ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

সুন্দরবনে অপরাধী শনাক্তে কার্যকর ভূমিকা রাখছে ফুট পেট্রোলিং ও ড্রোন


সুন্দরবনে অপরাধী শনাক্তে কার্যকর ভূমিকা রাখছে ফুট পেট্রোলিং ও ড্রোন

বিশ্ব ঐতিহ্য ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট সুন্দরবন রক্ষায় বনরক্ষীদের নজরদারি ও প্রতিনিয়ত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে, বনের গভীরে যেসব স্থানে নৌযান অচল হয়ে পড়েছে, সেসব জায়গায় পায়ে হেঁটে অর্থাৎ ফুট পেট্রোলিং এর মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি, যেখানে ফুট পেট্রোলিংও সম্ভব হচ্ছে না, সেখানে আধুনিক প্রযুক্তির ড্রোন উড়িয়ে অপরাধীদের শনাক্ত করা হচ্ছে। সর্বোপরি, নানান ধরনের অভিযান এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রমের ফলে বন অপরাধ দমনে পশ্চিম বিভাগে উল্লেখযোগ্য সফলতার দেখা মিলেছে।

সুন্দরবন পশ্চিম বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) এ জেড এম হাছানুর রহমান বাসসকে জানিয়েছেন, জনবল সংকট, উন্নত জলযানের অভাবে এবং আধুনিক সুযোগ সুবিধার অভাব থাকা সত্ত্বেও বনকে নিরাপদ রাখতে বিভিন্ন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন বনের অতন্দ্র প্রহরীরা।

বন বিভাগ সূত্র জানাচ্ছে, গত ১ বছরে পশ্চিম সুন্দরবনের খুলনা রেঞ্জে নানা সাঁড়াশি অভিযানে ২৯৪টি মামলায় ৩৯৬ জন বন অপরাধীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় উদ্ধার করা হয়েছে ৫ হাজার ৭১২ মিটার হরিণ ধরার ফাঁদ, ৪৮৭ কেজি হরিণের মাংস, এবং বিপুল পরিমাণ অবৈধ মৎস্য ও কাঁকড়া আহরণের সরঞ্জাম। একই সাথে, বন্যপ্রাণী শিকার বন্ধ করার জন্য জড়িত ১৩৫ জনের একটি বিশেষ তালিকা তৈরি করে তাদের নজরদারিতে রাখা হয়েছে। এর ফলে বন অপরাধ বিগত দিনের তুলনায় অনেক কমতে শুরু করেছে।

আরও পড়ুন: রাসিক প্রশাসকের সঙ্গে নরওয়ের ডেপুটি মেয়রের সৌজন্য সাক্ষাৎ, গ্রিন ও ক্লিন সিটির প্রশংসা

সূত্র জানাচ্ছে, বন বিভাগ ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরে সুন্দরবনে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করবে। সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ও বন্যপ্রাণী রক্ষায় বনরক্ষীরা বনের গভীরে পায়ে হেঁটে ও জলপথে এই অভিযানে অংশগ্রহণ করবেন। এই ১ বছরে বন অপরাধের দায়ে খুলনা রেঞ্জে মোট ২৯৪টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসব মামলায় ৩৯৬ জনকে হাতেনাতে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া পলাতক আসামি রয়েছে ৬৩ জন। এর মধ্যে অভয়ারণ্যে মাছ ও কাঁকড়া ধরার অপরাধে মামলা দায়ের করা হয়েছে ১০৬টি। বিষ সংক্রান্ত মামলার সংখ্যা ৩৩টি।

খুলনা রেঞ্জের অধীন বনের বিভিন্ন দুর্গম এলাকা থেকে গত ১ বছরে জব্দকৃত সামগ্রীর তালিকায় রয়েছে ২২টি ট্রলার, ৩৪৯টি নৌকা, ৬ হাজার ৯৮৬টি অবৈধ কাঁকড়া ধরার (আটন) ফাঁদ, ৯ হাজার ৮৩৩ মিটার দৌনদড়ি, ২ হাজার ৬১২ কেজি মাছ এবং ১ হাজার ৯৮১ কেজি অবৈধভাবে আহরিত কাঁকড়া।

এছাড়া, সুন্দরবনের নদী ও খালে বিষ প্রয়োগ করে মাছ শিকারি চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ সময়ে দস্যু ও অসাধু চক্রের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ৮৭ বোতল মাছ ধরার অবৈধ কীটনাশক, এবং জব্দ করা হয়েছে ২০৩ কেজি মধু। হরিণ সংক্রান্ত মামলা হয়েছে ৩৩টি। অভিযানে জব্দ করা হয়েছে ৪৮৭ কেজি হরিণের মাংস এবং ৫ হাজার ৭১২ মিটার হরিণ ধরার ফাঁদ।

সুন্দরবন খুলনা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক ও রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম বাসসকে বলেন, স্মার্ট টহল টিম ও বিশেষ টহল টিম মোতায়েন করা হয়েছে এবং ফুট পেট্রোলিং করে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। তিনি জানান, অপরাধ উদ্ঘাটন করতে গিয়ে জেলেদের আগ্রাসী আচরণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। যা বন অপরাধ দমনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। সুন্দরবনের হরিণ শিকার ও বিষ দিয়ে মাছ শিকার বন্ধ করতে সামাজিক আন্দোলনের প্রয়োজন রয়েছে।

আরও পড়ুন: রাজশাহীতে কৃষক মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদকে ছুরিকাঘাতে হত্যা

জনবল সংকট ও আধুনিক জলযানের অভাবে এই বিশাল সম্পদ পাহারা দিতে ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করতে বনকর্মীরা হিমশিম খাচ্ছে। সেই সাথে বন নির্ভর জনগণের বিকল্প কর্মসংস্থান না থাকায় বনের উপর চাপ কমছে না। ফলে বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দিনরাত টহল কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে।

সুন্দরবন পশ্চিম বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) এজেডএম হাছানুর রহমান বাসসকে বলেছেন, বনের গহীনে ফুট পেট্রোলিং ও আধুনিক প্রযুক্তির ড্রোন উড়িয়ে অপরাধীর শনাক্তকরণ এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে বন অপরাধ দমনে সফলতা এসেছে। সর্বোপরি, বনরক্ষীরা চরম ঝুঁকি ও কষ্ট মাথায় নিয়ে দুর্গম বনে পায়ে হেঁটে এবং নদীতে নৌযান চালিয়ে নিয়মিত টহল দিয়ে বন অপরাধ অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। যে কোনো উপায়ে সুন্দরবনকে নিরাপদ রাখতে বন বিভাগ সদা জাগ্রত রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আবাসিক কূটনৈতিক মিশন স্থাপনে বাংলাদেশ-চিলির আলোচনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:২১ পি.এম


আবাসিক কূটনৈতিক মিশন স্থাপনে বাংলাদেশ-চিলির আলোচনা

শুক্রবার ম্যানিলায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ও চিলির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফ্রান্সিসকো পেরেজ ম্যাককেনার মধ্যে একটি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও জোরদার করার উদ্দেশ্যে এবং অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য সহযোগিতা সম্প্রসারণের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে, বাংলাদেশ ও চিলি উভয় দেশের রাজধানীতে আবাসিক কূটনৈতিক মিশন খোলার বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

শুক্রবার ম্যানিলায় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা চুক্তির (টিএসি) ৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানের ফাঁকে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ও চিলির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফ্রান্সিসকো পেরেজ ম্যাককেনার মধ্যে যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়, সেখানে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

আজ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বৈঠকে দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধির বিপুল সম্ভাবনার ব্যাপারে আলোচনা করেন এবং নীতিগতভাবে দুই দেশের মধ্যে একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (এফটিএ) সম্ভাবনা খুঁজে বের করতে সম্মত হন।

বৈঠকে চিলি থেকে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ আমদানি ও চিলির বাজারে তৈরি পোশাক, ওষুধ, বৈদ্যুতিক পণ্য এবং চামড়াজাত পণ্যসহ বাংলাদেশী পণ্যের রপ্তানি সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা করা হয়।

ড. খলিলুর রহমান নতুন বিনিয়োগ ও বাণিজ্যের সুযোগ চিহ্নিত করতে এবং বেসরকারি খাতের সম্পৃক্ততা জোরদার করার লক্ষ্যে দুই দেশের মধ্যে ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দল বিনিময়ের পরামর্শ দেন।

এ সময় চিলির পররাষ্ট্রমন্ত্রীও শিগগিরই বাংলাদেশ সফরের ইচ্ছা প্রকাশ করেন। বৈঠকটি দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পৃক্ততা জোরদার করার পাশাপাশি বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন পথ অন্বেষণের আগ্রহকে প্রতিফলিত করে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গুপ্তছড়া ফেরিঘাটের দীর্ঘদিনের সংকট নিরসনে উদ্যোগ: এক সপ্তাহের মধ্যে শুরু হচ্ছে প্রটেকশন ওয়ার্ক, চলবে নিয়মিত ড্রেজিং

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আমিনুল ইসলাম রিয়াদ সন্দ্বীপ চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

শনিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:২৩ পি.এম


গুপ্তছড়া ফেরিঘাটের দীর্ঘদিনের সংকট নিরসনে উদ্যোগ: এক সপ্তাহের মধ্যে শুরু হচ্ছে প্রটেকশন ওয়ার্ক, চলবে নিয়মিত ড্রেজিং

গুপ্তছড়া ফেরিঘাটের নাব্যতা সংকট, নদীভাঙন এবং যাত্রীসেবার বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মাননীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মোস্তফা কামাল পাশা-এর নির্দেশনায়, শনিবার (২৫ জুলাই) সকাল ১০টায় গুপ্তছড়া ফেরিঘাটে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো), বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (BIWTA) এবং বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্পোরেশন (BIWTC)-এর যৌথ উদ্যোগে এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় আলোচনার বিষয় ছিল ফেরিঘাটের নাব্যতা বজায় রাখতে নিয়মিত ড্রেজিং কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া, ফেরিঘাট সংলগ্ন এলাকায় জিও ব্যাগ স্থাপনের মাধ্যমে নদীভাঙন প্রতিরোধ করা এবং প্রয়োজনীয় প্রটেকশন ওয়ার্ক দ্রুত বাস্তবায়নের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

সভা শেষে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে প্রটেকশন ওয়ার্ক শুরু করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। এছাড়া যাত্রী ও যানবাহনের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে নিয়মিত ড্রেজিং কার্যক্রম অব্যাহত রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হয়।

জরুরি সভায় উপস্থিত ছিলেন পানি উন্নয়ন বোর্ড চট্টগ্রামের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী সৈয়দ আরশাদ আলী, উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. রুবেল আহমেদ ও আরিফুর রহমান, BIWTA চট্টগ্রামের কারিগরি সহকারী (পুর) মো. সবুজ আলী, পানি উন্নয়ন বোর্ড সন্দ্বীপের কার্য সহকারী রুবেল বর্ধন, BIWTA-এর কনসালট্যান্ট অ্যান্ড ফিল্ড ইঞ্জিনিয়ার আতিকুর রহমান, মাননীয় সংসদ সদস্যের ব্যক্তিগত সহকারী মাস্টার আবুল কাশেম, ফেরি কপোতাক্ষ-এর মাস্টার ইনচার্জ সাইফুল আলম এবং জিও ব্যাগ স্থাপনকারী প্রতিষ্ঠান PDL-এর প্রতিনিধি মো. সাদিকুল ইসলাম।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গুপ্তছড়া ফেরিঘাটকে নিরাপদ, টেকসই ও সচল রাখতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করবে এবং গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের সমস্যার স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মধ্যপ্রাচ্যের বদলে ভারতীয় কাঁচা খেজুরে ভরছে দেশের বাজার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:২৪ পি.এম


মধ্যপ্রাচ্যের বদলে ভারতীয় কাঁচা খেজুরে ভরছে দেশের বাজার

ভারতে উৎপাদিত কাঁচা খেজুর, যা দেশের বাজারে ‘আরবের খেজুর’ নামে পরিচিত, এখন মধ্যপ্রাচ্যের মাধ্যমে বিমানযোগে নয়, প্রতিবেশী ভারত থেকে স্থলপথে বাংলাদেশে আসছে। এই পরিবর্তনের ফলে পরিবহন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে, এর ফলে দামও কমেছে। এর ফলে সারা দেশে বেড়েছে এই মৌসুমি ফলের সরবরাহ ও চাহিদা।

প্রতিদিন সকালে চট্টগ্রামের পাইকারি ফলের বাজারে কাঁচা খেজুর বোঝাই ট্রাক পৌঁছায়। সেখান থেকে ভ্যান, পিকআপ ও দূরপাল্লার ট্রাকে করে কক্সবাজার, কুমিল্লা, ফেনী, চাঁদপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হচ্ছে।

কয়েক বছর আগেও হলুদাভ রঙের, টসটসে শাঁস ও মিষ্টি স্বাদের এই কাঁচা খেজুর মূলত সংযুক্ত আরব আমিরাত ও মিসর থেকে বিমানযোগে আমদানি করা হতো। উচ্চ পরিবহন ব্যয় ও কাস্টমস শুল্কের কারণে তখন এর দামও ছিল অনেক বেশি। তবে বর্তমানে ভারতীয় স্থলবন্দর হয়ে আমদানি হওয়ায় সেই ব্যয় প্রায় অর্ধেক হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শুধু চট্টগ্রামের এই বাজারেই প্রতিদিন ৯ হাজার থেকে ১০ হাজার কেস কাঁচা খেজুর বিক্রি হয়। এতে দৈনিক লেনদেন হয় প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা। মৌসুমের চূড়ান্ত সময়ে প্রতিদিন ৮ থেকে ১০টি ট্রাক বাজারে আসে।

