বৃহস্পতিবার, ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০২:১১ পি.এম
বিডিআর হত্যাকাণ্ডের প্রত্যক্ষদর্শী চারজনকে হত্যার পর তাদের দেহের পেট চিরে সিমেন্টের বস্তার সঙ্গে বেঁধে বলেশ্বর নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। ২০১০ সালের মে মাসে র্যাবের ইন্টেলিজেন্স উইংয়ের তৎকালীন প্রধান জিয়াউল আহসানের উপস্থিতি ও নির্দেশে এই হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়, যেখানে র্যাব ৮ এর ইন্টেলিজেন্স উইংয়ের সদস্যরা জড়িত ছিল।
আজ বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ গুমের মামলায় সাক্ষ্য প্রদানকালে মেজর সাব্বির এসব তথ্য প্রকাশ করেন। তিনি ওই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
মেজর সাব্বির উল্লেখ করেন যে, জিয়াউল আহসানের নির্দেশে র্যাব-৮ এর ইন্টেলিজেন্স উইংয়ের সদস্যরা পাথরঘাটার চরদুয়ানির বলেশ্বর নদীতে ফ্রিশিং ট্রলারে চারজনকে নিয়ে যায়, যেখানে তাদের মুখ এবং পুরো শরীর ঢেকে দেওয়া হয় এবং নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়।
তিনি আরও জানান, একই কায়দায় ২০১০ সালে আরেক ব্যক্তিকে হত্যা করে নদীতে ফেলা হয়। এই সাক্ষী জানান, ২০১১ সালে জিয়াউল আহসানের গলফ অপারেশনে জড়িত ট্রলার মাঝিদের মধ্যে একজন আলকাস মাঝিকেও গুম করে হত্যা করা হয়।
গুমের মামলায় এখন পর্যন্ত জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভুইয়া, হত্যাকাণ্ডের প্রত্যক্ষদর্শী সেনা ও র্যাবের কর্মকর্তারা সাক্ষ্য প্রদান করেছেন। এরপর এ মামলায় তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্য নেওয়া হবে এবং পরে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হবে। বিগত ১৬ বছরে এটিই প্রথম গুমের মামলা, যা বিচার শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
মেজর সাব্বির ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়েছেন যে নজরুল ইসলামসহ চারজনকে বলেশ্বর নদীতে নিয়ে গিয়ে চোখ বেঁধে, গুলি করে, পেট চিরে সিমেন্টের বস্তা বেঁধে পানিতে ফেলা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে নজরদারি বৃদ্ধি এবং অপারেশনাল সক্ষমতা উন্নত করার উদ্দেশ্যে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম সীমান্তবর্তী এলাকায় নতুন দুটি টেম্পোরারি অপারেশনাল বেস (টিওবি) উদ্বোধন করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
গতকাল বুধবার সকালে ঘুমধুম ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী আরচ্ছতলা টিলা ও হাতুরানী টিলা এলাকায় নবনির্মিত টিওবি দুটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বিজিবির কক্সবাজার রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কাজী সামশের উদ্দীন।
উদ্বোধন শেষে রিজিয়ন কমান্ডার টিওবি দুটির বিভিন্ন স্থাপনা পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি দায়িত্ব পালনরত বিজিবি সদস্যদের সঙ্গে কৌশলগত বিষয়ে আলোচনা করেন এবং সীমান্ত সুরক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্কতা, পেশাদারিত্ব ও দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা প্রদান করেন।
বিজিবি সূত্র জানাচ্ছে, দুর্গম সীমান্ত এলাকায় নতুন দুটি টিওবি স্থাপনের ফলে সীমান্তে বিজিবির নজরদারি ও টহল কার্যক্রম আরও জোরদার ও কার্যকর হবে। একই সঙ্গে মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধ, সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকানো এবং সীমান্তবর্তী জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবির সক্ষমতা কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাবে। বিশেষ করে দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় দ্রুত টহল পরিচালনা এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানানোর ক্ষেত্রে এই টিওবি দুটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে বিজিবি জানিয়েছে।
