মোঃ উজ্জ্বল মিয়া ,নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধি
০৩:৩৩ পি.এম
নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় বিনা মূল্যে সিগারেট না দেওয়াকে কেন্দ্র করে মো. ইব্রাহিম খলিল (৩৫) নামের এক মুদি দোকানির শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। গুরুতর দগ্ধ ইব্রাহিমকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তাঁর অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানিয়েছেন স্বজনেরা।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত মো. সুমন (৩০) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার দুপুরে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ তরিকুল ইসলাম।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে কেন্দুয়া উপজেলার সান্দিকোনা ইউনিয়নের সাহিতপুর বাজারে এ ঘটনা ঘটে। ইব্রাহিম খলিল ওই বাজারের কেন্দুয়া–আঠারোবাড়ী সড়কের পাশে ‘ইসরাত জাহান স্টোর’ নামে একটি মুদি দোকান চালান।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার রাতে সুমন ওই দোকানে এসে বিনা মূল্যে সিগারেট চান। ইব্রাহিম সিগারেট দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে সুমন দোকানে রাখা পেট্রল ইব্রাহিমের দিকে ও দোকানের সামনে ছিটিয়ে লাইটার দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এরপর তিনি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
আগুনে ইব্রাহিমের শরীরের বিভিন্ন অংশ পুড়ে যায়। স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকের পরামর্শে রাতেই তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
ইব্রাহিমের ভাই মো. লাদেন মিয়া বলেন, আগুনে তাঁর ভাইয়ের শরীরের বেশির ভাগ অংশ পুড়ে গেছে। তাঁর অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। এ ঘটনায় দোকানের প্রায় ৫০ হাজার টাকার মালামাল পুড়ে গেছে বলেও জানান তিনি।
ঘটনার পর কেন্দুয়া থানা–পুলিশ অভিযানে নামে। পুলিশ জানায়, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য ও ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে রাত ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে পার্শ্ববর্তী সহিলাটি গ্রাম থেকে সুমনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
কেন্দুয়া থানার ওসি মুহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বলেন, অভিযুক্ত সুমনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে তাঁকে জেলা আদালতে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনার পর সাহিতপুর বাজার ও আশপাশের এলাকায় উত্তেজনা দেখা দিলে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ নজরদারি করছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের দুই খেলোয়াড় সাদ উদ্দিন ও সোহেল রানার নাইট ক্লাবের ছবি ভাইরাল হওয়ার পর আসিয়ান কাপে ৯-২ গোলের লজ্জাজনক হারের পর নতুন একটি মোড় এসেছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হওয়ার পর, ইন্দোনেশিয়ান তরুণী এলেনা অবশেষে সেই সমালোচিত পোস্ট নিয়ে মন্তব্য করেছেন। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ছবিগুলো এবং ভিডিওগুলো ইন্দোনেশিয়ার নয়, বরং দুই মাস আগে নেপালে তোলা হয়েছে।
বিতর্কের পর সামাজিক মাধ্যম এক্সে এলেনা লেখেন, "স্পষ্ট করে বলতে চাই, এই ছবি ও ভিডিওগুলো দুই মাস আগের নেপাল ভ্রমণের। তখন আমার সঙ্গে খুব চমৎকার ও পেশাদার কয়েকজন বন্ধুর পরিচয় হয়েছিল।"
বাংলাদেশি ফুটবলপ্রেমী এবং সংবাদমাধ্যমের কাছে বিষয়টি আসিয়ান কাপ চলাকালে জাকার্তার নাইট ক্লাবে ঘুরে বেড়ানোর ঘটনা হিসেবে উপস্থাপিত হওয়ার পর, তিনি নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে দুঃখ প্রকাশ করেন। এলেনা জানান, "আমার পোস্ট কোনো ধরনের ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি করে থাকলে আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত। আমি সবসময়ই ভ্রমণ শেষ করার অনেক পর ছবি বা ভিডিও পোস্ট করে থাকি। ভ্রমণের সময়ে নিজের অবস্থান গোপন রাখতে এবং মুহূর্তগুলো উপভোগ করতেই আমি সঙ্গে কিছু পোস্ট করি না।"
এর আগে এলেনার প্রথম পোস্টকে কেন্দ্র করে দেশের ফুটবলে তীব্র সমালোচনা দেখা দিয়েছিল। ফুটবলপ্রেমীদের ধারণা হয়েছিল, ম্যাচের ঠিক আগেই বা পরে শৃঙ্খলা ভেঙে জাকার্তার নাইশক্লাবে সময় কাটিয়েছেন ফুটবলাররা।
যদিও সংবাদমাধ্যম ঢাকা পোস্টকে সাদ উদ্দিন ও সোহেল রানা শুরু থেকেই দাবি করে আসছিলেন যে ঘটনাটি জাকার্তার নয়, বরং আসিয়ান কাপের অনেক আগে নেপালে ছুটির দিনগুলোতে ঘটেছিল। এছাড়া সংবাদমাধ্যমটিকে সাদ জানিয়েছেন, নতুন করে তার ‘অনুরোধেই’ ওই নারী পোস্ট করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফেনীর দাগনভূঞায় একটি যাত্রীবাহী বাস, ট্রাক্টর এবং ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার মধ্যে ত্রিমুখী দুর্ঘটনায় জাহাঙ্গীর আলম নামের এক অটোরিকশাচালক নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার ফলে অটোরিকশার আরো দুই যাত্রী গুরুতর আহত অবস্থায় রয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে নোয়াখালী-ফেনী আঞ্চলিক মহাসড়কের দাগনভূঞা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের গনিপুর এলাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহত জাহাঙ্গীর আলম দাগনভূঞা থানার অভিরামপুর গ্রামের আব্দুল আলীর পুত্র। তিনি দুর্ঘটনাকবলিত ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাটি চালাচ্ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতে নোয়াখালী-ফেনী আঞ্চলিক মহাসড়কের নোয়াখালীগামী লেনে একটি নম্বরবিহীন ট্রাক্টর ইউটার্ন নিচ্ছিল। এ সময় নোয়াখালীগামী ‘আল্লাহরদান’ নামের একটি যাত্রীবাহী বাস দ্রুতগতিতে এসে ট্রাক্টরটির পেছনে সজোরে ধাক্কা দেয়। বাসের ধাক্কায় ট্রাক্টরটি উল্টে গিয়ে মহাসড়কের বিপরীত পাশে থাকা একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ওপর পড়ে। এতে অটোরিকশাটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ঘটনাস্থলেই চালক জাহাঙ্গীর আলমের মৃত্যু ঘটে। একই সঙ্গে অটোরিকশায় থাকা দুই যাত্রী আহত হন।
মহিপাল হাইওয়ে পুলিশের ওসি কবির হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে কালের কণ্ঠকে জানান, খবর পাওয়ার পর পুলিশ একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে যানজট এড়াতে এবং যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে স্থানীয়দের সহযোগিতায় যানবাহনগুলো সড়ক থেকে সরিয়ে নেয়। আহত দুই যাত্রীর নাম-ঠিকানা ও পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাগেরহাট জেলা কারাগারে গলায় খাবার আটকে মৃত্যু ঘটেছে চাঁন মিয়া ফকির (৪৪) নামে এক হাজতির। শুক্রবার (২ অক্টোবর) সকালের খাবারের সময় তার গলায় খাবার আটকে যায়। পরে তাকে বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে নেওয়া হলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত চাঁন মিয়া ফকির বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার উত্তর ফুলহাতা গ্রামের মৃত হেলাল উদ্দিন ফকিরের পুত্র। তিনি বাগেরহাট জেলা কারাগারে বন্দি ছিলেন এবং তার বিরুদ্ধে মোরেলগঞ্জ থানায় একটি মামলা রয়েছে।
বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক অসীম কুমার সমাদ্দার জানান, ‘কারাগার থেকে অসুস্থ অবস্থায় এক হাজতিকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। জরুরি বিভাগের চিকিৎসক প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার মৃত্যুর বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে।’
বাগেরহাট জেলা কারাগারের সুপার মো. মোস্তফা কামাল বলেন, ‘এদিন সকালে খাবার খাওয়ার সময় ওই হাজতির গলায় খাবার আটকে যায়। বিষয়টি জানার পর কারারক্ষীরা তাকে দ্রুত বাগেরহাট সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার মৃত্যুর বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও মোরেলগঞ্জ থানায় জানানো হয়েছে। সব ধরনের আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
এই গ্রীষ্মে ইউরোপের অধিকাংশ অঞ্চলে কোনো না কোনো সময় ‘অত্যন্ত তীব্র’ তাপজনিত চাপ (হিট স্ট্রেস) দেখা গেছে, যা ৫২ শতাংশ এলাকায় প্রভাব ফেলেছে। এর ফলে রেকর্ডসংখ্যক মানুষ অতিরিক্ত গরমের কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছেন। শুক্রবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোপার্নিকাস জলবায়ু পরিবর্তন পরিষেবা এই তথ্য প্রকাশ করেছে।
রয়টার্সের রিপোর্ট অনুযায়ী, কোপার্নিকাসের তথ্য অনুসারে, ইউরোপের ৫২ শতাংশ এলাকায় এ গ্রীষ্মে ‘অত্যন্ত তীব্র’ তাপজনিত চাপের ঘটনা ঘটেছে। এটি রেকর্ড রাখার শুরু থেকে সর্বোচ্চ হার। যখন তাপমাত্রা এবং বাতাসের আর্দ্রতা অত্যধিক বেড়ে যায়, তখন শরীর ঘামের মাধ্যমে নিজেকে ঠাণ্ডা রাখতে অক্ষম হয়। এই পরিস্থিতিতে তাপজনিত চাপের সৃষ্টি হয়, যা হৃদস্পন্দন বৃদ্ধি, বমি বমি ভাব, মাথা ঘোরা এবং হিট স্ট্রোকের মতো জটিলতার সৃষ্টি করতে পারে। হিট স্ট্রোক গুরুতর অবস্থায় জীবনহানির কারণ হতে পারে।
কোপার্নিকাসের মতে, ‘অত্যন্ত তীব্র’ তাপজনিত চাপের সংজ্ঞা হলো, যখন মানুষের অনুভূত তাপমাত্রা অন্তত ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের সমান হয়। এ গ্রীষ্মে পশ্চিম ইউরোপে রেকর্ড রাখার শুরু থেকে সবচেয়ে বেশি তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। ওই অঞ্চলে ১৩ দিন ধরে ‘অত্যন্ত তীব্র’ তাপজনিত চাপের ঘটনা ঘটেছে। অতিরিক্ত গরমের কারণে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন বাইরে কাজ করা শ্রমিক, বয়স্ক নাগরিক এবং হৃদ্রোগ ও ডায়াবেটিসের মতো রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা।
কোপার্নিকাস আরও জানিয়েছে, এ গ্রীষ্মে ইউরোপের নদীগুলোতে গত ৩০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম পানি প্রবাহিত হয়েছে। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার তথ্য অনুসারে, মানুষের কর্মকাণ্ডের ফলে জলবায়ু পরিবর্তন ঘটছে। এই কারণে ইউরোপ বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত উষ্ণ হয়ে ওঠা মহাদেশ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