ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

চাকরির প্রলোভনে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের রুশ বাহিনীতে পাচার: জাতিসংঘ


চাকরির প্রলোভনে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের রুশ বাহিনীতে পাচার: জাতিসংঘ

ইউক্রেনবিষয়ক জাতিসংঘের স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশন জানিয়েছে, বাংলাদেশসহ ২৯টি দেশের নাগরিকদের বেসামরিক চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনীতে নিয়োগের জন্য পাচার করা হয়েছে। কমিশন বিভিন্ন দেশে সক্রিয় নিয়োগকারী চক্রের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রতারণা ও জবরদস্তির মাধ্যমে বিদেশি নাগরিকদের রুশ বাহিনীতে নিয়োগের প্রমাণ পেয়েছে। অনেককে পরে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়েছে এবং তাঁদের মধ্যে কেউ নিহত, আহত, বন্দী কিংবা নিখোঁজ হয়েছেন।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ১৯ অক্টোবর উপস্থাপনের জন্য প্রকাশিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। পরে, ২৬ অক্টোবর রাতে প্রতিবেদনটি উন্মুক্ত করা হয়। তদন্ত কমিশন ৪৮টি দেশের নাগরিকদের রুশ সশস্ত্র বাহিনীতে নিয়োগের ঘটনা তদন্ত করে ২৯টি দেশের নাগরিকদের ক্ষেত্রে প্রতারণা বা জবরদস্তির প্রমাণ পেয়েছে। এই তালিকায় বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, ফিলিপাইন, ঘানা, নাইজেরিয়া, কেনিয়া ও উজবেকিস্তানসহ এশিয়া, আফ্রিকা, ইউরোপ ও লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতারণা বা জবরদস্তির শিকার ব্যক্তিরা সবাই পুরুষ। তাঁদের বয়স ১৮ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে এবং অধিকাংশই অর্থনৈতিকভাবে অসচ্ছল, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সদস্য ও সীমিত শিক্ষার সুযোগ পাওয়া মানুষ। তাঁদের আর্থিক দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে রাশিয়ায় আকর্ষণীয় বেতনের চাকরির প্রস্তাব দেওয়া হতো।

আরও পড়ুন: কক্সবাজারে নলকূপ খননের স্থান থেকে গ্যাসের আগুন, বাপেক্সের বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে

তদন্ত কমিশন বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য রাশিয়ায় যাওয়ার জন্য ব্যবহৃত কয়েকটি ব্যবসায়িক ভিসার অনুলিপি সংগ্রহ করেছে। এসব ভিসায় রাশিয়ার একটি বেসামরিক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশি নাগরিকদের আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। যদিও ভ্রমণের উদ্দেশ্য কাগজপত্রে বেসামরিক হিসেবে দেখানো হয়েছিল, কমিশনের সামগ্রিক তদন্তে দেখা গেছে, এ ধরনের ব্যবস্থার আড়ালে বিদেশি নাগরিকদের রুশ সামরিক বাহিনীতে নিয়োগের ঘটনা ঘটেছে।

কমিশনের তথ্যমতে, বিভিন্ন দেশে সক্রিয় নিয়োগকারী এজেন্ট ও সংস্থাগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে রাশিয়ায় ভালো বেতনের চাকরির বিজ্ঞাপন দিত। নিরাপত্তাকর্মী, গাড়িচালক, নির্মাণশ্রমিক, মেকানিক, ইলেকট্রিশিয়ান, কারখানার শ্রমিক ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীসহ বিভিন্ন পেশায় চাকরির প্রস্তাব দেওয়া হতো। কিছু ক্ষেত্রে রাশিয়ার নাগরিকত্ব ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হতো।

নিয়োগকারী এজেন্টরা নিজেদের বৈধ বা সরকারি অনুমোদনপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচয় দিত। চাকরির প্রস্তাব বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্র ও অন্যান্য কাগজপত্র দেখানো হতো। এরপর ভিসা, উড়োজাহাজের টিকিট এবং ভ্রমণসংক্রান্ত অন্যান্য ব্যবস্থা করে তাঁদের রাশিয়ায় পাঠানো হতো। কিছু ক্ষেত্রে এজেন্টরা নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে রাশিয়ায়ও যেত।