বর্তমানে ১০ কেজির প্রতি কেস কাঁচা খেজুরের দাম মানভেদে ১ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার টাকা। তবে কোনো দিন সরবরাহ কম হলে প্রতি কেসে ১৫০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়ে যায়।

চট্টগ্রামের কদমতলীর বাসিন্দা ইশমাম উদ্দিন গণমাধ্যমকে বলেন, প্রতি বছরই তিনি এই ফল কেনেন। মিষ্টি স্বাদের সঙ্গে হালকা কষভাব থাকায় এটি পরিবারের সবার, বিশেষ করে শিশুদের কাছে জনপ্রিয়। তিনি ২৮০ টাকা কেজি দরে দুই কেজি খেজুর কিনেছেন।

বিশ্ব কলোনির ফল ব্যবসায়ী মো. আবুল কালাম বলেন, পাইকারি বাজার থেকে ১০ কেজির দুটি কেস ১ হাজার ৮৫০ টাকা দরে কিনেছেন। প্রতিদিনই ক্রেতারা কাঁচা খেজুর খুঁজছেন এবং আগামী কয়েক সপ্তাহও বিক্রি ভালো থাকবে বলে আশা করছেন।

চট্টগ্রাম ফল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ তৌহিদুল আলম বলেছেন, আগে মিসর ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে বিমানযোগে কাঁচা খেজুর আমদানি করতে প্রতি কেজিতে ৫০০ টাকারও বেশি ব্যয় করতে হত। এখন ভারতীয় স্থলবন্দর দিয়ে আসায় পরিবহন ব্যয় কমেছে। ফলে একই মানের খেজুর ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে এবং এটি এখন সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে এসেছে।

তিনি আরও জানান, চলতি মৌসুমে জুনের শেষ সপ্তাহে কাঁচা খেজুর বাজারে আসা শুরু হয়েছে। সাধারণত আগস্টের মাঝামাঝি পর্যন্ত এই মৌসুম থাকে। বেনাপোল, সোনামসজিদ, বুড়িমারী ও সাতক্ষীরাসহ বিভিন্ন স্থলবন্দর দিয়ে খেজুর দেশে প্রবেশ করে। পরে চট্টগ্রাম হয়ে সারা দেশে সরবরাহ করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আসামে ভয়াবহ বন্যায় প্রাণহানি বেড়ে ৬১

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:৩১ পি.এম


আসামে ভয়াবহ বন্যায় প্রাণহানি বেড়ে ৬১

ভারতের আসামে ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬১ জনে পৌঁছেছে। এর মধ্যে শুক্রবার (২৪ জুলাই) একসাথেই ১৪ জন মারা গেছেন। এই ভয়াবহ বন্যার কারণে রাজ্যের ২ হাজারেরও বেশি গ্রামের ১১ লাখেরও বেশি মানুষ দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন। বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজ্য সরকারের ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রমে ভারতীয় সেনাবাহিনী এবং বিমানবাহিনীও সহায়তা করছে।

বন্যা পরিস্থিতির বিষয়ে শনিবার (২৫ জুলাই) আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার সঙ্গে ফোনালাপে যোগ দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ফোনে কথা বলার সময় তিনি বন্যায় ক্ষয়ক্ষতি এবং চলমান উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম নিয়ে জানতে চান।

হিমন্ত বিশ্ব শর্মা জানান, বন্যাকবলিত মানুষের সহায়তার জন্য ১৬২টি ত্রাণশিবির খোলা হয়েছে। এসব শিবিরে বর্তমানে ৪১ হাজারের বেশি মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষেত্রের কাজে মন্ত্রীরা সরাসরি ত্রাণ কার্যক্রম তদারক করছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া একটি পোস্টে মুখ্যমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী বন্যায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ, ত্রাণ কার্যক্রম এবং মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে বিস্তারিত জানার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। এই সময় মোদী প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতিতে গভীর শোক প্রকাশ করে জানান, কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে ত্রাণ, পুনর্বাসন এবং পুনর্গঠনে সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

আসাম স্টেট ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটি (এএসডিএমএ) জানায়, শুক্রবার চরাইদেও জেলায় সাতজন, শিবসাগরে ছয়জন এবং জোরহাটে একজন মারা গেছেন। নতুন করে ছয়জনের মৃত্যুর পর শিবসাগরে বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৭ জনে পৌঁছেছে। জেলাটিতে এখনও একজন নিখোঁজ রয়েছেন।

বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত জেলার তালিকার মধ্যে শিবসাগর স্বরূপ, যেখানে প্রায় ৩ লাখ ৪৮ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। এছাড়া চরাইদেওতে ১ লাখ ৮৮ হাজার এবং জোরহাটে ১ লাখ ২৬ হাজার মানুষ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%