শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০১:৩৪ এম
বরগুনার আমতলীতে সড়ক দুর্ঘটনায় মা রিনা বেগম নিহত হয়েছেন এবং তার শিশু পুত্র ও কন্যাসহ মোট ৬ জন গুরুতর আহত হয়েছে। রবিবার সকাল ৫ টার দিকে পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়কের আমতলীর কালীবাড়ি নামক স্থানে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহত রিনা বেগমের মরদেহ ময়নাতদন্ত ছাড়াই পুলিশ কর্তৃক পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
রিনা বেগমের বাড়ি যশোরের পুলিশ লাইন কালী খোলা গ্রামে। তার স্বামীর নাম মামুনুর রশিদ। জানা গেছে, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা শুরভী পরিবহনে মামুনুর রশিদ স্ত্রী, ছেলে ও মেয়ে নিয়ে কুয়াকাটার উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে রবিবার সকালে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যায়। ওই গাড়ীতে থাকা ৭ জন যাত্রী গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন।
আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডাঃ মনিরুজ্জামান গুরুতর আহত রিনা বেগমকে মৃত ঘোষণা করেন। অপর আহতদের মধ্যে রয়েছেন নিহতের মেয়ে মালিহা (৬), আড়াই বছরের শিশুপুত্র রায়হান, কলাপাড়ার হাজীপুর গ্রামের আকলিমা (৪৭), সানজিদা (২৩) এবং মাগুরা শ্রীপুর উপজেলার রাজু মিয়া (২৪)। আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে সংকটজনক অবস্থায় বরিশাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।
আমতলী ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন ম্যানেজার মোঃ হানিফ জানিয়েছেন, ভোর রাতে কুয়াকাটাগামী সুরভী পরিবহন দুর্ঘটনার শিকার হয়। এতে ঘটনাস্থলে ১ জন নারী নিহত এবং ৬ জন আহত হন। আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ মনিরুজ্জামান বলেন, রিনা নামের এক নারী নিহত এবং ৬ জন আহত হয়েছে। আহত ছয়জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে সংকটজনক অবস্থায় বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।
আমতলী থানার ওসি মোঃ আরিফুল ইসলাম আরিফ জানান, নিহত রিনা বেগমকে ময়নাতদন্ত ছাড়াই পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পিরোজপুরের ইন্দুরকানী উপজেলার জিয়ানগর ব্রিজের কাছে টোল প্লাজায় একটি তুচ্ছ ঘটনার প্রেক্ষিতে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় বেশ কয়েকজন ব্যক্তি আহত হয়েছেন। রবিবার ১৫ ডিসেম্বর ছাত্রদল নেতা সাইমুন ও তার সহযোগী শাহিন, মারুফসহ কয়েকজন মোটরসাইকেলে জিয়ানগরের দিকে রওনা দেন।
জিয়ানগর ব্রিজের টোল প্লাজায় পৌঁছানোর পর জাহিদুল ও সজিবের নেতৃত্বে একদল দুর্বৃত্ত তাদের ওপর হামলা চালায়। আহত ছাত্রদল নেতা সাইমুন অভিযোগ করেন, "পাড়েরহাট থেকে জিয়ানগর যাওয়ার পথে টোল প্লাজায় পৌঁছালে জাহিদ ও সজিবের নেতৃত্বে আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়।" এ হামলায় সাইমুন (৩৫), শাহিন (৪০), মারুফ (৩৫), রাকিব (২৫) ও জিহাদ (২২) গুরুতর আহত হন। আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য ইন্দুরকানী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয় এবং পরে পিরোজপুর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত জাহিদ মুঠোফোনে জানান, "সাইমুন নেতৃত্বে আমাদের উপরে অতর্কিত হামলা চালানো হয়েছে, পরে টোল থেকে আমরা সরে যাই।" ঘটনার খবর পেয়ে ইন্দুরকানী থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় থানা অফিসার ইনচার্জ মারুফ হোসেন ও এসআই সঞ্জীব ঢালি আহত হন।
ইন্দুরকানী থানার ওসি মারুফ হোসেন বলেন, "ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে যাই এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি।" তিনি আরও জানান, "এ ঘটনায় অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পিরোজপুরে মহান বিজয় দিবস যথাযোগ্য মর্যাদার সাথে উদযাপন করা হচ্ছে। আজ সোমবার সকাল ৬.৩০ টায় সূর্যোদয়ের সাথে সাথে ৩১ বার তপোধ্বনি বাজানোর পর স্থানীয় বলেশ্বর নদী ঘাটের শহীদস্মৃতি স্তম্ভে পুস্পমাল্য অর্পণের মাধ্যমে দিবসের সূচনা হয়।
এই অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশরাফুল আলম খান, পুলিশ সুপার খাঁন মোহাম্মদ আবু নাসের, জেলা বিএনপির আহবায়ক অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন এবং সদস্য সচিব গাজী ওয়াহিদুজ্জামান লাভলু উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া জেলা আইনজীবী সমিতি, পিরোজপুর প্রেসক্লাবসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন শহীদ বেদীতে মাল্য অর্পণ করে।
সকাল ৯.৩০ টায় স্থানীয় সরকারী বালক বিদ্যালয় মাঠে দিনব্যাপী বিজয় মেলার উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশরাফুল আলম খান। পরে জেলা প্রশাসক কার্যালয় মিলনায়তনে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবার, মুক্তিযোদ্ধা এবং যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। শিশু কিশোরদের জন্য মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক চিত্রাঙ্কন ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। সন্ধ্যায় মেলা মাঠে আলোচনাসভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে পিরোজপুরে জামায়াত ইসলামী একটি বর্ণাঢ্য বিজয় র্যালী আয়োজন করেছে। আজ সোমবার সকাল ১০.৩০ মিনিটে জামায়াত ইসলামী পিরোজপুর জেলা শাখার উদ্যোগে জেলা শহরে কয়েক সহস্রাধিক নেতা-কর্মী এই র্যালীতে অংশগ্রহণ করে। র্যালীটি স্থানীয় বাইপাস সড়ক আল্লামা সাঈদী ফাউন্ডেশন থেকে শুরু হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে পুরান কাপুড়িয়া পট্টিতে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে জেলা জামায়াতের নিজস্ব কার্যালয় উদ্বোধন করা হয়।
আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, ৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের মূল উদ্দেশ্য ছিল একটি স্বাধীন সার্বভৌম ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা। দীর্ঘ ৯ মাস যুদ্ধের পর দেশ স্বাধীন হলেও দেশে বৈষম্য অব্যাহত থাকে। দেশের মানুষের বাক স্বাধীনতা হরণ করা হয় এবং গণতন্ত্রকে হত্যা করা হয়। জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের পতন ঘটিয়ে মানুষ আবার বাক স্বাধীনতা ফিরে পেয়েছে। দেশের মানুষ তথা রাজনৈতিক দলগুলো চায় মানুষের প্রত্যক্ষ ভোটাধিকারের মাধ্যমে একটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র।
সভায় বক্তব্য রাখেন জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যক্ষ তোফাজ্জল হোসাইন ফরিদ, জেলা সেক্রেটারী অধ্যক্ষ জহিরুল হক, সহকারী সেক্রেটারী আব্দুর রাজ্জাক শেখসহ জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কৃষক ও যুবদলের নেতাকর্মীরা বরিশাল মহানগর নাগরিক কমিটির নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করেছে, যাদের আওয়ামী লীগ মনে করা হয়েছিল। সোমবার সকালে নগরীর সোহেল চত্বরস্থ আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ের সামনে বিজয় দিবসের সমাবেশ শুরুর প্রাক্কালে এই হামলার ঘটনা ঘটে, যেখানে নাগরিক কমিটির চারজন নেতাকর্মী আহত হন।
এই ঘটনার পর নাগরিক কমিটির নেতৃবৃন্দ বিচারের দাবি জানিয়ে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছেন। তারা হামলার ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতির কথাও উল্লেখ করেছেন। নাগরিক কমিটির কেন্দ্রীয় যুগ্ন সদস্য সচিব ডা. মাহমুদা মিতু জানান, তারা বিজয় দিবসের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির আয়োজন করেছিলেন। এ সময় কৃষক ও যুবদলের নেতাকর্মীরা এসে তাদের ওপর অর্তকিত হামলা চালায়। হামলাকারীদের মধ্যে যুবদল নেতা আখতারুজ্জামান শাওনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, হামলাকারীরা তাদের ব্যানার ছিড়ে ফেলে এবং চেয়ার ভাঙচুর করে। প্রশাসন থেকে সভা করার অনুমতিপত্র দেখানো সত্বেও হামলাকারীরা থামেনি। হামলার ফলে আহত রুমানা বেগম, হাঞ্জালা মৃধা, মেহেদী হাসান ও ডা. মাহমুদা মিতুকে শেবাচিম হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
ডা. মাহমুদা মিতু আরও বলেন, হামলার ঘটনায় বিচারের দাবিতে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেওয়া হয়েছে। যদি হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করা না হয়, তবে তারা কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবেন। হামলার ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলেও তিনি জানান।
হামলার বিষয়ে মহানগর বিএনপির দায়িত্বশীল কোন নেতা মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক বিএনপি নেতা বলেছেন, তাদের কাছে পূর্বে খবর ছিলো যে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা কৌশলে বিজয় দিবসের অনুষ্ঠান পালন করবেন। সম্ভবত সেই ধারণা থেকেই বিএনপির কেউ দলের কাছে ভাল সাজতে আওয়ামী লীগ মনে করে নাগরিক কমিটির অনুষ্ঠানে হামলা চালিয়েছে। কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মো. মিজানুর রহমান বলেন, হামলার ঘটনায় এখনও কেউ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