রবিবার, ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৯:০১ পি.এম
রাজধানীর ভাষানটেক থানা যুবলীগের সহসভাপতি শাহ আলম অনিককে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) ক্যান্টনমেন্ট এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
ডিবি সূত্র জানায়, শাহ আলম অনিকের ঘনিষ্ঠতা রয়েছে মিরপুরের শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত শাহাদাতের সঙ্গে। তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে যে, অনিক শাহাদাত ও ইব্রাহিমের হয়ে এজেন্ট হিসেবে কাজ করতেন। তার বিরুদ্ধে আন্ডারগ্রাউন্ড কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগের সত্যতা প্রাথমিক তদন্তে পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে ডিবি।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের প্রধান (অতিরিক্ত কমিশনার) শফিকুর রহমান অনিককে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা কিছু সময় আগে তাকে আটক করে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছি। তার বিরুদ্ধে অনেক ধরনের অভিযোগ রয়েছে। আমরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছি।’
শাহ আলম অনিকের বাবার নাম আবু সাঈদ। তার গ্রামের বাড়ি নরসিংদীতে। তিনি রাজধানীর মিরপুরের পর্বত সেনপাড়া এলাকায় বসবাস করতেন।
ডিবি সূত্রের দাবি, শনিবার রাতে ইসিবি চত্বরের কাছে নিউ গিনি কনডোমিনিয়াম সিটিতে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মোহাম্মদ মুক্তাদিরের ব্রাউনফিশ স্টুডিওতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় অনিক সরাসরি জড়িত ছিলেন। তবে এ ঘটনায় তার সম্পৃক্ততার বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন নিখিল ও মিরপুরের স্থানীয় সংসদ সদস্য ইলিয়াস মোল্লার ক্যাডার হিসেবে এলাকায় পরিচিত ছিলেন অনিক। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মিরপুর, ভাষানটেক, কাফরুল, পল্লবী ও ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডসহ একাধিক অভিযোগে মামলা রয়েছে বলেও সূত্র জানিয়েছে।
এ ছাড়া ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে অনিক সামনের সারিতে ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিদেশে অবস্থানরত আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগ ছিল বলেও সূত্রের দাবি। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর নিষিদ্ধ দলের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা ও সংগঠিত করার সঙ্গেও তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠে।
সূত্রের ভাষ্য, মিরপুর, পল্লবী, ভাষানটেক ও কাফরুল এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণ এবং বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনাতেও অনিক সরাসরি জড়িত ছিলেন। বিদেশ থেকে আসা বিভিন্ন নির্দেশনা দেশে বাস্তবায়নেও তিনি ভূমিকা রাখছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এর আগে শুক্রবার রাতে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হন কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিলের ছোট ভাই মোতাহার হোসেন খান সুফল। সূত্রের দাবি, সুফল ও অনিক একসঙ্গে ঢাকায় অস্থিরতা তৈরির বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাঙামাটি, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : ‘বিশ্ব পর্যটন দিবস’ উপলক্ষে রাঙামাটি জেলা পরিষদ প্রাঙ্গন থেকে শুরু হয়ে দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটক নগরী ও ‘মেঘের রাজ্য’ খ্যাত সাজেক ভ্যালি পর্যন্ত একটি বর্ণাঢ্য রোড শো ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।