উদ্বোধনী বক্তব্যে কক্সবাজার রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কাজী সামশের উদ্দীন উল্লেখ করেন, সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দায়িত্ব পালনকারী প্রতিটি সদস্যকে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করতে হবে। দুর্গম সীমান্ত এলাকায় যেকোনো উদ্ভূত পরিস্থিতি দ্রুত মোকাবিলায় এই নতুন টিওবিগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
এটি উল্লেখযোগ্য যে, বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের ঘুমধুম এলাকা ভৌগোলিকভাবে অত্যন্ত দুর্গম ও স্পর্শকাতর। সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাবের কারণে এ অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে সীমান্তবর্তী এলাকায় বিজিবির স্থায়ী ও অস্থায়ী নজরদারি ব্যবস্থা জোরদারের উদ্যোগকে অত্যন্ত সময়োপযোগী ও গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিজিবির রামু সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মো. আনোয়ার-উল-আলম, কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম খায়রুল আলমসহ বিজিবির অন্যান্য সামরিক কর্মকর্তা ও জোয়ানরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতে অনুষ্ঠিত ব্রিক্স সম্মেলনের সময় স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে জ্ঞান হারান চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। চায়না ডেমোক্রেসি পার্টির চেয়ারম্যান ওয়ানজুন শিয়ে দাবি করেছেন, চিকিৎসার জন্য বিশেষ বিমানে তাকে চীনে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তবে এ বিষয়ে চীন সরকারিভাবে কিছু জানায়নি এবং এই দাবির সত্যতা নির্ণয় করা সম্ভব হয়নি।
অন্যদিকে, ব্রিক্স সম্মেলন থেকে ফিরে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামফোসা। সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া পোস্টে চীনের ডেমোক্রেসি পার্টির নেতা জানান, দিল্লিতে জরুরি ভিত্তিতে প্রেসিডেন্টের চিকিৎসা করেন তার সঙ্গে থাকা চিকিৎসকেরা। এরপরই তাকে নিয়ে চীনের উদ্দেশে রওনা দেয় বিশেষ বিমান। বেইজিং বিমানবন্দরে ওই বিমান পৌঁছানোর পর জিনপিংকে তোলা হয় সামরিক কপ্টারে। সেখান থেকে বেইজিংয়ের ৩০১ নম্বর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে, যেখানে অস্ত্রোপচার হয়।
ডেমোক্রেসি পার্টির এই নেতার দাবি, প্রেসিডেন্ট জিনপিং ভারতের কোনো হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে সম্মত হননি। তিনি জানান, চিকিৎসা করালে তার স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য ভারতের হাতে চলে যেতে পারে এই আশঙ্কা থেকেই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
অন্যদিকে, দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্টের দপ্তর থেকে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে জানানো হয়েছে, অসুস্থতার কারণে চিকিৎসকদের পরামর্শে তিনি বিশ্রামে আছেন। এই সময়ে কোনো জনসংযোগমূলক কর্মসূচিতে তিনি যোগ দেবেন না। দেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন মন্ত্রিসভার সদস্যরা। তবে ভারত সফরকালীন সময়ে দেশে ফেরার পরে তিনি অসুস্থ হয়েছেন কিনা, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত স্পষ্টভাবে কিছু জানা যায়নি।
সূত্র: আনন্দবাজার অনলাইন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন (ইসি) নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা, ২০০৮-এ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন করেছে। সংশোধিত বিধিমালার আওতায় প্রার্থীর ব্যাংক হিসাবের পাশাপাশি তাঁর নিয়োজিত নির্বাচনী এজেন্টের ব্যাংক হিসাব নম্বর উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। একই সঙ্গে হলফনামায় কিছু তথ্য দাখিলের বাধ্যবাধকতা শিথিল করা হয়েছে এবং নির্বাচনী প্রতীকের তালিকায় পরিবর্তন আনা হয়েছে।
বুধবার কমিশন সচিবালয় থেকে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটেও সংশোধিত বিধিমালার গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর ৯৪ অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালার সংশ্লিষ্ট বিধান সংশোধন করা হয়েছে।