বাংলাদেশিদের নিয়ে পাওয়া সাক্ষাৎকারভিত্তিক তথ্যেও একই ধরনের প্রতারণার চিত্র উঠে এসেছে। কমিশনের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর অনেক বিদেশি নাগরিককে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সামরিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করা হয়। এসব চুক্তি রুশ ভাষায় লেখা হওয়ায় অনেকেই এর শর্ত বুঝতে পারেননি। তাঁদের কারও কারও পাসপোর্ট ও মুঠোফোন কেড়ে নেওয়া হয় এবং চলাফেরার স্বাধীনতাও সীমিত করা হয়। একপর্যায়ে তাঁরা জানতে পারেন, প্রতিশ্রুত বেসামরিক চাকরির পরিবর্তে তাঁদের রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনীতে কাজ করতে হবে।

আরও পড়ুন: কুমিল্লায় রাজস্ব কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যা মামলায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

এক বাংলাদেশি ভুক্তভোগীর স্ত্রীর বক্তব্য উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাঁর স্বামীর পাসপোর্ট নিয়ে তাঁকে চুক্তির বিভিন্ন স্থানে স্বাক্ষর করতে বলা হয়েছিল। চুক্তিটি ছিল সম্পূর্ণ রুশ ভাষায়। ওই নারীর ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁর স্বামী প্রচণ্ড চাপের মুখে পড়েছিলেন এবং তাঁর সামনে কার্যত কোনো বিকল্প ছিল না।

তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রুশ বাহিনীতে নিয়োগের পর বিদেশি নাগরিকদের ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রের সম্মুখসারিতে পাঠানো হয় এবং বিপজ্জনক দায়িত্ব দেওয়া হয়। তাঁদের অনেকে নিহত, আহত, বন্দী কিংবা নিখোঁজ হয়েছেন।

এসব ঘটনায় ভুক্তভোগীদের পরিবারের ওপরও নেমে এসেছে দীর্ঘ অনিশ্চয়তা ও আর্থিক চাপ। চাকরির আশায় বিদেশে যেতে কেউ কেউ নিয়োগ ফি হিসেবে বিপুল অর্থ দিয়েছেন। পরিবারের সদস্যরা ঋণ করেছেন কিংবা সম্পত্তি বিক্রি করেছেন। পরে স্বজনের মৃত্যুসংবাদ পেলেও কোনো কোনো পরিবার তাঁর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে পারেনি। নিখোঁজ স্বজনের খোঁজে বিভিন্ন স্থানে যোগাযোগ করেও অনেক পরিবার নির্ভরযোগ্য তথ্য পায়নি। কমিশনের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, নিয়োগকারী এজেন্টরা অনেক ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীদের পরিবারের ফোনও ধরত না।

তদন্ত কমিশন বিভিন্ন দেশে সক্রিয় নিয়োগকারী চক্রের সঙ্গে রাশিয়ার কর্তৃপক্ষের উচ্চমাত্রার সমন্বয়ের প্রমাণ পেয়েছে। কমিশনের অনুসন্ধান অনুযায়ী, চাকরির মিথ্যা প্রতিশ্রুতি, প্রতারণা, আর্থিক ও সামাজিক দুর্বলতার সুযোগ নেওয়া এবং জোর করে সামরিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করানোর মতো কর্মকাণ্ড বিদেশি নাগরিকদের পাচার করে সামরিক বাহিনীতে নিয়োগের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।

আরও পড়ুন: সেনাপ্রধানের সঙ্গে মার্কিন প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ, এলএফটি-২০২৬ সফলভাবে সম্পন্ন

