বৃহস্পতিবার, ৫ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং
০৫:২৮ পি.এম
ঠাকুরগাঁও জেলার সদর উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের বিশ্বাসপুর গ্রাম উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত রয়েছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, চিকিৎসা এবং যাতায়াতে ন্যূনতম সুযোগের অভাবে গ্রামের মানুষের কাছে আগামীর বাংলাদেশের স্বপ্ন এখনও অধরাই রয়ে গেছে।
গ্রামটি তিন দিকে বিল এবং এক দিকে খালের মাঝে অবস্থিত। পশ্চিম পাড়ায় অবস্থিত বিশ্বাসপুরে বর্ষাকালে পিচ্ছিল এবং কর্দমাক্ত উচুনিচু রাস্তা পারাপার করতে হয়, আর শুকনো মৌসুমে ধুলোবালি মাখা উচুনিচু মেঠো পথে চলাচল করতে হয়।
পশ্চিম পাড়ায় প্রায় শতাধিক পরিবার বসবাস করে। কৃষক, শিক্ষক, সরকারি ও বেসরকারি চাকুরিজীবী, ব্যবসায়ীসহ গ্রামের বেশিরভাগ মানুষ কৃষির ওপর নির্ভরশীল। যাতায়াতের দুরবস্থার কারণে গ্রামের শিশুরা স্কুলে যেতে আগ্রহী নয়।
১৯২০ সালে প্রাথমিক শিক্ষার জন্য বাকুন্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এস,কে মানিক শাহীন জানান, "আমার স্কুলের মেইন কেচম্যান এলাকা হলো বিশ্বাসপুর, সেখানকার ছাত্র/ছাত্রীরা ফসলিজমির আইল দিয়ে আমার স্কুলে এসে পড়াশুনা করে।" বর্ষাকালে হাটু পানি পাড়ি দিয়ে স্কুলে আসা ছাত্র/ছাত্রীদের জন্য বেশ সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়।
তিনি আরও বলেন, "বিশ্বাসপুর গ্রামে আমি দীর্ঘ ১৪ বছর যাবত চাকরি করে আসতেছি। এই এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা বিশেষ করে রাস্তাঘাট খুবই খারাপ, যার কারণে শিক্ষা ও চিকিৎসা থেকে বিশ্বাসপুর ও বাকুন্দা গ্রামের শত শত পরিবার দিনের পর দিন বঞ্চিত হচ্ছে।" বর্তমান সরকার, মহামান্য রাষ্ট্রপতি এবং নবনির্বাচিত এমপি মির্জা ফয়সল আমিন মহোদয়কে বিশ্বাসপুর ও বাকুন্দা গ্রামের ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলে বিপুল ভোটে নির্বাচিত করেছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, "আপনি একটি গুরুত্বপূর্ণ জন দুর্ভোগ বিষয় তুলে ধরেছেন, আশা করি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আপনার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।"
বিশ্বাসপুর গ্রামের মোঃ আবু হেলাল বলেন, "আমার বাবার বাড়ি এই গ্রামে। ছোটবেলা থেকে শুনে আসছি এই রাস্তাটি পাকাকরণ হবে। আজ অবধি শুধু পাকা কেন, বর্ষায় ভেঙে যাওয়া রাস্তাটিতে সরকারি ভাবে মাটি দিয়েও ঠিক করা হয়নি।" তিনি আরও জানান, "এখন মনে হয় এটি স্বপ্ন বাস্তবে দেখতে পাবো কি না জানিনা।" স্কুলে যাওয়ার জন্য কোন রাস্তা ছিল না, তাই পাড়ার সবাই মিলে জমির আইল দিয়ে হেঁটে স্কুলে যাতায়াত করেছেন। তবে তার বাবা মোরহুম আব্দুল কুদ্দুস জীবিত থাকা অবস্থায় তিনি এবং তার চাচারা মিলে স্বেচ্ছাশ্রমে একটি রাস্তা তৈরি করেছেন, যা দিয়ে বর্তমানে গ্রামের ছেলে-মেয়েরা স্কুলে যাতায়াত করতে পারে।
গ্রামের মেয়ে শিক্ষক সীমা আকতার বলেন, "একটি গ্রাম অথবা একটি এলাকা উন্নয়ন করতে হলে প্রথমেই দরকার যোগাযোগ ব্যবস্থা।" তাই বিশ্বাসপুর গ্রামের মানুষকে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, চিকিৎসা ও যাতায়াতে ন্যূনতম সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে হচ্ছে। তিনি আশা করেন, "আপনার মাধ্যমেই স্ব স্ব কর্তৃপক্ষের নজরে এনে গুরুত্বপূর্ণ জন দুর্ভোগ সমাধানের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
বিশ্বাসপুর পশ্চিম পাড়া জামে মসজিদের ইমাম ধন মোহাম্মদ জানান, "বিশ্বাসপুর গ্রামে প্রবেশের কোনো পাকা রাস্তা নেই। কাঁচা রাস্তা সংস্কারে কত টিআর, কাবিটা আসে। কিন্তু এ বিশ্বাসপুর গ্রামের যাতায়াতের একমাত্র রাস্তা, অথচ রাস্তাটি এখনও অযত্নে অবহেলিত হয়ে রয়েছে।" তিনি দাবি করেন, "দ্রুততম সময়ে এই রাস্তাটি পাকা করা হোক।"
বিশ্বাসপুর গ্রামের উদীয়মান ব্যবসায়ী মোঃ হাসান আলী জানান, "যাতায়াতের রাস্তা না থাকায় উন্নয়ন বঞ্চিত বিশ্বাসপুর। ফুটকিবাড়ি মাদ্রাসা মোড় থেকে ভকদগাজি বাজার পর্যন্ত সেটেলমেন্ট রেকর্ডের ২০ ফিট প্রশস্ত খাস হালট রয়েছে।" তিনি জানান, "এ হালটে মাটি ফেলে রাস্তার দাবি বহুদিনের। রাস্তাটি হলে পটুয়া, ফুটকিবাড়ি, বাকুন্দা, বিশ্বাসপুরসহ আশেপাশের প্রায় ২০/২৫টি গ্রামের মানুষের সহজ যাতায়াত সম্ভব হতো।"
বিশ্বাসপুর গ্রামের স্কুল শিক্ষক মোঃ পাঞ্জাব আলী (মাস্টার) জানান, "এই এলাকার অধিকাংশ মানুষ দরিদ্র। শিক্ষা-দীক্ষা ও স্বাস্থ্য সচেতনতায় আমরা পিছিয়ে।" তিনি উল্লেখ করেন, "স্বাধীনতার ৬৬ বছরে উন্নয়নে দেশের অনেক কিছুই বদলে গেছে। আশপাশের গ্রামও বদলে গেছে। কিন্তু বদলে যায়নি বিশ্বাসপুর পশ্চিম পাড়া।" অশিক্ষা, বেকারত্ব, দারিদ্র্য ও অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা নিয়ে বিশ্বাসপুর অন্ধকারে ডুবে আছে। তিনি আশা করেন, "আমাদের চলাচলের এই একমাত্র রাস্তাটি পাকা করণ করা হলে আমাদের এলাকাটি উন্নত হবে।"
তবে ২০২৩ সালে স্থানীয়ভাবে নিজ উদ্যোগে মোরহুম কৃষক আব্দুল কুদ্দুস, পান্জাব আলী মাস্টার, মোঃ মোস্তফা সহ স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেদের চাষাবাদি ফসলি জমি স্বেচ্ছায় ছেড়ে দিয়ে স্কুল পড়ুয়া ছাত্র/ছাত্রীর যাতায়াত এবং ফসলী জমির ফসল আনা নেওয়া সহজ করতেই স্বেচ্ছাশ্রমে রাস্তা নির্মাণ করেছেন। তবে সে রাস্তায় এখনও সরকারি ভাবে কোন ধরনের এক মুঠো মাটিও দিয়ে দেখাশুনা করা হয়নি, অভিযোগ স্থানীয়দের।
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ মাবুদ হোসেনের সাথে আমাদের প্রতিনিধি মাসুদ রানা পলক কথা হলে তিনি জানান, "এই রাস্তাটির অবস্থা সম্পর্কে তিনি অবগত রয়েছেন।" তিনি বলেন, "বিষয়টি তিনি তার উচ্চতন কর্মকর্তার সাথে কথা বলে কিভাবে দ্রুততম সময়ে কাঁচা রাস্তাটি পাকা করণ করা যায় সে বিষয়ে জরুরী ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নীলফামারীর ডোমার সদর ইউনিয়নের মাঝাপাড়ায় সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৬টি পরিবারের খোঁজখবর নিয়েছেন নীলফামারী-১ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) অধ্যক্ষ আব্দুস সাত্তার। বৃহস্পতিবার (০৫ নভেম্বর) বিকেলে তিনি নিজে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং তাদের মাঝে জরুরি খাদ্য ও রান্নার সামগ্রী বিতরণ করেন।
এ সময় স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ এমপি মহোদয়ের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন— জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ও নীলফামারী শহর আমীর অধ্যাপক আনোয়ারুল ইসলাম, ডোমার উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর ও সদর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী খন্দকার আহমাদুল হক মানিক, সেক্রেটারি ও গোমনাতি ইউনিয়ন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মাওলানা রবিউল আলম, সহকারী সেক্রেটারি মো. সোহেল রানা, সাবেক উপজেলা সেক্রেটারি হাফেজ আব্দুল হক এবং সদর ইউনিয়ন আমীর মো. নুরুজ্জামানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
পরিদর্শন শেষে ক্ষতিগ্রস্তদের উদ্দেশ্যে এমপি অধ্যক্ষ আব্দুস সাত্তার বলেন, "ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব; এটি কোনো দান বা দয়া নয়, বরং দুর্দিনে আমাদের ভাইবোনদের জন্য সামান্য উপহার মাত্র। আজ আমাদের দলের পক্ষ থেকে এই সহযোগিতা প্রদান করা হলো। পাশাপাশি, খুব শীঘ্রই সরকারি সহায়তার ব্যবস্থা করে এই পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে আমি সর্বাত্মক চেষ্টা চালাব।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নওগাঁ জেলা জামায়াতে ইসলামীর নতুন আমীর নির্বাচিত হয়েছেন মাওলানা মো. মাহফুজুর রহমান। সংগঠনের সদস্যদের (রুকন) গোপন ভোটে তিনি আগামী ২০২৭-২০২৮ সেশনের জন্য জেলা আমির নির্বাচিত হন। তিনি এর আগে ঢাকা মহানগরী উত্তর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পাশাপাশি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নওগাঁ-৩ (মহাদেবপুর-বদলগাছী) আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
বুধবার (৪ নভেম্বর) বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ২০২৭-২০২৮ সেশনের জন্য দেশের ৭৭টি সাংগঠনিক জেলা ও মহানগর শাখার আমিরদের নাম ঘোষণা করে। ঘোষিত তালিকায় নওগাঁ জেলা শাখার আমির হিসেবে মাওলানা মো. মাহফুজুর রহমানের নাম রয়েছে।
দলীয় ও ব্যক্তিগত পরিচিতি অনুযায়ী, মাহফুজুর রহমান কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে তিনি ইসলামী ছাত্রশিবিরের ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যুক্ত হয়ে তিনি ঢাকা মহানগরী উত্তর শাখার সহকারী সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৩ সালেও তিনি এ দায়িত্বে ছিলেন বলে দলীয় পরিচিতিতে উল্লেখ রয়েছে। বর্তমানে তিনি জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নওগাঁ-৩ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন মাহফুজুর রহমান।
উল্লেখ্য, গত ২৪ অক্টোবর নওগাঁ সদর উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে জেলা জামায়াতের রুকন সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ওই সম্মেলনে ২০২৭-২০২৮ কার্যকালের জন্য জেলা আমির নির্বাচনের লক্ষ্যে সদস্যদের মতামত গ্রহণ করা হয়েছিল।
নতুন দায়িত্ব পাওয়ার মধ্য দিয়ে আগামী দুই বছরের জন্য নওগাঁ জেলা জামায়াতে ইসলামীর সাংগঠনিক নেতৃত্বের দায়িত্ব পালন করবেন মাওলানা মো. মাহফুজুর রহমান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সৈয়দপুরে আহমেদ প্লাইউড কোম্পানির মালিক পক্ষের উস্কানিতে রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়ক অবরোধ করে শ্রমিকরা। পরে স্থানীয় লোকজন ও আটকেপড়া যানবাহনের চালক-হেলপারদের প্রতিরোধে ভেস্তে যায় জনভোগান্তির ষড়যন্ত্র মুলক এই কর্মসূচী। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে কামারপুকুর ধলাগাছ এলাকায় এই ঘটনা ঘটেছে।
জানা যায়, আহমেদ প্লাইউড কোম্পানির নানা অনিয়ম দূর্নীতির অভিযোগের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ কাস্টমস এর রংপুর আঞ্চলিক অফিস কর্তৃপক্ষ গত ৩ নভেম্বর প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও ল্যাপটপ জব্দ করে নিয়ে যায়। এসময় কাস্টমসের লোকজনকে হেনস্তা করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এর প্রেক্ষিতে নিজেদের অপরাধ ঢাকতে শ্রমিকদের ব্যবহারের উদ্যোগ নেয় কোম্পানি কর্তৃপক্ষ।
এর অংশ হিসেবে প্রথমে মাত্র ৫ জন সংবাদ কর্মীকে ডেকে সংবাদ সম্মেলন করে। পরে তাদের পরামর্শেই শ্রমিকদের লেলিয়ে দেওয়া হয় সড়কে। এজন্য শ্রমিকদের বলা হয় কাস্টমস সব কাগজপত্র ও ল্যাপটপ নিয়ে যাওয়ায় এমাসে তোমাদের বেতন দেওয়া সম্ভব হবেনা। তাই আন্দোলনের মাধ্যমে প্রশাসনকে বাধ্য করে জব্দকৃত কাগজপত্র ও ল্যাপটপ ফেরত আনতে হবে।
এর প্রেক্ষিতে শ্রমিকরা ফ্যাক্টরী থেকে বেরিয়েই গেটের সামনে রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়কে বসে পড়ে। প্রায় ২ ঘন্টা ধরে তারা সড়ক অবরোধ করে রাখে। এসময় তারা বেতন পেতে নথিপত্র ফেরত দেওয়ার দাবি জানান। কিন্তু বেতনের জন্য মালিক পক্ষের কাছে দাবি না জানিয়ে সড়কে কেন জানতে চাইলে তারা বলেন কাগজপত্র না থাকায় বেতন দিতে পারছেন না বলে কর্তৃপক্ষ জানানোর কারণেই আমরা আন্দোলনে নেমেছি।
পরে এলাকার লোকজন ও ভোগান্তির শিকার শত শত গাড়ির চালক ও হেলপাররা ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানান। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে বাক বিতন্ডা হয়। এসময় এলাকাবাসী শ্রমিকদের বলেন, তোমরা বেতনের জন্য মালিককে না ধরে এভাবে সড়কে এসে সাধারণ মানুষকে দূর্ভোগে ফেলেছো। তোমাদের মালিক ভূল বুঝিয়েছে। এটা তাদের মিথ্যে অজুহাত। মালিক ইচ্ছে করলেই বেতন দিতে পারেন। তোমরা মালিকের কাছেই দাবি জানাও।
তাছাড়া প্রশাসন কোম্পানির অনিয়ম দূর্নীতির তদন্ত করতেই কাগজপত্র ও ল্যাপটপ নিয়ে গেছে। এটা যদি আইন বিরোধী হয় তাহলে মালিক যথাযথ পদক্ষেপ নিতে পারেন। কিন্তু তা না করে তোমাদেরকে ব্যবহার করে ঘটনা ভিন্ন খাতে প্রবাহের অপচেষ্টা করছে। এসময় মালিক পক্ষের শ্রমিকদের উপর অকারণে নানা নির্যাতন ও মজুরি বৈষম্যের বিষয় তুলে ধরলে শ্রমিকরা তাদের ভুল বুঝতে পারে এবং কর্মসূচী সমাপ্ত করার উদ্যোগ নেয়। তবে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া কয়েকজন তা মেনে নিতে অনিহা প্রকাশ করেন। এতে চালকরা জোর করেই গাড়ি চালিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন এবং একযোগে গাড়ি চালু করে এগিয়ে যায়। এমতাবস্থায় শ্রমিকরা ছত্রভঙ্গ হয়ে সড়ক থেকে সরে যায়।
এলাকার লোকজন সাংবাদিকদের বলেন, এই ফ্যাক্টরী আমাদের জমিতেই গড়ে উঠেছে। অথচ স্থানীয়দের এখানে কাজে নেওয়া হয়না। তাছাড়া শ্রমিকদের চরম অত্যাচার করে। ভ্যাট ট্যাক্স ফাঁকি দিতে রাতের আঁধারে শত শত ট্রাক ভরে মালামাল সরানো হয়। এজন্যই কাস্টমস কাগজপত্র ও ল্যাপটপ জব্দ করেছে। জমি কেনার ক্ষেত্রেও এলাকার লোকজনকে বাধ্য করা হয়েছে। আজ একইভাবে শ্রমিকদের উস্কে দিয়ে প্রশাসনের বিরুদ্ধে মিথ্যে অপপ্রচার চালাচ্ছে এবং জন মানুষকে দূর্ভোগে ফেলেছে। এর দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।
আহমেদ প্লাইউড কোম্পানির মহা ব্যবস্থাপক এ কে এম সাইফুল ইসলাম বলেন, আমরা শ্রমিকদের সড়কে নামাইনি। বরং কাস্টমস ইচ্ছেকৃতভাবে আমাদের উপর অন্যায় করেছে। মূলত: সরকারকে বিব্রত করতেই কাস্টমস এর ভেতরে থাকা সরকার বিরোধীরা এমন করেছে। এজন্য আমরা শ্রমিকদের বেতন দিতে পারছিনা। তাই শ্রমিকরা আন্দোলন করছে। কাস্টমসের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা না নিয়ে এভাবে শ্রমিকদের উস্কে দিয়েছেন কেন? জানতে চাইলে তিনি বলেন, সেটা তো অনেক সময়ের ব্যাপার।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