ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ড. ইউনূস জাতিকে বিভক্ত করেছেন : শামীম পাটোয়ারী


ড. ইউনূস জাতিকে বিভক্ত করেছেন : শামীম পাটোয়ারী

 

জাতীয় পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী মন্তব্য করেছেন যে, শান্তিতে নোবেলজয়ী ড. ইউনূসের সময়কাল দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি মব কালচার সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, সংকটময় মুহূর্তে দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠার পরিবর্তে জাতিকে বিভক্ত করে জাতীয় ঐক্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছেন।

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, দেশের অর্থনীতি ধ্বংসের দিকে নিয়ে গেছেন।

আরও পড়ুন: মুন্সীগঞ্জে পিস্তল-গুলি ও চাইনিজ কুড়ালসহ সাদ্দাম মাঝি গ্রেপ্তার

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সুনামগঞ্জ শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শামীম পাটোয়ারী বলেন, আমরা সংকটময় মুহূর্তে দেশের গণতন্ত্রের স্বার্থে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিলাম। কিন্তু মেটিকুলাস ডিজাইনে আমাদের পরাজিত করা হয়েছে।

তিনি রংপুরের মতো স্থানে জি এম কাদেরকে হারানোর বিষয়টিও তুলে ধরেন।

জাপা মহাসচিব মন্তব্য করেন, জাতীয় পার্টিকে ছাড়া সংসদ কার্যকরী নয়। সংসদে সংসদীয় চর্চা হচ্ছে না এবং জনরোষ বৃদ্ধি পাচ্ছে। তিনি বলেন, দেশকে সঠিক পথে এগিয়ে নিতে এরশাদের জাতীয় পার্টি ছাড়া বিকল্প নেই।

আরও পড়ুন: ময়মনসিংহে নির্মাণসামগ্রী লুটের ঘটনায় ৮ ডাকাত গ্রেফতার, উদ্ধার ট্রাক

সভায় সুনামগঞ্জ জেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক মনির উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নাজমুল হুদা হিমেলের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য রেজাউল ইসলাম, আলমগীর শিকদার, আরিফুর রহমান খান প্রমুখ।

মতবিনিময়সভায় জেলার ১১ উপজেলার জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সোনারগাঁয়ে ৪০ বস্তা চায়না দুয়ারি জাল পুড়িয়ে ধ্বংস, ব্যবসায়ীকে জরিমানা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৭:৩৯ পি.এম


সোনারগাঁয়ে ৪০ বস্তা চায়না দুয়ারি জাল পুড়িয়ে ধ্বংস, ব্যবসায়ীকে জরিমানা

 

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে দেশীয় মাছ ও জলজ প্রাণী রক্ষার উদ্দেশ্যে উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তর নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জালের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করেছে। এই অভিযানে ৪০ বস্তা অবৈধ জাল জব্দ করা হয়েছে এবং সেগুলো জনসম্মুখে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে।

একই সঙ্গে, নিষিদ্ধ জাল বিক্রির অপরাধে একজন ব্যবসায়ীকে দুই হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার আনন্দ বাজার এলাকায় এই অভিযানটি অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসিফ আল জিনাতের উপস্থিতিতে মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে অভিযানটি পরিচালিত হয়।

অভিযান সূত্রে জানা যায়, আনন্দ বাজারের বিভিন্ন দোকানে তল্লাশি চালিয়ে ৪০ বস্তায় থাকা প্রায় ৪০০টি চায়না দুয়ারি জাল জব্দ করা হয়। পরে বাজারের সবার সামনে জালগুলো আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। নিষিদ্ধ জাল বিক্রির অপরাধে এক ব্যবসায়ীকে দুই হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

এ বিষয়ে ইউএনও আসিফ আল জিনাত মন্তব্য করেন, ‘মৎস্য সংরক্ষণ আইনে চায়না দুয়ারি জালের ব্যবহার ও বিক্রি দণ্ডনীয় অপরাধ। এই জাল ছোট-বড় মাছের পাশাপাশি বিভিন্ন জলজ প্রাণী ধ্বংসের মাধ্যমে মৎস্যসম্পদের প্রজনন ও বংশবিস্তারে মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করে।

মৎস্যসম্পদ রক্ষায় অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। এ ধরনের অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গাজীপুর পুলিশ সুপার: মাদক এখন একক সমস্যা নয়, সামাজিক আন্দোলন জরুরি নিয়ন্ত্রণে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৭:৪২ পি.এম


গাজীপুর পুলিশ সুপার: মাদক এখন একক সমস্যা নয়, সামাজিক আন্দোলন জরুরি নিয়ন্ত্রণে

গাজীপুর জেলার নবাগত পুলিশ সুপার মোঃ জসিম উদ্দিন মন্তব্য করেছেন যে, মাদক এখন আর শুধুমাত্র একক সমস্যা নয়। তিনি উল্লেখ করেন, মাদক নিয়ন্ত্রণের জন্য পুলিশের পাশাপাশি সামাজিক আন্দোলনও এখন অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।

গাজীপুরে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মাদক, কিশোর গ্যাং, গরু চুরি সহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে পুলিশ ও সাংবাদিকদের সমন্বিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণের জন্য পুলিশের পাশাপাশি গণমাধ্যম, জনপ্রতিনিধি, সামাজিক সংগঠন এবং সাধারণ জনগণের সম্মিলিত ভূমিকা অপরিহার্য।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে গাজীপুরে কর্মরত প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

জেলা পুলিশের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভায় গাজীপুর সদরসহ কালিয়াকৈর, শ্রীপুর, কাপাসিয়া ও কালীগঞ্জ উপজেলার সাংবাদিকরা অংশগ্রহণ করেন।

মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকরা গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি তুলে ধরেন। বিশেষ করে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মাদক কারবার, কিশোর গ্যাংয়ের কার্যক্রম, গরু চুরি এবং অন্যান্য অপরাধের বিষয়ে পুলিশ সুপারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তারা। একই সঙ্গে সাংবাদিকরা অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে পুলিশের নজরদারি বাড়ানো, অপরাধীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

নবাগত পুলিশ সুপার মোঃ জসিম উদ্দিন সাংবাদিকদের বক্তব্যে উঠে আসা বিভিন্ন তথ্য নোট করেন এবং সাংবাদিকদের উত্থাপিত সমস্যাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন।

মাদক প্রসঙ্গে পুলিশ সুপার বলেন, 'মাদক এখন আর কোনো একক সমস্যা নয়। এটি শুধু পুলিশের একার পক্ষে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। মাদকের বিস্তার রোধে পরিবার থেকে সচেতনতা তৈরি করতে হবে এবং একই সঙ্গে ব্যাপক সামাজিক সচেতনতা ও সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।'

তিনি আরও বলেন, একটি পরিবার থেকে শুরু করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সমাজ ও রাষ্ট্র-সব পর্যায়ে মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। বিশেষ করে তরুণ ও কিশোরদের মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতন করতে পরিবার ও সমাজকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

পুলিশ সুপার আরো বলেন, গাজীপুর একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও জনবহুল জেলা। এখানে মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করবে। অপরাধী যে-ই হোক, অপরাধের ধরন ও প্রমাণের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো অপরাধকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।

তিনি বলেন, 'আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে আমরা সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে চাই। পুলিশ একা সব সমস্যার সমাধান করতে পারে না। সাংবাদিকরা মাঠপর্যায়ের বাস্তব চিত্র তুলে ধরবেন, আর পুলিশ সেসব তথ্য যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেবে। পারস্পরিক সহযোগিতা ও আস্থার ভিত্তিতে কাজ করলে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আরো কার্যকর ফল পাওয়া যাবে।

সভায় সাংবাদিকরা পুলিশের সঙ্গে গণমাধ্যমের নিয়মিত যোগাযোগ ও তথ্য আদান-প্রদানের ওপর গুরুত্ব দেন। তারা বলেন, সাংবাদিকরা মাঠপর্যায়ে মানুষের সমস্যা ও অপরাধের চিত্র তুলে ধরেন। পুলিশ প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নিলে অনেক অপরাধ শুরুতেই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ক্রাইম অ্যান্ড অপস মোঃ আশফাকুজ্জামান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ডিএসবি মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক রেজা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ডিবি মোঃ আমিনুল ইসলামসহ জেলা পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাগণ।

সভায় পুলিশ ও গণমাধ্যমের পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করে গাজীপুরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়ন, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং অপরাধমুক্ত পরিবেশ তৈরিতে একযোগে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কুয়াকাটায় সাগরের ভাঙনে পুলিশ বক্স বিলীন, মেরিন ড্রাইভ ও বেড়িবাঁধ হুমকিতে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৭:৪৪ পি.এম


কুয়াকাটায় সাগরের ভাঙনে পুলিশ বক্স বিলীন, মেরিন ড্রাইভ ও বেড়িবাঁধ হুমকিতে

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে অবস্থিত ট্যুরিস্ট পুলিশের সার্ভিস বক্সটি সাগরের ভাঙনের কারণে সম্পূর্ণরূপে বিলীন হয়ে গেছে। একইসাথে, মেরিন ড্রাইভের সানসেট পয়েন্টসহ বিস্তীর্ণ এলাকা ভাঙনের কবলে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে সাগররক্ষা বাঁধ এবং নবনির্মিত মেরিন ড্রাইভ সড়কও হুমকির সম্মুখীন হয়েছে।

কুয়াকাটায় ১৮ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ভাঙনের অবস্থা তুলে ধরতে সম্প্রতি একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল যে, জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে মেরিন ড্রাইভ এবং বেড়িবাঁধের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়তে পারে। সেই আশঙ্কা এখন বাস্তবে রূপ নিতে শুরু করেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবারের উত্তাল সাগরের ঢেউয়ের তাণ্ডবে ট্যুরিস্ট পুলিশের সার্ভিস বক্সটি সম্পূর্ণভাবে সাগরে বিলীন হয়ে যায়। এছাড়া, মেরিন ড্রাইভের সানসেট পয়েন্টেও ভাঙনের প্রভাব দেখা গেছে। জিরো পয়েন্ট থেকে পশ্চিমে লেম্বুর বন পর্যন্ত সাগররক্ষা বাঁধের বিভিন্ন স্থানে সিসি ব্লকগুলো দেবে গেছে এবং স্থানচ্যুত হয়েছে। ভাঙন প্রতিরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কিছু এলাকায় বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেললেও, সেগুলোর কার্যকারিতা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, যদি দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হয়, তাহলে যে কোনো মুহূর্তে সাগররক্ষা বাঁধ ভেঙে কুয়াকাটার লোকালয়ে লোনা পানি প্রবাহিত হতে পারে।

দীর্ঘদিন ধরেই কুয়াকাটা সৈকতে তীব্র ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে উত্তাল ঢেউয়ের কারণে সৈকত ক্রমাগত লোকালয়ের দিকে এগিয়ে আসছে। এ বিষয়ে গণমাধ্যমে বিভিন্ন সময় সংবাদ প্রকাশের পাশাপাশি স্থানীয়রা ভাঙন প্রতিরোধের জন্য আন্দোলন করে আসছেন। ভাঙন ঠেকাতে পাউবোর পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে তিনটি প্রকল্প পরিকল্পনা কমিশনে জমা দেওয়া হয়েছিল। তবে বিভিন্ন কারণে সেগুলো অনুমোদন পায়নি। সর্বশেষ, গত বছর ৭৫৯ কোটি টাকা ব্যয়ে আরেকটি প্রকল্প প্রস্তাব পাউবো জমা দিয়েছে, কিন্তু সেটিও এখনও অনুমোদন পায়নি, ফলে ভাঙন প্রতিরোধে স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

বর্তমানে জিরো পয়েন্টের পশ্চিম প্রান্তে সাগরের বড় বড় ঢেউ সরাসরি বেড়িবাঁধে আছড়ে পড়ছে। এর ফলে বাঁধের সামনে থাকা সিসি ব্লকগুলো নড়বড়ে হয়ে স্থানচ্যুত হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে বাঁধের স্থায়িত্ব মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে পড়বে।

কুয়াকাটা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোঃ জহিরুল ইসলাম মিরন মন্তব্য করেন, "জিরো পয়েন্টে বর্তমানে যেখানে বেড়িবাঁধ রয়েছে, সেখানে একসময় সমুদ্র ছিল অন্তত দেড় কিলোমিটার দূরে। ভাটার সময় পর্যটকদের দীর্ঘ সৈকত পেরিয়ে সাগরে নামতে হতো। গত ৩০ থেকে ৩৫ বছরে সেই দেড় কিলোমিটার সৈকত সাগরে বিলীন হয়ে এখন সমুদ্র বেড়িবাঁধের কাছে এসে ঠেকেছে।"

কুয়াকাটা উন্নয়ন ও সংরক্ষণ কমিটির সদস্য মো ফারুক মীর জানান, "দেড় কিলোমিটার বিস্তৃত সৈকত ছাড়াও একসময় বেড়িবাঁধের সামনে সরকারি-বেসরকারি অসংখ্য স্থাপনা ছিল। কয়েক বর্গকিলোমিটারজুড়ে ফয়েজ মিয়ার নারিকেল বাগান, এলজিইডির বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট কাম রেস্ট হাউজ, ইকোপার্ক, ঝাউবন, সাগরঘেঁষা সড়ক, হোটেল-মোটেলসহ অনেক স্থাপনাই এখন বিলীন বা হুমকির মুখে। সর্বশেষ ট্যুরিস্ট পুলিশ বক্সটিও সাগরে চলে গেছে।"

কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এম এ মোতালেব শরীফ বলেন, "গত ২৫ থেকে ৩০ বছরে কুয়াকাটা আন্তর্জাতিক পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। এখানে চার শতাধিক হোটেল, মোটেল ও রিসোর্ট গড়ে উঠেছে। ব্যবসায়ীরা কয়েক হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছেন। কিন্তু সাগরভাঙনের কারণে এখন পুরো পর্যটনশিল্পই হুমকির মুখে। বিষয়টি নিয়ে আমরা সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগের পাশাপাশি দফায় দফায় চিঠি দিয়েছি। দ্রুত ভাঙন প্রতিরোধ করা না গেলে কুয়াকাটার পর্যটনশিল্প বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বে।"

কলাপাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহ আলম বলেন, "কুয়াকাটায় ভাঙন প্রতিরোধের জন্য একটি প্রকল্প পরিকল্পনা কমিশনে জমা দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের ব্যয় বেশি হওয়ায় হয়তো অনুমোদন পেতে বিলম্ব হচ্ছে। তাই কম ব্যয়সাপেক্ষ একটি বিকল্প প্রকল্প প্রস্তুত করা হচ্ছে। প্রস্তাবনাটি তৈরি হলে তা সরকারের কাছে দাখিল করা হবে। ধাপে ধাপে এ প্রকল্পের মাধ্যমে সাগরভাঙন প্রতিরোধের উদ্যোগ নেওয়া হবে।"

পটুয়াখালী-৪ (কলাপাড়া-রাঙ্গাবালী) আসনের সংসদ সদস্য এ বি এম মোশাররফ হোসেন এমপি বলেন, "প্রাথমিকভাবে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকল্প অনুমোদনের কাজ চলছে। আশা করছি, খুব শিগগিরই কুয়াকাটায় সাগরভাঙন রোধে স্থায়ী উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মহিপুরে আলীপুর মৎস্য বন্দর বিএফডিসির ম্যানেজার শরিফুল ইসলামের অবৈধ অটোচার্জ ধান্ধাবানিজ্য, লক্ষ লক্ষ দূর্নীতি ও অনিয়ম, নিরব কতৃপক্ষ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

কলাপাড়া(পটুয়াখালী)প্রতিনিধি

বৃহস্পতিবার, ১০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৭:৪৪ পি.এম


মহিপুরে আলীপুর মৎস্য বন্দর  বিএফডিসির ম্যানেজার শরিফুল ইসলামের অবৈধ অটোচার্জ ধান্ধাবানিজ্য, লক্ষ লক্ষ দূর্নীতি ও অনিয়ম, নিরব কতৃপক্ষ
পটুয়াখালীর মৎস্য বন্দর আলীপুরের বিএফডিসি মার্কেটে চলছে অবৈধ উপায়ে ধান্ধা বানিজ্য ও সীমাহীন নৈরাজ্য। দেশে যখন বিদ্যুতের সংকট চলছে। সরকার বিদ্যুৎ অপচয় রোধে অতিরিক্ত আলোক সজ্জা, রাত আটটায় মার্কেট বন্ধ সহ সংকট মোকাবেলায় নানামুখী উদ্যেোগ নিয়েছে। ঠিক সেই মুহুর্তে কলাপাড়ার মৎস্য বন্দর আলীপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের বিএফডিসি মার্কেটে চলছে তার উল্টোটা। খোদ বিএফডিসি মার্কেটের ম্যানেজার শরিফুল ইসলাম সরকারি মিটার থেকে অটোচার্জ ও সাব মিটার বানিজ্যের মাধ্যমে মাসে প্রায় লাখ টাকা আত্মসাৎ করছে এমন অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগের সত্যতাও মিলেছে।
অভিযোগ রয়েছে, বিএফডিসি অফিসের সরকারি মিটার থেকে অবৈধভাবে লাইন দিয়ে রাত দিনে মিলে প্রতিদিন গড়ে অর্ধশত ব্যাটারী চালিত অটোভ্যান চার্জ দেয়া হয়। প্রতিটি অটোভ্যান থেকে মাসে ১ হাজার থেকে ১৫ শত টাকা করে নেওয়া হয়।
 
বৃহস্পতিবার সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, মার্কেটে প্রায় অর্ধশতাধিক মাছের আড়ৎ রয়েছে। প্রতিটি আড়তে একটি করে সাব মিটার রয়েছে। এসব সাব মিটার ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে বানিজ্যিক রেটে বিল নেওয়া হয়।
অথচ বিএফডিসি মার্কেটটি জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট এবং সরকারী প্রতিষ্ঠান হওয়ায় সর্বনিম্ন বিদ্যুৎ বিল নেয়া হয়। আর এই সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে বিএফডিসি মার্কেটের ম্যানেজার শরিফুল ইসলাম অটোভ্যান চার্জের মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করে আসছে গত তিন বছর ধরে। 
 
স্থানীয় ও বিএফডিসি অফিস সুত্রে জানা যায়, গত আগস্ট মাসে ১৬ হাজার টাকা বিদ্যুৎ বিল এসেছে বিএফডিসি মার্কেটে। অথচ অটোভ্যান ও সাব মিটার থেকে মাসে প্রায় লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়। উত্তোলনকৃত এসব টাকার নেই কোন রশিদ কিংবা হিসাব। ম্যানেজার শরিফুল ইসলাম দাবি করেন মার্কেটের শুরু থেকেই চার্জ বানিজ্য চলে আসছে। এ থেকে ৫ বছরে প্রায় অর্ধকোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবী।
 
গত ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ গভীর রাতে আলীপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে অবস্থিত বিএফডিসি মার্কেটে ৩৫ থেকে ৪০ টি অটোভ্যান চার্জ দেয়া হচ্ছে। ৯ সেপ্টেম্বর বিকেলে গিয়েও দেখা গেছে ১৫-২০টি অটোভ্যান চার্জ দেয়া রয়েছে।
 
মার্কেটের সাথে সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তি জানান, মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের মাছ আনা নেয়ার কাজে ব্যবহ্নত ৬০-৭০ টি অটোভ্যান দিন রাতে চার্জ দেয়া হয়। অটোভ্যান চার্জের টাকা রাজস্ব খাতে জমা না দিয়ে ম্যানেজার, হিসাব রক্ষক সহ কর্মকর্তা ভাগ ভাটোয়ারা করে নিচ্ছে। 
 
অটোভ্যান চার্জ বানিজ্য, সাব মিটার বানিজ্যসহ আড়তগুলোর রাজস্বে শুভঙ্করের ফাঁকিসহ নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা বিষয় জানতে চাইলে বিএফডিসি মার্কেটের ম্যানেজার শরিফুল ইসলাম অটোভ্যান বানিজ্যের কথা স্বীকার করলেও এবিষয়ে তিনি ডকুমেন্টারি বক্তব্য দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেন, ব্যবসায়ীদের অনুরোধে অটোভ্যান চার্জ দেওয়ার সূযোগ করে দিয়েছেন। এ টাকা সরকারি খাতে জমা হয় কিনা এমন প্রশ্নের কোন সদুত্তর দিতে না পেরে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে মার্কেটের ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে ফোন দিয়ে তার অফিসে জড়ো করে। প্রথমে বিএফডিসি মার্কেটের শ্রমিক সংগঠনের সভাপতি সালাউদ্দিন, এর কিছুক্ষণ পরে আসে লতাচাপলী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ সুলতান মুসুল্লি, লতাচাপলী ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান সেচ্ছাসেবক দলের মহিপুর থানার সাধারণ সম্পাদক আতিকুর রহমান মিলন, আলীপুর বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন, ট্রলিং বোট ব্যবসায়ী আবুল হোসেন কাজীসহ কয়েকজন ব্যবসায়ী।
এসব ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে বিএফডিসি মার্কেটের অন্যান্য কর্মকর্তারা ট্রলিংয়ের মাছ টানতে বাধা দেয়া হচ্ছে বলে উস্কানি দেয়া হয়। তাদেরকে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দেয়। তবে আগত ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের অনেকেই তাতে সাড়া দেননি।
 
এসময় বিএনপির সভাপতি গনমাধ্যম কর্মী দের  বলেন, ম্যানেজার অটোভ্যান চার্জ দিয়ে সরকারি বিল দিয়ে যা থাকে তাতে ওনার পকেট খরচ চলে। 
 
ম্যানেজার শরিফুল ইসলাম তার নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা ধামাচাপা দিতে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করে ভোরের কাগজের কুয়াকাটা প্রতিনিধি, কুয়াকাটা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আনোয়ার হোসেন আনু, তার সহযোগী দৈনিক তৃতীয় মাত্রার কুয়াকাটা প্রতিনিধি রুমী শরীফকে মব সৃষ্টি করে হেনস্তার চেস্টা করে ব্যর্থ হন।
 
বিএফডিসি মার্কেটের আরেকটি  সুত্র জানায়, মার্কেটে প্রায় অর্ধশত আড়ৎ রয়েছে। এসব আড়ৎ গুলোতে গভীর সমুদ্র থেকে মাছ শিকার করে নিয়ে এসে এখানে খোলা বাজারে বিক্রি করে থাকে। গভীর সমুদ্রের কোন কোন ট্রলারে দেড়শো থেকে দুই'শ মন ইলিশ নিয়ে এসে আড়ৎ এ ৩০-৪০ লাখ টাকায় বিক্রি করছে। যা বিভিন্ন গণমাধ্যমে ফলাও করে প্রকাশিত হয়েছে। এসব মাছ থেকে আসা সরকারি রাজস্বের হিসাবেও ব্যাপক গড়মিল রয়েছে। দেড়শো মন ইলিশ বিক্রির বড় দাগের মাছের রাজস্বের হিসেব নেই। আড়তদারদের সাথে সন্ধি করে নামমাত্র রাজস্ব দেখিয়ে আসছে। বড় অংশই চলে যায় কর্মকর্তা কর্মচারীদের পকেটে।
স্থানীয়রা জানান, আলীপুর বিএফডিসি মার্কেট ও মহিপুর মাছের আড়ৎ থেকে গত পাঁচ বছরে লক্ষ লক্ষ টাকা লোপাট করা হয়েছে।
 
বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি) মার্কেট তৈরী ও রক্ষণাবেক্ষণে খাতে ব্যাপক টাকা সরকারকে গচ্ছা দিতে হচ্ছে প্রতি বছর। সেখানে কর্মকর্তা কর্মচারীরা বিএফডিসি কতৃপক্ষের অনুমতি ব্যাতিরেকে অবৈধ ব্যাটারী চালিত অটোভ্যান চার্জ, সাব মিটার বানিজ্য এবং  মাছ বেচাকেনায় রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে সরকারি সাইনবোর্ড ব্যবহার করে লক্ষ লক্ষ টাকা নানাভাবে লোপাট করে আসছে দীর্ঘদিন ধর।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবী, এসব অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা বন্ধ না হলে এ মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রটি লাভের মুখ দেখবে না কখনো। 
 
এবিষয়ে কুয়াকাটা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এজিএম সম্রাট খান জানান, বিএফডিসি মার্কেটে অবৈধভাবে অটোভ্যান চার্জের বিষয়ে অবগত নন। এমনটা হয়ে থাকলে লাইন কেটে দেয়া হবে।
 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২৩
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৩
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%