সংগৃহীত প্রমাণের ভিত্তিতে কমিশন সংশ্লিষ্ট ঘটনায় রাশিয়ার কর্তৃপক্ষের মানবপাচার ও অন্যান্য মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি চিহ্নিত করেছে। কমিশন রাশিয়াকে এ ধরনের নিয়োগ বন্ধ করা, পাচারের শিকার ব্যক্তিদের সামরিক বাহিনী থেকে অব্যাহতি দেওয়া এবং জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সরকারকে ভুক্তভোগীদের মুক্ত করতে রুশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ, পাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং প্রতারণামূলক নিয়োগ ঠেকাতে সচেতনতামূলক প্রচার চালানোর সুপারিশও করেছে।

ব্র্যাকের সহযোগী পরিচালক (মাইগ্রেশন) শরিফুল ইসলাম হাসান বলেন, গত বছর ব্র্যাকের পক্ষ থেকেও রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিদের নিয়োগের বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছিল। তখনই এ বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছিল। কাজের প্রলোভন দেখিয়ে রাশিয়ায় নিয়ে যাওয়ার পর অনেক বাংলাদেশিকে যুদ্ধে নিয়োগ করা হয়েছে। তাঁদের অনেকে কাজের ভিসা নিয়ে, আবার অনেকে পর্যটক ভিসায় সেখানে গিয়েছিলেন। জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশনের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনেও এসব তথ্য উঠে এসেছে।

তিনি আরও বলেন, নতুন করে কোনো বাংলাদেশি যেন রাশিয়ার যুদ্ধে জড়িয়ে না পড়েন, তা নিশ্চিত করতে সরকারের জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি গত দুই বছরে বৈধভাবে রাশিয়ায় যাওয়া প্রায় সাড়ে আট হাজার বাংলাদেশির বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজ নেওয়া জরুরি। তাঁদের মধ্যে কতজন এখনো সেখানে কাজ করছেন, কতজন যুদ্ধে জড়িয়েছেন এবং কতজন বেঁচে আছেন, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

শরিফুল ইসলাম হাসান বলেন, পর্যটক ভিসায় রাশিয়ায় যাওয়া বাংলাদেশিদের বিষয়টিও আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনের আলোকে খতিয়ে দেখা উচিত। তাঁদের মধ্যে কতজন মারা গেছেন, কতজন নিখোঁজ রয়েছেন এবং কতটি পরিবার স্বজনের নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ জানিয়েছে, সে বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে গত কয়েক বছরে রাশিয়ার দূতাবাস বাংলাদেশিদের কতটি ভিসা দিয়েছে, সেই তথ্যও সংগ্রহ করা যেতে পারে।

আরও পড়ুন: আব্বাসউদ্দীনের ভাওয়াইয়া গান নিয়ে উৎসবের আয়োজন করবে সরকার: সংস্কৃতিমন্ত্রী

বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তার বিষয়ে তিনি বলেন, দেশের নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকারের বিস্তারিত অনুসন্ধান ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। যুদ্ধে গিয়ে বাংলাদেশের মানুষ প্রাণ হারাচ্ছেন, এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক প্রতিবেদন প্রকাশের পর সরকার বাংলাদেশি নাগরিকদের সুরক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ নেবে বলে আমরা আশা করি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগে জামায়াত নেতা ইসমাইলের পদ হারানো

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:৩৩ পি.এম


প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগে জামায়াত নেতা ইসমাইলের পদ হারানো

চট্টগ্রামে এক প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের কারণে সাংগঠনিক সব পদ হারিয়ে বিপাকে পড়েছেন জামায়াত নেতা মোহাম্মদ ইসমাইল। সম্প্রতি তাকে চারটি গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কমিটির অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালক মুহাম্মদ শাহজাহান এই বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ‘সার্বিক দিক বিবেচনায় মহানগর সংগঠন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’

এদিকে, ইসমাইলকে নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে তার স্ত্রীর মাধ্যমে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন ওই নারীর স্বামী। এ নিয়ে প্রবাসী ও তার স্ত্রীর পরিবারের মধ্যে একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

ইসমাইলের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কের কথা স্বীকার করে ওই নারী প্রাণের ভয়ে ডিভোর্স দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ২০২৪ সালের ১৮ ডিসেম্বর তাদের ডিভোর্স সম্পন্ন হয়।

জানা যায়, ২০২৩ সাল থেকে ওই নারীর ব্যবহৃত ডিভাইসগুলো নজরদারিতে রেখেছিলেন তার সিঙ্গাপুরপ্রবাসী স্বামী। সেই প্রবাসীর আত্মীয়-স্বজনরা তাদের অনৈতিক সম্পর্কের যাবতীয় প্রমাণাদি মহানগর জামায়াতকে সরবরাহ করেন।

জামায়াতের দলীয় তদন্ত কমিটি সব অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদের প্রতিবেদন মহানগরকে প্রদান করে। এর পর ৭ অক্টোবর ইসমাইলকে চান্দগাঁও থানা আমিরের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। পরে ৮ অক্টোবর ইসমাইলের পরিবর্তে অধ্যাপক জসিম উদ্দিনকে চান্দগাঁও থানা আমিরের দায়িত্ব দেওয়া হয় জামায়াত কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে।

এদিকে, ইসমাইল এ ঘটনার সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই দাবি করে নিজেকে নির্দোষ বলে উল্লেখ করেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাগেরহাটে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতন, প্রশ্নফাঁস ও উপবৃত্তির টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:৩৩ পি.এম


বাগেরহাটে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতন, প্রশ্নফাঁস ও উপবৃত্তির টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

বাগেরহাটে একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের প্রস্তাব, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং উপবৃত্তির টাকা আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। এই বিষয়টির তদন্তের জন্য জেলা শিক্ষা দফতর একটি তদন্ত কমিটি গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালে বাগেরহাট সদর উপজেলার বড়বাঁশবাড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে ঘটনার প্রাথমিক তদন্ত সম্পন্ন করেন জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহা. সাদিকুল ইসলাম এবং উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সোহেল পারভেজ। অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের নাম সরদার একরামুল করিম।

বিদ্যালয় ও জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, প্রধান শিক্ষক সরদার একরামুল করিমের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসকের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন এক অভিভাবক। অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ২০১২ সালে যোগদানের পর থেকে তিনি বিভিন্ন ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড, অনিয়ম ও দুর্নীতির সাথে জড়িত রয়েছেন। সম্প্রতি তিনি এক শিক্ষার্থীকে নির্বাচনী পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রলোভন দেখিয়ে নিজের বাসায় যাওয়ার অনৈতিক প্রস্তাব দেন।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী জানায়, পরীক্ষা শুরুর প্রায় দেড় সপ্তাহ আগে প্রধান শিক্ষক তাকে প্রশ্নপত্র দিয়ে বাসায় যাওয়ার প্রস্তাব দেন এবং মোবাইলে বিভিন্ন আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও পাঠান। বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক নৃপেন্দ্রনাথ রায় জানান, ওই শিক্ষার্থী বিষয়টি শিক্ষকদের জানালে তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে বলেন। পরে প্রধান শিক্ষকের পাঠানো আপত্তিকর বার্তা ও নগ্ন ছবির প্রমাণ পাওয়া যায়। এছাড়া শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির টাকা আত্মসাতের বহু অভিযোগও তার বিরুদ্ধে রয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বড়বাঁশবাড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সরদার একরামুল করিম তার বিরুদ্ধে ওঠা সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহা. সাদিকুল ইসলাম জানান, অভিযোগের প্রেক্ষিতে সরেজমিনে তদন্ত করা হয়েছে। একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সরকার দেশকে বিশ্বদরবারে হাস্যকর করেছে: শফিকুল ইসলাম মাসুদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:৩৪ পি.এম


