ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

২০০ কোটি ডলারের সামরিক ড্রোন কেনার পরিকল্পনা করছে ভারত


২০০ কোটি ডলারের সামরিক ড্রোন কেনার পরিকল্পনা করছে ভারত

আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোনের ক্রমবর্ধমান চাহিদা বাড়ায় ভারত চলতি বছরই অভ্যন্তরীণ প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে ২০০ কোটি ডলারের বেশি দামের সামরিক ড্রোন কেনার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এটি পরিকল্পনা অনুযায়ী, হবে দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ড্রোন ক্রয় কর্মসূচি।

 দেশটির সরকারের সঙ্গে কাজ করা একটি শিল্প সংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছে।ড্রোন ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ার (ডিএফআই) সভাপতি স্মিত শাহ জানান, এই পরিকল্পনা বর্তমানে উন্নত পর্যায়ে রয়েছে এবং আগামী ১৮ থেকে ২৪ মাসের মধ্যে এসব ড্রোন সরবরাহ করা হতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে কৌশলগত (ট্যাকটিক্যাল) শ্রেণির ড্রোনের জন্য সরকারের দেওয়া ৩০ বিলিয়ন রুপির (৩১৩ মিলিয়ন ডলার) ক্রয়াদেশের চেয়ে নতুন এই বরাদ্দের পরিমাণ অনেক বেশি।

 ৫৫০টিরও বেশি কোম্পানির প্রতিনিধিত্ব করা এবং সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করা ডিএফআই-এর সভাপতি স্মিত শাহ বলেন, ‘পরবর্তী ধাপে ভারতে কৌশলগত ড্রোন সংগ্রহের পরিমাণ ২০০ বিলিয়ন রুপি বা ২০০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।

আরও পড়ুন: ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ৪৭ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল

তিনি আরো জানান, জরুরি বা কর্মক্ষম চাহিদা মেটাতে এই নতুন ক্রয়াদেশগুলো ফাস্ট-ট্র্যাক প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হতে পারে, যার সরবরাহ ২৪ মাসের মধ্যে প্রয়োজন হবে। তবে এ বিষয়ে ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

 গত বছরের মে মাসে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের সঙ্গে সংঘর্ষের পর ভারত এই উদ্যোগ জোরদার করে। ওই সময় উভয় পক্ষই প্রথমবারের মতো বড় পরিসরে ড্রোন ব্যবহার করেছিল, যা কম খরচের ড্রোনের আক্রমণাত্মক কার্যক্ষমতাকে সামনে নিয়ে আসে। এ ছাড়া ইউক্রেন ও ইরানের সংঘাত বিশ্বব্যাপী ড্রোনের ব্যবহারকে আরো ত্বরান্বিত করেছে, যা খরচ কমিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রের কৌশল বদলে দিচ্ছে।

 এর আগে গত মার্চ মাসে ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় পরিবহন বিমান, ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা এবং ‘রিমোটলি পাইলটেড স্ট্রাইক এয়ারক্রাফট’ বা সশস্ত্র ড্রোন কেনার জন্য প্রায় ২ লাখ ৩৮ হাজার কোটি রুপির (২৪.৮৫ বিলিয়ন ডলার) একটি প্রস্তাব অনুমোদন করেছিল। তবে সেখানে কোন খাতে কত ব্যয় হবে, তার সুনির্দিষ্ট বিভাজন দেওয়া হয়নি।

 প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আইজি ডিফেন্সের কর্মকর্তা এবং ভারতীয় সেনাবাহিনীর সাবেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রমেশ চন্দ্র পাধি বলেন, আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোন এখন শক্তি বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়ার অন্যতম উপাদান। ভারতীয় সেনাবাহিনী জরুরি ও দ্রুতগতির ক্রয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে খুব বড় পরিসরে ড্রোন অন্তর্ভুক্ত করার পথে এগোচ্ছে।

আরও পড়ুন: কসোভোতে মুসলিম দেশ হিসেবে অন্য এক দৃষ্টান্ত: ক্যাথলিক নারী নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট

 বর্তমানে ভারতে ৬০০-এরও বেশি প্রতিষ্ঠান ড্রোন ও ড্রোনের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ উৎপাদন করছে। এর মধ্যে শতাধিক প্রতিষ্ঠান সরাসরি প্রতিরক্ষা খাতের জন্য কাজ করছে। এই খাতে বড় শিল্পগোষ্ঠীগুলোর মধ্যে রয়েছে আদানি গ্রুপ, লারসেন অ্যান্ড টুবরো এবং টাটা অ্যাডভান্সড সিস্টেমস। একই সঙ্গে আইডিয়াফোর্জ, নিউস্পেস রিসার্চ ও অ্যাস্টেরিয়া অ্যারোস্পেসের মতো স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠানও দ্রুত জায়গা করে নিচ্ছে।

 প্রতিষ্ঠানগুলো নজরদারি ড্রোন, সরবরাহ ব্যবস্থাপনা ড্রোন, লয়টারিং মিউনিশন, নির্ভুল আঘাত হানতে সক্ষম ড্রোন এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ উপাদান তৈরিতে কাজ করছে।

 বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘাত এবং মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ভারতের সামরিক পরিকল্পনায় ড্রোনকে কেন্দ্রীয় অবস্থানে নিয়ে এসেছে। ফলে আগামী কয়েক বছরে দক্ষিণ এশিয়ার আকাশে ড্রোনভিত্তিক সামরিক প্রতিযোগিতা আরো তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বাড়াতে দেশীয় প্রযুক্তিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

স্মিত শাহ জানান, সরকারি নীতিগত সহায়তা ও ক্রয়াদেশের স্পষ্টতা আসার পর ভারতের ড্রোন শিল্পে বড় পরিবর্তন আসছে। এর ফলে বিনিয়োগের উদ্যোগ এবং বড় প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে অংশীদারিত্ব বৃদ্ধি পেয়েছে, যা সামরিক চাহিদা মেটাতে উৎপাদন ও গবেষণাকে আরো গতিশীল করছে।

আরও পড়ুন: কক্সবাজারে নকল ব্যান্ডরোলযুক্ত সিগারেট জব্দ, মূল্য ২৭ লাখ টাকা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নওগাঁয় হাসুয়া সহ ০১ ছিনতাইকারী গ্রেফতার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি

বৃহস্পতিবার, ৪ই জুন, ২০২৬ ইং

১০:৪০ এম


নওগাঁয় হাসুয়া সহ ০১ ছিনতাইকারী গ্রেফতার

গত ০৩/৬/২০২৬ তারিখে, জনৈকা সুলতানা রাজিয়া, পিতা-মৃত আজিজুর রহমান, সাং- পাহাড়পুর, থানার ও জেলার নওগাঁ, থানায় এসে লিখিতভাবে জানায় যে, বেলা অনুমান ১১.০০ ঘটিকায় বাদীনি এবং তার মা মোছাঃ শাহানারা বেওয়া লোহার রড কেনার জন্য কিছু টাকা নিয়ে পাহাড়পুর গ্রামের বাড়ী থেকে বের হয়ে মেইন গেইটে তালা লাগানোর সময় স্থানীয় চিহ্নিত ছিনতাইকারী ১) আঃ আলীম (৫০) পিতা- মৃত লহির উদ্দিন, সাং- পাহাড়পুর (প্রামানিক পাড়া), থানার ও জেলার নওগাঁ একটি ধারালো হাসুয়া নিয়ে ভীতিকর পরিবেশ তৈরি করে বাদীর নিকট থেকে টাকা সহ ব্যাগ এবং গলায় থাকা ০১ ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন ছিনাইয়া নেয়। বাদীর এবং তার মায়ের ডাক চিৎকারে আশপাশের লোক এগিয়ে আসলে আসামি ধারালো হাসুয়া দিয়ে ভয় দেখিয়ে পালিয়ে যায়। অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় দ্রুত ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করার উদ্দেশ্যে সদর থানার একটি বিশেষ টিম প্রেরণ করা হয়। অফিসার ইনচার্জ সদর থানার তত্ত্বাবধানে এসআই শাহীন মিয়া এবং এএসআই আব্দুল মালেক সঙ্গীয় ফোর্সসহ কয়েক ঘণ্টা বিরামহীন অভিযান পরিচালনা করে স্থানীয় জনসাধারণের সাহায্যে আসামিকে গ্রেফতার করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে জার্মানির পরাজয়, দায়ী ইসরাইল নীতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৪ই জুন, ২০২৬ ইং

১০:৪২ এম


জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে জার্মানির পরাজয়, দায়ী ইসরাইল নীতি

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্যপদের নির্বাচনে জার্মানি পরাজিত হয়েছে। ইউরোপীয় দেশগুলোর জন্য নির্ধারিত দুটি রোটেটিং আসনের এই প্রতিযোগিতায়, জার্মানি পর্তুগাল এবং অস্ট্রিয়ার কাছে হেরে গেছে। কারণ, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে প্রয়োজনীয় ভোট না পেয়ে এই প্রতিযোগিতা থেকে দেশটি বাদ পড়েছে।

ভোটের পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপচারিতায় জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোহান ওয়াডেফুল উল্লেখ করেছেন, ইউক্রেন এবং ইসরাইলের প্রতি বার্লিনের প্রকাশ্য সমর্থন এই পরাজয়ের পেছনে সম্ভাব্য কারণ হতে পারে। তিনি বলেন, ‘আমরা সবসময় কিছু নির্দিষ্ট ইস্যুতে স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছি, আর এই অবস্থানগুলোতে সব সদস্য রাষ্ট্র সমর্থন করে না।’

তিনি আরো যোগ করেন, ‘মধ্যপ্রাচ্য সংকটে জার্মানিকে সব সময়ই ইসরাইলের জন্য বিশেষ দায়িত্ব পালন করতে হয়, যা হয়তো ভোটের ক্ষেত্রে আমাদের কিছুটা পিছিয়ে দিয়েছে।’

নিরাপত্তা পরিষদের এই নির্বাচনে, সাধারণ পরিষদের ১৯৩টি সদস্য দেশের মধ্যে, পর্তুগাল ১৩৪ ভোট এবং অস্ট্রিয়া ১৩১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছে। অথচ, জার্মানি মোট ১০৪টি ভোট পেয়েছে। উল্লেখযোগ্য যে, জার্মানি এর আগে ছয়বার নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিল।

এবারের নির্বাচনে অন্যান্য অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত, আফ্রিকা থেকে জিম্বাবুয়ে এবং ক্যারিবীয় অঞ্চল থেকে ত্রিনিদাদ ও টোবাগো বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছে। অন্যদিকে, এশিয়া অঞ্চলের আসনে ফিলিপাইনকে ১৪৩-৪৯ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে বিজয়ী হয়েছে কিরগিজস্তান।

নবনির্বাচিত এই সদস্যরা ২০২৭ সালের শুরু থেকে দুই বছরের জন্য জাতিসংঘের সবচেয়ে শক্তিশালী এই সংস্থায় দায়িত্ব পালন করবে। ১৫ সদস্যের জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে স্থায়ী ৫টি সদস্য দেশ হলো- চীন, ফ্রান্স, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্র।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ধর্মঘটে পর্তুগাল কার্যক্রম অচল, সরকারি অনেক পরিষেবা বন্ধ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৪ই জুন, ২০২৬ ইং

১০:৪৪ এম


ধর্মঘটে পর্তুগাল কার্যক্রম অচল, সরকারি অনেক পরিষেবা বন্ধ

সাধারণ ধর্মঘটের কারণে পর্তুগাল কার্যক্রম অচল হয়ে পড়েছে নিরাপত্তার ত্রুটি ও সরকারী পরিষেবার সীমাবদ্ধতার কারণে। বুধবার (৩ জুন) স্থানীয় সময় অনুযায়ী হাসপাতাল এবং ফায়ার সার্ভিসের মতো জরুরি পরিষেবাগুলি কিছুটা সীমিত পরিসরে চালু থাকার পরও, বিভিন্ন সরকারি কার্যক্রম বন্ধ ছিল, যার মধ্যে মেট্রোরেলও অন্তর্ভুক্ত। ফলে বাতিল হয়ে যায় পাঁচ শতাধিক ফ্লাইট।

কর্মীদের অধিকার ক্ষুণ্ন করার অভিযোগে সরকারের প্রস্তাবিত শ্রম আইন বাতিলের জন্য শ্রমিক সংগঠন সিজিটিপি সাধারণ ধর্মঘটের ডাক দেয়। বুধবার পর্তুগালের রাজধানী লিসবন থেকে কোনো দূরপাল্লার ট্রেন ছেড়ে যায়নি এবং শহরের মধ্যে কোনো ট্রেন প্রবেশ করেনি।

অনেক যাত্রী স্টেশনে এসে ট্রেন বাতিলের খবর পেয়ে ফিরে গেছেন। ধর্মঘট সফল করার লক্ষ্যে, স্টেশনে সক্রিয় ছিলেন ইউনিয়নের সদস্যরা।

ধর্মঘটের কারণে মধ্যরাত থেকেই মেট্রোরেল স্টেশনগুলোর প্রবেশপথ বন্ধ করে দেওয়া হয়। সীমিত পরিসরে বাস চলাচল থাকলেও, যাত্রীদের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে। অনেক পর্তুগীজ কর্মী কাজে যেতে না পারলেও, গণপরিবহন সংকটের কারণে অনেক অভিবাসী ও অন্যান্য কর্মীরা বিষয়টি নিয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন।

ধর্মঘটে অংশ নেওয়া একজন বলেন, ‘আমি সরকারের প্রস্তাবিত শ্রম আইনকে সমর্থন করি না। তাই ধর্মঘটে অংশ নিয়েছি। আমি লক্ষ্য করিছি, অনেক তরুণও এই আইনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। সরকারকে অবশ্যই এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে হবে।’

শুধু লিসবন নয়, দেশের বিভিন্ন শহরে ধর্মঘটের প্রতি সমর্থন জানিয়ে নার্স, চিকিৎসকসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ কর্মবিরতি পালন করেন। সিজিটিপির নেতারা জানান, শ্রমিকদের ব্যাপক অংশগ্রহণই প্রমাণ করে যে নতুন শ্রম আইন জনগণ মেনে নিতে প্রস্তুত নয়।

সিজিটিপির জেনারেল সেক্রেটারি তিয়াগো অলিভেইরা বলেন, ‘সিজিটিপি শ্রমজীবী মানুষকে তাদের দাবি আদায়ে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। সম্মিলিত আন্দোলনের মাধ্যমে এই অন্যায্য আইন বাতিল করতে সরকারকে বাধ্য করা সম্ভব। এত মানুষের দাবি সরকার উপেক্ষা করতে পারে না।’

ধর্মঘটের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে লিসবন বিমানবন্দরে, যেখানে টিকিট বাতিল হয় পাঁচ শতাধিক ফ্লাইটের। নির্ধারিত দিনে ভ্রমণ করতে না পেরে যাত্রীরা চরম দুর্ভোগের মুখোমুখি হয়েছেন। এ ছাড়া শিক্ষক ও শিক্ষা খাতের কর্মীদের ধর্মঘটে অংশগ্রহণের কারণে দেশের অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ ছিল।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

খুমেক হাসপাতালে আগুন: অপারেশন থিয়েটার এখনও বন্ধ, শতাধিক রোগী চরম ঝুঁকিতে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৪ই জুন, ২০২৬ ইং

১০:৪৬ এম


খুমেক হাসপাতালে আগুন: অপারেশন থিয়েটার এখনও বন্ধ, শতাধিক রোগী চরম ঝুঁকিতে

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পোস্ট অপারেটিভ স্টোরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটে যাওয়ার দুই সপ্তাহ পরেও এখনও অপারেশন থিয়েটার ও সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলো চালু করা সম্ভব হয়নি। অক্সিজেন লাইনের ক্ষতি এবং অবকাঠামোগত ঝুঁকির কারণে বর্তমানে জরুরি ও নির্বাচিত সব ধরনের অস্ত্রোপচার বন্ধ রয়েছে। এর ফলস্বরূপ, অপারেশনের অপেক্ষায় থাকা শতাধিক রোগী চরম অনিশ্চয়তা এবং স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছেন।

এই ঘটনার সম্পর্কে জানা যায়, গত ২০ মে ভোরে হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারসংলগ্ন স্টোর রুমে আগুন লেগে যায়। এই অগ্নিকাণ্ডের ফলে গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি ও অবকাঠামো ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং এর পরপরই পুরো অপারেশন থিয়েটার কার্যত অচল হয়ে পড়ে। ঘটনার দিনই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দ্রুত সংস্কার এবং পুনরায় চালুর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে, দুই সপ্তাহ অতিবাহিত হলেও সেই নির্দেশনার যথাযথ বাস্তবায়নে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না।