আজ রোববার বিকেলে ‘কটেজ অ্যান্ড রিসোর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব সাজেক’-এর উদ্যোগে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়, যার উদ্দেশ্য ছিল পর্যটন শিল্পের বিকাশ ও পরিবেশগত সচেতনতা বৃদ্ধি।
এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান দীপন তালুকদার দীপু।
জেলা পরিষদের সদস্য এবং কটেজ অ্যান্ড রিসোর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব সাজেকের সভাপতি সুপর্ন দেব বর্মনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই পর্যটন দিবসের অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাঘাইহাট সেনা জোনের জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল তারেকুল ইমরান পিএসসি, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের সদস্য এ্যাডভোকেট মামুনুর রশীদ, জেলা পরিষদের সদস্য শ্বাশত চাকমা প্রমুখ।
পর্যটন দিবস উপলক্ষে রাঙামাটি জেলা পরিষদ প্রাঙ্গন থেকে সাজেক ভ্যালি পর্যন্ত বর্ণাঢ্য 'রোড শো' ছাড়াও পাহাড়ের প্রকৃতি ও সৌন্দর্য রক্ষায় সাজেকের পর্যটন এলাকায় বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও পাহাড়ে সবুজায়নের বৃক্ষরোপণের আয়োজন করা হয়েছে।
এছাড়া, পর্যটন দিবস উপলক্ষে পার্বত্য অঞ্চলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীসমূহের ঐতিহ্যবাহী কৃষ্টি ও সংস্কৃতি প্রদর্শনের জন্য স্থানীয় লুসাই, ত্রিপুরা এবং চাকমা জনগোষ্ঠীর যৌথ উদ্যোগে 'ট্রেডিশনাল ফুড কোর্ট' আয়োজন করা হয়। যেখানে আগত পর্যটক ও অতিথিদের জন্য পাহাড়ের বিলুপ্তপ্রায় ও ঐতিহ্যবাহী সুস্বাদু খাবারের বাহারী আয়োজন রাখা হয়েছে।
সাজেক কটেজ অ্যান্ড রিসোর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃস্থানীয় প্রতিনিধিরা জানান, পর্যটন দিবসকে কেন্দ্র করে পর্যটকদের বরণ করে নেওয়ার পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব ও টেকসই পর্যটন ব্যবস্থা গড়ে তোলাই তাদের মূল উদ্দেশ্য।
পর্যটন দিবস উপলক্ষ্যে পাহাড়ি রোদ-মেঘের খেলায় সাজেকজুড়ে এখন আনন্দ মুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কক্সবাজারের টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের লেদা বাজারে অভিযান পরিচালনা করে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ ৩ জন রোহিঙ্গা নাগরিককে আটক করা হয়েছে। আটককৃতরা হলেন, উখিয়া ১নং কুতুপালং এফডিএমএন ক্যাম্পের রুবালির ছেলে মো. উসমান বেলাল, ইউনুসের ছেলে মো. আনসার আলী এবং টেকনাফ ক্যাম্প ২৬ এর মোচনি ফয়েজ আহমদের ছেলে মো. মুসলিম। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে— জি৩ রাইফেল ২টি, দেশীয় একনলা বন্দুক (বড়) ১টি, দেশীয় একনলা বন্দুক (ছোট) ১টি, গুলি ৪২ রাউন্ড, টেজার ৩টি, ওয়াকিটকি সেট ৬টি, ম্যাগাজিন ১টি, বিস্ফোরক দ্রব্য ৪ কেজি, জর্দার কৌটা ২৫টি, লাল স্কচটেপ ২৫টি, ইজিবাইক ১টি, অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ২টি, বাটন মোবাইল ১টি।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকালে টেকনাফ ব্যাটালিয়ন ২ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্ণেল মো. হানিফুর রহমান ভূঁইয়া এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায় যে, হ্নীলা ইউনিয়নের লেদা বাজার অতিক্রম করে ভারী অস্ত্রের একটি চালান রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অবস্থানরত একটি সশস্ত্র ডাকাত দলের কাছে হস্তান্তর করা হবে। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে লেদা বাজার এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরবর্তীতে সকাল ১০টার দিকে ইজিবাইকে ৩ জন ব্যক্তিকে সন্দেহজনকভাবে লেদা বাজার এলাকা অতিক্রম করতে দেখে বিজিবি সদস্যগণ ইজিবাইকটিকে থামার সংকেত দেন। বিজিবি টহল দল তাৎক্ষণিকভাবে মেটাল ডিটেক্টরের সাহায্যে সন্দেহভাজন ইজিবাইকে বহন করা বস্তার ভেতর ধাতব পদার্থের উপস্থিতি নিশ্চিত হন।
পরবর্তীতে, অধিকতর তল্লাশির জন্য ইজিবাইকসহ উক্ত ৩ ব্যক্তিকে লেদা বিওপিতে নেওয়া হয়। সেখানে ইজিবাইকটি তল্লাশি করে আলুর বস্তার ভেতর লুকানো অবস্থায় অস্ত্র, গোলাবারুদ, আত্মরক্ষায় ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক শক প্রদানকারী যন্ত্র বা টেজার, বিস্ফোরক দ্রব্য ও বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
লামিয়া ইসলাম সাহেবা। তিনি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে আলহাজ্ব মকবুল হোসেন ডিগ্রি কলেজের বিএ প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। যখন তার পরিবার উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে অভাবের সংসারে আলো জ্বালানোর স্বপ্নে বিভোর, তখনই তাদের ভাগ্যে নেমে আসে নির্মম ধাক্কা। একটি জটিল রোগ অভাবের সংসারে হানা দিয়েছে।
ছয় মাস ধরে তলপেটের ব্যথায় ভুগছেন লামিয়া। ধীরে ধীরে হাঁটাচলার শক্তি হারিয়ে ফেলছেন তিনি। পরীক্ষা করার সময় ইউটেরাসে পাঁচটি টিউমার ধরা পড়ে। ডাক্তার জানালেন, সামনে দুটি উপায় রয়েছে— অপারেশন অথবা মৃত্যু। অপারেশনের জন্য প্রয়োজন দুই লাখ টাকা।
বর্তমান যুগে এই অর্থের অঙ্কটি কম মনে হলেও, লামিয়ার বেকার বাবার জন্য এটি একটি বিশাল চ্যালেঞ্জ। সেইসাথে, এই অর্থ সংগ্রহের জন্য হাতে সময়ও খুব কম। ডাক্তার আগামী মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) অপারেশনের তারিখ নির্ধারণ করেছেন।
ঢাকার মোহাম্মদপুরে দুই রুমের একটি ছোট ফ্ল্যাটে লামিয়ার পরিবার ৬ জন সদস্য নিয়ে বসবাস করছে। দীর্ঘদিন ধরে মেয়ের চিকিৎসার খরচ চালাতে গিয়ে বাবা মো. ইসলাম উদ্দিন সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েছেন। এর সাথে, ছোট দুই মেয়ের লেখাপড়া বন্ধ হওয়ার উপক্রম। পরিবারের ছোট ছেলেটাকেও স্কুলে ভর্তি করাতে পারছেন না। তিনবেলার খাবারের জায়গায় খেয়ে-না খেয়ে কোনরকমে চলছে পরিবার। ঘরভাড়াও কয়েক মাসের বাকি পড়ে আছে।
লামিয়ার অসহায় বাবা মো. ইসলাম উদ্দিন সব মিলিয়ে পড়েছেন অকূল পাথারে। অসুস্থ মেয়েটাকে ভালোভাবে খাওয়ানো তো দূরের কথা; ওষুধের খরচ জোগাড় করতেও হিমশিম খাচ্ছেন তিনি। লজ্জায় এতদিন মানুষের কাছে হাত পাততে পারেননি সমাজের নিম্ন মধ্যবিত্ত অংশের এই ব্যক্তি। কিন্তু, মেয়ের জীবন বাঁচাতে এখন তিনি সমাজের সামর্থ্যবানদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন।
লামিয়ার বাবা মো. ইসলাম উদ্দিন বলেন, "মেয়ের চিকিৎসার জন্য যৎসামান্য জমি যেটুকু ছিল, সেটাও বেচে দিয়েছি। আত্মীয়-স্বজনের কাছেও দেনা হয়ে গেছে অনেক। চাকরি হারিয়ে পরিবারের তিনবেলা খাবারও জোগাড় করতে পারছি না এখন। আমার মেয়েটাকে বাঁচাতে তো খুব বেশি টাকা লাগে না। এই সমাজে কত কত বিত্তবান মানুষ আছেন। তারা যদি একটু মুখ তুলে তাকান, আমার মেয়েটা বাঁচতে পারে।"
লামিয়ার বাবা মো. ইসলাম উদ্দিনের সাথে যোগাযোগের উপায় ও বিকাশ নম্বর: 01911490413 / 01994060281
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