সংশোধিত বিধান অনুযায়ী, তফসিল-১-এর ফরম-১-এর তৃতীয় অংশে নির্বাচনী ব্যয় নির্বাহের জন্য ব্যাংক হিসাব নম্বরের সঙ্গে এখন প্রার্থী অথবা তাঁর নিয়োজিত নির্বাচনী এজেন্টের হিসাব নম্বরও দিতে হবে। এর ফলে নির্বাচনী ব্যয়ের অর্থ পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত হিসাবের তথ্য মনোনয়নপত্রের সঙ্গেই স্পষ্টভাবে উল্লেখ করার সুযোগ তৈরি হলো।
হলফনামার ক্ষেত্রেও কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। সংযুক্তি-১-এর ক্রমিক ৩(খ)-এর বিশেষ দ্রষ্টব্যে আগে যেসব তথ্য ‘সংযুক্ত করিতে হইবে’ বলা ছিল, সংশোধনের পর সেগুলো ‘দাখিল ঐচ্ছিক মর্মে বিবেচিত হইবে’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ সংশ্লিষ্ট কিছু কাগজপত্র দাখিলের ক্ষেত্রে বাধ্যবাধকতা কমানো হয়েছে।
এ ছাড়া হলফনামার সংযুক্তি-১-এর ক্রমিক ৩(গ)-এ ‘অভিযুক্ত’ শব্দটির একটি নির্দিষ্ট ব্যাখ্যা যুক্ত করা হয়েছে। সংশোধিত বিধানে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত বলতে এমন আসামিকে বোঝাবে, যার বিরুদ্ধে আদালত অভিযোগ বা চার্জ গঠন করেছে। ফলে শুধু মামলা থাকলেই কাউকে ‘অভিযুক্ত’ হিসেবে গণ্য করার পরিবর্তে আদালতে অভিযোগ গঠনের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হবে।
প্রার্থীর পরিবারের সদস্যদের আয়করসংক্রান্ত তথ্য দাখিলের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন বিধান অনুযায়ী, হলফনামায় প্রার্থীর স্বামী বা স্ত্রী, সন্তান ও নির্ভরশীলদের আয়করসংক্রান্ত তথ্য দেওয়া ঐচ্ছিক হিসেবে বিবেচিত হবে। আগে এসব তথ্য দাখিলের ক্ষেত্রে যে বাধ্যবাধকতা ছিল, সংশোধনের পর তা আর থাকছে না।
নির্বাচনী প্রতীকের তালিকাতেও বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। সংশোধিত বিধিমালায় জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য মোট ১২০টি প্রতীক রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ‘নৌকা’ প্রতীককে স্থগিত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বিধি অনুযায়ী, স্থগিত প্রতীক বাদ দিয়ে তালিকাভুক্ত প্রতীকগুলোর মধ্য থেকে প্রাপ্যতা সাপেক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে একটি প্রতীক বরাদ্দ করা হবে।
সংশোধিত তালিকায় বিভিন্ন পরিচিত প্রতীকের পাশাপাশি ‘না’ প্রতীকও রাখা হয়েছে। কোনো নির্বাচনী আসনে একজন মাত্র প্রার্থী থাকলে ভোটারদের জন্য ব্যালটে ‘না’ ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকবে। অর্থাৎ একক প্রার্থী হলেও ভোটাররা ওই প্রার্থীকে প্রত্যাখ্যান করার বিকল্প পাবেন।
নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রতীকসংক্রান্ত সংশোধিত বিধানও প্রকাশ করা হয়েছে। এর আগে ২০২৫ সালের অক্টোবর ও ডিসেম্বরেও জাতীয় সংসদ নির্বাচনসংক্রান্ত নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালায় বিভিন্ন সংশোধন আনা হয়েছিল।
সংশোধিত বিধিমালার এসব পরিবর্তনের ফলে মনোনয়নপত্র, হলফনামা, নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব এবং প্রতীক বরাদ্দ—নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ধাপের নিয়মে নতুন কাঠামো যুক্ত হলো। বিশেষ করে নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাবের সঙ্গে প্রার্থী বা নির্বাচনী এজেন্টের ব্যাংক হিসাবের তথ্য যুক্ত করা এবং একক প্রার্থীর ক্ষেত্রে ‘না’ ভোটের সুযোগ রাখার বিধান এবারের সংশোধনের উল্লেখযোগ্য দিক।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, গত ছয় মাসের বেশি সময় ধরে সরকার রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা, গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার ক্ষেত্রে শূন্য সহনশীলতা নীতি অনুসরণ করছে। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে এ ধরনের ঘটনা প্রায় শূন্যের কোঠায় রয়েছে এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হয়রানি করতে পুলিশ মিথ্যা মামলা করেছে—এমন অভিযোগ সরকার পাচ্ছে না।
বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সিনেট ভবনে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব মন্তব্য করেন। ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের আয়োজনে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আবদুস সালাম, সংবিধান বিশেষজ্ঞ, শিক্ষাবিদ ও শিক্ষার্থীরা।
মন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার মূল ভিত্তি হচ্ছে সংবিধান এবং বাংলাদেশ বর্তমানে সেই সাংবিধানিক কাঠামো অনুসরণ করে এগিয়ে যাচ্ছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, দেশে একটি শক্তিশালী মানবাধিকার কমিশন গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কমিশনের মাধ্যমে মানুষের অধিকার সুরক্ষা ও অভিযোগের প্রতিকার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
মানবাধিকার কমিশন আইন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, নতুন আইনের কিছু ধারা নিয়ে সমালোচনা থাকতে পারে। তবে জনগণের অধিকার সুরক্ষাই আইন প্রণয়নের মূল লক্ষ্য। তিনি আরও জানান, আইনে নির্যাতন ও অন্যান্য মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে এবং কমিশনের বাছাই প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন শ্রেণির প্রতিনিধিত্ব রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের অতীত রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গও তুলে ধরেন আইনমন্ত্রী। তিনি দাবি করেন, আগের শাসনামলে গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও সংবিধানের পক্ষে অবস্থান নেওয়া ৪ হাজার ৫০০-এর বেশি ভিন্নমতাবলম্বী বা রাজনৈতিক কর্মী বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হয়েছেন। তিনি আরও দাবি করেন, অতীতে বিএনপির ১০ লাখের বেশি নেতাকর্মী রাজনৈতিক নিপীড়নের শিকার হয়েছেন এবং তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার প্রায় ৯৯ শতাংশ আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মাধ্যমে করা হয়েছিল। এসব সংখ্যা ও দাবির বিষয়ে অনুষ্ঠানে স্বাধীন কোনো পরিসংখ্যান উপস্থাপন করা হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের সংবিধানের তুলনা করে আইনমন্ত্রী বলেন, ১৭৮৭ সালে গৃহীত মার্কিন সংবিধান এবং ১৯৭২ সালের বাংলাদেশের সংবিধানের গণতান্ত্রিক কাঠামোর মধ্যে কিছু মৌলিক মিল রয়েছে। দুই সংবিধানেই জনগণের সার্বভৌমত্ব ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার ধারণা গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট যেভাবে বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনার ক্ষমতা প্রয়োগ করে, বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টও সংবিধানের আলোকে একই ধরনের এখতিয়ার প্রয়োগ করে থাকে। মতপ্রকাশ, সমাবেশ, সংগঠন ও চলাচলের স্বাধীনতার মতো মৌলিক অধিকার সংবিধানের মাধ্যমে সুরক্ষিত রাখার বিষয়েও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের দীর্ঘস্থায়িত্বের পেছনে মতপার্থক্য, বিতর্ক ও সমঝোতার ধারাবাহিকতাকে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সংবিধানের শক্তি শুধু সর্বসম্মতিতে নয়; বরং ভিন্নমত থাকা সত্ত্বেও রাষ্ট্র পরিচালনার একটি কার্যকর কাঠামো গড়ে তোলার সক্ষমতার মধ্যেও নিহিত।
রাষ্ট্রদূত ক্ষমতার পৃথকীকরণ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সংবিধান সংশোধনের সুযোগকে যুক্তরাষ্ট্রের সাংবিধানিক ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হিসেবে তুলে ধরেন। দুই শতাব্দীর বেশি সময় ধরে মার্কিন সংবিধান বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক বিকাশে প্রভাব রেখেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে আইনের শাসন ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও শক্তিশালী করার ওপর সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। মানবাধিকার সুরক্ষা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং নাগরিকের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়গুলোকে রাষ্ট্র পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে তুলে ধরেন তিনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