০১:০৪ পি.এম
থাইল্যান্ডের রাজনীতিতে দামি ঘড়ির প্রতি আগ্রহ দীর্ঘদিনের। তবে বর্তমানে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ৬০ ডলারেরও কম দামের একটি ঘড়ি, যা প্রধানমন্ত্রী নিজেই বিতরণ করছেন।
প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল-এর নাম খোদাই করা ‘ক্যাসিও এইই১২০০ডব্লিউএইচ’ ঘড়িটি এখন মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, শীর্ষ আমলা এবং রাজনৈতিক মিত্রদের কব্জিতে দেখা যাচ্ছে।
বিশ্বের মানচিত্রসংবলিত রেট্রো-ফিউচারিস্টিক ডিজাইন সহ এই ডিজিটাল ঘড়িটি ‘ক্যাসিও রয়্যাল’ নামে পরিচিত। ক্ষমতার নিকটবর্তী থাকার প্রতীক হিসেবে এর ব্যবহারকারীদের ‘ক্যাসিও কানেকশন’ বলা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: কোনো দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে পেলে কতদিন ক্ষমতায় থাকবেন নেতানিয়াহু?
দশকের পর দশক ধরে থাইল্যান্ডে স্থিতিশীল সরকার গঠনে ব্যক্তিগত সম্পর্কের গুরুত্ব রয়েছে। এই ঘড়িগুলো যেন সেই সম্পর্কের একটি প্রতীক। রাজনৈতিক কুশলী অনুতিন থাইল্যান্ডের বিভক্ত রাজনৈতিক অঙ্গনে বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে মিত্রতা গড়ে তুলেছেন। এর মধ্যে রয়েছে তার দল ভুমিজাই থাই পার্টির প্রভাবশালী প্রাদেশিক পরিবারগুলো এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা।
সিরিপং জানান, অনুতিন ব্যাংককসহ বিভিন্ন স্থানে যাতায়াতের সময় ছোট দোকান বা বাজার থেকে ক্যাসিও ঘড়িগুলো ক্রয় করেন। পরে সেগুলোতে নিজের নাম খোদাই করে উপহার হিসেবে দেন। ঘড়ি পাওয়ার জন্য তাকেও অপেক্ষা করতে হয়েছিল। ঘড়ি পাওয়ার পর ব্যবহারকারীরা নিজেদের মধ্যে মেটাল বেল্ট এবং রেজিন বেল্টের তুলনা করতে শুরু করেছেন।
এই সাধারণ ক্যাসিও ঘড়িগুলো ক্ষমতা প্রদর্শনের বৈশ্বিক ধারার অংশ। সস্তা বা সাধারণ কিছু জিনিসও কারো সম্পদ এবং বিশেষ মহলে প্রবেশের সুযোগকে ফুটিয়ে তুলতে পারে। অভিজাত মডেলিং এজেন্সির সাধারণ টিন ব্যাগের মতো ছোটখাটো নিদর্শনগুলোও বিশেষ দলের সদস্যপদ নির্দেশ করে।
সরকারি মুখপাত্র একাপব পিয়ানপিসেস এই উপহারগুলোর পেছনে রাজনৈতিক কোনো উদ্দেশ্য থাকার কথা নাকচ করেছেন। তার মতে, প্রধানমন্ত্রী অনুতিন ঘড়িটির ব্যবহারিক সুবিধার জন্য এটি পছন্দ করেন এবং অন্যদের সঙ্গে তা ভাগ করে নিতে চান। তিনি বলেন, ‘এটি রাজনৈতিক কোনো কিছুর ইঙ্গিত নয়।’
আরও পড়ুন: ‘নেতানিয়াহু সরকারের প্রতি আস্থার অভাব’, বুথফেরত জরিপে মন্তব্য আইজেনকোটের
‘আনুগত্যের অনুভূতি’
থাইল্যান্ডের রাজনীতিবিদদের সঙ্গে ঘড়ির সম্পর্ক পুরোনো। ২০১৭ সালে তৎকালীন উপপ্রধানমন্ত্রী প্রাউত ওংসুয়ান একের পর এক দামি ঘড়ি পরে সামনে আসার পর দুর্নীতিবিরোধী তদন্তের মুখোমুখি হন। প্রাউতের দাবি অনুযায়ী, ১ মিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের ২২টি ঘড়ি তদন্তে দেখা যায়। পরবর্তী বছর তাকে এই অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
অনুতিনের নিজের সংগ্রহে ৬০ মিলিয়নের বেশি বাথ (১.৮ মিলিয়ন ডলার) মূল্যের ২২টি বিলাসবহুল ঘড়ি রয়েছে। সম্প্রতি ভুমিজাই পার্টির নেতা নেভিন চিডচব-এর জন্মদিনের অনুষ্ঠানে তাকে ‘রোলেক্স ডে-ডেট ৪০’ পরে দেখা গেছে। ওই অনুষ্ঠানে নেভিন পরেছিলেন একটি ‘রিচার্ড মিল আরএম ৩০-০১’ ঘড়ি।
রাজনৈতিকভাবে এই উপহার পাওয়ার তালিকায় থামানাত প্রমপাও অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নাম। ‘ক্লা থাম পার্টি’ অনুতিনের ক্ষমতাসীন জোটে যোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তার কব্জিতে খোদাই করা ক্যাসিও ঘড়ি দেখা যাওয়ার পর নতুন এই জোট নিয়ে গুঞ্জন বেড়ে যায়, বিশেষ করে যখন তার দলের সাধারণ সম্পাদক ইঙ্গিত দেন যে ঘড়িটি সরাসরি অনুতিনের কব্জি থেকেই এসেছে।
আরও পড়ুন: বোম্বে হাইকোর্ট ইমরান খানের ভারত ছাড়ার নোটিশ স্থগিত করেছে
নাপন বলেন, ‘এই ঘড়িগুলোর মাধ্যমে অনুতিন নিঃসন্দেহে বন্ধু, অনুসারী এবং নতুন বলয় তৈরি করছেন।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন