০৫:২৯ পি.এম
ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম সকলকে আহ্বান জানিয়েছেন, জাতীয় ঐক্য, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সুদৃঢ় করার মাধ্যমে একটি স্থিতিশীল, মানবিক ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র গঠনে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে। তিনি উল্লেখ করেন, মত ও আদর্শের ভিন্নতা গণতান্ত্রিক সমাজের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য। তবে, জাতীয় স্বার্থ, সামাজিক সম্প্রীতি ও রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতার প্রশ্নে সকলকে দায়িত্বশীল ও ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
শনিবার (৭ নভেম্বর) জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে ঢাকা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বলেন, ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায়। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে দেশে গভীর রাজনৈতিক সংকট ও অস্থিরতা সৃষ্টি হয়। এর ধারাবাহিকতায় ৩ নভেম্বর সামরিক অভ্যুত্থান এবং পরবর্তী সময়ে ৭ নভেম্বর সিপাহী-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশের রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়।
আরও পড়ুন: মঞ্জু: ৫ আগস্টও এনে দিয়েছে ফ্যাসিস্ট শাসন থেকে মুক্তি
তিনি বলেন, ইতিহাসের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার নিজস্ব প্রেক্ষাপট, তাৎপর্য ও সুদূরপ্রসারী প্রভাব রয়েছে। ইতিহাসের যথাযথ মূল্যায়নের জন্য তথ্যনিষ্ঠ দৃষ্টিভঙ্গি, উদার মানসিকতা এবং অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা জরুরি। অতীতকে অনুধাবন করে বর্তমানকে সমৃদ্ধ করা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি স্থিতিশীল, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র বিনির্মাণে সকলকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
জেলা প্রশাসক আরো বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধ বাঙালি জাতির সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন। লাখো শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব আমাদের জাতীয় জীবনের অমূল্য সম্পদ। স্বাধীনতার মর্যাদা সমুন্নত রাখা, জাতীয় স্বার্থ সংরক্ষণ এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা আমাদের সকলের নৈতিক ও সাংবিধানিক দায়িত্ব।
তিনি বলেন, একটি রাষ্ট্রের অগ্রযাত্রা ও স্থিতিশীলতার অন্যতম প্রধান ভিত্তি হলো জাতীয় ঐক্য, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহনশীলতা এবং আইনের শাসন। গণতান্ত্রিক সমাজে মত ও আদর্শের ভিন্নতা থাকা স্বাভাবিক। তবে, মতপার্থক্য যেন কখনো জাতীয় স্বার্থ, সামাজিক সম্প্রীতি ও রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতাকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে, সে বিষয়ে সকলকে সচেতন থাকতে হবে। ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে পারস্পরিক সহাবস্থান ও সহযোগিতার সংস্কৃতি গড়ে তোলাই একটি সুস্থ গণতান্ত্রিক সমাজের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
জনপ্রশাসনের দায়িত্বের কথা তুলে ধরে ফরিদা খানম বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণ, নাগরিক অধিকার সুরক্ষা, সরকারি সেবার মানোন্নয়ন এবং জনবান্ধব প্রশাসন প্রতিষ্ঠা জনপ্রশাসনের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। প্রশাসনের প্রতিটি কার্যক্রমের কেন্দ্রবিন্দুতে জনগণের কল্যাণ থাকতে হবে। স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, পেশাদারিত্ব ও জনসেবার মানসিকতা ধারণ করে সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালন করতে হবে।
আরও পড়ুন: পলাতক আওয়ামী ফ্যাসিস্টরা দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে: এমপি রানু
নতুন প্রজন্মের কাছে দেশের সঠিক ইতিহাস, ঐতিহ্য ও জাতীয় অর্জন যথাযথভাবে তুলে ধরার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, তরুণ প্রজন্মের মধ্যে দেশপ্রেম, মানবিকতা, নৈতিকতা, অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও দায়িত্বশীল নাগরিকত্বের মূল্যবোধ জাগ্রত করতে হবে। কারণ, আজকের তরুণরাই আগামী দিনের রাষ্ট্র ও সমাজ পরিচালনায় নেতৃত্ব দেবে।
আলোচনা সভা শেষে জেলা শিশু একাডেমি আয়োজিত চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে সনদপত্র ও পুরস্কার হিসেবে বই বিতরণ করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন