ঢাকা সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মাটির অবয়বে ফুটছে দেবীর রূপ, ফরিদপুরে দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি তুঙ্গে


মাটির অবয়বে ফুটছে দেবীর রূপ, ফরিদপুরে দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি তুঙ্গে

শারদীয় দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে ফরিদপুরের সদরপুরে ব্যাপক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। দুর্গোৎসবের দিন যতই নিকটে আসছে, ততই উৎসবের আমেজ বৃদ্ধি পাচ্ছে। উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপে মৃৎশিল্পী ও কারিগররা প্রতিমা নির্মাণ, মণ্ডপ তৈরি, সাজসজ্জা ও আলোকসজ্জার কাজে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন।

মাটির অবয়বে দেবীর রূপ ধীরে ধীরে ফুটে উঠতে শুরু করায় ফরিদপুরের সদরপুরের বিভিন্ন এলাকায় দুর্গোৎসবের আগমনী বাতাস বইতে শুরু করেছে। সদরপুর পূজা উদযাপন কমিটির তথ্য অনুযায়ী, এ বছর উপজেলায় প্রায় ৩৮টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হবে। ইতোমধ্যে অধিকাংশ মণ্ডপে প্রতিমা তৈরির কাজ চলমান রয়েছে।

কিছু স্থানে বাঁশ ও খড় দিয়ে প্রতিমার কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে, অন্যদিকে মাটির প্রলেপ দেওয়ার কাজ চলছে। আবার কিছু মণ্ডপে প্রতিমায় রং করা, পোশাক-অলংকার পরানোসহ সাজসজ্জার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। পাশাপাশি মণ্ডপ নির্মাণ ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজও সমানতালে চলছে।

আরও পড়ুন: ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সম্প্রীতি রক্ষায় সরকার বদ্ধপরিকর-প্রতিমন্ত্রী সোহেল মনজুর

বাংলা পঞ্জিকা অনুযায়ী, আগামী ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর মাধ্যমে দুর্গাপূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। হাতে থাকা সময়ের মধ্যে প্রতিমা নির্মাণ ও মণ্ডপের অন্যান্য প্রস্তুতি শেষ করতে দিন-রাত কাজ করছেন মৃৎশিল্পী ও কারিগররা।

সরেজমিনে সদরপুর উপজেলার কয়েকটি পূজা মণ্ডপে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত কয়েকজন মৃৎশিল্পী। বাঁশ ও খড়ের কাঠামোর ওপর ধাপে ধাপে মাটি দিয়ে দেবীর অবয়ব গড়ে তোলা হচ্ছে। কারিগরদের নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় কাঁচা মাটির সেই অবয়ব ধীরে ধীরে পূর্ণাঙ্গ প্রতিমার রূপ নিচ্ছে। কেউ কাঠামো তৈরিতে ব্যস্ত, কেউ মাটি লাগাচ্ছেন, আবার কেউ প্রতিমার বিভিন্ন অংশে সূক্ষ্ম কারুকাজ ফুটিয়ে তুলছেন।

মৃৎশিল্পী সুজন পাল বলেন, "প্রতিমা তৈরির কাজ কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন করতে হয়। একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিমা তৈরি করতে চার-পাঁচজন মৃৎশিল্পীর প্রায় সাত থেকে আট দিন সময় লাগে। প্রথমে বাঁশ ও খড় দিয়ে কাঠামো তৈরি করা হয়। এরপর কয়েক স্তরে মাটি দিয়ে প্রতিমার অবয়ব গড়ে তোলা হয়। মাটি শুকিয়ে গেলে শুরু হয় সূক্ষ্ম কারুকাজ। সবশেষে রং, পোশাক, অলংকারসহ বিভিন্ন সাজসজ্জার কাজ সম্পন্ন করা হয়।"