সাতক্ষীরার রেশমা আক্তার ব্রেন টিউমারের অস্ত্রোপচারের জন্য দেড় মাস ধরে অপেক্ষায় আছেন। গত সপ্তাহে তার অপারেশনের কথা থাকলেও অপারেশন থিয়েটার বন্ধ থাকায় তা সম্ভব হয়নি। অন্তঃসত্ত্বা এই নারীর অবস্থা দিনে দিনে আরও সংকটাপূর্ণ হয়ে উঠছে। জরুরি ভিত্তিতে অস্ত্রোপচার না হলে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে পারে। আর্থিকভাবে অসচ্ছল পরিবারের কারণে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বাইরের ভর্তি নিয়ে যেতে পারছেন না।

রেশমার স্বামী সিরাজুল ইসলাম বলেন, 'ডাক্তাররা দ্রুত অপারেশনের কথা বলেছিলেন। এখন তারা বলছেন, আপাতত অপারেশন হচ্ছে না। এখন আমরা কি করবো? বুঝে উঠতে পারছি না।'

এদিকে, রেশমা আক্তারই একমাত্র নন, সার্জারি, নিউরো সার্জারি, ইউরোলজি, বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের শত শত রোগীর অস্ত্রোপচার আটকে রয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অস্ত্রোপচারের কথা থাকলেও আগুনের কারণে সব কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। নতুন রোগীদেরও ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ফলে রোগী ও তাদের স্বজনরা চরম ভোগান্তি এবং অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে সময় কাটাচ্ছেন।

নড়াইলের রোগীর স্বজন কামাল হোসেন বলেন, 'অপারেশনের তারিখ ঠিক ছিল, সব কিছু প্রস্তুত ছিল। হঠাৎ আগুনে সব বন্ধ হয়ে গেল। এখন কবে হবে, কেউ বলতে পারছে না।'

খুলনার আরেক স্বজন লতিফা বেগম বলেন, 'আমার ভাইয়ের মাথায় সমস্যা। অপারেশন জরুরি। কিন্তু তা করা যাচ্ছে না।'

বিপত্তি সবদিক থেকে চিকিৎসকরাও পড়েছেন। তাদের মতে, সময়মতো অস্ত্রোপচার না হওয়ার কারণে অনেক রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছে, কিছু ক্ষেত্রে মৃত্যুঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে। তারা কর্তৃপক্ষকে বারবার দ্রুত অপারেশন থিয়েটার চালুর জন্য অনুরোধ করছেন।

নিউরো সার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. রিয়াজ আহমেদ বলেন, 'যাদের জরুরি অপারেশন দরকার, তাদের অনেকের অবস্থাই খারাপের দিকে যাচ্ছে। থিয়েটার বন্ধ থাকায় চিকিৎসা দিতে পারছি না।'

অ্যানেসথেসিয়া ও আইসিইউ বিভাগের প্রধান ডা. দিলীপ কুমার কুণ্ডু বলেন, 'অপারেশন বন্ধ থাকার কারণে রোগীদের জটিলতা বেড়ে যাচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে যাচ্ছে, যেখানে মৃত্যুঝকির সৃষ্টি হচ্ছে। দ্রুত থিয়েটার চালু না হলে সংকট আরও বাড়বে।'

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, স্বাস্থ্য মন্ত্রীর নির্দেশনা থাকার পরও গণপূর্ত বিভাগ এখনও ক্ষয়ক্ষতির নিরূপণ শেষ করতে পারেনি। তাই সংস্কার কাজ শুরু করা যাচ্ছে না।

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. কাজী আইনুল ইসলাম বলেছেন, 'স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। কিন্তু গণপূর্ত বিভাগের অ্যাসেসমেন্ট এখনও শেষ হয়নি। তাই কাজ শুরু করা যাচ্ছে না। প্রশাসনিক এবং কারিগরি জটিলতার কারণে প্রক্রিয়াটি বিলম্বিত হচ্ছে।'

অন্যদিকে, গণপূর্ত বিভাগের খুলনার নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল হালিম জানিয়েছেন, 'ক্ষতিগ্রস্ত সরঞ্জাম ও অবকাঠামো পুরোপুরি অপসারণ না হওয়ায় কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। তবে আমরা দ্রুত মেরামতের কাজ শেষ করার চেষ্টা করছি। আশা করছি, আগামী ২০ দিনের মধ্যে কাজ শেষ হবে।'

সব মিলিয়ে একটি ছোট অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পুরো হাসপাতালের অস্ত্রোপচার ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়েছে। ফলে প্রতিদিন রোগীর চাপ, চিকিৎসা অনিশ্চয়তা এবং মানবিক সংকট বাড়ছে। দ্রুত সমাধান না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%