শনাক্ত করার চেষ্টা করেন। লন্ডনের ভিক্টোরিয়া অ্যান্ড অ্যালবার্ট মিউজিয়ামে সংরক্ষিত পুরনো মসলিনের নমুনার সঙ্গে তুলনা করে এ গবেষণা এগিয়ে নেওয়া হয়। পুনরুজ্জীবিত মসলিনের সুতা ৭৩১ থেকে ৭৫০ মেট্রিক কাউন্ট পর্যন্ত পৌঁছেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সাধারণভাবে সুতার কাউন্ট যত বেশি, সুতা তত সূক্ষ্ম হয়।
২০২০ সালের ডিসেম্বরে ঢাকাই মসলিন বাংলাদেশের ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্যের স্বীকৃতি পায়। এ স্বীকৃতি পণ্যটির স্বতন্ত্র পরিচিতি প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হলেও আন্তর্জাতিক বাজারে নিয়মিত বিক্রি নিশ্চিত করতে কার্যকর বিপণন, মান নিয়ন্ত্রণ এবং নির্ভরযোগ্য সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন।
বিলাসপণ্য থেকে রপ্তানি আয়
বাংলাদেশের রপ্তানি আয় প্রধানত তৈরি পোশাকনির্ভর। ঢাকাই মসলিনের বাণিজ্যিক সম্প্রসারণ সফল হলে ঐতিহ্যভিত্তিক উচ্চমূল্যের বস্ত্র রপ্তানির নতুন ক্ষেত্র তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে তুলাচাষি, সুতা কাটার কারিগর ও তাঁতিদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে।
তবে ৫০০ গজের একটি অর্ডার সম্পন্ন হওয়া কিংবা বিদেশি ব্র্যান্ডের আগ্রহের তথ্য দিয়ে এখনই বড় রপ্তানি বাজার গড়ে ওঠার সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। অর্ডারের মূল্য, ক্রেতার পরিচয়, পুনরায় অর্ডার পাওয়ার তথ্য, বার্ষিক উৎপাদন সক্ষমতা এবং প্রকৃত রপ্তানি আয় প্রকাশ করা জরুরি। এসব তথ্য ছাড়া প্রকল্পের বাণিজ্যিক সাফল্য পরিমাপ করা কঠিন।
বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলমও মসলিন তৈরির প্রযুক্তি দ্রুত বেসরকারি উদ্যোক্তাদের কাছে হস্তান্তর এবং গবেষণার মাধ্যমে ফুটি কার্পাসের টেকসই উৎপাদন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারের পর এখন মূল পরীক্ষা হচ্ছে বাণিজ্যিক সাফল্য। সরকারি গবেষণা, পর্যাপ্ত কাঁচামাল, দক্ষ কারিগর, বেসরকারি বিনিয়োগ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে নিয়মিত ক্রেতা নিশ্চিত করা গেলে ঢাকাই মসলিন বাংলাদেশের রপ্তানিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমার জনপ্রিয় তারকা দম্পতি বিজয় দেবেরাকোন্ডা ও রাশমিকা মান্দানাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে নানা গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য। ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে মিথ্যা প্রচার, বিকৃত স্ক্রিনশট ছড়িয়ে দেওয়া এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়রানির অভিযোগে তারা আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। এ ঘটনায় তাদের প্রতিনিধিরা পুলিশের সাইবার অপরাধ তদন্ত কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার (২৬ অক্টোবর) হায়দরাবাদের সাইবার অপরাধ তদন্ত কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগটি জমা দেওয়া হয়।
সম্প্রতি জনপ্রিয় টক শো ‘কফি উইথ করণ’-এ হাজির হয়ে নিজেদের প্রেম ও বিয়ের সম্পর্ক নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন বিজয় ও রাশমিকা। অনুষ্ঠানে বিজয় জানান, বিয়েতে রাজি করাতে রাশমিকাকে প্রায় ১০০ বার প্রস্তাব দিতে হয়েছিল। তার এই মন্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
অনুষ্ঠানের বিভিন্ন ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর তাদের সম্পর্ক নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করতে থাকেন অনেকে। এমনকি পুরোনো সাক্ষাৎকারের ভিডিও সামনে এনে বিজয়ের আচরণ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন কেউ কেউ। এক পর্যায়ে এসব আলোচনা ব্যক্তিগত আক্রমণ ও হয়রানিতে রূপ নেয় বলে অভিযোগ করেছেন তারা।
এ পরিস্থিতিতে সোমবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আট পৃষ্ঠার একটি বিবৃতি প্রকাশ করেন রাশমিকা। সেখানে তিনি বলেন, সমালোচনা কিংবা ভিন্নমত প্রকাশের অধিকার সবার রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো সাধারণ মতামত প্রকাশের সীমা ছাড়িয়ে ব্যক্তিগত আক্রমণে পরিণত হয়েছে।
বিজয়ের সঙ্গে সম্পর্কের প্রসঙ্গে রাশমিকা জানান, বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে দুজনেরই নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন ছিল। বিজয় এ সিদ্ধান্তের জন্য সময় চেয়েছিলেন। তবে এর অর্থ এই নয় যে তাদের ভালোবাসায় কোনো ঘাটতি ছিল।
নিজের দাম্পত্য জীবন নিয়ে সন্তুষ্টির কথাও জানিয়েছেন অভিনেত্রী। পাশাপাশি ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে মতভেদ বা সমালোচনার জেরে পরিবারের সদস্যদের আক্রমণ না করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে, স্ত্রীকে নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্যের জবাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রাশমিকার সঙ্গে একটি ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করেন বিজয় দেবেরাকোন্ডা। সেখানে স্ত্রীকে নিজের সবচেয়ে কাছের বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করে তাদের দাম্পত্য জীবনে সুখী থাকার কথা জানান অভিনেতা।
তারকা দম্পতির প্রতিনিধিদলের অভিযোগে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের নামে মনগড়া বক্তব্য প্রচার, বিকৃত স্ক্রিনশট ছড়িয়ে দেওয়া, ভুয়া পরিচয়ে প্রচারণা চালানো এবং পরিকল্পিতভাবে হয়রানি করার ঘটনা ঘটছে। এসব কর্মকাণ্ডের পেছনে কোনো সংঘবদ্ধ গোষ্ঠী কিংবা অর্থের বিনিময়ে পরিচালিত প্রচারণা রয়েছে কি না, তা-ও তদন্তের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
প্রতিনিধিদলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সমালোচনার অধিকারকে তারা সম্মান করেন। তবে মতামত প্রকাশের সঙ্গে বানানো বা বিকৃত তথ্যকে সত্য হিসেবে উপস্থাপন করার পার্থক্য রয়েছে। অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অনলাইন পোস্টের লিংক ও অন্যান্য তথ্য-প্রমাণও জমা দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তারা।
তবে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযোগটি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। সোমবার রাত পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো মামলা নথিভুক্ত হয়নি।
উল্লেখ্য, দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্কের পর চলতি বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি ভারতের উদয়পুরে বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হন বিজয় দেবেরাকোন্ডা ও রাশমিকা মান্দানা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