তিনি আরও বলেন, "নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিমা প্রস্তুত করতে এবার তাদের ব্যস্ততার মধ্যেই কাজ করতে হচ্ছে। প্রতিমার সৌন্দর্য ফুটিয়ে তুলতে প্রতিটি ধাপেই বিশেষ যত্ন ও নিপুণতার প্রয়োজন হয়।"

আরও পড়ুন: মণ্ডপে ঢাকের শোভা, উৎসবের আনন্দ ছড়িয়ে পড়ছে

উপজেলার কয়েকটি পূজামণ্ডপ ঘুরে আরো দেখা গেছে, প্রতিমা তৈরির পাশাপাশি মণ্ডপ নির্মাণ ও সাজসজ্জার কাজও চলছে পুরোদমে। কোথাও বাঁশের কাঠামো তৈরি হচ্ছে, কোথাও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ চলছে। আবার কোথাও আলোকসজ্জার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

সদরপুর পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি নিলয় ভৌমিক বলেন, "পূজাকে সামনে রেখে উপজেলার বিভিন্ন মণ্ডপে প্রতিমা নির্মাণ, মণ্ডপ তৈরি ও সাজসজ্জার কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সব প্রস্তুতি শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে।"

কমিটির সাধারণ সম্পাদক গোবিন্দ ভৌমিক বলেন, "শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা আয়োজনের জন্য আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি। এ বিষয়ে প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।"

সদরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শরীফ শাওন বলেন, "শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন করতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা ও সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয় করে নির্বিঘ্নে পূজা উদযাপন নিশ্চিত করতে প্রশাসন কাজ করবে।"

আরও পড়ুন: রংপুরের গ্রিন ফিল্ড কারখানা জিতল ২০২৬ সালের রিবা আন্তর্জাতিক পুরস্কার

মৃৎশিল্পীদের নিপুণ হাতে মাটি যখন দেবীর রূপ নিচ্ছে, তখন সদরপুরের আকাশ-বাতাসে যেন বেজে উঠছে শারদীয় দুর্গোৎসবের আগমনী সুর। প্রতিমা ও মণ্ডপের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত কারিগরদের কর্মচাঞ্চল্য জানান দিচ্ছে—আর মাত্র কয়েক দিনের অপেক্ষা। এরপর ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, উৎসব ও সম্প্রীতির আবহে মুখর হয়ে উঠবে সদরপুরের ৩৮টি পূজামণ্ডপ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইলিশের বাজারে আগুন, দাম বেড়ে গেছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:০৫ পি.এম


ইলিশের বাজারে আগুন, দাম বেড়ে গেছে

৮ অক্টোবর থেকে মা ইলিশের প্রজনন নির্বিঘ্ন করতে চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা নদীতে সব ধরনের জাল ফেলা নিষিদ্ধ কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে। এই কারণে চাঁদপুর বড় স্টেশন মাছঘাটসহ সদরের বিভিন্ন মাছঘাটের আড়তে চলছে সর্বশেষ ইলিশ বেচা-কেনার ধুম। ফলে ইলিশের বাজারদর কিছুটা বেড়ে গেছে। দুই সপ্তাহ আগে এক কেজি ওজনের ইলিশের কেজি বিক্রি হয়েছিল ২ হাজার ৪০০ টাকা, বর্তমানে তা ২ হাজার ৮০০ থেকে ৩ হাজার টাকায় দাঁড়িয়েছে। আড়তদার ও ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, আমদানির তুলনায় ক্রেতা ও চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় দাম কমানোর সুযোগ নেই। অন্যদিকে, মৎস্য বিভাগ জানাচ্ছে, এবারের মৌসুমে জেলেরা কম-বেশি ইলিশ পেয়েছেন এবং সামনের সময়ে ডিম ছাড়ার সুযোগ দিলে এর সুফলও জেলেরা পাবেন।

