ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

কুবিতে গাঁজাসহ দেড় বছর আগে আটক ছেলেটি ফাহাদ নয়, দাবি মাহিমের


কুবিতে গাঁজাসহ দেড় বছর আগে আটক ছেলেটি ফাহাদ নয়, দাবি মাহিমের

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যা মামলার অন্যতম আসামি মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ছবি ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে দেখা যায়, দেড় বছর আগে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে গাঁজাসহ সাত কিশোরকে আটক করা হয়েছিল।

ছবিতে একজনকে ফাহাদ বলে দাবি করা হলেও পরিবারের সদস্য এবং তৎকালীন সহকারী প্রক্টর জানিয়েছেন, ছবির ছেলেটি ফাহাদ নয়, বরং তিনি মাহিম। এ বিষয়ে মাহিম নিজেও একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেছেন।

জানা গেছে, ২০২৫ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের লালন চত্বর থেকে সাত কিশোরকে গাঁজাসহ আটক করা হয়। ওই সময় ছবিটি দেখে তৎকালীন সহকারী প্রক্টর জানিয়েছিলেন, ছবির ছেলেটি ফাহাদ। অপ্রতিমের বাবা কেএম ফিরোজ শাহরিয়ারও একই দাবি করেছিলেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসে সংবাদ প্রকাশিত হয়। তবে পরবর্তীতে তৎকালীন সহকারী প্রক্টর জানান, ছবির ছেলেটি ফাহাদ নয়, তিনি মাহিম।

আরও পড়ুন: জিয়ানগরে ইউপি নির্বাচনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী আব্দুল জলিল শেখের সমর্থকদের নিয়ে জনসংযোগ ও পথসভা

সেই সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টরের দায়িত্বে ছিলেন অপ্রতিমের মা ড. নাহিদা বেগম। তিনি বলেন, "ভারপ্রাপ্ত প্রক্টরের দায়িত্ব পালনকালে আমি অনেক মাদকসেবী ও মাদককারবারিকে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছি। ওই ঘটনার কারণে আমার ছেলে অপ্রতিমকে টার্গেট করা হয়ে থাকলে আমি তা মেনে নেব না।"

জানা গেছে, সাত কিশোরকে গাঁজাসহ আটকের ঘটনায় নেতৃত্ব দেন তৎকালীন কুবির ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর ড. নাহিদা বেগম। এ সময় দুই সহকারী প্রক্টর মাহমুদুল হাসান রাহাত ও মুতাসিম বিল্লাহ উপস্থিত ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উপস্থিতিতে জব্দ করা গাঁজাও ধ্বংস করা হয়েছিল।

ঘটনার প্রায় দেড় বছর পর গত শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লার কোটবাড়ির গন্ধমতী এলাকার ভাড়া বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় ড. নাহিদা বেগমের ছেলে অপ্রতিম। পরদিন শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের নির্জন জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। অপ্রতিম কুমিল্লা বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে ফাহাদও রয়েছে। তবে দেড় বছর আগে কুবিতে গাঁজাসহ আটক হওয়ার ছবিতে থাকা ছেলেটি ফাহাদ নয় বলে জানিয়েছেন মাহিম। অপ্রতিম হত্যা মামলায় গ্রেফতার তিন আসামি ইতোমধ্যে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

আরও পড়ুন: চলতি বছরে ৯ মাসে ‘মব’ সহিংসতায় নিহত ১৮৭ জন

ভিডিও বার্তায় মাহিম যা বললেন

ভিডিও বার্তায় মাহিম বলেন, ‘২০২৫ সালে ভার্সিটির একটা কনসার্ট ছিল। কনসার্টে আমরা গিয়েছিলাম। তারপর আমরা বন্ধুরা পাহাড়ের উপরে উঠছিলাম একটু আড্ডা দেব, গানটান করব—এই হিসেবে। তারপর ম্যাম (ড. নাহিদা বেগম) এসে অভিযান চালিয়েছিলেন। আমাদের কাছ থেকে কিছু পাননি। সেখান থেকে একটু দূরে পেয়েছিলেন। এরপর ম্যাম এসে আমার কাছ থেকে মুচলেকা নিয়েছিলেন। নেওয়ার পর বলেছিলেন, তোমাদের পরীক্ষা সামনে। এরপর অভিভাবক ডেকে আমাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল।’

