১২:১৪ পি.এম
জেন্ডার-সংবেদনশীল পুলিশি ব্যবস্থা ও সহায়তা পরিষেবা জোরদারে বাংলাদেশ পুলিশ উইমেন নেটওয়ার্ক (বিপিডব্লিউএন) এক কর্মশালার আয়োজন করেছে।
দেশব্যাপী চলমান কর্মসূচীর অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার রংপুরে এই কনসাল্টেশন কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়।
জেলা পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারে ‘বিপিডব্লিউএন কৌশলগত পরিকল্পনা ২০২৪-২০২৭ বাস্তবায়ন’-এর আওতায় এ আয়োজন করা হয়।
আরও পড়ুন: শাকিলের জানাজায় এমপির বিরুদ্ধে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান
দিনব্যাপী কর্মশালায় রংপুর বিভাগ ও রেঞ্জের ৭৮ জন পুলিশ কর্মকর্তা এবং ঊর্ধ্বতন নেতৃবৃন্দ অংশ নেন।
কর্মশালায় বিপিডব্লিউএন ও এর কৌশলগত পরিকল্পনার (২০২৪-২০২৭) সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করেন ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (এমটি এবং কর্মশালা) এবং বিপিডব্লিউএন’-এর সহ সভাপতি শামসুন্নাহার।
কর্মক্ষেত্রে জেন্ডার রেসপনসিভ পুলিশিং ও যৌন হয়রানি প্রতিরোধ বিষয়ে সেশন পরিচালনা করেন ইউএন-এর উইমেন প্রতিনিধি সাদিয়া তাসনীম।
প্রযুক্তিনির্ভর জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা (টিএফজিবিভি) ও ডিজিটাল নিরাপত্তা বিষয়ে সেশন পরিচালনা করেন ঢাকাস্থ পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ইউএন অপারেশনস) ফাতেমা-তুজ-জোহরা।
আরও পড়ুন: কক্সবাজারে নকল ব্যান্ডরোলযুক্ত সিগারেট জব্দ, মূল্য ২৭ লাখ টাকা
পুলিশ সদস্যদের মানসিক চাপ ব্যবস্থাপনা ও মানসিক সুস্থতা নিয়ে সেশন পরিচালনা করেন পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফরিদা পারভীন।
তারা বিপিডব্লিউএন কৌশলগত পরিকল্পনার মূল ক্ষেত্রগুলো, কর্মজীবনের ভারসাম্য বজায় রাখার উপায়, ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং প্রযুক্তি-সহায়তায় জেন্ডার-ভিত্তিক সহিংসতা মোকাবিলার উপায় নিয়ে বিষয়ভিত্তিক আলোচনা করেন।
ইউএন উইমেন প্রতিনিধি সাদিয়া তাসনীম কর্মশালায় জেন্ডার-সংবেদনশীল পুলিশি কার্যক্রম এবং কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি প্রতিরোধের পদক্ষেপগুলো তুলে ধরেন।
কর্মশালায় রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি আমিনুল ইসলাম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: জামায়াতের মহিলা বিভাগের প্রতিবাদ: নারী উদ্যোক্তা সাথী আক্তার গ্রেপ্তার
তিনি বলেন, দক্ষতা, যোগ্যতা ও আত্মবিশ্বাসের মাধ্যমে নারী পুলিশ সদস্যদের নিজেদের এমনভাবে প্রস্তুত করতে হবে যাতে তারা যথাযথ দায়িত্ব পালন ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে পারেন।
তিনি আরও বলেন, কর্মক্ষেত্রে নারী পুলিশ সদস্যরা একই প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন এবং একই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। তাই দায়িত্ব পালনে তাদের সক্ষমতা প্রমাণের জন্য প্রয়োজন কেবল সাহস ও আত্মবিশ্বাস।
তিনি তার বক্তব্যে পুরুষের পাশাপাশি নারীদের পরস্পরের প্রতি সহানুভূতিশীল থাকার পরামর্শ দেন।
এসময় তিনি কর্মক্ষেত্রে নারীবান্ধব পরিবেশ তৈরির ক্ষেত্রে পুরুষ সহকর্মীদের উৎসাহিত করেন।
আরও পড়ুন: চুয়াডাঙ্গায় মাটির নিচে ঘাঁটি গেড়ে সাধনা করছেন নারী লাভলী শাহ ফকির রানী
কর্মশালায় গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের পুলিশ কমিশনার আবদুল মাবুদ।
তিনি তার বক্তব্যে নারীদের উপযোগী কর্মপরিবেশ নিশ্চিতের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
বিপিডব্লিউএন-এর সহসভাপতি শামসুন্নাহার বলেন, ‘বিপিডব্লিউএন আন্তর্জাতিক সর্বোত্তম অনুশীলনের আলোকে নারী পুলিশ সদস্যদের জন্য নিরাপদ ও সহায়ক কর্মপরিবেশ নিশ্চিতকরণে এবং তাদের কার্যকর অংশগ্রহণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করছে।’
তিনি আরও বলেন, উক্ত উদ্দেশ্যে নারী সদস্যদের দক্ষতা, নেতৃত্ব ও পেশাগত সক্ষমতা উন্নয়নে তারা একটি নেটওয়ার্ক হিসেবে সম্মিলিতভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
আরও পড়ুন: ঈশ্বরদীতে বাড়িঘর ভাঙচুর-লুটপাট, খোলা আকাশের নিচে দুই পরিবার
ইউএন উইমেন এবং বিপিডব্লিউএন নারী পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা তৈরি এবং পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নে যৌথভাবে কাজ করে আসছে। যার মধ্যে বাংলাদেশে নারী ও মেয়েদের জন্য জেন্ডার-সংবেদনশীল পুলিশিং এবং ভুক্তভোগী-কেন্দ্রিক জেন্ডার-ভিত্তিক সহিংসতা (জিবিভি) সেবা শক্তিশালীকরণ অন্তর্ভুক্ত।
ইউএন উইমেন প্রতিনিধি সাদিয়া তাসনীম বলেন, আমাদের নিজেদের অবচেতন মনে কাজ করা বৈষম্যমূলক মনোভাব দূর করা এবং সারভাইভার-কেন্দ্রিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা নারীদের জন্য উপযুক্ত কর্মপরিবেশ নিশ্চিতে সহায়ক।
তিনি আরও বলেন, বিপিডব্লিউএন-এর লক্ষ্য ও করণীয় সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা অর্জন এবং নিজেদের ও সেবাগ্রহীতা জনগোষ্ঠীর কল্যাণে কার্যকর সমাধান খুঁজে বের করার জন্য এ ধরণের মতবিনিময় কর্মশালা চমৎকার মাধ্যম।
কর্মশালায় উপস্থিত পুলিশ কর্মকর্তারা জেন্ডার-রেসপনসিভ পুলিশিং, যৌন হয়রানি, সাইবার নিরাপত্তা, মানসিক স্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার দেওয়া, এবং প্রতিকারের বিষয়গুলো নিয়ে মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন।
আরও পড়ুন: চীনে পাচারের চেষ্টা, ১২ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নারী উদ্ধার
উল্লেখ্য, ইউএন উইমেন দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ পুলিশ ও বিপিডব্লিউএন-এর সঙ্গে কাজ করছে।
বর্তমানে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে ইউএন উইমেনের বাংলাদেশে চলমান ‘এন্ডিং সেক্সুয়াল অ্যান্ড জেন্ডার-বেসড ভায়োলেন্স ইন পাবলিক স্পেসেস, ওয়ার্কপ্লেসেস অ্যান্ড ইন টারশিয়ারি এডুকেশনাল ইনস্টিটিউশনস ইন বাংলাদেশ (ইএসজিবিভি)’ প্রকল্পে বাংলাদেশ পুলিশ ও বিপিডব্লিউএন অন্যতম প্রধান অংশীদার হিসেবে যুক্ত রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন