ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

সাবেক স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা সেলিম উদ্দিন রমিজ জামায়াতে যোগ দিলেন


সাবেক স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা সেলিম উদ্দিন রমিজ জামায়াতে যোগ দিলেন

লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে সেলিম উদ্দিন রমিজ নামে এক সাবেক স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেছেন। তিনি চরকাদিরা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের চরবসু এলাকার আলী উদ্দিনের পুত্র। জামায়াতে যোগদানের জন্য তিনি ৮ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি জসিম উদ্দিনের মাধ্যমে সদস্য ফরম পূরণ করেন।

স্থানীয় ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, রমিজ বর্তমানে চরবসু এলাকার পাটোয়ারীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অফিস সহায়ক পদে কর্মরত আছেন। সেলিম উদ্দিন রমিজ কমলনগর উপজেলার চরকাদিরা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম আহবায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ২০০৮ সাল থেকে প্রথমে ওই ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সদস্য এবং পরে যুবলীগের সদস্য হিসেবে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে অংশগ্রহণ করেন, যা দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে চলমান। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার উপস্থিতির ছবি ও ভিডিও সংরক্ষিত রয়েছে।

যোগদানের বিষয়টি নিশ্চিত করে সেলিম উদ্দিন রমিজ জানান, "পরিস্থিতির শিকার হয়ে তিনি জামায়াতে যোগ দিয়েছেন। এখন কোনো দায়িত্বে নেই। শুধুমাত্র জামায়াত সমর্থক হিসেবে আছেন।"

আরও পড়ুন: ঈশ্বরদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন

এ বিষয়ে জানতে উপজেলা জামায়াতের আমির আবুল খায়েরের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘আগামী কয়েকটা দিন হয়তো একটু কঠিন যাবে’, তৃতীয় কেমো শেষে সামিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

রবিবার, ৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:৩৩ পি.এম


‘আগামী কয়েকটা দিন হয়তো একটু কঠিন যাবে’, তৃতীয় কেমো শেষে সামিয়া

মডেল ও উপস্থাপিকা সামিয়া আফরিন দীর্ঘদিন ধরে ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াই করে আসছেন। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন এবং শনিবার রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের শারীরিক অবস্থার খবর শেয়ার করেছেন। হাসপাতালের শয্যা থেকে দেওয়া তার বার্তায় কষ্টের পাশাপাশি সুস্থ হয়ে ফেরার দৃঢ় প্রত্যয়ের কথা উঠে এসেছে।

সামিয়া হাসপাতালের একটি ছবির মাধ্যমে জানান, ‘আমার তৃতীয় কেমো শেষ হলো।’

এরপর তিনি তার শারীরিক পরিস্থিতি সম্পর্কে লেখেন, ‘আগামী কয়েকটা দিন হয়তো একটু কঠিন যাবে, তবে ইনশাআল্লাহ দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠব। আমার একটাই প্রার্থনা, আমার শরীরে যেন আর কখনো ক্যান্সার বাসা বাঁধতে না পারে।’

অক্টোবর মাসটি ক্যান্সার সচেতনতার মাস হিসেবে পরিচিত। এই প্রসঙ্গ উল্লেখ করে ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের তিনি নিজেদের স্বাস্থ্যের প্রতি সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘নিজের শরীরের প্রতি সচেতন হোন। অস্বাভাবিক কোনো পরিবর্তন অবহেলা করবেন না; সময়মতো স্ক্রিনিং ও নিয়মিত চেকআপ করুন। কারণ প্রাথমিক অবস্থায় রোগ নির্ণয় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে।’

নিজের যত্ন নেওয়া এবং সচেতন থাকা হলো নিজের প্রতি আসল ভালোবাসা—এই বার্তাও তিনি দিয়েছেন।

সামিয়ার এই পোস্টের পর তার জন্য প্রার্থনা করছেন ভক্ত ও শোবিজ অঙ্গনের সহকর্মীরা। মন্তব্যের ঘরে মৌসুমী নাগ, নিপুণ আক্তার, জাকিয়া বারী মম, শাহনাজ খুশী, দীপা খন্দকার, তানভীন সুইটি, ফাহমিদা নবীসহ অনেকে তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করে দোয়া ও ভালোবাসার বার্তা দিয়েছেন।