সোমবার (৫ অক্টোবর) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত চাঁদপুর বড় স্টেশন মাছঘাট, সদরের লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নের বহরিয়া মাছঘাট এবং পাশের হরিণা ফেরিঘাট সংলগ্ন ইলিশের আড়ৎ ঘুরে ক্রেতা-বিক্রেতার সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

বহরিয়া মাছঘাটের আড়তে দেখা যায়, জেলেরা কিছু সময় পরপর ইলিশ নিয়ে আসছেন; তবে সাইজ সর্বোচ্চ ৫০০ গ্রাম। হাঁকডাকেই মুহূর্তে ইলিশ বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। ছোট সাইজের ইলিশের হালি ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা, আর ৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের প্রতি হালি ২ হাজার টাকা।

বহরিয়া এলাকার জেলে হান্নান গাজী জানান, মৌসুমের শেষ সময়ে ইলিশের আমদানি কিছুটা বেড়েছে। তবে আগস্টে আমদানি খুবই কম ছিল। বর্তমানে জেলেরা যে পরিমাণ ইলিশ পায়, তাতে খরচ ওঠে কোনোরকম চলে।

এ ঘাটের আড়তদার মো. ইদ্রিস আলী বলেন, শেষ সময়ে আমদানি কিছু বেড়েছে, এরপরও চাহিদার তুলনায় কম। সুনামের কারণে চাঁদপুরের ইলিশের চাহিদা বেশি।

হানারচর ইউনিয়নের জেলে নজরুল ইসলাম জানান, এক নৌকায় ১০ জন কাজ করি। রাতে নেমে সকালে ঘাটে এসেছি। যে পরিমাণ ইলিশ পেয়েছি তাতে খরচ উঠেছে। তবে জালে ময়লা-আবর্জনা বেঁধে যাওয়ায় আজ আর নদীতে নামতে পারব না। অভিযানের আগে হয়তো দুই-একদিন মাছ ধরতে পারব।

হরিণা মাছঘাটের পাইকারি বিক্রেতা মো. জাহাঙ্গীর ছৈয়াল বলেন, গত দুই সপ্তাহে এ ঘাটে প্রতিদিন ইলিশের আমদানি ছিল প্রায় ২০০ মণ। গত কয়েকদিন কিছুটা কমেছে। দূরদূরান্ত থেকে লোক এসে ইলিশ কিনছেন, কিন্তু চাহিদা মেটানো সম্ভব হচ্ছে না। গত সপ্তাহে এক কেজি ওজনের ইলিশ ২ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন বিক্রি করতে হচ্ছে ২ হাজার ৮০০ থেকে ৩ হাজার টাকায়। ছোট সাইজের ইলিশ প্রতি হালি ৫০০ টাকা থেকে ২ হাজার টাকা।

এ ঘাটের প্রবণী বিক্রেতা সিরাজুল ইসলাম সৈয়াল জানান, এ ঘাটে সরাসরি জেলেরাই পদ্মা-মেঘনার ইলিশ ধরে নিয়ে আসে। বরফ দেওয়ার আগেই ক্রেতারা কিনে নেন। এখানে প্রতারণার সুযোগ নেই। সকাল থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত আড়তে কেনাবেচা চলে।

চাঁদপুর মৎস্য বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শবেবরাত সরকার বলেন, গত সপ্তাহে কিছু ইলিশ পাওয়া গেলেও এ সপ্তাহে আমদানি কমেছে। প্রজনন সময়ের আগে কম দামে ইলিশ কিনবেন-এমন আশায় ঘাটে এসে অনেকেই ফিরে যাচ্ছেন। চাহিদার তুলনায় ইলিশ কম, দামও কমছে না। আমদানি বেশি হলে দামও কমে আসে।

চাঁদপুর সদর উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মির্জা ওমর ফারুক জানান, এবার শেষ মুহূর্তে ইলিশের আমদানি কিছুটা বেড়েছে। হাজার হাজার জেলে ইলিশ ধরছেন, এতে তারা কম-বেশি ইলিশ পাচ্ছেন। এবারের ইলিশের সাইজ গড়ে বড়ই বেশি।

তিনি বলেন, সামনের ২২ দিনের প্রজনন মৌসুম সফল হলে এর সুফলও জেলেরা পাবেন। আমরা ইতোমধ্যে মা ইলিশ না ধরার সচেতনতামূলক কার্যক্রম শুরু করেছি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের জেরে ফ্রান্সে ৫০০ স্কুল বন্ধ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:০৯ পি.এম


শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের জেরে ফ্রান্সে ৫০০ স্কুল বন্ধ

শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের কারণে ফ্রান্সে ৪০০-৫০০টি স্কুল একদিনের জন্য আংশিক বা পুরোপুরি বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রোববার (৪ অক্টোবর) দেশটির শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফ্রে এই তথ্য প্রদান করেছেন। খবর বিবিসির

মন্ত্রী উল্লেখ করেন, নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়ায় সোমবার (৫ অক্টোবর) এসব স্কুলে পাঠদান ‘পুরোপুরি বা আংশিকভাবে স্থগিত’ থাকবে।

শিক্ষামন্ত্রী আরও জানান, বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর থেকে দেশজুড়ে ২৪টি স্কুলে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে অথবা ব্যাপক ভাঙচুর ঘটেছে।

গত সপ্তাহে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভে হাজারো শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছে। শিক্ষার মান এবং স্কুলের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে শুরু হওয়া এই আন্দোলন রাজধানী প্যারিস ছাড়িয়ে মনপেলিয়ে, নঁত ও মার্সেইসহ অন্যান্য শহরেও ছড়িয়ে পড়েছে।

শিক্ষার্থী ও তাদের সমর্থকদের অভিযোগ, অনেক স্কুলে পর্যাপ্ত শিক্ষক নেই, শ্রেণিকক্ষগুলো অতিরিক্ত ভিড়পূর্ণ এবং বেশ কিছু স্কুল ভবন জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

ফ্রান্সের বিচারমন্ত্রী জেরাল্ড দারমানিন শুক্রবার জানিয়েছিলেন, সহিংস বিক্ষোভের কারণে দেশটির ৩ হাজার ৭০০ স্কুলের মধ্যে ৭৩৫টি কোনো না কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, সোমবারও ক্ষতিগ্রস্ত বা বন্ধ থাকা স্কুলের সংখ্যা শুক্রবারের কাছাকাছি হতে পারে। তবে তিনি ধীরে ধীরে এবং আংশিকভাবে পাঠদান স্বাভাবিক করার আশ্বাস দিয়েছেন।

জেফ্রে অভিযোগ করেন, ‘উগ্র বামপন্থি কিছু কর্মী উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে ঢুকে পড়েছে। তারা শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে চরম সহিংসতায় জড়িয়ে পড়েছে।’

তিনি বলেন, ‘এতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়েছে।’

শিক্ষামন্ত্রী আরও জানান, বিক্ষোভে শিক্ষা বিভাগের ৭৮ জন কর্মী আহত হয়েছেন। তার ভাষায়, এমন ঘটনা আগে কখনো দেখা যায়নি।

ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ জানিয়েছেন, শুধু শুক্রবারই ১ হাজার ৭৪৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

এএফপির তথ্য অনুযায়ী, আন্দোলন শুরুর পর থেকে দেশজুড়ে মোট ৫ হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে প্রায় ৮৫ শতাংশই অপ্রাপ্তবয়স্ক।

এদিকে আন্দোলনের আয়োজকদের পক্ষ থেকে আগামীকাল মঙ্গলবারও বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে ‘কংক্রিট কোনো পদক্ষেপ’ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন তারা।

রোববার ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকর্নু বলেন, উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষা বিভাগের কর্মীদের সমস্যার সমাধানে সরকার আরও পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।

তিনি বলেন, এর মধ্যে রয়েছে ক্লাস চালু রাখা, স্কুলের অবকাঠামো উন্নত করা, শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন কার্যক্রম আরও ভালোভাবে সাজানো এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্ল্যাটফর্মকে আরও স্বচ্ছ করা।

এ ছাড়া ভাঙচুরের ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত ‘ভ্যান্ডাল-পে’ বিলের পর্যালোচনাও দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। এর মাধ্যমে যারা সরকারি-বেসরকারি সম্পদের ক্ষতি করবে, তাদেরই সেই ক্ষতির খরচ বহন করতে হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দিরাইয়ে ১২ লিটার মদসহ গ্রেপ্তার ১, পলাতক ১

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

হামিদুল ইসলাম, বিশেষ প্রতিনিধি

সোমবার, ৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:১০ পি.এম


দিরাইয়ে ১২ লিটার মদসহ গ্রেপ্তার ১, পলাতক ১

সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে পুলিশের অভিযানে ১২ লিটার মদসহ পিকলু তালুকদার (৩৮) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে রাসেন্দ্র তালুকদার (৩৭) নামে আরও একজন পালিয়ে যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সোমবার (৫ অক্টোবর) দিরাই উপজেলার রফিনগর ইউনিয়নের নোয়াগাঁও বাজারে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
পুলিশ জানায়, সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় দিরাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে এএসআই (নিঃ) শাহ আলম সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে অভিযান চালান। এ সময় জনৈক সঞ্জয়ের টিনের ঘরের ভেতর চৌকির নিচ থেকে ১২ লিটার মদ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে পিকলু তালুকদারকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের দাবি, অভিযানের সময় রাসেন্দ্র তালুকদার কৌশলে পালিয়ে যায়। তিনি রফিনগর ইউনিয়নের সমীপুর গ্রামের রমাকান্ত তালুকদারের ছেলে।
এ ঘটনায় দিরাই থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) সারণির ২৪(খ)/৪১ ধারায় মামলা করা হয়েছে। মামলার এফআইআর নম্বর-৬, তারিখ ৫ অক্টোবর ২০২৬ এবং জিআর নম্বর-১৮৯।
দিরাই থানার ওসি আমিনুল ইসলাম বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চবিতে সময় যেখানে থেমে আছে ইতিহাসের মাঝে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:১০ পি.এম


চবিতে সময় যেখানে থেমে আছে ইতিহাসের মাঝে

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের পেছনের দিকে গেলে পরিচিত ক্যাম্পাসের দৃশ্যটি বদলে যায়। চারপাশে সবুজ গাছপালা ও তুলনামূলক নিরিবিলি পরিবেশের মাঝে দাঁড়িয়ে আছে একটি ভবন, যেখানে শত শত বছরের ইতিহাস সংরক্ষিত রয়েছে। প্রাগৈতিহাসিক জীবাশ্ম থেকে শুরু করে প্রাচীন মুদ্রা, পাথর ও ব্রোঞ্জের ভাস্কর্য, এমনকি মুঘল আমলের কামান, এখানে সময় যেন থমকে আছে নানা নিদর্শনের মধ্যে।

কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের পেছনে অবস্থানের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থীর কাছে জাদুঘরটি দীর্ঘদিন ধরে অজ্ঞাত রয়ে গেছে। কিন্তু একবার ভেতরে প্রবেশ করলে ইতিহাস, প্রত্নতত্ত্ব, শিল্পকলা ও লোকঐতিহ্যের ভিন্ন এক জগতের সঙ্গে পরিচিত হন দর্শনার্থীরা।

ক্লাসের ফাঁকে কিংবা অবসর সময়ে শিক্ষার্থীরা এখানে আসেন ইতিহাস জানতে, গবেষণার উপকরণ খুঁজতে, অথবা কৌতূহলবশত ঘুরে দেখতে। ফলে এটি কেবল পুরোনো নিদর্শন সংরক্ষণের স্থান নয়, বরং শিক্ষার্থীদের শেখা ও ঘুরে দেখার একটি আলাদা জায়গা হয়ে উঠেছে।

