ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

১২৭৮ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দিলেন গয়েশ্বর–আমান


১২৭৮ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দিলেন গয়েশ্বর–আমান

ঢাকার কেরানীগঞ্জ উপজেলায় নিম্ন আয়ের ও সুবিধাবঞ্চিত ১ হাজার ২৭৮ পরিবারের মাঝে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৭ জুন) বিকেলে কেরানীগঞ্জ উপজেলা চত্বর ও তেঘরিয়া ইউনিয়নের বাঘৈর বটতলা এলাকায় পৃথক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এসব কার্ড বিতরণ করা হয়।

সমাজসেবা অধিদপ্তরের আয়োজনে বিরতি অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য এবং ঢাকা-২ আসনের সংসদ সদস্য আমান উল্লাহ আমান। এছাড়াও, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং ঢাকা-৩ আসনের সংসদ সদস্য বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ও উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন: ইনানীতে ৪২ ঘণ্টা ধরে জ্বলছে আগুন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি

কেরানীগঞ্জ উপজেলা চত্বরে সমাজসেবা অধিদপ্তরের আয়োজনে এই ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম। প্রধান অতিথি হিসেবে আমান উল্লাহ আমান বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের কল্যাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।

বিশেষ করে, নিম্ন আয়ের পরিবার, অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তিনি জানান, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি সেই উদ্যোগগুলোর মধ্যে একটি গুরুত্বপুর্ণ উদাহরণ।

তিনি আরও বলেন, সরকার কাজ করছে যাতে কোন মানুষ অভাব-অনটনের কারণে কষ্ট পেতে না হয়। প্রকৃত উপকারভোগীদের তালিকা প্রণয়নের মাধ্যমে প্রক্রিয়া স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বজায় রেখে সহায়তা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। সুবিধাভোগীদের আহ্বান জানান যে, তারা এই সুযোগটির যথাযথ ব্যবহার করবেন।

তেঘরিয়া ইউনিয়নের অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার শরফ উদ্দিন আহমেদ। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তিনি বলেন, রাষ্ট্রের উন্নয়নের সুফল তখনই পর্যাপ্ত হবে, যখন তা সমাজের প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কাছে পৌঁছে যায়।

আরও পড়ুন: ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে ৯ ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা প্রত্যাহার, নতুন কর্মকর্তাদের নিয়োগ

তিনি জানান, দেশের দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বিকল্প নেই। তিনি সংশ্লিষ্টদের আরো দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান যাতে সরকারের বিভিন্ন সহায়তা কার্যক্রম প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে পৌছায়।

তিনি আরো বলেন যে, সমাজের পিছিয়ে থাকা জনগণের উন্নতির লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে উপকারভোগীরা নিয়মিতভাবে প্রয়োজনীয় সহায়তা পেলেই তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে এবং সামাজিক বৈষম্য কমাতে সহায়তা করবে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা জানান कि সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচির আওতায় অন্তর্ভুক্ত পরিবারগুলো বিভিন্ন ধরনের সরকারি সহায়তা গ্রহণের সুযোগ পাবে। এতে তাদের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নিপুণ রায় চৌধুরী, ঢাকা জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার ইরফান ইবনে আমান অমি, কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. উমর ফারুক এবং জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সমাজসেবা অধিদপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

আরও পড়ুন: নওগাঁয় ভাড়া বাসায় জাল টাকার কারবার, ডিবির হাতে গ্রেপ্তার জব্বার

অনুষ্ঠান শেষে উপকারভোগীদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেওয়া হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশই হবে পরবর্তী বিনিয়োগ গন্তব্য: অর্থ উপদেষ্টা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৮ই জুন, ২০২৬ ইং