জানা গেছে, সামিয়া আফরিন প্রায় পাঁচ বছর ধরে ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করছেন। ২০২২ সালের এপ্রিলে তার কোলন ক্যান্সার শনাক্ত হয়। সে সময় সিঙ্গাপুরে দীর্ঘদিন চিকিৎসা নেওয়ার পর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে তিনি স্বাভাবিক জীবনে ফেরেন।

তবে চলতি বছরে নতুন করে তার শরীরে ডিম্বাশয়ের ক্যানসার শনাক্ত হয়। সম্প্রতি অস্ত্রোপচারের পর বর্তমানে তিনি কেমোথেরাপি নিচ্ছেন।

এর আগে কেমোথেরাপির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় চুল পড়ে যাওয়ায় মাথা ন্যাড়া করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন সামিয়া। সেই সময়ের ছবি প্রকাশ করে জীবনের এই পরিবর্তনকে ইতিবাচকভাবেই গ্রহণ করার কথা জানিয়েছিলেন তিনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

১৪ বছরের নিচে কোনো শিশুকে বাসাবাড়ির কাজে দেওয়া যাবে না: ডেপুটি স্পিকার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:৩৩ পি.এম


১৪ বছরের নিচে কোনো শিশুকে বাসাবাড়ির কাজে দেওয়া যাবে না: ডেপুটি স্পিকার

জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ব্যক্তিগত পর্যায়ে উদ্যোগ গ্রহণের জন্য আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে ১৪ বছরের নিচে কোনো শিশু বাসাবাড়িতে কাজ না করে। তিনি শিশু নির্যাতন ও ধর্ষণের মতো অপরাধের প্রতিরোধে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

রবিবার (৪ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১১টায় অ্যাকশন ফর সোশ্যাল ডেভেলপমেন্টের আয়োজনে ‘শিশুশ্রম নিয়ে আমাদের করণীয়’ শীর্ষক সংলাপে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এসব কথা বলেন।

ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল উল্লেখ করেন, ১৪ বছরের কম বয়সী কোনো শিশুকে বাসাবাড়িতে কাজের জন্য নিয়োগ না দেওয়ার বিষয়ে প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব গ্রহণ করতে হবে। শিশুদের সুরক্ষায় ব্যক্তি ও সামাজিক পর্যায়ে সচেতনতা তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি।

তিনি বলেন, শিশু নির্যাতনের ঘটনায় অনেক সময় অপরাধীরা আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে পার পেয়ে যায়। এই ধরনের অপরাধ বন্ধ করতে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।

পথশিশুদের বিষয়ে ডেপুটি স্পিকার বলেন, পথশিশুরাও একটি ভালো জীবনের অধিকারী। তাদের ধীরে ধীরে পথ থেকে ঘরে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তাদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। শিশুদের সুরক্ষায় সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সরকারের রোডম্যাপ বাস্তবায়নে এনজিওগুলোকেও এগিয়ে আসতে হবে।

তিনি সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগকে রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিতে না দেখে ইতিবাচকভাবে দেখার আহ্বান জানান।

সংলাপে শিশুশ্রম নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংস্থা ও এনজিওর প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। তারা শিশুশ্রম ও শিশু সুরক্ষার বিভিন্ন দিক নিয়ে নিজেদের মতামত ও তথ্য উপস্থাপন করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাইবার সুরক্ষা আইন গণমাধ্যমের লেখা বন্ধ করবে না: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:৩৪ পি.এম


সাইবার সুরক্ষা আইন গণমাধ্যমের লেখা বন্ধ করবে না: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী মন্তব্য করেছেন যে, গণমাধ্যমের লেখা বন্ধ করার উদ্দেশ্যে সাইবার সুরক্ষা আইন করা হচ্ছে না। তিনি উল্লেখ করেন, "নিয়ন্ত্রণের জন্য নয়, বরং জনগণকে নিরাপদ রাখতেই সাইবার সুরক্ষা আইন করা হয়েছে।"

রবিবার (৪ অক্টোবর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের নির্বাহী কমিটির মতবিনিময় সভা শেষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

মতবিনিময় সভায় প্রতিমন্ত্রী জানান, আদালতের অনুমতি ছাড়া গণমাধ্যমকর্মীদের আটকের বিষয়টি সরকার নমনীয়ভাবে বিবেচনা করছে।

তিনি আশ্বস্ত করেন যে, সরকার গণমাধ্যমের বাকস্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করবে না। তিনি বলেন, "গণমাধ্যমকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে চাইলে আইন লাগে না। আওয়ামী লীগ সরকার এজেন্সির মাধ্যমে গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ করত। এজেন্সির মাধ্যমে বিএনপি সরকারের গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ করার প্রশ্নই আসে না।"

এছাড়া, প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী জানান, সরকার গণমাধ্যমকর্মীদের সব রকম স্বাধীনতা দেওয়ার জন্য কাজ করছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শিক্ষায় লটারি: মেধার আন্দোলনের দেশে আমরা কি ভাগ্য নির্ভরতা শেখাচ্ছি?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:৩৪ পি.এম


শিক্ষায় লটারি: মেধার আন্দোলনের দেশে আমরা কি ভাগ্য নির্ভরতা শেখাচ্ছি?

একটি রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের ক্ষেত্রে শিক্ষাব্যবস্থার পরিচালনার পদ্ধতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষাব্যবস্থার একটি মূল দিক হলো—শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন এবং যোগ্যতা যাচাইয়ের পদ্ধতি, পাশাপাশি শিক্ষার সুযোগ প্রদান করার পরিবেশ।

বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে মেধা, যোগ্যতা ও সমতার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। কোটা সংস্কার ও মেধার দাবিতে গড়ে ওঠা আন্দোলন দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এনেছে। সেই পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে, যদি শিক্ষাক্ষেত্রে মেধা ও যোগ্যতাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়, তাহলে বিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে একটি মৌলিক প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব নয়—দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য মেধা যাচাইয়ের সুযোগ থাকবে, নাকি তাদের বিদ্যালয়ে ভর্তির ভাগ্য নির্ধারণ করবে লটারি?

এখানে একটি বিষয় স্পষ্ট করা প্রয়োজন। ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে লটারি পদ্ধতি চালুর বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত সরকারি সিদ্ধান্ত নয়। গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এ বিষয়ে একটি প্রস্তাব বা পরিকল্পনা বিবেচনাধীন রয়েছে। মাউশির খসড়া নীতিমালায় দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে লটারির এবং ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণিতে লিখিত পরীক্ষার প্রস্তাবের খবরও প্রকাশিত হয়েছে।

এই অবস্থায় সরকারের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা নয়, বরং সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করার আগে এর শিক্ষাগত ও সামাজিক প্রভাব নিয়ে আলোচনা প্রয়োজন।

লটারি কি মেধা যাচাইয়ের বিকল্প হতে পারে?

লটারি মূলত একটি দৈবনির্ভর পদ্ধতি। যদি একই যোগ্যতার একাধিক প্রার্থী থাকে, তাহলে তাদের মধ্য থেকে কাউকে নির্বাচনের ক্ষেত্রে লটারি ব্যবহার করা যুক্তিসঙ্গত হতে পারে। তবে যেখানে প্রার্থীদের যোগ্যতার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে এবং সেই যোগ্যতা যাচাই করার সুযোগ আছে, সেখানে লটারিকে মেধা যাচাইয়ের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে।

উদাহরণ হিসেবে এসএসসি বা এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলকে ধরা যেতে পারে। যদি দুই বা ততোধিক শিক্ষার্থীর জিপিএ একই হয়, তবে সীমিত আসনের জন্য লটারি মাধ্যমে নির্বাচন একটি নিরপেক্ষ পদ্ধতি হতে পারে। কারণ সেখানে প্রথমে একটি স্বীকৃত পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ফলাফল ও যোগ্যতার একটি তুলনামূলক প্রমাণ তৈরি হয়েছে।

কিন্তু দ্বিতীয় শ্রেণির একজন শিক্ষার্থী যদি একটি বিদ্যালয়ে ভর্তি হতে চায় এবং অন্য একজনও একই বিদ্যালয়ে ভর্তি হতে চায়—তাহলে তাদের বর্তমান শিক্ষাগত প্রস্তুতি, পাঠ্যবোধ, ভাষাজ্ঞান, গণিতের ভিত্তি কিংবা শ্রেণি-উপযোগী দক্ষতা সম্পর্কে কোনো মূল্যায়ন ছাড়া যদি একজন ভর্তি হয় এবং অন্যজন বাদ পড়ে, তাহলে সেটিকে কি মেধাভিত্তিক নির্বাচন বলা যাবে?

