ঢাকা শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় রাস্তা দখল নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ১১


ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় রাস্তা দখল নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ১১

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় চলাচলের রাস্তা দখল করে দেয়াল নির্মাণের কারণে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকালে উপজেলার দরিয়াদৌলত ইউনিয়নের মরিচাকান্দি বাখরনগর উত্তরপাড়া এলাকায় সংঘর্ষটি ঘটে। এই ঘটনায় অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন, তাদের মধ্যে নারীও রয়েছেন।

এ ঘটনায় দুলাল মিয়াসহ ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরো ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করে বাঞ্ছারামপুর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ওই এলাকার বাসিন্দা কাউসার মিয়া।

স্থানীয় ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ওই এলাকার শতবর্ষী পৈতৃক ও সরকারি চলাচলের রাস্তা দখল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধ হয়ে চলাচলের রাস্তায় পাকা দেয়াল নির্মাণের চেষ্টা করেন, যা পথ বন্ধ করে দেয়। বাদীপক্ষ এ নির্মাণকাজে বাধা দেওয়ার পর দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।

আরও পড়ুন: প্লাস্টিক দূষণ বন্ধের এখনই সময়: বরিশালে বিশ্ব পরিবেশ দিবসে আলোচনা

অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিপক্ষের হামলায় দেশীয় অস্ত্র ও লোহার পাইপের আঘাতে আলমগীর মোল্লা (৩৫), হাবিবুর রহমান (৫০), রুশিয়া বেগম (৬৫), কাউসার মিয়া (৩৮) ও খাদিজা আক্তার (৩২) আহত হন। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।

আহতদের মধ্যে আলমগীর মোল্লার অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে। হামলার সময় বাদীপক্ষকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার কথাও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইয়াছিন বলেন, ‘আমি কিছুক্ষণ আগে বিষয়টি সম্পর্কে ফোনে শুনেছি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

আরও পড়ুন: বরিশাল বিএম কলেজের শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মনখালিকে ‘কক্সবাজারের সুইজারল্যান্ড’ হিসেবে তুলে ধরায় সম্মাননা পেলেন ইমন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:০০ এম


মনখালিকে ‘কক্সবাজারের সুইজারল্যান্ড’ হিসেবে তুলে ধরায় সম্মাননা পেলেন ইমন

কক্সবাজারের মনখালি গ্রামকে ‘কক্সবাজারের সুইজারল্যান্ড’ হিসেবে পরিচিত করার জন্য পর্যটনবিষয়ক কনটেন্টের মাধ্যমে স্বীকৃতি হিসেবে সম্মাননা অর্জন করেছেন সংবাদকর্মী ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর ইমরুল কাওসার ইমন।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) কক্সবাজারের সি ওয়ার্ল্ড হোটেলে সাউথ এশিয়ান বিজনেস পার্টনারশিপের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে তার হাতে এই সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়।

ইমরুল কাওসার ইমনের তৈরি একটি ভিডিওতে মনখালি গ্রামের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য তুলে ধরা হয়, যেখানে এলাকাটিকে ‘কক্সবাজারের সুইজারল্যান্ড’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর পর্যটকদের মধ্যে মনখালি গ্রাম নিয়ে আগ্রহ সৃষ্টি হয়। স্থানীয় জনগণের কাছেও মনখালি ‘কক্সবাজারের সুইজারল্যান্ড’ নামে পরিচিতি অর্জন করতে শুরু করেছে। আয়োজকেরা জানিয়েছেন, এর ফলে সেখানে পর্যটকের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন বাশার গ্রুপের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আলহাজ এম. এ. বাশার আবু এবং ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) মো. কামরুল ইসলাম।

সাউথ এশিয়ান বিজনেস পার্টনারশিপের নির্বাহী পরিচালক মো. গোলাম ফারুক মজনুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে পর্যটন খাতের বিভিন্ন ব্যক্তিত্ব উপস্থিত ছিলেন।

আয়োজকেরা উল্লেখ করেছেন যে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেশের নতুন নতুন পর্যটন গন্তব্য তুলে ধরার মাধ্যমে পর্যটনের সম্ভাবনাকে আরও বিস্তৃতভাবে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব। এ ক্ষেত্রে ইমরুল কাওসার ইমনের তৈরি কনটেন্ট মনখালিকে নতুনভাবে পরিচিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে জানানো হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সেন্টমার্টিন ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন? জরুরি কিছু তথ্য জানুন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:০১ এম


সেন্টমার্টিন ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন? জরুরি কিছু তথ্য জানুন

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরূপ দ্বীপ সেন্টমার্টিনে আবারও পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে। ফলে দেশের একমাত্র প্রবালদ্বীপ ভ্রমণের সুযোগ খুলে গেছে পর্যটকদের জন্য। এবার দ্বীপে গিয়ে রাত কাটানোর সুযোগও রয়েছে।

তবে নির্বিঘ্নে ভ্রমণ উপভোগ করার জন্য যাওয়ার আগে জাহাজের টিকিট, যাতায়াত খরচ, আবাসন এবং প্রয়োজনীয় নিয়মকানুন সম্পর্কে ধারণা রাখা প্রয়োজন।

আগেভাগেই সংগ্রহ করুন জাহাজের টিকিট

যদি সেন্টমার্টিন যাওয়ার পরিকল্পনা চূড়ান্ত হয়ে থাকে, তাহলে দেরি না করে জাহাজের টিকিট বুকিং করে নেওয়া উচিত। শেষ মুহূর্তে টিকিটের সংকট এড়াতে ভ্রমণের তারিখ নির্ধারণের পরই টিকিট সংগ্রহের ব্যবস্থা করা উচিত।

জাহাজ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ওয়েবসাইট, গ্রাহকসেবা নম্বর অথবা অনুমোদিত ট্রাভেল এজেন্টের মাধ্যমে টিকিট কেনা যাবে। বুকিংয়ের আগে যাত্রার সময় এবং টিকিটের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করে নেওয়া উচিত।

কোন কোন জাহাজে যেতে পারবেন

চলতি পর্যটন মৌসুমে কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিন নৌপথে প্রায় ১০টি জাহাজ চলাচলের অনুমতি পেয়েছে। এসব জাহাজের মধ্যে রয়েছে এমভি কর্ণফুলী এক্সপ্রেস, বে-ক্রুজার ১, এমভি বারো আউলিয়া এবং কেয়ারি সিন্দাবাদ। ভ্রমণের তারিখ নির্ধারণের আগে কোন জাহাজের টিকিট পাওয়া যাচ্ছে, তা যাচাই করে নেওয়া উচিত।

যাতায়াত খরচ কত হতে পারে

জাহাজের টিকিটের মূল্য আসনের ধরন এবং সুযোগ-সুবিধার ওপর নির্ভর করবে। সাধারণ আসন থেকে শুরু করে বিজনেস চেয়ার, মোজার্ট চেয়ার, বেড এবং কেবিন—বিভিন্ন শ্রেণির টিকিট পাওয়া যাবে।

যাওয়া-আসার জন্য এসব আসনের টিকিটের দাম প্রায় ৩ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ১৫-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে। তাই টিকিট কেনার আগে আসনের সুবিধা, ভাড়া এবং আসন খালি আছে কি না, সেসব বিষয় ভালোভাবে যাচাই করে নেওয়া উচিত।

ট্রাভেল পাস নিয়ে দুশ্চিন্তার প্রয়োজন নেই।

সেন্টমার্টিন ভ্রমণে যেতে পর্যটকদের জন্য ট্রাভেল পাস বাধ্যতামূলক। তবে এ জন্য আলাদাভাবে নিবন্ধনের ঝামেলা পোহাতে হবে না।

জাহাজের টিকিট বুকিং সম্পন্ন হলে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী নিবন্ধন ও ট্রাভেল পাসসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া জাহাজ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানই সম্পন্ন করবে।

আগে থেকেই বুকিং দিন হোটেল বা রিসোর্ট।

দ্বীপে রাত কাটানোর পরিকল্পনা থাকলে আগেভাগেই আবাসন নিশ্চিত করা ভালো। সেন্টমার্টিনে ২৩০টিরও বেশি হোটেল, রিসোর্ট এবং কটেজ রয়েছে। তবে সেখানে পৌঁছে থাকার জায়গা খোঁজার পরিবর্তে যাওয়ার আগেই পছন্দের হোটেল বুকিং দিলে সময় এবং ভোগান্তি দুটোই কমবে। আবাসনের ধরন এবং সুযোগ-সুবিধা অনুযায়ী হোটেল-রিসোর্টের ভাড়া ভিন্ন হয়ে থাকে।

হোটেল বুকিংয়ের আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে গিয়ে চলমান অফার এবং বিশেষ ছাড় সম্পর্কে খোঁজ নিতে পারেন।

ভ্রমণের আগে যে বিষয়গুলো মনে রাখবেন

সেন্টমার্টিনের পরিবেশ এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষায় পর্যটকদের কিছু নিয়ম মেনে চলতে হবে। দ্বীপে প্রবেশের সময় প্রত্যেক পর্যটককে ১০০ টাকা পরিবেশ সংরক্ষণ ফি দিতে হবে। পাশাপাশি পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখা জরুরি।

ভ্রমণের সময় পরিবেশের ক্ষতি হয় এমন কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকা উচিত। বিশেষ করে পলিথিন এবং একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক ব্যবহার এড়িয়ে চলা উচিত। সৈকতে উচ্চ শব্দে গান বাজানো, রাতে দীর্ঘসময় উজ্জ্বল আলো জ্বালিয়ে রাখা কিংবা সৈকতে বারবিকিউ পার্টি আয়োজন করা থেকে বিরত থাকা উচিত।

এছাড়া সৈকতের পরিবেশ এবং জীববৈচিত্র্য সুরক্ষায় মোটরচালিত যানবাহন ব্যবহার না করে বাইসাইকেল বেছে নেওয়া যেতে পারে।

সেন্টমার্টিনের সৌন্দর্য উপভোগ করার পাশাপাশি দ্বীপটির প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষার দায়িত্বও প্রত্যেক পর্যটকের। তাই ভ্রমণের আনন্দ যেন প্রকৃতির ক্ষতির কারণ না হয়, সেদিকেও সচেতন থাকা প্রয়োজন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নাতনির টাঙানো সাইনবোর্ড ভাঙলেন শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের বাড়িতে এনসিপি নেতারা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:০১ এম


নাতনির টাঙানো সাইনবোর্ড ভাঙলেন শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের বাড়িতে এনসিপি নেতারা

ভাষা সৈনিক এবং শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের ঐতিহাসিক বাসভবন কুমিল্লায় স্মৃতি জাদুঘর প্রতিষ্ঠার দাবিতে সেখানে স্থাপিত সাইনবোর্ডটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতারা।

এই ঘটনা ঘটে শুক্রবার (৬ নভেম্বর) রাতে। সাইনবোর্ড ভাঙার ঘটনার পর ক্ষোভ ও নিন্দা প্রকাশ করেছেন বাড়িটির ওয়ারিশ এবং ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের নাতনি আরমা দত্ত, যিনি সংরক্ষিত নারী আসনের দুই বারের সংসদ সদস্য।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পূর্বে বিভিন্ন সময়ে বাড়িটি সংস্কার, স্মৃতি জাদুঘর প্রতিষ্ঠা ও সংরক্ষণের দাবি উঠলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। সম্প্রতি, শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের নাতনি আরমা দত্ত ওই সম্পত্তির বৈধ ওয়ারিশ দাবি করে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেন। তিনি শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের একমাত্র ছেলে সঞ্জিব দত্তের মেয়ে। সাইনবোর্ডে লেখা ছিল—‘এই জমির প্রকৃত মালিক ওয়ারিশ সূত্রে আরমা দত্ত। পিতা মৃত সঞ্জিব দত্ত। দাগ নং ১৮০০, মৌজা ছোটরা, কুমিল্লা।’

এনসিপি নেতারা দাবি করেছেন, বাড়িটিকে প্রত্নতাত্ত্বিক ও জাতীয় ঐতিহ্য হিসেবে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা উচিত। তারা জানান, বাড়ি বিক্রির প্রচেষ্টা হিসেবে সেখানে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দিয়ে পুরোনো স্থাপনা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তাই বাড়ি বিক্রি প্রতিহত করার উদ্দেশ্যে সেখানে ঝোলানো সাইনবোর্ডটি ভেঙে দেওয়া হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সন্ধ্যার পর এনসিপি নেতারা সেখানে গিয়ে প্রথমে বাড়িটি সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন। পরে তারা সাইনবোর্ডটি ভেঙে ফেলেন।

রাতে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) কুমিল্লা মহানগর শাখার সদস্য সচিব মাসুমুল বারী কাওসার স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের স্মৃতিবিজড়িত বাড়িটি সাধারণ স্থাপনা নয়; এটি ভাষা আন্দোলন ও মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ঐতিহ্য। সুতরাং, বাড়িটি ব্যক্তিগত কেনাবেচার বিষয় নয়, বরং রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে সংরক্ষণ করা উচিত।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও অভিযোগ করা হয়, তারা এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য সরকারের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদন করবেন।

এনসিপি কুমিল্লা মহানগর শাখার সদস্য সচিব মাসুমুল বারী কাওসার বলেন, আমরা একটি ঐতিহাসিক বাড়ি রক্ষা করতে সাইনবোর্ড ভেঙে ফেলেছি। এখানে অন্য কোনো উদ্দেশ্য নেই। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে সরকার এবং ওয়ারিশ হিসেবে আরমা দত্ত তাদের পাশে থাকবে। তিনি বলেন, যদি এ জায়গা বিক্রি করা হয় বা বহুতল ভবন নির্মাণের চেষ্টা করা হয়, তাহলে জনগণ নিয়ে প্রতিহত করা হবে।

আরমা দত্ত বলেন, এটি তাদের পৈতৃক সম্পত্তি। তিনি এর বৈধ ওয়ারিশ। কুমিল্লাবাসীও এটি জানে। তাই এ বাড়িটির জায়গা তিনি কী করবেন, তা একান্তই তার ব্যক্তিগত বিষয়। তবে রাতে এভাবে একটি বাড়ির বৈধ সাইনবোর্ড ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার বিষয়টি দুঃখজনক। তিনি প্রশাসনকে বিষয়টি অবহিত করবেন।

কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার জানান, শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের বাড়ির সাইনবোর্ড কে ভেঙেছে, এ বিষয়ে এখনো কেউ অবহিত করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করা হবে।

উল্লেখ্য, ১৯৪৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান গণপরিষদে উর্দু ও ইংরেজির পাশাপাশি বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি উত্থাপন করে ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে আছেন ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত। ১৯৭১ সালের ২৯ মার্চ রাতে কুমিল্লার নিজ বাসভবন থেকে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী তাকে ও তার ছেলে দিলীপ কুমার দত্তকে ধরে নিয়ে যায়। এরপর তাদের আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৯৭ সালে তাকে মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। দিলীপ কুমার দত্তের মেয়ে আরমা দত্ত একাদশ ও দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্য ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিজেপি এমপি নিশিকান্ত দুবে নোয়াখালী-চট্টগ্রাম-সিলেট দখলের উসকানি দিলেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:০২ এম


বিজেপি এমপি নিশিকান্ত দুবে নোয়াখালী-চট্টগ্রাম-সিলেট দখলের উসকানি দিলেন

ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির লোকসভা সদস্য নিশিকান্ত দুবে পাকিস্তাননিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পাশাপাশি বাংলাদেশের নোয়াখালী, সিলেট ও চট্টগ্রাম বন্দর নিজেদের দখলে নেওয়ার খোলাখুলি উসকানি দিয়েছেন। তিনি স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের এই অঞ্চলগুলোকে ভারতের অংশে পরিণত বা ‘পুনরুদ্ধার’ করার দাবি তুলে চরম বিতর্ক সৃষ্টি করেছেন।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) ভারতের বার্তা সংস্থা এএনআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ঝাড়খন্ড রাজ্যের গোড্ডা আসন থেকে নির্বাচিত এই এমপি এই বিতর্কিত উসকানি দেন। গোড্ডাতে আদানির তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি অবস্থিত, যেখান থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ বাংলাদেশে সরবরাহ করা হয়।

দেশভাগের সময়কার ইতিহাসের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর তীব্র সমালোচনা করেন নিশিকান্ত। তিনি দাবি করেন, নোয়াখালী, সিলেট ও চট্টগ্রাম তৎকালীন ত্রিপুরা রাজ্যের অন্তর্গত ছিল। কিন্তু নেহরুর ভুল নীতির কারণে তা জোর করে পাকিস্তানের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

নোয়াখালী দাঙ্গার প্রসঙ্গ টেনে নিশিকান্ত অভিযোগ করেন, নেহরু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘আজ উত্তর-পূর্বাঞ্চল যে পিছিয়ে রয়েছে এবং সেখানকার খনিজ সম্পদ সদ্ব্যবহার করা যাচ্ছে না, তার একমাত্র কারণ চট্টগ্রাম বন্দর হাতে না থাকা। তাই সময় এসেছে নোয়াখালী, সিলেট ও চট্টগ্রাম পুনরুদ্ধারের।’

এছাড়া সিলেটে গণভোট পরিচালনাকারী বাহারুল ইসলামকে ‘মুসলিম লীগ রেড আর্মি’র সদস্য দাবি করে নিশিকান্ত বলেন, পরবর্তীতে কংগ্রেস তাকে হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি বানিয়েছিল।

বিজেপি এমপির এই ভূখণ্ড দখলের দাবির সমর্থন জানিয়েছেন ত্রিপুরার রাজপরিবারের বংশধর ও ‘তিপ্রা মথা’ দলের প্রতিষ্ঠাতা প্রদ্যোৎ বিক্রম মাণিক্য দেববর্মা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ তিনি লেখেন, দেশভাগের সময় ত্রিপুরার একটি বিশাল অংশ হস্তান্তর করা ঐতিহাসিক ভুল ছিল। চট্টগ্রাম বন্দর থাকলে আজ ‘চিকেনস নেক’ (শিলিগুড়ি করিডোর) নিয়ে ভারতকে দুশ্চিন্তা করতে হতো না।

নানা উসকানিমূলক ও বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য নিশিকান্ত দুবে আগেও সংবাদের শিরোনাম হয়েছেন। এর আগে তিনি পশ্চিমবঙ্গের মালদহ ও মুর্শিদাবাদ এবং বিহারের কাটিহার ও কিষানগঞ্জ নিয়ে পৃথক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল গঠনের দাবি তুলেছিলেন। এ ছাড়া তৃণমূলের সাবেক এমপি মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে অর্থ নিয়ে সংসদে প্রশ্ন করার অভিযোগকারীও ছিলেন এই বিজেপি নেতা। বাংলাদেশের অবিচ্ছেদ্য ভূখণ্ড নিয়ে তাঁর এই সাম্প্রতিক মন্তব্যে কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক মহলে চরম প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫০
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪০
মাগরিব ০৫:১৬
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৮ সূর্যাস্ত : ০৫:১৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%