তিনি আরও বলেন, ‘এখন ওই নিউজটা আবার ছাড়তেছে। আর ওই ছবির ভেতরে আমি মাহিম ছিলাম, কোনো ফাহাদ না। ওইটা আমার ছবি ছিল। আর ওদের সঙ্গে যে তুহিন, তারপরে ফাহাদ, আরও কে কে—ওদের সঙ্গে আমার কোনো যোগাযোগ নেই। ওদের আমি চিনিও না।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন সহকারী প্রক্টর মুতাসিম বিল্লাহ বলেন, ‘মাহিমের পরিবার আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। তারা বলেছে, এটা ফাহাদ না। এটা মাহিম।’

আরও পড়ুন: ফরিদগঞ্জে জালটাকা দিয়ে কেনাকাটার অভিযোগে ৪ নারী আটক

২০২৫ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি কুবি ক্যাম্পাসের লালন চত্বর থেকে গাঁজাসহ আটক হওয়ার একটি ছবি প্রতিনিধির হাতে এসেছে। ছবিতে একজনকে চেক শার্ট, ট্রাউজার ও সাদা-কালো শীতের পোশাক পরা অবস্থায় দেখা যায়। ছবিটিকে শুরুতে কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট অনেকে ফাহাদের ছবি বলে জানিয়েছিলেন। পরে জানা যায়, ছবির ছেলেটি মাহিম।

এর আগে গণমাধ্যমকে ড. নাহিদা বেগম বলেছিলেন, প্রক্টরিয়াল টিমের নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে আজ আমরা মাদকসহ এ সাতজনকে আটক করেছি। তাদের ভাষ্যমতে, সবার বয়স ১৮ বছরের কম। ভবিষ্যতে তারা যাতে কোনো বড় অপরাধে জড়িত না হয়, সেজন্য মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকদের হাতে তাদের হস্তান্তর করা হয়েছে।

ফাহাদকে নিয়ে ভিন্ন বক্তব্য

মামলার আসামি মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের সালমানপুর (মেম্বার বাড়ি) এলাকার মমিন হোসেন ও জুলি আক্তারের ছেলে। তার বাবা অটোরিকশাচালক। ফাহাদ ময়নামতি কারিগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

আরও পড়ুন: রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে পশু চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য সহকারীর হাতে প্রসব, নবজাতকের মৃত্যু

জানা যায়, চলতি মাসের ২ তারিখে অপ্রতিমের বাবা কেএম ফিরোজ শাহরিয়ারের ইলেকট্রিক অফিসে চাকরি নেয় ফাহাদ। তিনি বলেছিলেন, দেড় বছর আগে কুবিতে গাঁজাসহ আটকের সময় সাত কিশোরের সঙ্গে থাকা ছেলেটিই ফাহাদ।

তবে ফাহাদের মা জুলি আক্তার এ দাবি অস্বীকার করে বলেন, ‘এখানে ফাহাদ নেই।’ যদিও তৎকালীন সহকারী প্রক্টর মুতাসিম বিল্লাহ বলেছিলেন, ‘এটা ফাহাদ। তারা সবাই মুচলেকা দিয়ে প্রক্টর অফিস থেকে গিয়েছে। তাদের পরিবারের লোকজনও এসেছিল।’ পরে তিনি এ বক্তব্য সংশোধন করেন।

‘আমার ছেলেকে অপরাধী বানানোর চেষ্টা হচ্ছে’

এদিকে মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির নেতারা অপ্রতিমের বাসায় গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানান। এ সময় ড. নাহিদা বেগম বলেন, ‘আমার ছেলেকে বিভিন্ন আইডি থেকে ব্লেম করা হচ্ছে। আমার ছেলে কিছু বোঝে? আমার দুধের শিশুকে অপরাধী বানাতে চাইলে আমি এটা কখনই মেনে নেব না। আমি শুধু আমার ছেলের জন্য বিচার চাই না। যারা আমার ছেলেকে হত্যা করেছে, তারা জেল থেকে বের হলে আরও কত বাচ্চার জীবন নেবে, কত বাচ্চার জীবন ধ্বংস করবে—সেটা নিয়েও আমি চিন্তিত। আমি চাই, এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার হোক।’

আরও পড়ুন: শশীভূষণে মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া স্মৃতি গোল্ড কাপ ফুটবল টুনামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত

ড. নাহিদা বেগম আরও বলেন, বিভিন্ন ফেসবুক আইডি থেকে নানা উপায়ে অপ্রতিমকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। ২০২৫ সালের শুরুতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টরের দায়িত্ব পালনকালে তিনি অনেক মাদকসেবী ও মাদক কারবারিকে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন। ওই ঘটনার কারণে তার ছেলেকে টার্গেট করা হয়ে থাকলে তিনি তা মেনে নেবেন না।

তিনি বলেন, আমার কোনো দোষ থাকলে আমাকে শাস্তি দেওয়া হোক। মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যদি আমার অপরাধ হয়, তাহলে তার শাস্তি আমি পাব। আমার ছেলে কেন এর শাস্তি পাবে? আমার ছেলেকে কেন মেরে ফেলা হলো? আমার ছেলেকে তাদের সঙ্গে জড়িয়ে বোঝানোর চেষ্টা করা হচ্ছে, সেও তাদেরই একজন। অথচ আমার ছেলে নিষ্পাপ, ছোট বাচ্চা। সে এসবের কিছুই বোঝে না।

এ সময় কুমিল্লার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌসুলি (পিপি) কাইমুল হক রিংকু, সরকারি আইন কর্মকর্তা (জিপি) তারেক আবদুল্লাহ, কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি শহীদ উল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবুল হক খন্দকার এবং সাবেক সভাপতি শরীফুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন: চসিক মেয়র শারদ সম্মাননায় সেরা ৫ পূজামণ্ডপের নাম ঘোষণা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পটিয়ার অপরাধ জগত নিয়ন্ত্রণকারী ‘বালু সাইফু’ গ্রেফতার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১০:৫৪ পি.এম


পটিয়ার অপরাধ জগত নিয়ন্ত্রণকারী ‘বালু সাইফু’ গ্রেফতার

চট্টগ্রামের পটিয়ায় কুখ্যাত সন্ত্রাসী সাইফুদ্দিন, যিনি সাইফুল ইসলাম নামেও পরিচিত এবং ‘বালু সাইফু’ নামে পরিচিত, অবশেষে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছেন। পটিয়ায় ৪ আগস্ট ছাত্র-জনতার ওপর সরাসরি গুলিবর্ষণসহ তার বিরুদ্ধে মোট ১৩টি মামলা এবং গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে।

বুধবার ভোর ৩টা ৪৫ মিনিটে উপজেলার হাইদগাঁও ইউনিয়নের পূর্ব হাইদগাঁও এলাকায় গভীর রাতে তার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

সাইফুদ্দিন পটিয়া উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের সাবেক সহ-সম্পাদক এবং হাইদগাঁও ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ আমলের এমপি সামশুল হক চৌধুরীর সময়ে ‘বালু সাইফু’ অপরাধ জগত নিয়ন্ত্রণের সুযোগ পাননি। তবে ২০২৪ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দক্ষিণ জেলা সভাপতি মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরী জয়ী হওয়ার পর তিনি এবং তার কয়েকজন সহযোগী পটিয়ার অপরাধ জগত নিয়ন্ত্রণে নিয়োজিত হন।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সাইফুদ্দিনের বিরুদ্ধে অপহরণ, চাঁদাবাজি, মারামারি, মাদক এবং বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে ১৩টি মামলা রয়েছে। ২০২৪ সালের ২০ ও ২৭ আগস্ট দায়ের করা পৃথক দুটি মামলায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের ধারায় এবং একই বছরের ১ নভেম্বর দায়ের করা মামলায় হত্যাচেষ্টা, মারধর, চুরি, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের বিভিন্ন ধারায় তাকে আসামি করা হয়েছে।

আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পরেও সাইফুদ্দিন পাহাড়ে অবস্থান নিয়ে বীরদর্পে অপকর্ম চালিয়ে গেছেন। তিনি প্রতিনিয়ত ফেসবুকে সরকারবিরোধী অপপ্রচার ও উসকানি দিয়েছেন। তাকে নিয়ে পটিয়ার রাজনীতিবিদ ও প্রশাসন অস্বস্তিতে ছিল। পটিয়া থানার পাশাপাশি বিভিন্ন থানা পুলিশ তাকে গ্রেফতারে একাধিকবার চেষ্টা চালালেও ব্যর্থ হয়েছিল।