এখানেই প্রশ্নটি ওঠে—আমরা কি শিশুকে কর্মের বদলে ভাগ্য শেখাচ্ছি? "পরিশ্রম সৌভাগ্যের প্রসূতি"—এটি কি শিক্ষার্থীরা আর বিশ্বাস করতে শিখবে না?

শিক্ষার একটি প্রধান উদ্দেশ্য হলো শিশুকে শেখানো—যদি পরিশ্রম করা হয়, তাহলে ফল পাওয়া যায়, প্রস্তুতি নিলে সফল হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে এবং নিজের যোগ্যতা দিয়ে নিজের জায়গা তৈরি করতে হয়।

কিন্তু একটি শিশু যখন শুনবে, “তুমি ভালো প্রস্তুতি নিলেও তোমার ভর্তি হবে কি না, তা লটারির ওপর নির্ভর করবে”—তখন তার কাছে একটি ভিন্ন বার্তাও পৌঁছাতে পারে।

সেটি হলো—যোগ্যতার পাশাপাশি ভাগ্যও তোমার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।

অবশ্যই, লটারি মানেই শিশুদের ভাগ্যবাদী করে তোলা—এমন সরল সিদ্ধান্তে যাওয়া ঠিক হবে না। লটারির পক্ষে যুক্তিও রয়েছে। বিশেষ করে অল্প বয়সী শিশুদের ভর্তি পরীক্ষা, কোচিংনির্ভরতা, অভিভাবকদের অতিরিক্ত প্রতিযোগিতা এবং পরীক্ষার চাপ নিয়ে শিক্ষাবিদদের উদ্বেগ রয়েছে। এসব বিষয়ও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। প্রথম শ্রেণির ক্ষেত্রে লটারি বহাল রাখার সিদ্ধান্তও সরকার জানিয়েছে।

কিন্তু দ্বিতীয় শ্রেণি থেকে পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন। একজন শিক্ষার্থী ইতোমধ্যে বিদ্যালয়ের কমপক্ষে একটি শ্রেণি সম্পন্ন করেছে। তার শেখার কিছু ফলাফলও তৈরি হয়েছে। সেই অবস্থায় তার পরবর্তী বিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে কোনো ধরনের মানদণ্ড নির্ধারণ করা যাবে কি না—এই প্রশ্নটি অবশ্যই আলোচনায় থাকা উচিত।

একজন শিক্ষক হিসেবে শ্রেণিকক্ষে বাস্তব অভিজ্ঞতা রয়েছে আমার। দীর্ঘদিন শিক্ষকতা করার অভিজ্ঞতা থেকে আমি একটি বিষয় উপলব্ধি করেছি—একটি শ্রেণিতে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাগত প্রস্তুতির মধ্যে ব্যবধান যত বেশি হয়, শিক্ষকতার কাজ তত কঠিন হয়।

একজন শিক্ষক যখন একই শ্রেণিতে পাঠদান করেন, তখন তার সামনে সাধারণত একটি নির্দিষ্ট শিক্ষাগত লক্ষ্য থাকে। কিন্তু একই শ্রেণিতে যদি একজন শিক্ষার্থী আগের শ্রেণির মৌলিক জ্ঞান ভালোভাবে আয়ত্ত করে থাকে এবং অন্যজন সেই ভিত্তিগত জ্ঞানেও পিছিয়ে থাকে, তাহলে শিক্ষক কাকে অনুসরণ করবেন?

অগ্রসর শিক্ষার্থীকে সামনে রেখে পাঠদান করলে দুর্বল শিক্ষার্থী পিছিয়ে পড়ে। আবার দুর্বল শিক্ষার্থীকে ধরে পাঠদান করলে অপেক্ষাকৃত অগ্রসর শিক্ষার্থীর শেখার গতি কমে যায়, ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে শ্রেণিকক্ষে একটি ভারসাম্যহীনতা সৃষ্টি হয়।

এখানেই ভর্তি পরীক্ষার একটি সম্ভাব্য শিক্ষাগত সুবিধা রয়েছে। ভর্তি পরীক্ষা নিখুঁত কোনো ব্যবস্থা নয়, কিন্তু সঠিকভাবে প্রণীত ও স্বচ্ছ একটি পরীক্ষা শিক্ষার্থীদের ন্যূনতম শিক্ষাগত প্রস্তুতি সম্পর্কে ধারণা দিতে পারে।

অর্থাৎ উদ্দেশ্য হওয়া উচিত শিশুকে বাছাই করে অপমান করা নয়; বরং বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষকে শিক্ষাদানের উপযোগী রাখা।

তবে ভর্তি পরীক্ষারও সংস্কার দরকার

এখানে একটি বিষয় স্পষ্ট করা জরুরি—আমি ভর্তি পরীক্ষাকে প্রশ্নহীনভাবে সমর্থন করছি না।

ভর্তি পরীক্ষা যদি এমন হয় যে দ্বিতীয় শ্রেণির শিশুকে তৃতীয়-চতুর্থ শ্রেণির প্রশ্ন পড়তে হবে, কোচিং করতে হবে, আলাদা শিক্ষক রাখতে হবে—তাহলে সেটিও শিক্ষার জন্য ক্ষতিকর।

ভর্তি পরীক্ষা হতে হবে সংশ্লিষ্ট শ্রেণির জাতীয় শিক্ষাক্রম ও প্রত্যাশিত শিখনফলের ভিত্তিতে।

প্রশ্ন হবে শিশুর বাস্তব জ্ঞান, ভাষা, গণিত, বোঝার ক্ষমতা ও মৌলিক দক্ষতা যাচাইয়ের জন্য। মুখস্থনির্ভর কঠিন প্রশ্ন দিয়ে শিশুদের মধ্যে প্রতিযোগিতা সৃষ্টি করা নয়। অবশ্যই মুখস্থের বাইরে প্রশ্ন তৈরি করতে হবে। পাঠ্য বইগুলোও সেভাবেই তৈরি হয়েছে। পাঠ্য বই যে লক্ষ্য নিয়ে রচিত হয়েছে সে মতেই প্রশ্নপত্র তৈরি করা যাতে কোচিং নির্ভরতা কমে। খরচ বাঁচানোর জন্য আদি মুখস্থ নির্ভর প্রশ্ন করা থেকে সরে আসতে হবে।

অর্থাৎ লটারির বিকল্প মানেই কোচিংনির্ভর ভর্তি পরীক্ষা নয়। দুটির মাঝেও একটি দায়িত্বশীল, শিশুবান্ধব ও মেধাভিত্তিক ব্যবস্থা তৈরি করা সম্ভব।

সিদ্ধান্ত বারবার পরিবর্তন হলে প্রশ্ন উঠবেই।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো নীতির ধারাবাহিকতা। ২০২৬ সালের মার্চে সরকার ঘোষণা করেছিল, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে লটারির পরিবর্তে ভর্তি পরীক্ষা চালু করা হবে। ১৭ মার্চের সরকারি আদেশেও লটারি পদ্ধতি বাতিলের কথা বলা হয়েছিল।

পরে আগস্টে জানানো হয়, প্রথম শ্রেণিতে লটারি থাকবে এবং দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষা হবে।

এখন আবার দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত লটারি করার প্রস্তাবের খবর প্রকাশিত হয়েছে।

এখনো যেহেতু এটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়, তাই সরকারকে প্রশ্ন করে বিব্রত করার ইচ্ছা আমার নাই। যদি সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হয়, তবে এত অল্প সময়ে নীতির কাঠামোতে একাধিক পরিবর্তনের আলোচনা অভিভাবক ও শিক্ষকদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে। একটি পরীক্ষাপদ্ধতি কয়েক মাস পরপর বদলালে প্রশ্ন উঠবে—দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা কোথায়?

শিক্ষা কোনো পরীক্ষামূলক ক্ষেত্র নয়। একটি সিদ্ধান্তের সঙ্গে লাখ লাখ শিশু, অভিভাবক, শিক্ষক ও বিদ্যালয়ের ভবিষ্যৎ জড়িত।

লটারির অর্থনৈতিক দিক নিয়েও স্বচ্ছতা প্রয়োজন। লটারি পদ্ধতি নিয়ে সমাজে আরেক ধরনের অভিযোগও শোনা যায়—ভর্তি আবেদন বা ফরমের মাধ্যমে বড় অঙ্কের অর্থ সংগ্রহ এবং এর ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন।

তবে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা গোষ্ঠী আর্থিক সুবিধা নিচ্ছে—এমন অভিযোগ প্রমাণ ছাড়া করা উচিত নয়।

তা আমি করছি না।

একইভাবে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হলেও পরীক্ষার ফি, প্রশ্নপত্র, কেন্দ্র পরিচালনা ও অন্যান্য ব্যয়ের পূর্ণ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

আমার বিবেচনায় প্রথম শ্রেণির মতো একেবারে প্রাথমিক প্রবেশপর্যায়ে লটারি প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা থাকতে পারে। কিন্তু দ্বিতীয় শ্রেণি থেকে একজন শিক্ষার্থী ইতোমধ্যে শিক্ষাজীবনের একাধিক ধাপ অতিক্রম করেছে।

তাহলে দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণির ক্ষেত্রে—

১. সংশ্লিষ্ট শ্রেণির শিক্ষাক্রমভিত্তিক ভর্তি পরীক্ষা হতে পারে।

২. প্রশ্ন হতে হবে শিশুবান্ধব ও নির্ধারিত শিখনফলভিত্তিক।

৩. ভর্তি পরীক্ষার জন্য কোচিং বা বাণিজ্যিক প্রস্তুতির সুযোগ কমাতে প্রশ্নের ধরন এমন হতে হবে, যাতে স্কুলের নিয়মিত পাঠদানই প্রধান প্রস্তুতি হয়।

৪. একই মানের পরীক্ষার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় বা অভিন্ন প্রশ্নপদ্ধতি বিবেচনা করা যেতে পারে।

৫. প্রতিবন্ধী ও বিশেষ প্রয়োজনসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা রাখতে হবে।

৬. ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ ও অভিযোগ নিষ্পত্তি হতে হবে স্বচ্ছ।

৭. কোনো বিদ্যালয়ে আসনসংখ্যার তুলনায় আবেদনকারী বেশি হলে মেধাক্রম অনুসারে নির্বাচন করা যেতে পারে।

৮. যদি মেধাক্রমে একাধিক শিক্ষার্থীর ফল সমান হয়, তখন লটারি একটি টাই-ব্রেকার হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে।

এ ব্যবস্থায় লটারির জায়গাও থাকবে, আবার মেধার মূল্যায়নও থাকবে।

শিক্ষার লক্ষ্য শুধু বিদ্যালয়ে একজন শিশুর প্রবেশ নিশ্চিত করা নয়; বরং তাকে এমন পরিবেশ দেওয়া, যেখানে সে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী বিকশিত হতে পারে।

আমরা যদি সমাজের প্রতিটি স্তরে মেধা, পরিশ্রম ও যোগ্যতার মূল্য প্রতিষ্ঠা করতে চাই, তাহলে বিদ্যালয়ে ভর্তির পদ্ধতিও সেই মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া প্রয়োজন।

আবার এটিও ভুলে গেলে চলবে না—একটি শিশুর ভবিষ্যৎ নির্ধারণের নামে তাকে অমানবিক প্রতিযোগিতার মধ্যে ঠেলে দেওয়া যাবে না।

তাহলে বিতর্কটি “লটারি না পরীক্ষা”—এই সরল দ্বন্দ্বে আটকে রাখা উচিত নয়। প্রশ্ন হওয়া উচিত—কোন পদ্ধতিতে শিশুর স্বার্থ, মেধা, ন্যায়সংগত সুযোগ, মানসম্মত শ্রেণিকক্ষ এবং শিক্ষার সামগ্রিক উদ্দেশ্য সবচেয়ে ভালোভাবে রক্ষা করা যায়?

কারণ আজ যে শিশুর ভর্তির পদ্ধতি আমরা নির্ধারণ করছি, আগামী দিনের বাংলাদেশ তার হাতেই গড়ে উঠবে।

শিশুকে ভাগ্যের ওপর ছেড়ে দেওয়া নয়, আবার পরীক্ষার চাপে পিষ্ট করাও নয়—আমাদের প্রয়োজন এমন একটি ভর্তি ব্যবস্থা, যেখানে সুযোগ হবে ন্যায্য, মূল্যায়ন হবে নিরপেক্ষ এবং শিক্ষার ভিত্তি হবে মেধা ও পরিশ্রম।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%