০৩:৪৩ এম


বাংলাদেশই হবে পরবর্তী বিনিয়োগ গন্তব্য: অর্থ উপদেষ্টা

বাংলাদেশ আগামী দিনের সবচেয়ে সম্ভাবনাময় বিনিয়োগ গন্তব্য হতে পারে, এই মন্তব্যটি প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর করেছেন। তিনি এই উপলক্ষে বলেছেন, ভিয়েতনাম ছিল গতকালের সফলতার গল্প, ইন্দোনেশিয়া আজকের বাস্তবতা আর বাংলাদেশ হতে পারে আগামী দিনের সবচেয়ে সম্ভাবনাময় বিনিয়োগ গন্তব্য। তবে তিনি জানিয়েছেন, সেই লক্ষ্য অর্জনের জন্য নীতির ধারাবাহিকতা, জ্বালানি নিরাপত্তা, দক্ষ মানবসম্পদ এবং কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। বুধবার (১৭ জুন) মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই) আয়োজিত বাজেট পরবর্তী আলোচনা সভায় এসব কথা তিনি বলেন। অর্থ উপদেষ্টা বলেন, জবাবদিহিতার সংস্কৃতি গড়তে হলে সমালোচনার সংস্কৃতিও গড়তে হবে। আমাদের প্রথমে জানতে হবে বিনিয়োগকে কীভাবে উত্তরণে নিয়ে যাওয়া সম্ভব। বাংলাদেশের ইতিহাসে এ প্রথমবারের মতো কর কাঠামো পাঁচ বছরের মতো দেওয়া হয়েছে। এই বিষয়টি যে কোনো বিনিয়োগকারীর জন্য উপকারী বলেও তিনি জানান। তিনি আরও বলেন, অর্থায়নের জন্য ৬০ হাজার কোটি টাকার একটি প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে। এরমধ্যে ৪১ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব ব্যবস্থা হিসেবে দেখানো হচ্ছে। ও ১৯ হাজার কোটি টাকা বাংলাদেশি ব্যাংকের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেছেন, আমরা ধীরে ধীরে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে যাবো এবং এর একটি রোডম্যাপও তৈরি করা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের কারণে জ্বালানির ক্ষেত্রে ৩.৪৬ বিলিয়ন ডলার ভর্তুকি দিতে হবে জুলাই মাস পর্যন্ত। তবে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে, পুরো জাতির জন্য একটি জ্বালানি হাব তৈরি করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে এগিয়ে গেল ইংল্যান্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৮ই জুন, ২০২৬ ইং

০৩:৪৩ এম


দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে এগিয়ে গেল ইংল্যান্ড

বিশ্বকাপের ম্যাচে, ডালাস স্টেডিয়ামে, ইল্যান্ড ও ক্রোয়েশিয়া সমানে সমানে খেলছে। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে ইংলিশ মিডফিল্ডার জুড বেলিংহাম বলেন, "গোলে এগিয়ে গেছে ইংলিশরা"। ম্যাচের ৪৭ মিনিটে, ডান প্রান্ত দিয়ে অ্যান্ডারসনের একটি বল পেয়ে বেলিংহাম ফাঁকা জায়গায় এগিয়ে যান। এরপর গোলের কাছাকাছি এসে তিনি কোণাকোণি শটে গোল করেন।

এভাবে ইংল্যান্ড ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। প্রথমার্ধের নয় মিনিটে, পেনাল্টি থেকে গোল করেন হ্যারি কেইন। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এই হাইভোল্টেজ ম্যাচের ৩৬ মিনিটে গোল করেন ক্রোয়েশিয়ার মার্টিন বাতুরিনা। তিনি বক্সের বাইরে থেকে ডান পায়ের শটে গোল করেন। ফলে দলটি সমতায় ফিরে আসে। তবে ম্যাচের ৪২ মিনিটে কর্নার থেকে গোল করে হ্যারি কেইন। ইংল্যান্ডের এ এগিয়ে থাকা বেশিক্ষণ টেকে না। প্রথমার্ধে যোগ করা সময়ের ৫ মিনিটে গোল আদায় করেন পেতার মুসা। এভাবে ২-২ সমতা নিয়ে বিরতিতে যায় ইংল্যান্ড–ক্রোয়েশিয়া।

১৯৬৬ সালে ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ জয়ের পর, ইংল্যান্ড আর কখনও শিরোপার স্বাদ পায়নি। ছয় দশকের দীর্ঘ অপেক্ষা ও আক্ষেপ ঘোচানোর স্বপ্ন নিয়ে এবার উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপে, যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে ‘থ্রি লায়ন্স’রা। তাদের প্রথম পরীক্ষা কঠিন, প্রতিপক্ষ ২০১৮ বিশ্বকাপের রানার্সআপ ক্রোয়েশিয়া।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্যে ধাক্কা: এআই প্রযুক্তিতে চীনের ‘সাশ্রয়ী’ বিপ্লব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৮ই জুন, ২০২৬ ইং

০৩:৪৫ এম


যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্যে ধাক্কা: এআই প্রযুক্তিতে চীনের ‘সাশ্রয়ী’ বিপ্লব

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বলতে বোঝায় শত শত কোটি ডলারের বিনিয়োগ, বিশাল ডেটা সেন্টার এবং মার্কিন প্রযুক্তি জায়ান্টদের একচ্ছত্র আধিপত্য। এই ধারণা দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বজুড়ে চালু ছিল। কিন্তু এই ধারণায় একটি বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছে চীন। ২০২৫ সালের শুরুতে চীনের হাংঝু শহরভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘ডিপসিক’ একটি রিজনিং-ভিত্তিক লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল (এলএলএম) উন্মোচন করে। এটি বৈশ্বিক প্রযুক্তি খাতে নতুন আলোচনার সৃষ্টি করে। প্রতিষ্ঠানটি দাবি করেছে, ওপেনএআই বা গুগলের তুলনায় অনেক কম খরচে মাত্র ৬০ লাখ মার্কিন ডলারে উক্ত মডেলটি তৈরি করা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে, এটি চ্যাটজিপিটি-৪ শ্রেণির মডেলগুলোর কাছাকাছি সক্ষমতাও প্রদর্শন করেছে। কেন এই সাফল্য তাৎপর্যপূর্ণ? বিশ্লেষকরা বলছেন, এমনটি ঘটেছে ডিপসিকের আবির্ভাবের সময়ে, যখন চীনের প্রযুক্তি খাত মার্কিন চিপ নিষেধাজ্ঞা, বিদেশি বিনিয়োগ হ্রাস এবং ধীরগতির অর্থনীতির চাপে ছিল। কিন্তু চীন সেই সীমাবদ্ধতাকেই শক্তিতে পরিণত করেছে, নতুন এক ‘সাশ্রয়ী’ যুগের সূচনা করেছে। মার্কিন এআই খাতে বেসরকারি বিনিয়োগ প্রায় ১২ গুণ বেশি চীনের তুলনায়। এই অবস্থায় ডিপসিকের মূল প্রতিষ্ঠান হাই-ফ্লায়ার ভিন্নপথে এগিয়েছে। তারা অযথা অর্থ ব্যয় না করে নির্দিষ্ট ডোমেইনে মনোযোগ দিয়েছে। সাশ্রয়ী প্রশিক্ষণ পদ্ধতি গ্রহণ করে জ্বালানি দক্ষতার ওপর জোর দিয়েছে। যদিও কিছু সমালোচক এনভিডিয়ার উন্নত চিপ ব্যবহার বা গোপন অর্থায়নের বিষয়ে অভিযোগ তুলেছেন। দুই দেশের ভিন্ন পথের দৌড়ের বিষয়ে বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বিদেশি বিনিয়োগ কমে যাওয়া এবং দেশে সফটওয়্যার খাতে সীমিত ব্যয়ের সংস্কৃতি চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোকে কম খরচে সর্বোচ্চ ফল দেয়ার প্রযুক্তি তৈরিতে বাধ্য করেছে। বিনিয়োগ ও কৌশলগত পরামর্শভিত্তিক প্রতিষ্ঠান সোল ক্যাপিটালের হেরি হ্যানের মতে, গভীর প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ বুঝতে হলে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনকে তাই চি দর্শনের ইয়িন-ইয়াং প্রতীকের দুটি দিক হিসেবে দেখতে হবে। দুই দেশেরই ভিন্ন শক্তি রয়েছে, আর সেই শক্তিই একে অপরকে এগিয়ে যেতে বাধ্য করছে। বর্তমান সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের এআই উন্নয়ন বিপুল বিনিয়োগনির্ভর পথে এগোচ্ছে। বিশাল ডেটা সেন্টার, উচ্চ ব্যয়ের গবেষণা এবং শত শত কোটি ডলারের বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশটি কৃত্রিম সাধারণ বুদ্ধিমত্তা (এজিআই) ও উন্নত স্বয়ংক্রিয় এআই এজেন্ট তৈরির দিকে এগোচ্ছে। যা ভবিষ্যতে মানুষের মতো পরিকল্পনা করে স্বাধীনভাবে জটিল কাজ সম্পন্ন করতে পারবে। চীনের পরিস্থিতি অবশ্য ভিন্ন। তুলনামূলক সীমিত পুঁজি, উন্নত কম্পিউটিং অবকাঠামোয় সীমিত প্রবেশাধিকার এবং ছোট অভ্যন্তরীণ বাজারের বাস্তবতায় দেশটির প্রতিষ্ঠানগুলো কম খরচে প্রযুক্তি উন্নয়ন, ওপেন সোর্স মডেল, দ্রুত ব্যবহারযোগ্য উদ্ভাবন এবং বৈশ্বিক বাজার সম্প্রসারণের কৌশল বেছে নিয়েছে। কম খরচের সাফল্যের পেছনে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে। চীনের একজন এআই প্রকৌশলীর গড় বার্ষিক বেতন প্রায় ৫৭ হাজার ডলার, যা যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় অনেক কম। একই সঙ্গে সরকার ডেটা সেন্টারগুলোকে সস্তা বিদ্যুৎ, জমি ও বড় অঙ্কের ভর্তুকি দিচ্ছে। এ ছাড়া দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় দেড় থেকে দুই গুণ বেশি এআই-সংশ্লিষ্ট পিএইচডি গবেষক তৈরি করছে। চীনের আরেকটি বড় শক্তি হলো ওপেন সোর্স কৌশল। ডিপসিক, কিউওয়েন এবং মিনিম্যাক্সের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের মডেল উন্মুক্ত করে দিচ্ছে। এর ফলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ডেভেলপার, গবেষক ও স্টার্টআপ সহজেই তা ব্যবহার করতে পারছে। প্রয়োজনে পরিবর্তন ও উন্নত করতে পারছেন। দেশটির শত শত গবেষণা দল ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এখন তাদের মডেলের আর্কিটেকচার, ওয়েটস এবং প্রশিক্ষণ-সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান প্রকাশ করছে। ফলে একটি যৌথ প্রযুক্তি অবকাঠামো তৈরি হয়েছে, যার ওপর ভিত্তি করে বিশ্বের যে কেউ নতুন প্রযুক্তি তৈরি ও উন্নয়ন করতে পারছেন। এতে এআই উদ্ভাবনের গতি যেমন বেড়েছে, তেমনি প্রযুক্তির ব্যবহার আরও গণমুখী হয়েছে। টেক্সট-টু-ইমেজ ও ভিডিও প্রযুক্তি খাতের উদ্যোক্তা ক্লোয়ি ফ্যাংয়ের মতে, চীনা এআই প্রতিষ্ঠানগুলো অত্যন্ত বাস্তববাদী। তারা এমন প্রযুক্তি তৈরি করতে চায়, যা সরাসরি ব্যবহারকারীদের জন্য মূল্য তৈরি করবে। এ কারণে ওপেন সোর্সকে তারা বৈশ্বিক ব্যবহারকারীদের আকৃষ্ট করার কার্যকর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। প্রথমে উন্মুক্ত প্রযুক্তির মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের আস্থা ও জনপ্রিয়তা অর্জন করা হয়, এরপর আরও উন্নত বাণিজ্যিক মডেল বাজারে আনা হয়। ইতোমধ্যে জেনারেটিভ মিডিয়া খাতে চীনের অবস্থান শক্তিশালী হয়েছে। বিশ্বের শীর্ষ ১০টি ইমেজ-টু-ভিডিও মডেলের মধ্যে পাঁচটি এবং শীর্ষ ১০টি টেক্সট-টু-ভিডিও ও ইমেজ এডিটিং মডেলের মধ্যে তিনটিই চীনা প্রতিষ্ঠানের। চীনের এই কৌশল দেশটির দীর্ঘমেয়াদি রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনারও অংশ। এটি একটি উন্মুক্ত প্রযুক্তি ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার পাশাপাশি অর্থনীতি, শিল্প ও সামাজিক খাতের সঙ্গে এআইকে গভীরভাবে যুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সহযোগিতাও বাড়ানো হচ্ছে। এর ফলাফলও দৃশ্যমান। কিউওয়েন, মিনিম্যাক্স ও ডিপসিকের মতো চীনা ওপেন সোর্স লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল এখন বৈশ্বিক ব্যবহারের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ দখল করে নিয়েছে। তবে ২০২৪ সালের শেষ দিকে এই উপস্থিতি ছিল প্রায় শূন্যের কাছাকাছি। চীন ছাড়াও সিলিকন ভ্যালি থেকে শুরু করে আফ্রিকা ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অসংখ্য স্টার্টআপ ও প্রতিষ্ঠানও চীনা এআই মডেল ব্যবহার করছে। কারণ এসব প্রযুক্তি সহজলভ্য, তুলনামূলক স্বচ্ছ এবং অনেক মার্কিন বিকল্পের তুলনায় পরিচালন ব্যয়ও অনেক কম। সিনোভেশন ভেঞ্চারসের প্রতিষ্ঠাতা এবং গুগল চায়নার সাবেক প্রধান কাই-ফু লি বলেছেন, এই প্রযুক্তির বড় সুবিধা হলো এর নমনীয়তা। ব্যবহারকারীরা নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী উপাদান বাদ দিতে বা নতুন কিছু যুক্ত করতে পারেন। তার মতে, অনেক মার্কিন প্রতিষ্ঠান, শিক্ষার্থী ও গবেষক চীনা মডেল ব্যবহার করছেন চীনা হওয়ার কারণে নয়, বরং সেগুলো উন্মুক্ত হওয়ার কারণে। আলিবাবা ক্লাউডের প্রতিষ্ঠাতা জিয়ান ওয়াং মনে করেন, বর্তমান এআই যুগ অনেকটা ১৯৯০-এর দশকের শেষ দিকে ইন্টারনেটের বিস্তারের সময়কার পরিস্থিতির মতো। সেই সময়ে নেটস্কেপ তাদের ব্রাউজারের কোড উন্মুক্ত করে দিয়েছিল। যা বাণিজ্যিক ইন্টারনেটের বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। তার মতে, এখন শুধু সোর্স কোড নয়, বরং মডেল ওয়েটস, ডেটা এবং কম্পিউটিং সক্ষমতার মতো গুরুত্বপূর্ণ সম্পদও সবার জন্য সহজলভ্য করে তোলা হচ্ছে। এর ফলে ডেভেলপাররা নিজেদের কাজ বারবার পুনরায় তৈরি করার প্রয়োজন থেকে মুক্ত হতে পারবেন এবং নতুন উদ্ভাবনে আরও বেশি সময় দিতে পারবেন। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, শুধু ওপেন সোর্স হলেই চলবে না। একটি মডেলকে অবশ্যই কার্যকর, নির্ভরযোগ্য এবং অন্যদের তুলনায় আলাদা বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন হতে হবে। বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান আন্দ্রেসেন হোরোভিটজের গবেষকদের মতে, এআই শিল্প এত দ্রুত বদলে যাচ্ছে যে কোনো মডেল যদি ব্যবহারকারীদের আস্থা অর্জনে ব্যর্থ হয়, তাহলে তারা খুব দ্রুত অন্য বিকল্পের দিকে চলে যাবেন। এছাড়াও, ইলন মাস্ক, পামার লাকি এবং স্কেল এআইয়ের প্রধান নির্বাহী আলেকজান্ডার ওয়াংসহ কয়েকজন মার্কিন প্রযুক্তি নেতা ডিপসিকের কম বাজেটের দাবি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তাদের ধারণা, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়াতে ডিপসিক হয়তো এনভিডিয়ার আরও উন্নত ‘H100’ চিপ এবং গোপন অর্থায়নের বিষয়টি প্রকাশ করেনি। তবে এই বিতর্ক যাই থাকুক বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি বিষয় পরিষ্কার হয়ে উঠেছে। তা হলো, ভবিষ্যতের এআই প্রতিযোগিতা আর শুধু কে সবচেয়ে শক্তিশালী মডেল তৈরি করতে পারে, সেটির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মুকসুদপুরে কুকুরের কামড়ে তিনদিনে আহত ২৫

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৮ই জুন, ২০২৬ ইং

০৩:৪৬ এম


মুকসুদপুরে কুকুরের কামড়ে তিনদিনে আহত ২৫

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে কুকুরের কামড়ে আহত হয়ে ২৫ জন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন। এ ঘটনা গত বুধবার, মঙ্গলবার এবং সোমবার মুকসুদপুর পৌরসভার কমলাপুর, চন্ডিবর্দি ও টেংরাখোলা এলাকার পতিত পাগলা কুকুরের কামড়ে ঘটেছে।

আহতদের মধ্যে তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী লামিয়াও রয়েছে, যার বাড়ি গোপিনাথপুর গ্রামে। মুকসুদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে এবং এন্টি র‍্যাবিস ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে।

হাসপাতালের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রায়হান ইসলাম শোভন বলেন, ‘গত ৩ দিনে আমরা কুকুরের কামড়ে আহত ২৫ জনকে চিকিৎসা দিয়েছি। তাদের এন্টি র‌্যাবিস ভ্যাকসিন দেওয়ার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। আমাদের হাসপাতালের কাছে পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন মজুত রয়েছে। তবে কুকুর থেকে সবাইকে সাবধানে থাকতে হবে।’

মুকসুদপুর পৌরসভার চন্ডিবর্দি এলাকার বাসিন্দা মীর হাবীবুল্লাহ জানান, পৌরসভার সদর বাজার, কমলাপুর, চন্ডিবর্দি ও চেংরাখোলাসহ বিভিন্ন স্থানে বেওয়ারিশ পাগলা কুকুর ঘুরে বেড়াচ্ছে। তারা স্কুলছাত্রী, পথচারী যাকেই পাচ্ছে, কামড় দিয়ে গভীর ক্ষতের সৃষ্টি করছে।

টেংরাখোলা এলাকার বাসিন্দা মুরসলিন সামস বলেন, এ অবস্থা চলতে থাকলে পৌর এলাকায় অনেক মানুষের আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। অতএবি, দ্রুত কুকুরটির বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজন।

মুকসুদপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সরকার আইন করে কুকুর নিধন বন্ধ করেছে। সেজন্য বেওয়ারিশ কুকুর নিধনের কোনো ব্যবস্থা আমরা অথবা পৌরসভা নিতে পারি না। তবে যে বেওয়ারিশ পাগলা কুকুরটি কামড়িয়েছে, সেটিকে ধরে আমাদের হাসপাতালে নিয়ে এলে আমরা চিকিৎসা দিতে সক্ষম হব।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%