স্থানীয়দের মতে, আওয়ামী লীগের সরকার পতনের পরেও সাইফুদ্দিন পটিয়ায় চোলাই মদের ব্যবসা, পাহাড়ে জমি এবং বাগান মালিকদের জিম্মি করে মাসিক হারে চাঁদাবাজি সহ নানা অপরাধমূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিল। পটিয়া ও রাঙ্গুনিয়া সীমান্তের পাহাড়ের তিকুরাপাড়া এলাকায় তার একটি বিশাল চোলাই মদের কারখানা রয়েছে। সেখান থেকে মদের চালান বিকাল বেলা পটিয়ার পাহাড়ের পাদদেশে এনে সন্ধ্যার পর বিভিন্ন বাহনে পটিয়া, বোয়ালখালী, আনোয়ারা ও চন্দনাইশের একাংশে বিতরণ করা হতো। তার নেতৃত্বে পাহাড়ের ১০-১২ জনের একটি সশস্ত্র সন্ত্রাসী গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে। তাদের মাসিক হারে চাঁদা না দিলে কোনো বাগান মালিক বা তাদের শ্রমিকরা সেখানে যেতে পারেন না। চাঁদা না দিলে পাহাড়ে গেলে তাদের অপহরণ করে মোটা অংকের চাঁদা আদায় করা হয়।

ওসি জিয়াউল হক জানিয়েছেন, সাইফুদ্দিনের বিরুদ্ধে পটিয়া থানায় ১৩টি মামলা রয়েছে। তাকে গ্রেফতারের পর আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাদিও মানের ২৫০ কোটি টাকার প্রকল্প উদ্বোধন, বদলে যেতে পারে হাজারো জীবন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:০৭ পি.এম


সাদিও মানের ২৫০ কোটি টাকার প্রকল্প উদ্বোধন, বদলে যেতে পারে হাজারো জীবন

ফুটবল মাঠে গোল করে মানুষের হৃদয় জয় করার পাশাপাশি, মাঠের বাইরেও নিজের শিকড়ের মানুষের জন্য একের পর এক কাজ করে চলেছেন সাদিও মানে। এবার তিনি জন্মস্থান সেনেগালের বাম্বালিতে ২৪৬ কোটি টাকার বিশাল কৃষি প্রকল্প নিয়ে এসেছেন।

সেনেগালের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এপিএসের তথ্য অনুযায়ী, মানের উদ্যোগে ‘এসএম১০ অ্যাগ্রো’ নামে এই প্রকল্পে বিনিয়োগ করা হচ্ছে ১১৭০ কোটি সিএফএ ফ্রাঁ, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ২৫০ কোটি টাকার সমান।

গত ১৯ সেপ্টেম্বর, সাদিও মানে নিজ গ্রাম বাম্বালিতে প্রকল্পটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন কাজের উদ্বোধন করেন। সেখানে ৫০০ হেক্টর জমিতে গড়ে উঠবে আমের বাগান, যেখানে প্রায় ৭৮ হাজার আমগাছ লাগানো হবে।

এছাড়া, প্রকল্পটিতে আম বাছাই, সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য একটি কারখানা, কৃষি প্রশিক্ষণকেন্দ্র এবং গবেষণা ও উন্নয়ন সুবিধা থাকবে। এই প্রকল্পটি শুরুতে ১ হাজারের বেশি কর্মসংস্থান তৈরি করবে এবং দীর্ঘ মেয়াদে এই সংখ্যা আড়াই হাজারে পৌঁছানোর লক্ষ্য রয়েছে।

নিজের এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য সম্পর্কে মানে বলেছেন, ‘আমি চাই আমাদের মাটির সম্পদ আমাদের কাছেই থাকুক। এই সম্পদ থেকে যে আয় হবে, তা সবার আগে আমাদের মানুষের উপকারে আসুক।’

সৌদি ক্লাব আল নাসরে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর সতীর্থ হিসেবে খেলা মানে আরও জানান, ‘এই প্রকল্প শুধু সংখ্যার বিষয় নয়। আমি চাই আমাদের অঞ্চলের তরুণ ও নারীরা এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাক। এ কারণেই প্রকল্পের সঙ্গে একটি প্রশিক্ষণকেন্দ্র রাখা হয়েছে, যাতে আধুনিক কৃষিপদ্ধতি শেখানো যায়।’

বাম্বালির মানুষের উদ্দেশে মানের বার্তা আরও স্পষ্ট, ‘এই প্রকল্প আপনাদের। আমি এটি আপনাদের হাতে তুলে দিচ্ছি। নিজেদের প্রকল্প মনে করে এটিকে এগিয়ে নিন। আপনারাই এটি পরিচালনা করবেন।’

এর আগে, সাদিও মানে বাম্বালিতে স্কুল, মসজিদ, হাসপাতাল ও পেট্রোল স্টেশনসহ বিভিন্ন সামাজিক অবকাঠামোতে টাকা দিয়েছেন। এবার তার লক্ষ্য শুধুমাত্র দান করা নয়, বরং স্থানীয় সম্পদকে কাজে লাগিয়ে দীর্ঘমেয়াদি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আনা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জাতিসংঘে ইরানের বার্তা: পারমাণবিক প্রযুক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার ও হামলার নিন্দা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:০৮ পি.এম


জাতিসংঘে ইরানের বার্তা: পারমাণবিক প্রযুক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার ও হামলার নিন্দা

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ সামরিক হামলাকে সম্পূর্ণ বেআইনি বলে উল্লেখ করে এর কড়া নিন্দা জানিয়েছেন।

তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে স্পষ্টভাবে জানান, ইরান কোনো ধরনের হুমকি বা চাপের কাছে মাথা নত করবে না। প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান আরও বলেন, ইরান পারমাণবিক প্রযুক্তি চায় অগ্রগতির জন্য, অন্য দেশ বা সমাজকে হুমকি দেওয়ার উদ্দেশ্যে নয়।

ভাষণে তিনি উল্লেখ করেন, ইরান নিরাপত্তার জন্য সহযোগিতা ও সমন্বয়ে আগ্রহী। একইসাথে, তিনি পারমাণবিক প্রযুক্তির ওপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এবং ইরানকে ঘিরে নেতিবাচক প্রচারের সমালোচনা করেন।

পেজেশকিয়ান বলেন, "আমরা অগ্রগতির জন্য জ্বালানি চাই।" তিনি কৃষি ও বিভিন্ন শিল্পের উন্নয়ন এবং বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক প্রযুক্তির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

তিনি আরও বলেন, পারমাণবিক প্রযুক্তি কিছু দেশের একচেটিয়া অধিকার হতে পারে না। ইরান তার অধিকার থেকে সরে যাবে না এবং মাথা নত করবে না। তিনি স্পষ্ট করে উল্লেখ করেন, "পারমাণবিক অস্ত্র নয়, তবে শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক প্রযুক্তির ওপর কোনো সীমাবদ্ধতাও নয়।"

ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, শান্তি যুদ্ধক্ষেত্রে অর্জিত হবে না, তবে ইরানের জনগণ ও রাষ্ট্রের জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

পেজেশকিয়ান দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়েও বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, হামলা থেকে নিজেদের সুরক্ষার জন্য ইরানকে শক্তিশালী হতে হবে, যাতে কেউ দেশটির বর্তমান বা ভবিষ্যৎকে হুমকির মুখে ফেলতে না পারে।

তিনি উল্লেখ করেন, ইরানের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা এমনভাবে গড়ে তোলা হয়েছে, যাতে কেউ মনে না করে যে দেশটির শহরগুলোতে বোমা হামলার জবাব দেওয়া হবে না। এই কারণেই ইরানের সামরিক শক্তি মূলত প্রতিরক্ষার জন্য।

এসময় তিনি কোনো আইনি ভিত্তি ছাড়া ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যার বিষয়টি তুলে ধরেন এবং যুদ্ধের প্রথম দিনেই মার্কিন বিমান হামলায় নিহত শিশুদের ছবি বিশ্ব নেতাদের সামনে প্রদর্শন করেন। পেজেশকিয়ান বলেন, "আমি এমন এক ইরান থেকে এসেছি যেখানে কোনো আইনি ভিত্তি বা কারণ ছাড়াই আমাদের শ্রদ্ধেয় সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যা করা হয়েছে।"

তিনি যুদ্ধের প্রথম দিনে ইরানের মিনাব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মার্কিন বিমান হামলায় নিহত কোমলমতি শিশুদের ছবি নিজের হাতে পডিয়ামে তুলে ধরে আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচার দাবি করেন। পেজেশকিয়ান অভিযোগ করেন, আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের বিশ্ববিদ্যালয়, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, হাসপাতাল ও অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।

তিনি জানান, গত ২০০ বছরে ইরান কোনো দেশে হামলা চালায়নি, অথচ এখন তেহরানকে আঞ্চলিক অস্থিরতার উৎস ও সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। নিজেদের রক্ষা করতে ইরান পূর্ণ শক্তিতে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে, তবে সাধারণ নাগরিকদের লক্ষ্য করে কখনো হামলা চালায়নি। তেহরান নিজেদের রক্ষায় কোনো প্রতিরোধ বা ব্যবস্থা নিতে কারোর অনুমতি বা অনুমোদনের প্রয়োজন মনে করে না।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সিটি ব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তা ছগীরের ২ বছরের কারাদণ্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:০৮ পি.এম


সিটি ব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তা ছগীরের ২ বছরের কারাদণ্ড

গ্রাহকের হিসাব থেকে অর্থ আত্মসাৎ করার অভিযোগে সিটি ব্যাংকের সাবেক এক্সিকিউটিভ অফিসার ও এসোসিয়েট কাস্টমার সার্ভিস ম্যানেজার শাহ মোহাম্মদ ছগীরকে দুই বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেছে আদালত। জালিয়াতি ও প্রতারণার মাধ্যমে এ অর্থ আত্মসাৎ করার অভিযোগে তাকে দণ্ডিত করা হয়েছে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এর বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন এ রায় ঘোষণা করেন। মামলার নথি থেকে জানা যায়, গ্রাহকের অজান্তে চেক চুরি করে এবং জালিয়াতি করে ডেবিট কার্ড ইস্যুর মাধ্যমে ২ লাখ ৭২ হাজার ৩৩৫ টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাকে এ দণ্ড দিয়েছেন। আত্মসাৎ করা অর্থ জরিমানা করে ওই গ্রাহককে ফেরত দিতে বলা হয়েছে রায়ে।

এছাড়া, দণ্ডবিধির ৪৬৭ ধারায় তাকে আরো ২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাকে আরো ২ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী উভয় দণ্ড একত্রে কার্যকর হবে।

মামলার এজাহার ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চার্জশিট থেকে জানা যায়, শাহানা বেগম নামের এক গ্রাহকের হিসাব থেকে অভিযুক্ত কর্মকর্তা প্রথমে একটি চেক পাতা (নম্বর- ৩২৫৩২৬) চুরি করেন। এরপর ওই চেকের মাধ্যমে গ্রাহকের জাল স্বাক্ষর দিয়ে ২০১৫ সালের ৩১ আগস্ট ব্যাংক থেকে ৪০ হাজার টাকা উত্তোলন করেন।

প্রতারণা শুধু চেকের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। গ্রাহকের অজান্তে তার নামে একটি ডেবিট কার্ড ইস্যু করার জন্য যাবতীয় কাগজপত্র ও ফরমে গ্রাহকের জাল স্বাক্ষর দেন তিনি। পরে ওই কার্ড ও পিন নম্বর নিজের হস্তগত করে এটিএম থেকে ১ লাখ ২০ হাজার ৪৫ টাকা এবং পয়েন্ট অব সেলস মেশিনে ট্রানজেকশনের মাধ্যমে ১ লাখ ১২ হাজার ২৯০ টাকা তুলে নেন। সব মিলিয়ে তিনি ২ লাখ ৭২ হাজার ৩৩৫ টাকা আত্মসাৎ করেন।

গ্রাহক বিষয়টি বুঝতে পেরে ব্যাংকে অভিযোগ করলে অভ্যন্তরীণ তদন্তে জালিয়াতির প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যায়। এর পর সিটি ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাকে চাকরিচ্যুত করে।

পরবর্তীতে ২০১৭ সালের ৯ জানুয়ারি সিটি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের লিগ্যাল ডিভিশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট এ.কে.এম আইয়ুব উল্যা বাদী হয়ে চকবাজার মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি তদন্ত করে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সহকারী পরিচালক নূরুল হুদা আদালতে চার্জশিট জমা দেন। ২০২৫ সালের ১৮ মার্চ চার্জগঠন করা হয়। এরপর মামলার বিচার চলাকালে ১২ জনের মধ্যে সাক্ষ্য দিয়েছেন ৯ জন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫১
মাগরিব ০৫:২৮
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%