সরকার দেশকে বিশ্বদরবারে হাস্যকর করেছে: শফিকুল ইসলাম মাসুদ

বর্তমান সরকার জনগণের কষ্টার্জিত অর্থ অপচয় করে অযোগ্য তোষামোদকারী ও সুযোগসন্ধানীদের রাষ্ট্রীয় খরচে বিদেশ সফরের সুযোগ প্রদান করে দেশকে বিশ্বদরবারে হাস্যকর ও লজ্জিত করে তুলেছে বলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ। তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরাসরি সমালোচনা করে বলেন, এ ধরনের দায়িত্বহীন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বাংলাদেশকে আজ পৃথিবীর মানচিত্রে অপমানিত করা হয়েছে।

মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীতে আয়োজিত এক মতবিনিময় ও আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের ঐতিহাসিক পল্টন ট্র্যাজেডির শহীদদের স্মরণে এ কর্মসূচির আয়োজন করে।

বক্তব্যে ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ সরকারি খরচে বিদেশগামী প্রতিনিধিদলের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘টাকা খরচ করে তথাকথিত মিথ্যা সম্পাদক, সহকারী এবং তাদের আশপাশের তেলবাজদের বিদেশে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তারা নিজেরাও জানে না কেন সেখানে যাচ্ছে! তারা দম্ভভরে বলছে—জীবনে প্রথম বিমানে উঠছি, জীবনে আর কী পাওয়ার আছে!’

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বাংলাদেশকে আজ বিশ্ববাসীর সামনে একটি নির্লজ্জ ও হাস্যকর রাষ্ট্র হিসেবে দাঁড় করানো হয়েছে। আপনি তারেক রহমান, এই বাংলাদেশকে পৃথিবীর মানচিত্রে লজ্জিত ও অপমানিত করেছেন।’

তিনি অবিলম্বে রাষ্ট্রীয় অর্থের এমন অপচয় ও দলীয়করণ বন্ধ করার আহ্বান জানান এবং যোগ্য ও দায়িত্বশীল নেতৃত্বের মাধ্যমে দেশের সম্মান সমুন্নত রাখার জন্য দাবি জানান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গাজীপুরে যুবদলের সংঘর্ষ, সময় টিভির চিত্রসাংবাদিক মো. আরিফের ওপর হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:৩৫ পি.এম


গাজীপুরে যুবদলের সংঘর্ষ, সময় টিভির চিত্রসাংবাদিক মো. আরিফের ওপর হামলা

গাজীপুরে যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত র‍্যালিতে অংশগ্রহণকারী নেতাকর্মীদের মধ্যে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সময় টেলিভিশনের চিত্রসাংবাদিকের ওপর হামলা চালিয়ে তার ক্যামেরা ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিকেলে জেলা শহরের শিববাড়ি মোড় এলাকায় সংঘর্ষের এই ঘটনা ঘটে। হামলার শিকার চিত্রসাংবাদিকের নাম মো. আরিফ।

প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মহানগর যুবদলের পক্ষ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালির আয়োজন করা হয়। কর্মসূচির অংশ হিসেবে একদিক থেকে মিছিল নিয়ে আসেন মহানগর যুবদলের সদস্য সচিব মাহমুদ হাসান রাজু এবং বিপরীত দিক থেকে নেতাকর্মীদের বহর নিয়ে আসেন জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক ইমরান রেজা। যখন দুটি মিছিল শিববাড়ি মোড়ে এসে পৌঁছায়, তখন সামনে দাঁড়ানোকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।

এ ঘটনার একপর্যায়ে তা ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়। এ সময় সময় টেলিভিশনের চিত্রসাংবাদিক মো. আরিফ সংঘর্ষের ভিডিও ধারণ করছিলেন। তখন যুবদলের একদল কর্মী হঠাৎ করে তার ওপর চড়াও হয়ে তাকে মারধর করে এবং ক্যামেরাটি ছিনিয়ে নেয়। যদিও পরবর্তীতে ক্যামেরাটি ফেরত দেয়া হয়, তবে ডিভাইসের মেমোরি কার্ড পাওয়া যায়নি।

পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় সংবাদকর্মীর ওপর এমন ন্যক্কারজনক হামলা ও ক্যামেরা ছিনতাইয়ের ঘটনায় গাজীপুরের সাংবাদিক সমাজ তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা প্রকাশ করেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%