২৪টি প্রত্নসামগ্রীর প্রদর্শনী থেকে আজকের জাদুঘর

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় জাদুঘরের ধারণার সূচনা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্মলগ্নেই ঘটে। ১৯৬৬ সালের ১৮ নভেম্বর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্বোধনের সময় ইতিহাস বিভাগের উদ্যোগে ২৪টি প্রত্নসামগ্রী নিয়ে একটি প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য ইতিহাসবিদ ড. এ আর মল্লিক জাদুঘর গড়ে তোলার বিষয়ে আগ্রহী ছিলেন।

পরবর্তীতে ইতিহাসবিদ ড. আবদুল করিমসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের উদ্যোগে একটি প্রাতিষ্ঠানিক জাদুঘর প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া এগিয়ে যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ কমিটি ও সিন্ডিকেটের অনুমোদনের ধারাবাহিকতায় ১৯৭৩ সালের ১৪ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় জাদুঘর।

শুরুতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদ ভবনের ছোট একটি পরিসরে কার্যক্রম চললেও বিভিন্ন সময়ে স্থান পরিবর্তনের পর ১৯৯২ সালে জাদুঘরটি বর্তমান ভবনে স্থানান্তরিত হয়।

সময়ের সঙ্গে বেড়েছে এর সংগ্রহ, গবেষণা কার্যক্রম ও পরিধি। বর্তমানে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় জাদুঘরকে দেশের ইতিহাস, প্রত্নতত্ত্ব, শিল্প ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণের গুরুত্বপূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক সংগ্রহশালাগুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

এক ছাদের নিচে পাঁচ গ্যালারির ইতিহাস

জাদুঘরের ওপরতলার প্রধান প্রদর্শনী অংশে পাঁচটি গ্যালারি রয়েছে- প্রাগৈতিহাসিক ও প্রত্নতত্ত্ব গ্যালারি, প্রাচীন ভাস্কর্য গ্যালারি, ইসলামিক শিল্পকলা গ্যালারি, লোকশিল্প গ্যালারি এবং সমকালীন শিল্পকলা গ্যালারি।

প্রতিটি গ্যালারির বিষয় ও সংগ্রহ আলাদা। কোথাও হাজার বছরের পুরোনো প্রত্ননিদর্শন, কোথাও বাংলার লোকজ জীবন, আবার কোথাও আধুনিক শিল্পীদের শিল্পকর্ম। ফলে এক গ্যালারি থেকে আরেক গ্যালারিতে যেতে যেতে দর্শনার্থীর সামনে খুলে যায় ইতিহাসের একেকটি অধ্যায়।

প্রাগৈতিহাসিক ও প্রত্নতত্ত্ব গ্যালারির উল্লেখযোগ্য সংগ্রহের মধ্যে রয়েছে চট্টগ্রামের নাসিরাবাদ পাহাড় থেকে পাওয়া মাছের জীবাশ্ম। এছাড়া রয়েছে কাঠের জীবাশ্ম, বিভিন্ন প্রত্নস্থল থেকে সংগৃহীত টেরাকোটা ফলক, মাটির তৈরি প্রত্নবস্তু, সিলমোহর, পুঁতি ও প্রাচীন মুদ্রাসহ নানা নিদর্শন।

প্রাচীন ভাস্কর্য গ্যালারি আরও এক বিস্ময়ের জায়গা। জাদুঘরের সংগ্রহে ৫২টি পাথরের এবং ২৫টি ব্রোঞ্জের ভাস্কর্য রয়েছে। পাল ও সেন যুগসহ বিভিন্ন সময়ের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসের সাক্ষ্য বহন করছে এসব প্রত্নবস্তু।

দর্শনার্থীদের নজর কাড়ে ‘সার জং’

জাদুঘরের সবচেয়ে আলোচিত নিদর্শনগুলোর একটি মুঘল সম্রাট শাহজাহানের শাসনামলের কামান ‘সার জং’। প্রায় ১৯৭ সেন্টিমিটার দৈর্ঘ্যের কারুকাজখচিত কামানটি সামনে দাঁড়ালে কয়েক শতাব্দী আগের এক সময় যেন মুহূর্তেই কাছে চলে আসে।

ইসলামিক শিল্পকলা গ্যালারিতে মুঘল ও সুলতানি আমলের বিভিন্ন নিদর্শনের পাশাপাশি রয়েছে প্রাচীন ও মধ্যযুগের মুদ্রা, হাতে লেখা পবিত্র কোরআন, পুঁথি, দলিল, ক্যালিগ্রাফি এবং ঐতিহাসিক মসজিদের ছবি। জাদুঘরের মুদ্রা সংগ্রহও বিশেষভাবে সমৃদ্ধ। প্রাচীন ও মধ্যযুগের প্রায় এক হাজার মুদ্রা রয়েছে এই সংগ্রহে।

অন্যদিকে লোকশিল্প গ্যালারিতে ধরা দিয়েছে বাংলার চিরচেনা গ্রামীণ জীবন। তাঁতের তৈরি সামগ্রী, চরকা, পালকি, পুরোনো অলংকার, ঢেঁকি, কাঠের নৌকা, মাটির পুতুল, তামা-পিতলের তৈজসপত্র, বেতের ঝুড়িসহ নানা উপকরণ মনে করিয়ে দেয় এক সময়ের জীবনযাত্রাকে।

সমকালীন শিল্পকলা গ্যালারিতে রয়েছে জয়নুল আবেদিন, কামরুল হাসান, মুর্তজা বশীর ও রশীদ চৌধুরীর মতো দেশের বরেণ্য শিল্পীদের কাজ। ফলে প্রাগৈতিহাসিক সময় থেকে আধুনিক শিল্প পর্যন্ত দীর্ঘ সময়ের এক বিস্তৃত যাত্রা একই ভবনে দেখতে পারেন দর্শনার্থীরা।

প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় ইতিহাসের পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ের স্মৃতিও সংরক্ষণ করছে জাদুঘরটি। এখানে রয়েছে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান হল’। জুলাই আন্দোলনে শহীদ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের দুই শিক্ষার্থী হৃদয় চন্দ্র তরুয়া ও মো. ফরহাদ হোসেনের বেশ কিছু স্মৃতিচিহ্ন এখানে সংরক্ষিত রয়েছে। এর মধ্যে হৃদয় তরুয়ার পরিহিত পোশাকও রয়েছে। এর মধ্য দিয়ে জুলাই আন্দোলনে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ও আত্মত্যাগের স্মৃতি তুলে ধরা হয়েছে।

জাদুঘরে ঘুরতে আসা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তারের কাছে সবচেয়ে বিস্ময়ের বিষয় ছিল নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন একটি জাদুঘর থাকা।

তিনি বলেন, "বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব জাদুঘর আছে, আগে জানতাম না। এখানে ইতিহাসের অনেক পুরোনো নিদর্শন স্বচক্ষে দেখতে পেরেছি। বিশেষ করে মুঘল আমলের বিভিন্ন নিদর্শন দেখেছি। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব এমন একটি জাদুঘর থাকা সত্যিই গর্বের বিষয়।"

তবে এমন সমৃদ্ধ সংগ্রহ থাকা সত্ত্বেও জাদুঘরটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থীর কাছে সমান পরিচিত নয়।

বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী নাফিসা কারিমা বলেন, "বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজস্ব এমন একটি জাদুঘর থাকা আমাদের জন্য বিশেষ ব্যাপার। কিন্তু এটি এখনো শিক্ষার্থীদের মধ্যে তেমন জনপ্রিয় হয়ে ওঠেনি। কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের পেছনের দিকে হওয়ায় অনেক সময় চোখের আড়ালেই থেকে যায়। ভেতরে এসে এত সমৃদ্ধ সংগ্রহ দেখে আমি মুগ্ধ হয়েছি।"

শুধু প্রদর্শনী নয়, গবেষণারও জায়গা

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় জাদুঘরের গুরুত্ব কেবল দর্শনীয় স্থান হিসেবে সীমাবদ্ধ নয়। গবেষকদের জন্যও এটি গুরুত্বপূর্ণ একটি কেন্দ্র।

জাদুঘরের নিচতলায় রয়েছে ‘আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ কোষ গ্রন্থাগার’। এখানে বাংলা, সংস্কৃত, ফারসি, আরবি, পালিসহ বিভিন্ন ভাষার দুর্লভ পাণ্ডুলিপি, বই ও ঐতিহাসিক দলিল সংরক্ষিত রয়েছে। ইতিহাস, প্রত্নতত্ত্ব, শিল্পকলা, জাতিতত্ত্ব, প্রাচীন লিপি, লোকসংস্কৃতি ও বাংলাদেশের ঐতিহ্য নিয়ে কাজ করা গবেষকদের জন্য রয়েছে গবেষণার উপকরণ ও পাঠের সুযোগ।

এ ছাড়া জাদুঘরে রয়েছে প্রত্নতাত্ত্বিক সামগ্রী সংরক্ষণ গবেষণাগার। অর্থাৎ প্রদর্শনীতে রাখা নিদর্শন দেখানোর পাশাপাশি সেগুলো সংরক্ষণ এবং গবেষণার কাজও চলে একই প্রতিষ্ঠানে।

জাদুঘর সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এখানে দুই হাজারের বেশি প্রত্ন ও ঐতিহাসিক নিদর্শন সংরক্ষিত রয়েছে। প্রাগৈতিহাসিক জীবাশ্ম, প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় মুদ্রা, পাথর ও ব্রোঞ্জের ভাস্কর্য, টেরাকোটা ফলক, লোকশিল্প, পাণ্ডুলিপি, দলিল ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক উপকরণ বৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ এর সংগ্রহ।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় জাদুঘরের সুপারভাইজার আলী হোসেনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জাদুঘরের বিভিন্ন গ্যালারিতে বিভিন্ন যুগের ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন সংরক্ষিত আছে এবং শিক্ষার্থী ও গবেষকেরা নিয়মিত এগুলো দেখতে ও গবেষণার কাজে ব্যবহার করতে আসেন। ভবিষ্যতে জাদুঘরটিকে আরও আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করার পরিকল্পনাও রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের।

কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের পেছনের নিরিবিলি জায়গাটিতে তাই শুধু একটি দোতলা ভবন দাঁড়িয়ে নেই; তার ভেতরে পাশাপাশি অবস্থান করছে বিভিন্ন সময়, সমাজ ও সংস্কৃতির অসংখ্য চিহ্ন।

কয়েক শতাব্দী আগের একটি মুদ্রা, পাথরে খোদাই করা ভাস্কর্য, হাতে লেখা একটি পাণ্ডুলিপি কিংবা মুঘল আমলের কামান প্রতিটি বস্তুই যেন নিজের সময়ের একটি গল্প বলে।

কোলাহলময় বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের খুব কাছেই এই নীরব জায়গাটি তাই ইতিহাসকে শুধু পড়ার নয়, চোখের সামনে দেখারও সুযোগ করে দেয়। অনেক শিক্ষার্থীর কাছে এখনো কিছুটা আড়ালে থাকা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় জাদুঘর সেই অর্থে ক্যাম্পাসের ভেতরেই লুকিয়ে থাকা ইতিহাস ও ঐতিহ্যের এক সমৃদ্ধ ঠিকানা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%